Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Mon September 24 2018 ,

বিজয় দিবস শুধু বিজয় গাঁথা নয়

Published:2013-12-15 10:50:22    

মিজানুর রহমান মিজান : বাংলাদেশের স্বাধীনতা বা বিজয় শুধু নয় মাসের যুদ্ধের ফসল নয়। বহু ত্যাগ-তিতিক্ষা , অন্যায় , অত্যাচার , জেল জুলুম ও সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত এ স্বাধীনতা , এ বিজয়। বিজয় মানে অর্জন , সফলতা , প্রাপ্তি , আনন্দ , উচছাস-উল্লাস। তাই বিজয়ের আনন্দে উল্লাসিত হলেই আমাদের হবে না। আমাদেরকে ভাবতে হবে অর্জনের পিছনের ইতিহাস। বেদনার নীল রঙ্গের পাশাপাশি আনন্দের বার্তাকে সফল ও সার্থকতার দিকে এগিয়ে নিতে হবে। তবেই না আমাদের এ অর্জন পরিপূর্ণতা লাভে সক্ষম হবে। মুল লক্ষ্য সার্থকতায় পরিণত হবে।
অনেক পূর্ব থেকে বাঙ্গালী জাতি , বহু জাতীয় নেতা , দেশপ্রেমিক জনতা ভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সরকারের আমলে অত্যাচার নির্যাতনের মুখে দিয়েছেন আত্মাহুতি। বৃটিশ বেনিয়াদের কবল থেকে স্বাধীনতা অর্জন করলে ও প্রকৃত স্বাধীনতার স্বাদ উপেক্ষিত হবার ফলে এ দেশের যুব সমাজ পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে ফুসে উঠে। বাঙ্গালীর জন্মগত বাংলা ভাষার অধিকারকে বাদ দিয়ে উর্দ্দুকে রাষ্ট্র ভাষা রুপে প্রতিষ্টিত করার প্রচেষ্টাকে এ দেশের যুব সমাজ , বুদ্ধিজীবি ঐক্যবদ্ধ হয়ে এ ষড়যন্ত্রের মোকাবিলা করতে যেয়ে ছাত্রনেতা রফিক , বরকত , জববার , সালামসহ আরো অনেকে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে ঢাকার রাজপথ করেছিলেন রঞ্জিত। পাকিস্তানীদের প্রথম ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম হয় বাঙ্গালী জাতি। সুতরাং ১৯৫২ সালের ২১ শে ফেব্র“য়ারী এ দেশের স্বাধীনতার প্রথম বীজ হয় রুপিত।
১৯৪৯ সালে মাওলানা ভাসানী , হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দীর নের্তৃত্বে গঠিত হয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। দলটি সংগঠিত হয়ে এ দেশের মানুষের স্বায়ত্ব শাসন ও অধিকার আদায়ের সংগ্রামে লিপ্ত হয়। ৫২ সালের ভাষা আন্দোলন , ৫৪ সালের যুক্ত ফ্রন্ট নির্বাচন , ৬২ সালের শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট আন্দোলন বলতে গেলে একক নেতৃত্ব দানে ছিল আওয়ামী লীগ। পাকিস্তানী শাসক চক্র জনতার আন্দোলনে দিশেহারা হয়ে ১৯৫৮ সালে জারী করে সামরিক শাসন। ১৯৬৫ সালে পাক ভারত যুদ্ধ এবং এ দেশের অসহায়ত্ব ও অরক্ষিত অবস্তা ইত্যাদি মানুষকে উদ্ধিগ্ন করে তোলে। এ অবস্তা থেকে উত্তোরনের নিমিত্তে আওয়ামী লীগ নেতা বঙ্গ বন্ধু শেখ মুজিব লাহোরে এক জনসভায় ৬ দফা কর্মসুচি ঘোষণা করেন পূর্ব পাকিস্তানের রক্ষা কবচ রুপে। শেখ মুজিব কর্তৃক ঘোষিত ৬ দফা মুলত পাকিস্তানী শাসকদের ভীত নড়ে যায়। সুতরাং আমি এই বিজয়ের দিনে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করতে চাই সেদিনের উপস্থিত আওয়ামী লীগ , ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দকে। যাঁরা পূর্ব বাংলার ঘরে ঘরে আন্দোলনের কর্মসুচি ও দাবী দাওয়া পৌছাতে বা জনমত সৃষ্টি করার ফলে আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর করতে সক্ষমতা লাভ করেন। উনসত্তরের গণ আন্দোলনে ভীত হয়ে সামরিক সরকার ১৯৭০ সালে সাধারণ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা প্রদানে বাধ্য হয়।
১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ একক সংখ্যা গরিষ্টতা অর্জন করেছিল। তারপর ও পাকিস্তানী শাসকরা আওয়ামী লীগের হাতে ক্ষমতা প্রদান না করার জন্য নানা টাল বাহানা শুরু করে। সুতরাং বাধ্য হয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ৭ই মার্চ ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে প্রদত্ত ভাষণে বলেছিলেন , ” এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার ......মুক্তির সংগ্রাম”। বাংলার আপামর জনতা উদ্বেলিত হয়ে উঠে। পাকিস্তান সরকার দিশেহারা হয়ে বাঙ্গালী নিধন কল্পে ২৫ শে মার্চের কালোরাত্রিতে নিরস্ত্র বাঙ্গালীর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ২৫ শে মার্চ থেকে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের ভিতরে প্রতরোধ গড়ার চেষ্টা চালান নেতৃবৃন্দ। অত্যাধুনিক অস্ত্রের নিকট নিরস্ত্র বাঙ্গালী ঠিকে থাকা অসম্ভব বিধায় পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র ভারতে আশ্রয় নিয়ে সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও প্রয়াত নেতা তাজ উদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে বাংলার কৃষক , শ্রমিক , ছাত্র , বুদ্ধিজীবিসহ সাধারণ জনতা প্রতিরোধ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয়ে শত্র“ নিধনে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ৩০ লক্ষ শহীদ ও অগণিত মা-বোনের ইজ্জত , সম্ভ্রম হারানো এবং দীর্ঘ নয় মাসের যুদ্ধের ফসল ১৬ ই ড়িসেম্বর বিশ্বের বুকে লাল সবুজের পতাকা লাভ করে বাঙ্গালী জাতি। এ স্বাধীনতা বা বিজয় বহু রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে। সুতরাং এ দেশের স্বাধীনতা , পতাকা , জাতীয় সঙ্গীত রক্ষা করা সকলের দায়িত্ব ও কর্তব্য।

বাংলাসংবাদ২৪/এনআ

আরও সংবাদ