Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Wed December 19 2018 ,

  • Advertisement

বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যদিয়ে শিবিরের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত

Published:2014-02-06 17:43:02    

ইসরাফিল, বাংলাসংবাদ: ভিবিন্ন কর্মসূচির মধ্যদিয়ে পালিত হল বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের ৩৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। আজ বৃহস্পতিবার ৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ৩৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী।

১৯৭৭ সালের এই দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ থেকে পথচলা শুরু করে একে একে ৩৬টি বছর পিছনে ফেলে এ সংগঠন রচনা করেছে এক গৌরবময় ইতিহাস। একটি গঠনমূলক গতিশীল গণতান্ত্রিক সংগঠন হিসেবে, একটি একক ও অনন্য অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে, মানুষ তৈরীর কারখানা হিসেবে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির জনতার মনে, লাখো তরুণের হৃদয়ে করে নিয়েছে তার স্থায়ী আসন।

কালের বিবর্তনে আজ সংগঠনটি বিশাল মহীরুহে পরিণত হয়েছে, যার ছায়াতলে আশ্রয় নিয়েছে দেশের লক্ষ লক্ষ মেধাবী ও মুক্তিকামী ছাত্র-তরুণ। আলোকবর্তিকা হাতে অগ্রসরমান যে কাফেলাটি অতি দ্রুতই মেধাবী তরুণ-ছাত্রদের হৃদয়ের স্পন্দনে পরিণত হয়, তার নাম “বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির”। শুরু হল সুমধুর সঙ্গীতের শপথদীপ্ত অনুরণন-“পদ্মা মেঘনা যমুনার তীরে আমরা শিবির গড়েছি-শপথের সঙ্গীন হাতে নিয়ে সকলে নবীজির রাস্তা ধরেছি..”

অপসংস্কৃতির করাল গ্রাস থেকে যুব সমাজকে রক্ষা এবং সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশের লক্ষ্যে দেশব্যাপী শিবিরের রয়েছে অসংখ্য সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী যারা নিয়মিত প্রশিক্ষণ, ওয়ার্কশপ, প্রযোজনার মাধ্যমে শিল্পী তৈরী করে যাচ্ছে প্রতি বছর।

বাংলাদেশের শিক্ষিত, আধুনিক তরুণদের মাঝে ইসলামী আচার-আচরণ, মূল্যবোধ ও সংস্কৃতি চর্চার ব্যাপারে শিবিরের প্রভাব অনেক। বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ করেছে স্টিকার, ঈদকার্ড, ক্লাস রুটিন, নব বর্ষের ডায়েরী, ক্যালেন্ডার ইত্যাদি। এছাড়াও রয়েছে সায়েন্স সিরিজসহ বিভিন্ন একাডেমিক প্রকাশনা।

আত্মঘাতী ট্রানজিট ইস্যু, টিপাইমুখ বাঁধ, সীমান্তে কাঁটা তারের বেড়া ও নির্বিচারে গুলি করে অপহরণ-ধর্ষণ-হত্যা, পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সেনা প্রত্যাহার, পিলখানায় দেশপ্রেমিক সেনা অফিসার হত্যা, চলমান তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনসহ বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে আলোচনা সভা, মানববন্ধনের আয়োজন করে এবং দেশের স্বার্থহানিকর এসব কর্মকান্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানায়।

ছাত্র শিবির জাতীয়, আন্তর্জাতিক ইস্যুতে সব সময়ই নীতিগতভাবে নিজের স্বার্থ সংরক্ষণ ও সকলের প্রতি বন্ধুত্বের প্রতি সচেতন। তবে, অন্যায় ও অবিচারের ব্যাপারে শিবির আপসহীন, জালেমের বিরোধিতা ও মজলুমের পক্ষ নেয়া শিবিরের নৈতিক দায়িত্ব।

