Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Sun September 23 2018 ,

খালেদার গলা ভেঙ্গেছে, মকবুল নির্দেশ দিচ্ছে না

Published:2013-12-18 09:41:00    

এস জে স্বপনঃ সম্প্রতি দেশের রাজনৈতিক সংকটে খালেদা জিয়া বারবার দলীয় নেতাকর্মীদের কর্মসূচী বাস্তবায়নে নির্দেশ দিলেও তারা তা কানে নিচ্ছেনা। গত ৫ মে হেফাজতের সমাবেশে সন্ধায় খালেদা জিয়া ঢাকা মহানগর বিএনপিকে হেফাজতের পাশে দাড়ানোর নির্দেশ দিয়েও কোন নেতাকর্মীকে শাপলা চত্বরে হাজির করতে পারেনি।

বর্তমানে সরকার হার্ডলাইনে যাওয়ায় বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে গ্রেফতার আতঙ্ক কাজ করছে। ইতোমধ্যে একের পর এক হরতাল অবরোধ কর্মসূচী ছাড়া কোন পথ খোলা নাই বিএনপির সামনে। অপরদিকে জামায়াতের শীর্ষ নেতা কাদের মোল্লার ফাঁসির বিষয়টি তাদের আদর্শিক আবেগে আঘাত হেনেছে।

প্রায় ৪বছর ধরে সরকারের সকল উইং কাজে লাগিয়ে প্রচারণা চালানো হয় কাদের মোল্লারা প্রকৃত রাজাকার। কিন্তু সেই ৪বছরে হাজারো মোটিভেশন এবং মিডিয়ার সর্বোচ্চ ব্যাবহার কোন কাজে আসেনি। কাদের মোল্লার জানাজা আনুষ্ঠানিকভাবে করতে দেয়নি সরকার। তাতে কি, জামায়াতের এই নেতার গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সারা বিশ্বে লক্ষ জনতা তাতে অংশ নিতে দেখা গেছে। বাংলাদেশের অনেক সচেতন মানুষ শেখ মুজিবের জানাজায় অংশগ্রহনকারী স্বল্প মানুষের সাথে তা তুলনা করে বলেছেন, তাহলে কি মুজিবের চেয়ে কাদের মোল্লারাই বেশি জনপ্রিয়। সে অন্য প্রসঙ্গ।


চলমান আন্দোলনে যদি ১৮দল সুবিধা করতে পারে এবং হাসিনা পদত্যাগ করে একটা সুষ্ঠ নির্বাচনের ব্যাবস্থা করেন। তাহলে বিভিন্ন জরিপে পাওয়া তথ্য মতে বিএনপি সরকার গঠন করবে। সাথে শরিকরা হয়তো ৩ থেকে ৪টি মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব পাবেন। পুরো সরকারে থাকবে বিএনপি। তখন বিএনপির শীর্ষ নেতা কেন, ঢাকা শহরের তিন থেকে পাঁচটি বাড়ী মিলে গঠিত একটি ইউনিট বিএনপির সভাপতির অত্যাচারে ঐ কয়টি বাড়ীর লোকেরা অতিষ্ট হয়ে যাবে। তাদের ক্ষমতার দাপটে ধারের কাছে যাওয়াই মুশকিল হবে। তারপর আবার কেন্দ্রীয় এবং মহানগরীর নেতাদের কথা তো চিন্তাই করা যায়না। অথচ খালেদা জিয়া বর্তমান কর্মসূচীতে অংশগ্রহনের জন্য নেতাকর্মীদের বারবার নির্দেশ দিচ্ছেন কিন্তু তারা ঘর থেকে বের হচ্ছেনা।


অপরদিকে জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির নির্দেশ দিচ্ছেনা। কারন আংশিক কর্মসূচী দিলেই জানবাজ জামায়াত শিবির কর্মীরা রাজপথে ঝাপিয়ে পরে। জানা তথ্য মতে তারা জীবন দেয়াকে শাহাদাতের মৃত্যু মনে করে, এবং লড়াই করে বেচে থাকাকে গাজী হওয়ার মর্যাদার অধিকারী মনে করে। ফলে তারা বলে মৃত্যুবরণ অথবা লড়াই করে নির্যাতন সয়ে বেচে থাকা কোনটিতেই হারানোর কিছু নেই, আছে শুধু পাওয়ার। ফলে ইতোমধ্যে জামায়াতের যে ক্ষতি হয়েছে তা তারা আল্লাহর পক্ষ থেকে এক ধরনের ঈমানী পরীক্ষাই বিবেচনা করছে।


শিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও তাদের বিভিন্ন ওয়েব সাইট থেকে পাওয়া তথ্য মতে জামায়াতের বিরুদ্ধে মোট মামলা হয়েছে প্রায় ২৬,০০০টি, মোট আসামী প্রায় ৫,০০,০০০ জন। মোট আহত প্রায় ১৫,০০০ জন, শুধু শিবিরের গ্রেফতার হয়েছে ১২,০০০ নেতাকর্মী। জামায়াত শিবির মিলে মোট নিহত প্রায় তিনশতাধিক। গুম হয়েছে ৪০ জন। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবির নেতা মুকাদ্দাস ও ওয়ালিউল্লাহ সহ এখনো খোজ মেলেনি ৮ নেতা কর্মীর। মোট চোখ নষ্ট হয়েছে  ২৮ নেতাকর্মীর। গত চার বছরে হাত-পা নষ্ট হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করছে ৪৫ জন নেতা কর্মী।

সরকার শিবিরের কেন্দ্রীয় অফিস বন্ধ করে দিয়েছে ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১১ থেকে। এই মুহুর্তে দেশের কোথাও কোন অফিস খোলা নেই। বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ছাত্রাবাস থেকে বের করে দিয়েছে এক লাখেরও বেশি ছাত্রশিবির কর্মী নেতা কর্মীদের। পরীক্ষার হল থেকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে প্রায় তিনশতাধিক। পরিক্ষায় অংশগ্রহন করতে পারছেনা প্রায় কয়েক লাখ ছাত্র। শিবির সন্দেহে বিশ্ববিদ্যালয় হলের মধ্যে রাতভর নির্যাতন করেছে কয়েক হাজার নেতাকর্মীকে। কম্পিউটার ও ল্যাপটপ হারানো গিয়েছে প্রায় ১০০০ টি। একাডেমিক সার্টিফিকেট পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে প্রায় ১০০০ জনের।


শিবিরের দাবি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের হাতে নিহত হয়েছে ১১ জন। কেন্দ্রীয় সভাপতি ও কেন্দ্রীয়  প্রচার সম্পাদকসহ  এক ডজন কেন্দ্রীয় নেতাকে গ্রেফতার এবং  ডিবি ও থানায় নিয়ে অমানবিক নির্যাতন করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। থানায় নিয়ে পুলিশ গুলি করে পঙ্গু করেছে ২০ জন। ১০ ফেব্রুয়ারী  ২০১০ থেকে চিরুনী অভিযানে ব্যাপক হয়রানির স্বীকার হয়েছে জামায়াত শিবির। শিবিরের এই কেন্দ্রীয় নেতার দাবি সবধরণের সরকারী চাকুরী থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে ছাত্রশিবিরকে।

ফলে জামায়াতের হাইকমান্ড নির্দেশ দেয়ার সাথে সাথে ঝাপিয়ে পড়ে তাদের দলীয় নেতাকর্মীরা। যার খেসারত বারবার দিতে হয়েছেও সরকারকে। শিবিরের বুদ্ধিভিত্তিক অনলাইন এবং অফলাইন সক্রিয়তা সরকারকে বারবার ভাবিয়ে তুলছে। ফলে বলা চলে তাদের দলের হাইকমান্ড যা নির্দেশ দিয়েছে তা বাস্তবায়নের জন্য জামায়াত শিবির ছিল ব্যাপক সক্রিয়। শিবির জামায়াতের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতাকে মুঠো ফোনে জিজ্ঞাসা করলে তারা বলেন, দলের নির্দেশ পেলে মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা জীবন বাজি রেখে সব শক্তি রাজপথে প্রয়োগ করতে প্রস্তুত আছে।

অপদিকে পরিলক্ষিত হচ্ছে, মকবুল আহম্মদ যতটুকু নির্দেশ দিয়েছে মাঠ পর্যায়ে তার অনেক বেশি সক্রিয় ছিল জামায়াত শিবির কর্মীরা। মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ করে জানা যায়, তারা জানবাজি রেখে আন্দোলনে অংশগ্রহন করা ঈমানের দাবি মনে করে। তারা বলেছে- আগামীতে সরকার যে কোন হটকারি সিদ্ধান্ত নিলে দলের সকল নেতাকর্মী সংঘবদ্ধ হয়ে গণপ্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তুলতে সক্ষম হবো। কিন্তু খালেদা এতোবড় রাজনৈতিক দলের প্রধান হয়েও গলা ভেঙ্গেছে কিন্তু রাজপথে নেতাদের নামাতে পারেনি।

বর্তমান সরকারের আমলে বিএনপির ক্ষয়ক্ষতির পরিমান নিয়ে লেখাটির জন্য পাঠকদের কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে।

বাংলাসংবাদ/এস

 

আরও সংবাদ