Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Fri July 20 2018 ,

মানুষের ভোটাধিকার খর্ব করা হয়েছে : মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা

Published:2013-12-17 21:41:08    

বাংলাসংবাদ২৪: বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা (বিএমবিএস) মনে করে দশম জতীয় সংসদ নির্বাচনে সমঝোতার মাধ্যমে ১৫৪টি আসনে ভোটহীন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১৫৪ জন সাংসদ নির্বাচিত হওয়ায় দেশের সংখ্যাগরিষ্ট মানুষের ভোটাধিকার খর্ব করা হয়েছে।

৩০০ জনের মধ্যে ১৫৪ জন - শতকরা হিসাবে ৫১.৩৩ শতাংশ। তার মানে দেশের ৫১.৩৩ শতাংশ মানুষ আগামী পাঁচ বছর দেশ পরিচালনায় তাদের পছন্দনীয় ব্যক্তিকে বেছে নেয়ার অধিকার পেলেন না। আর ভোটহীন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ১৫৪ জন সাংসদ সকলেই একই রাজনৈতিক জোটের সদস্য এবং এ সংখ্যা সরকার গঠনের জন্য সংখ্যাগরিষ্ট। তাহলে সংসদের বাকি ১৪৬ জন যে দলেরই হোক তাতে সরকার গঠনের কোন পরিবর্তন হবে না।

তার মানে দাঁড়াল যে বাংলাদেশ আগামী পাঁচ বৎসর এমন একটি সরকার দ্বারা পরিচালিত হবে যারা নিজেদের মাঝে সমঝোতা / সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ভোট বিহীন বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় সাংসদ হয়েছেন।

এরকম সিন্ডিকেট করে মানুষের ভোটের অধিকার হরণ করা আমাদের স্বাধীনতা বা সংবিধানের মূলনীতি ও চেতনার সাথে সামঞ্জস্য নয়। (সংবিধানের ১১ ধারায় নির্দেশিত আছে প্রশাসনের সকল পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগনের কার্যকর অংশগ্রহন নিশ্চিত হবে এবং ১২২ (১) ধারা মোতাবেক প্রাপ্তবয়স্কের-ভোটাধিকার ভিত্তিতে সংসদের নির্বাচন আনুষ্ঠিত হবে)।

 আমরা বিশ্বাস করি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিঃসন্দেহে একজন দেশ প্রেমিক, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারক ও বাহক। তিনি যথেষ্ট সাহসিকতার সাথে আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের মানবতাবিরোধী ঘৃন্য অপরাধী রাজাকার-আলবদরদের বিচারের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন এবং ইতিমধ্যেই এক জনের বিচারের রায় কার্যকর হয়েছে। এ বিচার তার ও গোটা জাতির এক বিজয়গাঁথা গৌরব ও সম্মান।

 এ গৌরবের সাথে রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে ৫১.৩৩ শতাংশ মানুষের ভোটাধিকার বঞ্চিত হওয়া  এক সাথে যায় না। তাতে দেশের মানুষের ভাতের অধিকার রক্ষিত হলেও ভোটের অধিকার হরণ হয়। যে কোন সমাজ উন্নয়ন কাজের মূল শক্তি হলো তার নৈতিক ভিত্তি। নৈতিক ভিত্তি সৃষ্টি হয় জনগনের সমর্থন থেকে। যারা সমঝোতার মাধ্যমে ভোটবিহীন ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন তাদের নৈতিক ভিত্তি কতটুক মজবুত হবে? আর এরা যে সরকার গঠন করবেন সে সরকারের উন্নয়ন কাজে জনগণই কতটা অংশীদারিত্ব অনুভব করবে?

জনগণের অংশিদারিত্ব ও সম্পৃক্ততা ছাড়া সমাজের উন্নয়ন ও শান্তি-শৃংখলা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব বলে আমরা মনে করি না। এ ব্যবস্থা দেশের চলমান উন্নয়ন ধারাকে কেবল ব্যহতই করবে না, পিছিয়েও দিবে। তাই সরকার গঠনে জনঅংশীদারিত্ব নিশ্চিত করে দেশের উন্নয়নে জন-সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি করা সরকারেরই একান্ত দায়িত্ব এবং বিশাল ম্যান্ডেট পাওয়া বর্তমান সরকার তা করবেন বলেই আমরা আশা করি।





বাংলাসংবাদ২৪/তৌহিদ

আরও সংবাদ