Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Tue August 21 2018 ,

ধ্বংসের মুখে চিংড়ি রপ্তানী ৬ মাসে কমেছে ১৮৫১ মে.টন

Published:2014-01-18 18:44:35    

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাংলাসংবাদ: খুলনায় চলতি ২০১৩-১৪ অর্থবছরের প্রথম ছয়মাসে বাগদা রপ্তানী করে আয় হয়েছে ১৩০৮ কোটি ৯১ লাখ টাকা। বাগদার রপ্তানীতে আগের বছরের তুলনায় হেরফের না হলেও দাম বৃদ্ধির কারনে রপ্তানী আয় বেড়েছে প্রায় ৪০২ কোটি ৮১ লাখ টাকা। এবং ৬ মাসে রপ্তানী কমেছে ১৮৫১ মে.টন।

চিংড়ি খামারীরা বলছেন, উপকুল অঞ্চলে লোনা পানি বিরোধী জনমত, লোনা পানি তোলা ও বাঁধ কাটার দায়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিশেষ আইনে মামলা, রোগ বালাইসহ নানা কারনে চিংড়িচাষীরা মাছ চাষে আর আগ্রহী হচ্ছে না। তার ওপর রয়েছে লাগাতার হরতাল-অবরোধ। এতে রপ্তানী প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি রপ্তানীকারকদের।  

এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা ও দাম বৃদ্ধির কারনে খুলনাঞ্চলের খামারীরা বাগদা চাষে আগ্রহী হয়ে পড়েছেন।

তবে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে অন্যান্য চিংড়ি ও সাদা মাছ রপ্তানীতে। সরকারি ভর্তুকী বন্ধ, ইলিশ রপ্তানীতে নিষেধাজ্ঞা ও উৎপাদন ঘাটতির কারনে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে খুলনা থেকে গলদা ও সাদা মাছে রপ্তানী আয় কমেছে প্রায় ৫৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।

২০১২-১৩ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সাদা মাছ রপ্তানী হয়েছে ৪১ কোটি ৭২ লাখ টাকার ২০৪৬ দশমিক ১২ মেট্রিক টন। চলতি ২০১৩-১৪ অর্থবছরের একই সময়ে ইলিশ, পারশে, ভেটকি, বাইন, টেংরাসহ অন্যান্য সাদা মাছ সাদা রপ্তানী কমেছে প্রায় ২১ কোটি ২৪ লাখ টাকার। সূত্র অনুযায়ী, সাদা মাছ রপ্তানীর ক্ষেত্রে সরকারি ভর্তুকি না থাকায় অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে রপ্তানী হয়েছে ২০ কোটি ৫৮ লাখ টাকার ৮১৯ দশমিক ৯৪ মেট্রিক টন।

মৎস্য পরিদর্শন ও মাণ নিয়ন্ত্রন দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১২-১৩ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) খুলনা থেকে গলদা চিংড়ি রপ্তানী হয়েছে ১৭৪ কোটি ৩৩ লাখ টাকার ১৩৪০ দশমিক ৫৬ মেট্রিক টন। ২০১৩-১৪ অর্থবছরের একই সময়ে গলদা চিংড়ির রপ্তানী কমে দাঁড়িয়েছে ১৬০ কোটি ৮ লাখ টাকার ১৩২৯ দশমিক ৬৮ মেট্রিক টন। রপ্তানী কমেছে পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় প্রায় ১৪ কোটি ২৭ লাখ টাকার।

মৎস পরিদর্শন ও মাণ নিয়ন্ত্রন, খুলনার উপ-পরিচালক মো: আব্দুর রাশেদ জানিয়েছেন, মাঠ পর্যায়ে খামারীরা বাগদা চাষের প্রতি বেশি আগ্রহি পড়ছে। পরিবেশ ও অবকাঠামোগত সুবিধা, একই জমিতে ধানের পাশাপাশি বাগদার চাষ ও সরকারি টেকনোলজি সার্পোটের কারণে বাগদার উৎপাদন ও রপ্তানী বাড়ছে। বর্তমানে প্রায় ২ লাখ ১১ হাজার হেক্টর জমিতে বাড়দা ও ৬৫ হাজার হেক্টর জমিতে গলদার চাষ হয়।   

গত অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে খুলনা থেকে প্রায় ১৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকার ৩৮৮ দশমিক ০৮ মেট্রিক টন ইলিশ মাছ রপ্তানী হলেও চলতি অর্থ বছরে সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারনে ইলিশ রপ্তানী বন্ধ রয়েছে।

তবে অন্যান্য চিংড়ি ও মাছের খোসার রপ্তানী কিছুটা কমেছে। ২০১২-১৩ অর্থবছরের প্রথম ছয়মাসে অন্যান্য চিংড়ি ৪৯ দশমিক ১৪ লাখ টাকার ৯৫৩ দশমিক ৬৩ মেট্রিক টন ও খোসা ৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকার ৮৮৯ দশমিক ৭৫ মেট্রিক টন রপ্তানী হয়। কিন্তু চলতি অর্থবছরের একই সময়ে অন্যান্য চিংড়ি রপ্তানী কমে ৩০ কোটি ৪৬ লাখ টাকার ৪৮৬ দশমিক ৯৩ লাখ টাকার ও খোসা ৩ কোটি ৬৯ লাখ টাকার ৬১৯ দশমিক ০৩ মেট্রিক টনে দাঁড়িয়েছে।
 
তবে এই ক্ষতি পুষিয়ে দিয়েছে বাগদা চিংড়ির রপ্তানী। ২০১২-১৩ অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বরে খুলনা থেকে বাগদা চিংড়ি রপ্তানী হয়েছে ৯০৬ কোটি টাকার ১০ লাখ টাকার ১৫ হাজার ৩৫৯ দশমিক ৭৬ মেট্রিক টন। আর চলতি অর্থবছরের একই সময়ে বাগদা রপ্তানী হয়েছে ১৩০৮ কোটি ৯১ লাখ টাকার ১৫ হাজার ৮৭০ দশমিক ৯৪ মেট্রিক টন। যা’ পূর্বের বছরের তুলনায় প্রায় ৪০২ কোটি টাকা বেশি।


মনি/মাক্কী

আরও সংবাদ