Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Thu December 12 2019 ,

  • Techno Haat Free Domain Offer

আধুনিকতার কাছে হার মেনেছে মাটির তৈরী মৃৎশিল্প

Published:2014-01-24 17:28:21    

বাংলাসংবাদ: যশোরের চৌগাছা উপজেলায় বিভিন্ন গ্রামের মৃৎ শিল্পীরা আধুনিকতার যুগে পূর্ব পুরুষদের পেশাকে টিকিয়ে রাখতে গিয়ে চরম হিমশীম খাচ্ছে। তারা বর্তমানে অত্যন্ত মানবেতর জীবন যাপন করছে।

শিল্পীদের হাতে গড়া শিল্প আজ অনেকটাই যেন আধুনিকতার কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। উপজেলার সচেতন মহল মনে করছেন সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে হয়তো এর সাথে সম্পৃক্তরা শিল্পটিকে আবার পূর্বের জায়গায় ফিরিয়ে নিতে পারত।

সূত্র জানায়, যশোরের চৌগাছা উপজেলা নানা দিক দিয়ে গুরুত্ব বহন করে আসছে। মহান স্বাধীনতার প্রবেশদ্বার হিসাবে খ্যাত এ উপজেলায় নানা ধর্ম-বর্ণের অন্তত ৩ লাখ মানুষের বসবাস। বৃটিশ শাসনামল থেকে এ জনপদের এক শ্রেণীর মানুষ মাটির তৈরী বিভিন্ন ধরনের পাত্র তৈরী করে জীবিকা নির্বাহ করার পাশাপশি এটিকেই তারা পেশা হিসাবে বেছে নিয়েছে। তাদের হাতের তৈরী এ সব মাটির সামগ্রী এলাকার চাহিদা পূরণ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রপ্তানি করা হতো।

মাটির তৈরী এ সকল সামগ্রীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল হাঁড়ি-পাতিল, বাসন, বাটি, ঘড়া, নান্দা, ঠিলা, ছোবাপাতিল, কোলা, ঘট, বাতি, ধুপচি, জেলই, খোলা হাঁড়ি, মুড়ি ভাজা হাঁড়ি, খুরি ইত্যাদি।

দেশ স্বাধীনের পরও এই শিল্পর সাথে জড়িতরা বেশ ভালই ছিল। কিন্তু বর্তমান আধুনিকতার ছোঁয়ায় সেই মৃৎ শিল্পীদের আজ পথে বসার উপক্রম হয়েছে। বর্তমান বাজারে ষ্টীল, মেলামাইন, কাসা, প্লাষ্টিকের তৈরী জিনিসপত্রের কাছে মাটির তৈরী জিনিসপত্র অনেকটাই হার মেনে গেছে। সভ্যতার এই সমাজে অনেকেই মাটির তৈরী হাঁড়ি পাতিল ফেলে দিয়ে ব্যবহার করছেন মেলামাইন, প্লাষ্টিক অথবা ষ্টীলের তৈরী জিনিসপত্র। তবে শহরের তুলনায় এই মাটির পাত্র গ্রামাঞ্চলে এখনও বেশ কদর আছে বলে জানা গেছে।

গতকাল সরেজমিন চৌগাছা পৌর এলাকার ইছাপুর পালপাড়ায় গিয়ে দেখা গেল, সেখানকার মৃৎশিল্পীদের করুণ অবস্থা। তারা জীবন বাঁচানোর তাগিদে বাপ চাচাদের হাতে গড়া এই শিল্পকে বাঁচাতে রীতিমত হিমশিম খাচ্ছে। বাজারে আগের মত তেমন চাহিদা না থাকলেও বলা চলে বেঁচে থাকার তাগিদে এই পেশাকে আগলে রেখেছে।

