Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Mon September 24 2018 ,

কুড়িগ্রামে জমজমাট জুয়ার আসর ও অশ্লীল নৃত্য

Published:2013-11-20 20:48:58    

কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা: কুড়িগ্রামের ৯ উপজেলার মধ্যে উলিপুর, চিলমারী, নাগেশ্বরী ও ভুরুঙ্গামারী উপজেলা সহ মোট ৪ উপজেলার একাধিক স্থানে যাত্রার নামে অশ্লীল নৃত্য চালিয়ে গ্রামীন জনপদের কিশোর তরুণদেরকে সহজেই আকৃষ্ট  করে নৈতিক চরিত্র ধ্বংস করে ফেলা হচ্ছে।

এর পাশাপাশি ফট-গুটির মাধ্যমে প্রতারনার আশ্রয় নিয়ে জুয়া চালিয়ে প্রতিনিয়ত গ্রামীন জনপদের সাধারন মানুষকে নিঃস্ব করা হচ্ছে। ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকার সামাজিক অবক্ষয় তীব্র আকার ধারন করছে।

এই জুয়া এবং অশ্লীল নৃত্য বন্ধে পুলিশ সহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে অভিযোগ করার পরেও কাজ না হলে অভিমান করে আত্বহুতি দেয়ার উদ্দেশ্যে অতি সমপ্রতি ভুরুঙ্গামারীর বড় খাটামারী এলাকার এক ব্যাক্তি বিষপান  করেন।

এতকিছুর পরেও সংশ্লিষ্ট থানার ইনচার্জ এর সাথে এব্যাপারে কথা হলে তিনি জানান, আমরা কিছুই জানি না। তবে আপনি যখন বলেছেন তাই আমি এখনই ফোর্স পাঠাচ্ছি। পুলিশ ঘটনা স্থলে যাওয়ার আগেই জুয়া বন্ধ হয়ে যায় এবং ক্ষণিকের জন্য শুরু হয় বিভিন্ন কল্পকাহিনী সমৃদ্ধ যাত্রা অভিনয়।পুলিশ চলে গেলে আবার পুর্বাবস্থায় ফিরে আসে জুয়া ও অশ্লীল নৃত্য।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়,কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা সহ মোট ৯ উপজেলায় শীত মৌসুমে বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমান অবস্থায় জুয়া খেলা হয়ে থাকে।তবে শুধু মাত্র বৃষ্টির মৌসুম ব্যাতীত বছরের প্রায় প্রতিটা রাত সংশ্লিষ্ট থানায় মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে যাত্রার নামে অশ্লীল নৃত্য এবং জমজমাট জুয়ার আসর বসে থাকে নাগেশ্বরী, উলিপুর, চিলমারী ও ভুরুঙ্গামারী উপজেলায়।

এর পরের অবস্থান হচ্ছে কচাকাট থানা এলাকায়।বিশ্বস্ত সুত্রে আরো জানা যায়,নাগেশ্বরী উপজেলার এগারো মাথা,গাগলা,সন্নাষীর পাঠ/কালীরপাঠ সহ ৬/৭টি স্থানে প্রায় প্রতিরাতে ফটগুটির মাধ্যমে জুয়ার আসর বসে থাকে। এই স্থান গুলোর মধ্যে এগারো মাথা এলাকায় মিনি যাত্রা প্যান্ডেল তৈরী করে রাতভর অশ্লীল নৃত্য আর ফটগুটির মাধ্যমে জুয়া জমজমাট আকার ধারন করে থাকে।

এই অসামাজিক কার্মকান্ড নাগেশ্বরী উপজেলার ক্ষমতাসীন দলের ২য় সারির নেতাদের ছত্রছায়ায় হচ্ছে। আর থানা পুলিশ এই সমস্ত নেতাদের উপর ভর করে প্রতি রাতের কন্টাকের টাকা খেলা শুরুর আগেই বুঝিয়ে নিয়ে অনুমতি প্রদান করে থাকে।

