Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Wed September 26 2018 ,

কুড়িগ্রামে হারিয়ে যাচ্ছে খেজুর গাছ

Published:2014-01-26 12:39:04    

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ শীতের মৌসুমে সকালে এক দশক আগে ভিন্ন দৃশ্য চোখে পড়ত। গ্রামবাংলার এ দৃশ্য আর নেই বললেই চলে। সাতসকালে খেজুরের রস নিয়ে গাছিরা বাড়ি বাড়ি ডাক দিত ‘ও ভাই, রস লাগবে না রস?।

 শীতের মৌসুম শুরু হতেই বাড়ি বাড়ি চলত খেজুরের রস কিংবা রসের পাটালিগুড় দিয়ে মজাদার পিঠাপুলির আয়োজন। শীতের শুরুতে রাজিবপুর উপজেলার নামমাত্র কিছু খেজুর গাছে রস আহরণ শুরু করেছে গাছিরা। কিছুদিন ধরে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের প্রতীক এই মধুবৃক্ষ (খেজুর গাছ) ঘিরে গ্রামীণ জনপদে শুরু হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

তুলনামূলকভাবে কুড়িগ্রামের রাজিবপুর খেজুর গাছ বিলুপ্তির পথে। গ্রামের মাঠে আর মেঠোপথের ধারে কিছু গাছ দাঁড়িয়ে আছে কালের সাক্ষী হয়ে। গ্রামবাংলার ঐতিহ্য এই খেজুর গাছ আজ অস্তিত্ব সঙ্কটে। যে হারে খেজুর গাছ নিধন হচ্ছে, সে তুলনায় রোপণ করা হয় না। রসনা তৃপ্তির উপকরণ সুমিষ্ট রসের জন্যই নয়, জীবনের প্রয়োজনে প্রকৃতির ভারসাম্য ও বাংলার ঐতিহ্য রক্ষায় ব্যাপকভাবে খেজুর গাছ রোপণ করা দরকার এমন আকুতি অনেকের।

শীত মৌসুমে সকালে খেজুরের তাজা রস যে কতটা তৃপ্তিকর তা এখন মুরব্বীদের মুখে শোনা যায়। আর খেজুর রসের পিঠা এবং পায়েস তো খুবই মজাদার। এ কারণে শীত মৌসুমের শুরুতেই গ্রামাঞ্চলে রসের ক্ষির, পায়েস ও পিঠা খাওয়ার ধুম পড়ে যায়। শুধু খেজুরের রসই নয়, এর থেকে তৈরি হয় গুড় ও প্রাকৃতিক ভিনেগার। রস আর গুড় ছাড়া আমাদের শীতকালীন উৎসব ভাবাই যায় না।

উপজেলার সদর ইউনিয়নের কড়াতিপাড়া গ্রামের বাদশা মিয়া স্মৃতিচারণ করে বলেন, কাঁচা রসের পায়েস খাওয়ার কথা এখনও ভুলতে পারি না। আমাদের নাতি-নাতনীরা তো আর সেই দুধচিতই, পুলি-পায়েস খেতে পায় না। তবুও ছিটেফোঁটা তাদেরও কিছু দিতে হয়। যে ক’টি খেজুর গাছ আছে তা এখন আর কাটা হয় না।

 কারণ রস না থাকায় গাছ কাটলে প্রায় রাতেই রস চুরি হয়ে যায়। উপজেলার মোহনগঞ্জ ইউনিয়নের বড়বেড় গ্রামের বয়বৃদ্ধ শামসুল হক জানান, গাছের সংখ্যা অনেক কমে গেছে। এক সময় উপজেলায় খেজুর রসের জন্য প্রসিদ্ধ ছিল। এখন গাছ যেমন কমে গেছে, তেমনি কমে গেছে গাছির সংখ্যাও। ফলে প্রকৃতিগত সুস্বাদু সে রস এখন আর তেমন নেই। তবুও কয়েকটি গাছের পরিচর্যা করে হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে চেষ্টা করে যাচ্ছি।

 যে কয়েকটি গাছ রয়েছে, তাতে যা পাওয়া যায় তা স্বজনদের নিয়ে মৌসুমী এ রস আস্বাদন করি। পশ্চিম রাজিবপুর গ্রমের বয়স্ক গাছি আবদুল সাত্তার জানান, খেজুরের গাছ কমে যাওয়ায় তাদের চাহিদাও কমে গেছে। আগে এই কাজ করে ভালোভাবেই সংসার চালাতেন। এমনকি আগে যে আয়-রোজগার হতো তাতে সঞ্চয়ও থাকত, যা দিয়ে বছরের আরও কয়েক মাস সংসারের খরচ চলত।

 যে কয়েকটি খেজুর গাছ আছে তা বুড়ো হয়ে যাওয়ায় রস তেমন পাওয়া যায় না। রস বাজারে বিক্রির মতো আগের সেই অবস্থা নেই। তবুও তারা খেজুর গাছ এখনও রক্ষা করে চলেছেন। জানা গেছে, ইটের ভাটায় ব্যাপকভাবে খেজুর গাছ ব্যবহার করায় এ গাছ কমে গেছে।

খেজুর গাছ সস্তা হওয়ায় ইটের ভাটায় এই গাছই বেশি পোড়ানো হয়। এছাড়া অনেক সময় ঘর-বাড়ি নির্মাণ করার জন্য খেজুরের গাছ কেটে ফেলা হয়। ফলে দিন দিন খেজুরের গাছ কমে যাচ্ছে।

বাংলাসংবাদ২৪/মমিনুল ইসলাম/এফএএম

আরও সংবাদ