Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Fri September 21 2018 ,

চাঁপাইনবাবগঞ্জের খেজুরের রস বিলুপ্তির পথে

Published:2013-12-28 11:38:49    

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি: চাঁপাইনবাবগঞ্জের সব এলাকায়  কমেছে খেজুর গাছ। ফলে শীতের ভোরে মিষ্টি মৌসুমী এই রসের তৃপ্তি পাচ্ছেন না সাধারন জনগন। শীত আসলেই এ জেলায়  প্রায় সব খেজুর গাছেই গাছিরা গাছ ছিলে রস বের করত গাছে বাধা মাটির হাঁড়িতে।

রসের মিষ্টির তৃপ্তিতে প্রান জুড়িয়ে যেত। কিন্তু বর্তমানে গাছ সংকটের কারনে রসের চাহিদা মেটাতে পারছেনা জেলার গাছিরা। আর যে গাছগুলো এখনও আছে সেগুলোতে আর রসের হাঁড়ি চোখে পড়েনা।

গাছিরা বাহুকের দুই মাথায় রসের হাঁড়ি বেঁধে আগের মত গ্রামে-গ্রামে, শহর এলাকায় তেমন আর বিক্রি করেনা। গ্রাম বাংলার এ দৃশ্য আর নেই বললেই চলে। কিছুদিন আগেও কুয়াশার চাদরে ঢাকা শীত মৌসুমের সকালে এরকম দৃশ্য চোখে পড়ত জেলায়।

এলাকার রীতি অনুযায়ী সাত সকালে খেজুরের গাছ থেকে গাছিরা রসের হাঁড়ি পেড়ে বাড়িতে বাড়িতে ভাগ করে দিত। বাকি রসগুলো বাহুকে নিয়ে গ্রাম-গঞ্জে, হাটবাজারে বিক্রি করত। ডাক দিত ‘ ও ভাই রস নিবেন না, রস? মিষ্টি রস, খেজুরের রস?’ খেলেই মন প্রান জুড়িয়ে যাবে।

এছাড়া গ্রামের শুধু নয় শহরের মহিলারাও খেজুর রসের কিংবা খেজুরের গুড় দিয়ে হরেক রকম লোভনীয় মজাদার খাবার তৈরি করত।

তবে কনকনে শীতের এ সময় জেলায় বেশ কিছু গাছে রস আহরন করতে দেখা গেছে এবছরও। তবে গাছিরা গাছ সংকটের কারনে চাহিদামত রস বিক্রি করতে পারছেন না। গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যর প্রতীক এই ‘মধু বৃক্ষ’ বিলুপ্তির পথে। বাড়ির আশেপাশে, মাঠে ও মেঠো পথের ধারে কিছু গাছ কালের সাক্ষী হয়ে দাড়িয়ে আছে। যে হারে খেজুর গাছ নিধন হচ্ছে সেহারে তাতো আর রোপন করা হয় না।

খেজুর রসের পিঠা ও পায়েস তো খুবই মজাদার। এসময় রসের তৈরী  ক্ষীর, পায়েস ও পিঠা খাওয়ার ধুম পড়ে যায় ঘরে ঘরে। খেজুরের রস থেকে তৈরি হয় খেজুর গুড় ও প্রাকৃতিক ভিনেগার।

এখনকার বাচ্চা ছেলেমেয়েরা তেমনভাবে আর দুধ চিতই, পুলি-পায়েস খেতে পায়না। জেলার বৃদ্ধ এক উকিল জানান, এক সময় এ জেলা খেজুর রসের জন্য বিখ্যাত ছিল। এখন গাছ যেমন কমে গেছে তেমন কমে গেছে বংশ পরম্পরায় গাছির সংখ্যাও।তারা অন্য পেশায় নিয়োজিত হয়ে পড়েছে।

ফলে প্রকৃতিগত সুস্বাধু সে রস আর তেমন আহরণ নেই। তবে হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে চেষ্টা করছে কিছু লোকজন। যেকটা গাছ রয়েছে পরিচর্যা করে রক্ষার চেষ্টা চলছে। তবে প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় ও বাংলার ঐতিহ্য ধরে রাখতে ব্যাপকভাবে খেজুরগাছ রোপন করা দরকার।

গাছিরা  জানান, খেজুরের গাছ কমে যাওয়ায় তাদের চাহিদাও কমে গেছে। আগে এ কাজ করে ভালোভাবেই সংসার চলে যেত। এমনকি আগে যে আয়-রোজগার হতো তাতে মৌসুমী এ কাজ করে ভালো ভাবেই সংসার চালানো হতো সারা বছর।

তারা আরো জানান, ইটের ভাটায় ব্যাপকভাবে খেজুর গাছ ব্যবহার করায় এ গাছ কমে গেছে। আবার অনেক সময় ঘড়বাড়ি নির্মাণ করার জন্য খেজুরের গাছ কেটে ফেলা হয়।

মূলত: জেলার সদরসহ বরেন্দ্র এলাকার নাচোল ও গোমস্তাপুরে এ গাছ ছিল অনেক। তবে নেই কোন পরিসংখ্যান বা সরকারী বেসরকারী উদ্যেগ মাটির ক্ষয়রোধকারী ও কমপানিতে চাষের উপযোগী গূচ্ছ মূলের এই বৃক্ষের।

এদিকে ডাক্তাররা আবার কাচা এই রস খেতে নিষেধ করছেন প্রানঘাতী নিপা ভাইরাসের কারনে। বাদুড়েরা নাকি দায়ী এজন্য। এ ব্যাপারে চলছে সরকারী প্রচারনা। তবে জাল দিযে এটি ব্যবহারে নেই কোন বাধা।

বাংলাসংবাদ২৪/পিংকু/এমএস

আরও সংবাদ