Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Mon July 16 2018 ,

ভাটায় ইট তৈরীতে মন্ত্রনালনের আদেশ মানছে না কেউ: নীরব প্রশাসন

Published:2013-12-03 22:28:07    

নিজেস্ব প্রতিবেদক বাংলাসংবাদ২৪: খাগড়াছড়িতে লাইসেন্স বিহীন ২৬টি ইট ভাটায় অবাধে চলছে পাহাড়ের কচি-কাচা ও সংরক্ষিত বাগানের কাঠ পুড়ানোর কাজ। তার মধ্যে ১৯টি ভাটায় পাকা ১২০ ফুটের চিমনী হলেও ৭টিই টিনের নিষিদ্ধ চিমনী। খাগড়াছড়ির ২৬টি ভাটায় অবাধে শতভাগ কাঠ পুড়ালেও দেখার কেউ নেই। সর্ম্পুন আইন লংঙ্গন করে ভাটা গুলো করা হলেও অজ্ঞাত কারনে নীরব প্রশাসন।
 
ভাটা গুলোতে কয়লার স্থলে কাঠ পোড়ানোর ফলে পরিবেশ দুষণ, সংরক্ষিত এলাকায় ইটভাটা না করার নির্দেশনাসহ সরকারী আদেশ মানছেনা এ জেলার ভাটার মালিকরা। ইট তৈরীতে গাছ পোড়ানো  (নিয়ন্ত্রন) আইন (১৯৮৯) এবং এর সংশোধনী অনুযায়ী সম্পুন্ন নিষিদ্ধ হলেও তাতে কর্ণপাত নেই কারো। ইট ভাটার এক মালিক জানান, প্রশাসনসহ জেলার সকল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে মেনেজ করেই এ ভাটা চালু করা হয়েছে।  

সংরক্ষিত এলাকায় ইটভাটা স্থাপন করলে পাঁচ বছরের কারাদন্ড এবং পাঁচ লাখ টাকা অর্ধদন্ডের বিধান রেখে জাতীয় সংসদে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রন) বিল-২০১৩’ পাস হয়েছে। নতুন এই আইনে ইটভাটায় জ্বালানী হিসেবে কাঠ ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

জাতীয় সংসদে পাস হওয়া বিলে বলা হয়েছে, আবাসিক,সংরক্ষিত বা বাণিজ্যিক এলাকা,সিটি করপোরেশন, পৌরসভা বা উপজেলা সদর,সরকারী বা ব্যাক্তি মালিকাধীন বন,অভয়ারন্য,বাগান বা জলাভূমি,কৃষিপ্রধান এলাকা এবং পরিবেশ সংকটাপন্ন এলাকায় ইটভাটা স্থাপন করা যাবে না। তবে এ সব মানছেনা  কেউ। প্রশাসনের নাকের ডগাই এ সব নিষিদ্ধ কাজ চললেও অজ্ঞাত কারনে তারা নীরব রয়েছে।  

বিদ্যমান আইনে পার্বত্য এলাকায় অন্তভুক্ত না থাকলেও নতুন আইনে অন্তভুক্ত করা হয়েছে, সনাতন পদ্ধতির ইটভাটার মাধ্যমে অতিমাত্রায় পরিবেশ দুষণ করা হচ্ছে। তাই পরিবেশ বিপর্যয রোধ করে ইট প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে  গতিশীল ও প্রায়োগিক করতে এই বিল আনা হয়েছে। তার পরও খাগড়াছড়ি জেলার ৮টি উপজেলার ৯টি থানা-দীঘিনালা,পানছড়ি,মহালছড়ি,মানিকছড়ি,লক্ষীছড়ি,রামগড়,গুইমারা,মাটিরাঙ্গা ও খাগড়াছড়ি জেলা সদরে ২৬টি ভাটায় প্রকাশ্যে চলছে আইন অমান্য করে ঘনবসতি ও সংরক্ষিত এলাকায় শুরু হয়েছে কাঠ পোড়ানো।  
 
এ বিষয়ে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো : মাসুদ করিম-আইন অমান্য করে কোন ইটভাটার মালিক যদি লাইসেন্স বা অনুমতি বিহীন ভাটায় কার্যক্রম করেন সে ক্ষেত্রে সংসদে পাস হওয়া নতুন আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে।  

অন্যদিকে ইটভাটায় কাঠ পোড়ানোর ফলে পরিবেশের সুদুরপ্রসারী ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে বিধায় সরকার নীতিগতভাবে সনাতন পদ্ধতির ইট-ভাটার ছাড়পত্র প্রদান বন্ধ ঘোষনা করেছে। সে আলোকে সনাতন পদ্ধতির ইট-ভাটার জন্য আর কোন ছাড়পত্র প্রদান করা হচ্ছে না বলে সুত্র জানায়।
 
সরকারের পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের  এর সিনিয়র সহকারী সচিব মো : হযরত আলী স্বাক্ষরিত এক আদশে দেখা যায়- যত্রতত্র ইটভাটা  স্থাপন না করে নদ/নদী/খাল/বিল-এর তীর/চরাঞ্চলে গড়ে তোলার উপর প্রধান্য দিতে হবে। আবাসিক এলাকা,সরকারী ঘোষিত সংরক্ষিত এলাকা,বানিজ্যিক এলাকা,সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা সদর, যে কোন ধরনের বনাঞ্চল ও অভ্যায়ারন্য,সরকার কর্তৃক ঘোষিত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) বাগান,ইত্যাদির অভ্যন্তরে ইটভাটা স্থাপন করা যাবেনা।  

পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ব্যতিরেখে কোন জেলা প্রশাসক ইটভাটার লাইসেন্স নবায়ন করিবে না। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, চিমনী স্থাপনের প্রত্যায়নপত্র এবং ভ্যাট প্রদান সংক্রান্ত কাগজপত্র দাখিল করিবার পরই লাইসেন্স নবায়ণ করতে হবে। কোন অবস্থায়ই কোন ইট ভাটায় কাঠ বা কাঠ জাতীয় জ্বালানী ব্যবহার করা যাবে না। পাহাড়ের পাদদেশে বা বনাঞ্চলে কোন ইটের তৈরী করা যাবে না (তিনটি পার্বত্য জেলার ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসন এবং বিভাগীয় বন কর্মকর্তা স্থানীয়ভাবে তদন্ত করে ইট ভাটা স্থান নির্ধারন করিবেন।

ঘনবসতিপুর্ণ,সরকার কর্তৃক স্বীকৃত সংরক্ষিত এলাকা, বিনোদনমুলক এলাকা এবং জাতীয় গুরুত্বপুর্ণ স্থাপনার আশপাশে ইটভাটা স্থাপন করা যাবে না এবং ইট পোড়ানোর  ( নিয়ন্ত্রন) (সংশোধন) আইন,২০০১-এর বিধিবিধানের ব্যত্যয় ঘটিয়ে কোন ইট ভাটা স্থাপন করা যাবে না। ইট ভাটা স্থাপন ও তদারকিতে আইনের কোন ব্যত্যয় অথবা গাফিলতী ঘটিলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দায়ী থাকিবে বলে উল্লেখ রয়েছে। এসব ইট ভাটাগুলোতে অবাধে অবৈধ ভাবে কাঠ পোড়ানোর বিষয়ে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশ হলেও তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেনী বন ও পরিবেশ মন্ত্রনালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।   

মামুন/ইএফ

আরও সংবাদ