Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Mon September 24 2018 ,

ভ্যালেনটাইন’স ডে নিয়ে কিছু কথা

Published:2014-02-13 10:22:47    

বাংলাসংবাদ: ফেব্রুয়ারী মাস আসলেই আমরা ২১ ফেব্রুয়ারীর প্রহর গুনতে থাকি। সেই ১৯৫২ সাল থেকেই বাঙালি জাতির এ অপেক্ষা।

কিন্তু দুঃখ জনক হলেও সত্য বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি বিজয়ের এ মাসে আমাদের সমাজে ঢুকে পড়েছে বিজাতীয় এক অপসংস্কৃতি। আর তা হল ১৪ ফেব্রুয়ারী বা তথা কথিত ভালবাসা দিবস যাকে ইংরেজীতে বলা হয় ভ্যালেনটাইন’স ডে। এ দিনে আমাদের দেশের অসংখ্য তরুন-তরুনী তাদের নৈতিকতাকে বিসর্জন দিয়ে থাকে। আর এ কাজে উৎসাহ যোগান আমাদের দেশের কিছু বুদ্ধিজীবী নামধারী রাম-বাম নারী লোভী কামুক শ্রেণীর লোকেরা।

আমাদের যুব সমাজকে তাদের আদর্শে সহজে ডাইভার্ট করার এটা একটা অনন্য উপায়ও বটে। আজ তাই অভিশপ্ত ভ্যালেনটাইন’স ডে নিয়ে কিছু কথা বলছি।

আমাদের সমাজে প্রবাহমান ভ্যালেনটাইন’স ডে সম্পর্কে তিনটি কাহিণী জানা যায়। এর একটি হল রোমান সম্রাট দ্বিতীয় ক্লডিয়াস যুদ্ধে অংশগ্রহনের জন্য একটি সৈন্যবাহিনী গড়তে সকল রোমান যুবকদের বিয়ে করা নিষিদ্ধ করেন। কিন্তু সম্রাটের নির্দেশ অমান্য করেই খৃস্টান গীর্জার পাদ্রী ‘‘সেন্ট ভ্যালেনটাইন” যুগলদের বিয়ের কাজ সম্পাদন করতেন।

সম্রাট এ ঘটনা জানতে পারলে ভ্যালেনটাইনকে কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়। তিনি কারাগারে থাকা কালে এক যুবতীর প্রেমে আসক্ত হয়ে পড়েন এবং কিছুদিন পরে মেয়েটি গর্ভবতী হয়ে পড়ে। ২৬৯ খ্রিস্টপূর্ব সালের ১৪ ফেব্র“য়ারী মৃত্যদণ্ড কার্যকর করার দিন ভ্যালেনটাইন সেই যুবতী মেয়েটিকে একটি চিরকুট লিখেন যার শেষে লেখা ছিল ‘‘ফ্রম ইউর ভালেনটাইন”।  
    
আরেকটি গল্প হলো, রোমান সম্রাট আরলিয়ানের সময় ১৯৭ খ্রিস্টপূর্ব সালের ১৪ ফেব্র“য়ারী ধর্মযাজক ‘সেন্ট ভ্যালেনটাইন’ মারা গেলে তার সমাধিতে হাজার হাজার ভক্ত ভালবাসার নিদর্শন স্বরুপ ফুল দেয়। সেখানে ফুল দিতে এসে নির্জনতায় অনেকেই কামসুখ লাভ করতো। তখন থেকেই পশ্চিমারা এ দিবসটিকে ভ্যালেনটাইন’স ডে তথা ভালবাসা দিবস হিসেবে পালন করে থাকে।  
    
তৃতীয় গল্প সম্পর্কে কেউ কেউ বলেন, ১৪ ফেব্রুয়ারী ইতালির তরুণীরা সকাল বেলা ঘুম থেকে জেগে উঠে জানালার দিকে তাকিয়ে থাকত। সে জানালা দিয়ে তারা প্রথমে যে যুবককে দেখতে পেত, তাকেই তারা বন্ধু হিসেবে বেছে নিত। তখন উভয়ের মধ্যে যৌন সম্পর্ক ও সিদ্ধ ছিল। ইচ্ছে করলে তারা পরস্পরকে বিয়ে করতে পারতো।  

আমাদের বাংলাদেশে ভ্যালেনটাইন’স ডে আমদানী করেন ‘যায়যায় দিন ’এর সাংবাদিক সফিক রেহমান। সে সময়টা ছিল ১৯৯৩ সাল। পরের বছর থেকে তা আনুষ্ঠানিকভাবে পালন শুরু হয়। ঐ সময়ের সাপ্তাহিক যায়যায় দিনে ‘ ভালোবাসা দিবস ’ সংখ্যাও নিয়মিত ছাপা হত।

কালক্রমে তা সংক্রমিত হতে থাকে যুব সমাজের মাঝে। আজ যেই সাংবাদিক মহোদয়ের মাধ্যমে আমাদের দেশের লক্ষ লক্ষ তরুন-তরুনীর মাঝে অনৈতিকতার যে ভাইরাস  ছড়িয়ে পড়েছে তিনি কি তার দায় দায়িত্ব নেবেন। তিনি যে কর্মটি সম্পাদন করে গেলেন তার দায় দায়িত্ব তিনি নেন আর না নেন  তবে সব তরুন-তরুনীর পাপের সদকায়ে জারীয়া তিনি অবশ্যই পাবেন। আর কোন মুসলিম ছেলে বা মেয়ের জন্য প্রচলিত নিয়মে ভালবাসা দিবস পালন করা বিলকুল হারাম।  


বাংলাসংবাদ২৪/কামাল/এমএস

আরও সংবাদ