Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Mon September 24 2018 ,

সাতক্ষীরায় আবাসিক হোটেল নামে যৌন পতিতালয়

Published:2014-03-13 12:14:11    

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা শহরে দিনের পর দিন ওলিতে গলিতে আবাসিক হোটেল নামে গড়ে উঠেছে যৌন পতিতালয়।

বড় বড় সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে হোটেলের বিভিন্ন নাম দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে রমরমা দেহ ব্যবসা। ফলে? বাড়ছে সামাজিক অবক্ষয়। ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে যুব সমাজ।

অল্প সময়ে অতি লাভজনক এই ব্যবসা হওয়ায় একটি হোটেলের মালিক থেকে একাধিক হোটেল গড়ে তুলেছে। অনেক হোটেল ব্যবসায়িরা পাল্লা দিয়ে এই লাভ জনক ব্যবসা বহুল তরীয়াতে চালিয়ে যাচ্ছে।

দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে দালালদের মাধ্যমে অল্প বয়স্ক তরুনী যৌন কর্মী এনে অবাধে চালিয়ে যাচ্ছে এই দেহ ব্যবসা। নাম বলতে অনিচ্ছুক এক যৌন কর্মী এই প্রতিনিধিকে জানান তার এক সপ্তাহার থাকার কন্টাক থাকলেও তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে জোর করে আটকে রেখে আরও কয়েকদিন থেকে আরও বেশি টাকা আয় করে দিতে হবে।

এমনকি কথা না শুনলে ম্যানেজারের কাছে তার কাজের পাওনা টাকা না দেওয়ার হুমকি দেয়। শুধু তাই নয় অনেক যৌন কর্মী ভুক্তভূগীদের অভিযোগ মানুষ নামের এই কষাই হোটেল মালিকরা তাদের দেহ বিক্রীর টাকা আতœসাৎ করারও অভিযোগ রয়েছে একাধিক।

অল্প দিনে এসব পতিতালয়ের মালিক কোটি পোতি বনেছে। বাংলাদেশ সরকারের আবাসিক হোটেলের যে সব আইন বিধিমালা রয়েছে তা উপেক্ষা করেই চালিয়ে যাচ্ছে আবাসিক নামে প্রকাশ্য দেহ ব্যবসা।

জেলা প্রশাসকের অনুমতি এবং পৌরসভার ট্রেড লাইসেন্স সরকারী আইন সংস্থার কাগজপত্র অবৈধ থাকালেও তারা যেন কোন কিছুই তোয়াক্কা না করেই বহুল তরীতে চালিয়ে যাচ্ছে এই ঘৃণ জঘন্ন দেহ ব্যবসা।

প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তার এবং একটি প্রভাবশালী মহলের মদদে বহুল তরীয়াতে চালিয়ে যাচ্ছে আবাসিক নামে দেহ ব্যবসা।

এ যেন বাজারের পন্যের মতো ডেকে ডেকে খরিদ্দারের প্রতিযোগীতায় নেমেছে তারা। হোটেলের সামনেই দুই জন করে কর্মচারী দিয়ে খরিদ্দার কন্টাক করার জন্য নিয়োজিত রয়েছে। শুধু তাই নয় আদালত চত্তরে তাদের একজন করে মোটর সাইকেল দিয়ে গোয়েন্দা বেশে নিয়োজিত রেখেছে।

কখন ভ্রাম্যমান আদালত বাহির হয় সেই বার্তা বাহকের দায়িত্বে নিয়োজিত। এভাবেই বিভিন্ন কৌশলে তারা অবাধে চালিয়ে যাচ্ছে এই দেহ ব্যবসা। তাইতো সচেতন মহলের প্রশ্ন? এদের পেছনে কারা? উত্তর জানা থাকলেও বলার এবং প্রতিবাদের কোন ভাষা নেই। কারন খারাপের সংখ্যায় বেশি।

প্রতিবাদের সাহস যেন তারা হারিয়ে ফেলেছে। সাতক্ষীরা সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় পার্শ্ববর্তী উপমহাদেশ ভারত থেকে অবাধে আসছে বিভিন্ন প্রকার মাদক দ্রব্য। এসব সেবন করেই অল্প বয়সের তরুন তরুনী পতিতালয় গিয়ে লিপ্ত হচ্ছে যৌন মিলনে।