শিবির তার যাত্রা শুরু করার সাথে সাথে ইসলাম বিরোধী মহল, কায়েমী স্বার্থবাদী গোষ্ঠীরা তাদের শত্রুতা শুরু করেছে। ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধাচরণ, শিবির নেতা কর্মীদের ব্যাপারে অপপ্রচার ছড়ানো, শিবিরের কর্মসূচির উপর হামলা, শিবিরকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা, শিবির কর্মীদের ব্যক্তিগত ও দলীয়ভাবে আঘাতে জর্জরিত করা, গোপন ও প্রকাশ্যে হামলা করে শিবির কর্মীদের হত্যা করা এসবই হয়ে দাঁড়িয়েছে একটি গোষ্ঠির একমাত্র কাজ। এ পর্যন্ত বিভিন্ন সংগঠনের হামলায় শিবিরের ২০৮ জন তাজা তরুণ কর্মী শাহাদাত বরণ করেছে। ওরা জানে না কী তাদের অপরাধ? কেন ওদের হত্যা করা হয়েছে। তেমনিভাবে আহত, পঙ্গু হয়ে কষ্টকর জীবনযাপন করছে শিবিরের শত শত কর্মী। চোখ, হাত, পা হারানো এসব ভাইয়ের সকরুণ জিজ্ঞাসা- “ কেন আমাদের এমন হলো”? কেউই তার উত্তর দেয় না, অথচ সবাই এর উত্তর জানে। “তাদের একমাত্র অপরাধ (!) তারা মহা পরাক্রমশালী স্বপ্রশংসিত আল্লাহর উপর ঈমান পোষণ করেছে” ওরা জীবন দিয়ে শাহাদাতে হক্বের সাক্ষ্য রেখেছে, ওরা পঙ্গুত্ব বরণ করেছে কিন্তু বাতিলের সাথে আপোষ করেনি, ওরা লড়তে লড়তে জীবনের দাম খুঁজে পেয়েছে। আর এভাবে মৃত্যুর মাঝে জীবনের সন্ধান করে ফেরাই বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের এক অনন্য ঐতিহ্য।

২০০৮ সালের ডিসেম্বরে প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আরোহণ করেছে আওয়ামী সরকার। দমন-পীড়ন, অত্যাচার-নির্যাতন এবং খুন-জখমের টার্গেটে পরিণত হয় শিবিরের সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা। এ নির্যাতন থেকে রেহাই পাচ্ছে না বাড়িতে থাকা মা-বোনেরাও। শিক্ষাঙ্গনের পবিত্র পরিবেশ নস্যাতের লক্ষ্যে তাদের ছাত্রসংগঠন রক্তপিপাসু ছাত্রলীগকে লেলিয়ে দিয়েছে তারা। ৫ জানুয়ারির প্রহসনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্যাতনের নতুন মাত্রা শুরু করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। যৌথবাহিনীর নামে সাধারন ছাত্র জনতাকে গ্রেফতার করে হত্যা করে ক্রস ফায়ার বলে চালিয়ে দেয়া হয়েছে।

শুধুমাত্র বর্তমান আওয়ামী সরকারের সময়েই হত্যা করা হয়েছে ছাত্রশিবিরের ৬৭ জন মেধাবী নেতা-কর্মীকে, গুম করা হয়েছে ৮ জনকে, আহত হয়েছেন প্রায় ৮ সহস্রাধিক, এর মধ্যে গুরুতর আহত হয়েছে ৩ শতাধিক,পঙ্গুত্ববরণ করেছেন ৪০ জন। এ ছাড়া গ্রেফতার হয়েছেন প্রায় ১৩ সহস্রাধিক, আর মামলা হয়েছে প্রায় ১৭ হাজার, এতে আসামী করা হয়েছে লক্ষাধিক নেতা-কর্মী। ২০০ এর অধিক ছাত্রশিবিরের অফিস, ছাত্রাবাস, নেতা-কর্মীদের আবাসস্থলে ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট করা হয়েছে।

হাঁটি হাঁটি পা পা করতে করতে পিছনে ফেলে এলো ছত্রিশটি সোনালি বছর। শিবির পরিণত হলো তৌহিদী ছাত্র-জনতার আস্থা, ভালবাসা, স্বস্তি ও মুক্তির এক প্রিয় ঠিকানায়। মায়ের মায়াবী আঁচল, বাবার স্নেহের বাঁধন, বোনের আদরের ডাক, ছোট্ট সোনা মণিদের করুণ চাহনি কিছুই পিছনে টেনে রাখতে পারে না একজন শিবির কর্মীর সামনে বাড়ানো পা দুটিকে। ত্যাগ কোরবানীর এক প্রচ- আগ্রহ, জান্নাতের এক দুর্বার আকর্ষণ তার ছিন্ন মস্তককেও অবিচল চেয়ে থাকতে সাহস জোগায় সামনের পানে। শিবির তাই আজ এক বিপ্লবী কাফেলা, এবং এক অকুতোভয় তারুণ্যের নাম।

৩৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে পক্ষকালব্যাপী হাতে নেয়া কর্মসূচি গুলো সফল করার লক্ষে প্রত্যেক মহনগরী, থানা, ওয়ার্ড, এবং উপশাখা গুলোতে ছিল নেতা কর্মীদের আসা যাওয়া।

তারা তাদের কর্মসূচি রাজধানী সহ জেলা শহর গুলোতে শান্তি পূর্ণ ভাবে সফল করেছেন।

বাংলাসংবাদ২৪/ইফ

আরও সংবাদ