এব্যাপারে নাগেশ্বরী থানার বর্তমান ইনচার্জ মোঃ আব্দুর রশিদের সাথে কথা হলে তিনি জানান,আমরা সাধ্যমত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি জুয়া বন্দের ব্যাপারে। একটি বিশ্বস্থ সুত্র জানায়, প্রতিদিন সকালে নাগেশ্বরী থানায় প্রতি জুয়ার বোড প্রতি ১৩ হাজার টাকা জমা দিয়ে চালাচ্ছে এসব অবৈধ কর্মকান্ড।

এলাকাবাসী পুলিশকে খবর দিলে সেখানে যায় না পুলিশ, বরং কে খবর দিল জুয়ারুদের জানিয়েদেন তার নাম। গত কয়েকদিন আগে নাগেশ্বরী উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিজে গিয়ে ১১ মাথার একটি জুয়ার বোর্ড পুড়িয়ে দেন।

তবুও থেমে নেই এই জুয়া। বর্তমানে নাগেশ্বরীতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার না থাকার দেধারছে চালাচ্ছেন এ সব অবৈধ কর্মকান্ড প্রতিরাতে বিভিন্ন এলাকায় ৫-৬টি জুয়ার আসর বসে। থানা পুলিশ প্রতিরাতে প্রায় লক্ষাধিক টাকার ব্যবসা করছেন এ জুয়া থেকে।

এছাড়াও নাগেশ্বরী উপজেলা দিয়ে প্রতিদিন প্রায় কয়েক হাজার বোতল ফেন্সিডিল যাচ্ছে জেলার বিভিন্ন উপজেলায়। কখন কখন ফেন্সিডিল সহ মাদক ব্যবসায়ীরা ধরা পড়লেও টাকা বিনিময়ে বেরিয়ে আসছেন থানা থেকে।

এদিকে কুড়িগ্রাম থানা পুলিশের সহযোগীতায়  সদরের কোথাও মাদক পাওয়া যাচ্ছে না। এটি পুলিশের সাফল্য বলে জানান সদরের সুশীল সমাজ। তবে কুড়িগ্রাম পৌর এলাকার টাপু ভেলা কোপা নামক স্থানে প্রায় ১০দিন যাবত জুয়া চালিয়ে আসছে একটি অসাধু মহল। এলাকাবাসী জানায়,প্রতি রাতে স্কুল কলেজের ছাত্র সহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ এই জুয়ার আসরে গিয়ে জুয়া খেলছে।

জয়মনিরহাটের ৬নং ওয়ার্ডের এই এলাকায় চলতি দায়িত্বরত ইউপি সদস্য মোঃ জাফর আলীর নেতৃত্বে এই জুয়ার আসরে বাড়তি আকর্ষণ রয়েছে। তাহলো কিশোরী ও যুবতী নারীর উলঙ্গ নৃত্য। যা রাত ভর চলে থাকে।

এই জুয়া বন্দে সংশ্লিষ্ট এলাকার মোঃ হাছেন আলী ড্রাইভার নামক এক ব্যাক্তি এই জুয়া এবং অশ্লীল নৃত্য বন্দে প্রশাসন সহ সকল স্তরে যোগাযোগ করেও এই জুয়া এবং অশ্লীল নৃত্য বন্ধ করতে না পারায় প্রায় ১৫দিন আগে নিজের উপর অভিমান করে বিষ পান করেছিল।

প্রায় এক সপ্তাহ ভুরুঙ্গামী হানপাতালে চিকিৎসা নিয়ে কোন রকমে তনি প্রাণে বেঁচে যান। হাছেন ড্রাইভার বিষ খেয়ে আহত হওয়া এবং চিকিৎসা নেয়ার সময় প্রায় এক সপ্তাহ এই আসর বন্দ ছিল। এর পর আবারো এই আসর জমজমাট ভাবে শুরু হয় এবং অব্যাহত রয়েছে। এব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ভুরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জ এ এস এম মাহফুজুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি বলেন,আমারা জুয়া বন্দে নিরলষ ভাবে পরিশ্রম করে যাচ্ছি।


বাংলাসংবাদ২৪/মমিনুল ইসলাম বাবু/এমজে
 

আরও সংবাদ