Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Thu September 20 2018 ,

চারঘাটের ইউসুফপরে ঐতিহ্যের তাঁত ধরে রেখেছেন নারীরা

Published:2014-03-02 16:14:59    

রাজশাহী প্রতিনিধি: কাক ডাকা ভোরে সূর্য ওঠার আগেই রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার ইউসুফপুর তাঁতী পল্লীর নারীদের মাকুরের খট খট শব্দে ঘুম ভাঙে সকলের।

সকালে সংসারের কাজ শুরু হওয়ার আগেই ববিনে সুতা তোলা থেকে শুরু করে সুতায় রং লাগানো সেরে নেয় তাঁতীরা। এরপর রং লাগানো সূতা রোদে শুকাতে দিয়ে সংসারের কাজে হাত দেয় তারা।

অর্থনৈতিকভাবে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনে এভাবেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার ইউসুফপুর এলাকার হাজারো নারী। সংসারের কাজ সেরে অবসর সময়ে বসে না থেকে তাঁতের কাজ করে স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা এই এলাকার নারীদের। বর্তমানে এই এলাকার প্রায় চার হাজার নারী তাঁতের কাজ করে সংসার চালাচ্ছেন স্বচ্ছলভাবে।

অনেক স্বামী পরিত্যক্তা, বিধবা ও দরিদ্র নারীরা তাঁতের কাজ করে সুখে স্বাচ্ছন্দে জীবন যাপন করছেন। ইউসুফপুর এলাকার তাঁতী সুফিয়া বেগম বলেন, ‘আমার বয়স প্রায় ৬০ বছর। ১৩ বছর বয়সে বিয়ের পর থেকেই আমি তাঁতের কাজ করি। আমাদের এখানে প্রায় সব বাড়ির নারীরাই তাঁতের কাজ করে। সংসারের কাজ সেরে অবসর সময়ে বসে না থেকে এই কাজ করায় আমাদের সংসারে বাড়তি রোজগার হয়।

ছেলে মেয়েদের পড়াশোনাসহ সংসার চালাতে পারি ভালোভাবে । এই এলাকায় আমরা তাঁতের গামছা আর রুমাল তৈরি করি।’ তাঁতী ময়না বলেন, ‘১৭ বছর আগে আমার স্বামী মারা গেছে। বিয়ের মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় দুই সন্তানকে রেখে সে মারা যায়। তারপর থেকেই আমি তাঁতের কাজ শুরু করি। অনেক ইচ্ছা ছিলো তাঁতের শাড়ি, থ্রীপিচসহ সব ধরনের কাপড় তৈরি করবো। কিন্তু টাকা পয়সার অভাবে আমার ইচ্ছা শুধু ইচ্ছাই থেকে গেলো।

শুধু গামছা তৈরি করে আমি আমার সন্তানদের লেখোপড়া শিখিয়ে বড় করেছি, মেয়ে বিয়েও দিয়েছি। আর ছেলের জন্য কিছু টাকা জমিয়েছি। এখন ছেলেটাকে একটা কাজে লাগিয়ে দিতে পারলেই আমার সব আশা পূরণ হবে।’ তাঁতী শাহানারা বেগম বলেন, ‘অনেক ছোট থাকতেই আমার বিয়ে হয়ে গেছে। বিয়ের আগে মাকে দেখতাম তাঁতের কাপড় বুনতে। আর এখন বিয়ের পর স্বামীর বাড়িতে এসে আমিও সেই একই কাজ করছি।

এ কাজে লাভ মোটামুটি ভালোই হয়।’ বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী শিল্পের মধ্যে তাঁতশিল্প একটি। আর এই শিল্পকে শক্ত হাতে ধরে রেখেছেন ইউসুফপুরের নরীরা। তবে অর্থের সংকট থাকায় এই নারীরা শত চেষ্টা করেও তাঁত শিল্পকে বেশিদূর নিয়ে যেতে পারছেন না।

সরকারি ও বেসরকারিভাবে সহযোগিতা পেলে তাদের তৈরি কাপড় দেশের বিভিন্ন জায়গাসহ দেশের বাইরেও রপ্তানি করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন ইউসুফপুরের নারীরা।

বাংলাসংবাদ২৪/এম আলী/মাক্কী

আরও সংবাদ