Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Wed September 26 2018 ,

বরগুনায় যৌতুকের বলি গূহবধু শরীফা

Published:2014-01-21 17:37:13    

কামরুল হোসেন মনি খুলনা থেকে: বরগুনা জেলার বেতাগী থানার চান্দখালি গ্রামে যৌতুকের বলি হয়ে গূহবধু শরীফা খাতুনের (২৫) নির্মম মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে টুটপাড়া এলাকাবাসি।

খুলনা জেলার টুটপাড়া এলাকার হারেজউদ্দিন লেনের বাসিন্দা নূর মোহাম্মদের মেয়ে শরীফা খাতুন।

সোমবার সকাল সাড়ে ৮টায় শরীফা মৃত্যুর কিছু আগে বাবাকে বলেছিল, আব্বা আমার তো টাকা লাগবে। টাকা পাবেন কবে?
শরীফার ছোট্ট মেয়ে শান্তা নানার হাত থেকে মোবাইল ফোন নিয়েছিল, মায়ের সাথে কথা বলবে বলে। কথা হয়নি, ‘শুধু মায়ের একটি চিৎকার কানে আসে, ওরে মা, আমার পিঠটা শেষ হয়ে গেল। বন্ধ হয়ে যায় ওপ্রান্তের সেটটি।’ এর মাত্র এক ঘন্টা পরে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নূর মোহাম্মদকে শরীফার স্বামী মোবাইল করে জানায়, তার মেয়ে গলায় ওড়না পেচিয়ে ফ্যানে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে।

নিহত শরীফার দুই মেয়ে শান্তা (৮) ও তিষা(৫)। শান্তা নানা বাড়ি বেড়াতে এসেছিল।

স্থানীয়রা জানায়, পারিবারিক ভাবে ২০০১ সালে শরীফার বিয়ে হয় কামাল হোসেনের সাথে। কামাল একটি মাছের কোম্পানীতে চাকরি করতো। তবে আয় রোজগার ভালো না থাকায় প্রায়ই তাদেরকে অর্থ দিয়ে সাহায্য করাতো। বিয়ের পর থকে কামাল-শরীফা দম্পত্তি খুলনায় থাকতো। দু’বছর আগে তারা বরগুনা গ্রামের বাড়ি চলে যায়।

মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর সোমবার সকালে শরীফার বাবা এলাকার কয়েকজনকে নিয়ে রওনা হয়। চান্দখালি গ্রামে পৌছানোর পর জামাই বাড়ির লোকদের আচরন, কথাবার্তা সব কিছু অস্বাভাবিক মনে হতে থাকে। সেখানে কবর খোড়া ছিল। অনেক অনুরোধের পর লাশটি খুলনায় আনার অনুমতি মেলে।

মঙ্গলবার ভোরে শরীফার লাশ নিয়ে তার বাবা খুলনায় পৌছায়। পরে লাশ গোছল করানোর জন্য নিয়ে আসা হয়। লাশটি খুলতেই ভয়ে আতকে ওঠেন গ্রামের বয়োবৃদ্ধারা। জীবনে স্বাভাবিক বা অস্বাভাবিক অসংখ্য লাশের গোছল করিয়েছেন। কিন্ত এমন বিভৎস দৃশ্য কোনদিন নজরে পড়েনি। উপস্থিত সবার কাছে বিভৎস লাশের বিবরন দিতে গিয়ে বলেন, লাশের দুই হাতের বাহু ও কবজি, দুই পায়ের উরু, ও মাথা ও পিঠ ধারালো অস্ত্র দিয়ে কাটা ছিল। পোস্টমর্টেম করার কথা বলা হলেও লাশের অবস্থা দেখে তা মনে হয়নি। চামড়া হালকা কাটা, তাতে নীল নাইলনের সুতা দিয়ে দুটো সেলাই দেয়া। বুক থেকে পেট পর্যন্ত কাটা থাকলেও, তাতে কোন সেলাই নেই।

নির্যাতনে মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে মুহুর্তেই শত শত মানুষ ভিড় করে। এসময় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী শরীফার স্বামীর ভাই আরিফুর রহমানকে গণধোলাই দেয়।

সংবাদ পেয়ে কেসিসির মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনি ও ৩০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ছুটে আসেন। তারা পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলেন এবং এতিম দুই শিশুকে কাছে টেনে নেন।

মেয়র বলেন, আইনগত দিকগুলো বিবেচনায় নিয়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহন এবং দোষীদের বিচারের ব্যাবস্থা করতে হবে। তিনি শোকাহত পরিবারকে ধৈর্য্য ধরার পরামর্শ দেন।

নিহত শরীফার ভাই ডালিম জানান, বোনের পরিবারে আয় রোজগার ভালো না থাকায় প্রায়ই তাদেরকে অর্থ দিয়ে সাহায্য করা লাগতো। টাকার দাবিতে তার বোনকে প্রায়ই নির্যাতন করতো। তবে বোন খুবই চাপা স্বাভাবের হওয়ায় এসব কথা তাদেরকে বলতো না। ভাগ্নি শান্তার কাছ থেকে তার বাবার অত্যাচারের অনেক বিবরন তারা শুনেছে। এজন্য শান্তা প্রায় সময়ই নানা বাড়ি থাকতো।

এদিকে শরীফার মেয়ে শান্তা জানায়, ‘আব্বু সব সময় আম্মুকে গালি দিতো, কথায় কথায় মারতো। খাইতো বসলে টাকার খোটা দিত।’
‘দাদিও আম্মুকে গালাগালি করতো। আরিফ চাচাও আম্মুরে বলতো তোর বাপের কাছ থেকে টাকা আইনা দে। আব্বু আমারে স্কুলে যাইতে নিষেধ করতো। আর ছোট আপুরে মাইরা ফ্যালানোর জন্য একবার মুখে লবন ভরে দিছিলো।’
 
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে টুটপাড়া এলাকার শত শত বিক্ষুব্ধ নারী পুরুষ শিশু নিহত শরীফার লাশ নিয়ে মিছিল বের করে। তারা কেএমপি কমিশনারের কার্যালয় ঘেরাও করে আসামীদের গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবি জানায়।
এ সম্পর্কে জানতে কামাল হোসেনের ০১৭১৯৫৬৪৪৩৮ নম্বরে কল দেয়া হলে বন্ধ পাওয়া যায়।

বাংলাসংবাদ/তানভীর

আরও সংবাদ