Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Sat July 11 2020 ,

  • Techno Haat Free Domain Offer

"রাজনৈতিক সংকট মোকাবেলায় দু’দলকেই এগিয়ে আসতে হবে"

Published:2014-03-06 16:22:22    

কুটনেতিক প্রতিবেদক: রাজনৈতিক সংকট মোকাবেলায় দু’দলকেই এগিয়ে আসতে হবে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদুত লী জুন।

বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ডিপ্লোমেটিক করসপনডেন্ট এসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশে(ডিকেব)আয়োজিত“মিট দ্যা অ্যাফেয়ার্স” যোগ দিয়ে তিনি একথা বলেন।

লী জুন বলেন, ভৌগলিক অবস্থানের দিক দিয়ে বাংলাদেশ খুবই গুরুত্ব পূর্ন একটি দেশ। চীন সরকার বাংলাদেশের সাথে ব্যবসা বাণিজ্য সহ অন্যান্য ক্ষেত্রেও একযোগে কাজ করতে আগ্রহী।

নির্বাচন সম্পর্কে চীনা রাষ্ট্রদূত লী জুন বলেন, বাংলাদেশের মানুষ চাইলে আরেকটি নির্বাচন হতে পারে এবং এটা কোন কঠিন কাজ নয়। আর এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মহলের বলার কিছু নেই।

চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, গত নির্বাচনে প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক জোট অংশ নেয়নি এটা দু:খজনক।

মহেশখালীতে গভীর সমুদ্র নির্মানে চীনের আগ্রহ থাকলে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে কোন আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাননি বলে জানান রাষ্ট্রদূত।

ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কের বিষয়ে জানতে চাইলে চীনা রাষ্ট্রদুত বলেন, ভারত বাংলাদেশে এবং চীন এক সাথে মিলেই কাজ করবে। তাতে ভারত এবং চীনের কোন রুপ সম্পর্কের ঘাটতি হবেনা। আমি যতটুকু জানি দু’দেশই এক সাথে কাজ শুরু করে দিয়েছে। তাতে হতাশার কিছুই নেই।


আইনের ব্যাপারে চীনের রাষ্ট্রদুত বলেন, একটি দেশ আইনের দিক দিয়ে যত কঠোর হবে বাহির রাষ্ট্রগুলোর ব্যবসা-বাণিজ্যের দিক দিয়ে অনেক এগিয়ে যাবে।


সন্ত্রাসীদের ব্যাপারে সরকার জিরো টলারেন্সের যে নীতি বাংলাদেশ সরকার গ্রহণ করেছে, চীনসে নীতিকে সমর্থণ করেছে  এবং এক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাথে আরো নিবিড়ভাবে কাজ করতে চায় তার দেশ।

সম্প্রতি চীনের কুনমিং রেল স্টেশনে সন্ত্রাসী হামলায় যে ৩০ ব্যক্তি নিহত এবং শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছে তার উল্লেখ করে চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, এসব ঘটনাই প্রমাণ করে সন্ত্রাসবাদ আজ সারা বিশ্বের জন্যই একটি হুমকি।

চীনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে রাষ্ট্রদূত বলেন, ২০২০ সালের মধ্যে চীনের প্রবৃদ্ধির হার দ্বিগুন করার জন্য তিন স্তরের যে রিফর্ম চীন সরকার গ্রহণ করেছে তাকে বর্তমান চীনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি করে লি জুন বলেন, এই বিশ্বায়নের যুগে কোন দেশের পক্ষেই একা উন্নতি করা সম্ভব নয়। তাই বাংলাদেশসহ সব দেশের সাথে সুসম্পর্ক রেখেই এগিয়ে যেতে চায় চীন।

তিনি বলেন, আগামী ৫ বছরের মধ্যে চীনের আমদানি ১০ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে এবং বহির্বিশ্বে চীনের বিনিয়োগের পরিমান গিয়ে দাঁড়াবে ৫০০ বিলিয়ন ডলারে। একই সাথে চীন থেকে পর্যটকের সংখ্যা ৪০০ মিলিয়ন ছাড়িয়ে যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রদূত।


লী জুন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কাঠামোর বিষয়ে জানতে চাইলে রাষ্ট্রদূত বলেন, চীন বর্তমানে তার অর্থনৈতিক কাঠামোকে পুনর্গঠনে কাজ করছে এবং এ লক্ষ্যে শ্রমিক নির্ভর শিল্প কারখানা অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা করেছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ হতে পারে চীনের জন্য একটি আদর্শ স্থান।

রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগ বান্ধব নীতিমালা গ্রহন করা হচ্ছে এবং এখানে বিপুল সংখ্যক দক্ষ ও কর্মঠ শ্রমিক রয়েছে। তাই আগামীতে বাংলাদেশে বিপুল পরিমান চীনা বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।

দুই দেশের মধ্যে ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্টের ব্যাপারেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রদূত। এজন্য দুই দেশের সরকারই আন্তরিকতার সাথে কাজ করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ডিক্যাবের সাধারণ সম্পাদক আঙ্গুর নাহার মন্টি এবং সংগঠনটির সভাপতি মাইনুল ইসলামসভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ডিকেবেরসিনিয়র মেম্বারা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাসংবাদ২৪/মসিউর/ওএফ
 

আরও সংবাদ