Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Sat July 21 2018 ,

ইসলামে পিতা মাতা প্রতি অধিকার

Published:2013-12-05 11:36:14    

বাংলাসংবাদ২৪: আপনি যখন জন্ম হয়েছিলেন, বাথরুম করে গা মাখামাখি করে ফেলতেন, তখন আল্লাহ্‌ ﷻ আপনাকে দুজন মানুষ আপনার সেবায় ২৪ ঘণ্টা নিবেদিত করে দিয়েছিলেন, যাতে আপনার মৌলিক প্রয়োজনগুলো মেটাতে আপনাকে কিছুই করতে না হয়।

তারা কোনো এক অদ্ভুত কারণে নিজেদের খাওয়া, ঘুম, আরাম সব ত্যাগ করে, চরম মানসিক এবং শারীরিক কষ্ট সহ্য করে, নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে, আপনার জন্য যখন যা করা দরকার তাই করেছিলেন।

তারপর আপনি একটু বড় হলেন, আপনার খাবার, জামাকাপড়, পড়ালেখা সব কিছুই আপনার হয়ে কেউ না কেউ ব্যবস্থা করে দিল।

আপনার সঙ্গী দরকার, আল্লাহ্‌ ﷻ আপনাকে বন্ধু বান্ধব থেকে শুরু করে একদিন আপনার জীবন সঙ্গী দিয়ে দিলেন।

আপনি পৃথিবীতে আপনার নাম রেখে যেতে চান, আল্লাহ্‌ ﷻ আপনাকে বংশধরের ব্যবস্থা করে দিলেন।

শুধুমাত্র মানুষের তৈরি সমাজ, দেশ, সরকার ছাড়া কোন্‌ প্রাকৃতিক জিনিসটা দিয়ে আল্লাহ্‌ ﷻ আপনাকে সবসময় ভয়ের মধ্যে রাখছেন?

তিনি যদি সত্যি একজন রাগী সত্ত্বা হতেন এবং তিনি চাইতেন আমরা সবসময় তাঁর ভয়ে থাকি, তাহলে আমাদের চারপাশের জগতটা প্রাকৃতিক ভাবেই হতো নিষ্ঠুর।

সকালে ঘুম থেকে উঠে আমাদের দুশ্চিন্তায় হাত পা কাঁপা শুরু হয়ে যেত যে, রাত পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারবো কি না।
কিন্তু তা হয়নি। কারণ আল্লাহ্‌ ﷻ পরম করুণাময়, নিরন্তর করুণাময়।

তিনি অল্প করুণাময়, মাঝে মাঝে করুণাময় নন। আমরা সারাদিন নামাযে ফাঁকি দিয়ে ঘুমাতে যাই, কিন্তু পরদিন ঠিকই সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠতে পারি।

আমরা কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি আত্মসাৎ করি, গরীবের হক মেরে দেই, কিন্তু তারপরেও শ্বাস নেওয়ার জন্য বাতাসের অভাব হয় না, তৃষ্ণা মেটাবার জন্য পানির অভাব হয় না।

আমরা বনজঙ্গল উজার করে দেই, প্রকৃতিকে ধ্বংস করি, কিন্তু তারপরেও বনের সব পশু পাখি, পোকামাকড় একসাথে সংঘবদ্ধ হয়ে আমাদেরকে আক্রমণ করে শেষ করে দেয় না। কারণ

আল্লাহ্‌ ﷻ প্রচণ্ড ক্ষমাশীল।

আপনি, আমি তাঁর মহা পরিকল্পনার কিছুই নাও বুঝতে পারি।

 

আমাদের জীবনে কেন সমস্যাগুলো হল, সেগুলোর আসল কারণ কি, সেটা চিন্তা করে নাও বের করতে পারি।

কিন্তু তাই বলে আল্লাহ্‌কে ﷻ ছোট করে, তাকে না বুঝে, ঠিকমতো চিন্তাভাবনা না করে, তাকে একটা ভয়ংকর কিছুতে পরিণত করার মতো অন্যায় করতে পারি না।

আসুন আমরা আল্লাহ্‌র ﷻ দয়াকে উপলব্ধি করার মানসিকতা তৈরি করি।

আমাদের ছেলে মেয়েদেরকে শেখাই যে, এই যে আমাদের কম্পিউটারটা, এটা বানানোর জন্য সবকিছু আল্লাহ্‌ ﷻ আমাদেরকে প্রকৃতিতে দিয়ে রেখেছেন।

আজকে আমরা যে মজার ভাত, মাছ, ডাল খাচ্ছি, এগুলো সবই আল্লাহ্‌র ﷻ তৈরি করা; আল্লাহই ﷻ এগুলোকে এতো সুস্বাদু করে বানিয়েছেন।

কালকে যে নতুন জামাটা কিনে দিলাম, সেটাও আল্লাহ্‌র ﷻ দেওয়া, কারণ আল্লাহ্‌ই ﷻ আমাকে উপার্জনের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন, যা না থাকলে এই জামাটা কিনতে পারতাম না।

অসুখ হলে সেটা ভালো করার জন্য ওষুধ বানানোর সব উপাদান আল্লাহই প্রকৃতিতে দিয়ে রেখেছেন।

এভাবে প্রতিদিনের সব ভালো ব্যাপারগুলো যে আল্লাহ্‌র ﷻ কৃতিত্ব, সেগুলো আমরা নিজেরা এবং আমাদের ছেলে মেয়েদেরকে বোঝাই।

তাহলে তারা বড় হবে আল্লাহ্‌র ﷻ সম্পর্কে একটা সুন্দর ধারণা নিয়ে।

তাদের জীবনে আল্লাহ্‌র ﷻ এতো চমৎকার সব অনুগ্রহের বিনিময়ে তাঁকে খুশি করার জন্য তারা স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে কাজ করবে।

নামাযে দাঁড়াবে কৃতজ্ঞতা, ভালবাসা নিয়ে। সিজদায় মাথা নত করবে বুক ভরা শ্রদ্ধা নিয়ে।

এভাবেই আমরা নিজেদেরকে এবং তাদেরকে আল্লাহ্‌র ﷻ আরও কাছে নিয়ে যেতে পারবো, তাঁর সাথে একটা সুন্দর সম্পর্ক তৈরি করতে পারবো

সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠবো হাঁসি মুখে, “আজকে আল্লাহ্‌ ﷻ আমাকে নতুন কি দিবেন?” – এই আগ্রহ নিয়ে, এবং রাতের বেলা চোখ বন্ধ করবো বুক ভরা শান্তি নিয়ে, আল্লাহ্‌কে ﷻ অনেক ধন্যবাদ দিয়ে।

 

বাংলাসংবাদ২৪/টিআর

আরও সংবাদ