আবার অনেকে পেশা পরিবর্তন করে ভ্যান চালক, কৃষিকাজ, দর্জি সহ বিভিন্ পেশা বেছে নিয়েছে। সেখানে গিয়ে দেখা গেল, গোবিন্দপালের ছেলে গয়ুর পাল, কোমল পালের ছেলে গোপাল পাল, জটাকার পালের ছেলে অজিত পাল তাদের কাজে বেশ ব্যস্ত সময় পার করছে। গৃহকর্তাদের সাথে বাড়ির গৃহবধুরা সমানতালে কাজ করছে। বাড়ির পুরুষরা চাকা ঘুরিয়ে হাঁড়ি কলস তৈরীতে ব্যস্ত আর মেয়েরা তৈরী করছে ছোবা, পিঠা তৈরীর পাত্রসহ ছোটখাটো মাটির সামগ্রী।

এ সময় কথা হয় ইছাপুর পাল পাড়ার জটাধর পালের ছেলে গোপাল পালের সাথে। তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, বর্তমান সভ্যতার কাছে তাদের তৈরী জিনিসপত্র এক কথায় হার মেনে গেছে। তার পরেও আমরা যে কয়জন শিল্পী আছি তারা শিল্পটাকে বাঁচিয়ে রাখতে যথারীতি হিমশিম খাচ্ছি। এই শিল্পকে বাঁচাতে এখন প্রধান সমস্যা হচ্ছে বাজারে যথেষ্ট চাহিদা তৈরী করা। বাজার চাহিদা পেলে আমরা শিল্পটিকে বাঁচাতে পারবো। তিনি জানান, বর্তমান সময়ে মৃৎ শিল্পের সকল মালামাল তৈরী বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয় আমাদের।

এর মধ্যে যেমন মাটি সংগ্রহে বেশ সমস্যায় পড়তে হয়। পূর্বে মাঠের পর মাঠ পড়ে থাকত, মাটি সংগ্রহে তেমন বেগ পেতে হতো না। কিন্তু এখন প্রতিটি জামিতে চাষ হচ্ছে। ফলে মাটি সংগ্রহে বেশ সমস্যায় পড়তে হয়। তারপরও নানা প্রতিকুলতার মধ্যেও তারা পেশাকে আগলে ধরে রেখেছে। কিন্তু বাজারে আগের মত চাহিদা না থাকায় তাদের তৈরী মালামাল নিয়ে অনেক সমস্যা হচ্ছে।

একই কথা বলেন, গয়ুরপাল, গোপালপাল, কোমলপাল, মনোরঞ্জনপাল, পারুল পাল, নিতাই পাল প্রমুখ। উচ্চ মাধ্যমিক পাশ মনোরঞ্জন পাল বলেন, লেখাপড়া শিখেও কোন চাকরি না পাওয়ায় পিতার পেশাকে বেছে নিয়েছি। ৬ সদস্যের সংসার আমাদের। এই হাতের তৈরী বিভিন্ন সামগ্রী বেচাকেনা করে তা থেকে উপার্জিত অর্থে ভাল ভাবেই চলে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার অন্তত ২০ টি গ্রামে এক সময় এই শিল্পের জমজমাট ব্যবসা ছিল। সময়ের ব্যবধানে এখন তা অনেকটাই সংকুচিত হয়ে গেছে। উপজেলার ইছাপুর, নিয়ামতপুর, তাহেরপুর, হাজরাখানা, গরীবপুর, পলুয়া, সাজ্ঞাডাঙ্গা, চন্দ্রপাড়া ও সলুয়া গ্রামে বলা চলে এই শিল্পের কাজ ধুকে ধুকে চলছে।

মৃৎশিল্পের সাথে জড়িত এ সকল গ্রামের শিল্পিরা জানান, তাদের পেশাকে বাঁচিয়ে রাখতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা অতীব জরুরি। এর জন্য তারা সরকারি সহযোগিতার কামনা করেন ।


মিন্টু/এমএ ইউসুফ/মাক্কী
 

আরও সংবাদ