হাত বাড়ালেই মাদক, পা বাড়ালেই পতিতালয়। এ যেন মাদক ও যৌন পতিতালয় শহর হিসাবে পরিচিতি পেয়েছে আজকের এই সাতক্ষীরা। উল্লেখ্য সাতক্ষীরার বাস টার্মিনাল সংলগ্ন সাতক্ষীরা আবাসিক হোটেলের সাইনবোর্ডের নাম দিয়ে রমরমা ভাবে চালিয়ে যাচ্ছে দেহ ব্যবসা। যার মালিক গফুর।

যার উত্থান শুরু হয় বাদাম বিক্রী, পরে রিক্সা চালক এবং থানায় দালালী। বর্তমানে সে সিটি কলেজ মোড় এলাকায় নয়ন ছাত্রাবাস নামক আলিশান বাড়ী এবং একাধিক হোটেল ও মৎস্য ঘের ও বিপুল পরিমান সম্পদের পাঁহাড় গড়েছে।

তারই ছোট ভাই আব্দুল আজিজও পাল্লা দিয়ে গড়ে তুলেছে খুলনা রোড় সংলগ্ন পার হাউজের পার্শে আর এক পতিতালয়। আবাসিক হোটেলের নাম নেই। নেই কাগজ পত্র।

একটি তিন তলা বিল্ডিং ভাড়া করে অবাধে চালিয়ে পাল্লা দিয়ে দেহ ব্যবসা। তারও উদ্দেশ্য ভাইয়ের মতো কোটি পোতি হওয়া। শুধু এখানেই শেষ নয় বাস টার্মিনাল যশোর রোড় সংলগ্ন গড়ে উঠেছে মুসাফির হোটেলের নামে আর এক পতিতালয়। যার মালিক আঃ সবুর। সে নিজেকে সরকার দলীয় নেতা বলে দাপট দেখিয়ে অবাধে চালিয়ে যাচ্ছে এই দেহ ব্যবসা।

এভাবেই গড়ে উঠেছে শহরে ব্যাঙের ছাতির মতো ওলিতে গলিতে আবাসিক নামে পতিতালয়। যা নাম বলে শেষ করা যাবে না। এ ব্যাপারে আবাসিক নামে পতিতালয় যৌন ব্যবসা বন্ধের দাবীতে মাননীয় জেলা প্রশাসক সহ উদ্ধতন কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ কামনা করে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এবং মসজিদ কমিটি মানব বন্ধন ও স্মারক লিপি দিয়ে আসিলেও তার কোন টনক নড়ে নি।

ইতি পূর্বে জজ কোর্ট সংলগ্ন হোটেল ফাল্গুনী নামে পতিতালয় ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে হোটেলটি সিল গালা করে দেওয়া হয়। যার মালিক নূর ইসলাম। দিন কয়েক যেতে না যেতেই তা আবার খুলে দেওয়া হয়। তাহলে লোক দেখানোই কী এই সিলগালা। প্রশ্ন সাধারন মানুষের।

এজন্য কথায় আছে ঠাকুর ঘরে কেরে, কলা আমি খায় নি। প্রসঙ্গটি এখানেই বিদ্যমান। শুধু এখানেই শেষ করা যাবে না। এই অসামাজিক ঘৃণ ব্যবসা বন্ধ না হলে সাতক্ষীরার সামাজিক অবস্থান এক সময় মুছে যাবে। হারিয়ে যাবে তরুন প্রজন্মের উজ্জল ভবিষ্যত। এ বিষয়ে সাংবাদিকরা একাধিক পত্র পত্রিকায় মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করলেও কোন ফল আসেনি। যানি? আমারও লেখা ব্যর্থ হবে। তবুও লিখতে বাধ্য হলাম। সাতক্ষীরার ঐতিহ্য গ্রাম বাংলার মাটি মানুষের ও তরুন প্রজন্মের কথা ভেবে। যদিও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এখোনো আশাবাদী সচেতন সাতক্ষীরা বাসীর।

বাংলাসংবাদ২৪/হাবিব/এমএস

আরও সংবাদ