Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Wed September 19 2018 ,

কওমী মাদরাসা পরিচিতি

Published:2014-03-27 20:08:12    

বাংলাসংবাদ: বেফাক শব্দের অর্থ হচ্ছে পারস্পরিক ঐক্যমত প্রতিষ্ঠা করা। এর পারিবাষিক অর্থ হচ্ছে ঐক্য। এ হিসিবে বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ -এর অর্থ দাড়ায়, বাংলাদেশের আরবকী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তথা কওমি মাদরাসাসমূহের ঐক্যমতের সংস্থা।

বাংলাদেশে বেফাক প্রতিষ্ঠা: ১৯৩৮ সালে
বেফাক দফতর: ১৯৩৮ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত এর অফিস ছিল জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলূম ফরিদাবাদ, ঢাকা। ১৯৯৪ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত ছিল নয়া পল্টন, ঢাকা-১০০
২০০৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে কাজলা (ভাঙ্গা প্রেস), যাত্রাবাড়ি, ঢাকা-১২০৪ এলাকায় জায়গা ক্রয়করে সেখানে বেফাকের কার্যক্রম শুরু করাহয়।

কওমি মাদরাসা শিক্ষার রুপরেখাঃ-
ক. ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত দ্বীন-বিজ্ঞানসহ ও বাকী ৬ বছর অর্থাৎ মাষটার ডিগ্রি পর্যন্ত শুধু ধর্মীয় শিক্ষা।

খ. ধর্মীয় শিক্ষার বিষয় সমূহ:-
০১. আরবী ভাষা, নহব, ছরফ, বালাগাত ও আরুয। ০২. ফিকহ ও উছুলে ফিকাহ। ০৩. তাফসির ও উছলে তাফছির। ০৪. হাদীস ও উছুলে হাদীস। ০৫. তাজবীদ। ০৬. ফারাইয
০৭. ইসলামের রাষ্ট্র বিজ্ঞান ও সিরাত। ০৮. ইসলামের অর্থনীতি। ০৯. ইসলামের সমাজ বিজ্ঞান ও সিরাত। ১০. ইসলামের দর্শন। ১১. পরিবার বিজ্ঞান।

বৈষয়িক জ্ঞান-বিজ্ঞান সমূহঃ-
০১. বাংলা এবং বাংলা ব্যকরন। ০২. ইংরেজী এবং ইংরেজী গ্রামার। ০৩. উর্দূ ও  উর্দূ কাওয়ায়েদ। ০৪. ফারসী ও ফারসী কাওয়ায়েদ। ০৫. গনিত ও জ্যামিতি। ০৬. ইতিহাস।
০৭. ভূগোল। ০৮. বিজ্ঞান। ০৯. মানতিক। ১০. মুনাযারা। ১১. পশ্চ্যাত্যের দর্শন।
 
বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ- ধর্মীয় জ্ঞন - বিজ্ঞানের সাধারন ধারা হচ্ছে দাওরায়ে হাদীস  তথা মাষ্টার্স ডিগ্রি পর্যন্ত। তৎপর রয়েছে ডিপ্লোমা কোর্স। যেমন: হাদীস, তাফসীর, ফিকহ, আরবী ভাষা, ইসলামের অর্তনীতি, ইসলামের রাষ্ট্র বিজ্ঞান, ইসলামী রাষ্ট্র বিজ্ঞান ও মুকারানাতুল আদইয়ান প্রভৃতি।

বেফাকের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থাঃ-

বেফাক কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত শিক্ষা ব্যবস্থা তিনটি পর্যায়ে বিভক্ত।
প্রথম পর্যায়:- এ পর্যায়ে রয়েছে দু'টি স্তর। প্রাথমিক শিক্ষা স্তর ও নিম্ন মাধ্যমিক শিক্ষা স্তর।

প্রথম স্তর:- প্রথমিক শিক্ষা। কুরআন তিলোওয়াত ও ইসলামিয়াতসহ গনিত, বাংলা, ইংরেজী এ সমাজ বিজ্ঞান প্রভৃতি ৫ম শ্রেনীর মান পর্যন্ত। একে বলা হয় আল মারহালাতুল ইবতিদাইয়্যাহ বা কওমী প্রাইমারী/ প্রাইমারী মাদরাসা।

দ্বিতিয় স্তর:- এতে রয়েছে সাধারন শিক্ষা সহ ইসলামীক শিক্ষা। অর্থাৎ আরবী ভাষা, আরবী ব্যকরণ ও ফিকাহ শাস্ত্র, গনিত, বাংলা, ইংরেজী এ সমাজ বিজ্ঞান। একে বলা হয় মারহালাতুল মুতাওয়াসসিতাহ। এর মধ্যে রয়েছেঃ- ৩ বছর। অর্থাৎ: ৬ষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেনী।

দ্বিতীয় পর্যায়ঃ-
এপর্যায়ে রয়েছে ৪টি স্তর যথাঃ-
১ম স্তর:-  আল - মারহালাতুস সানাবিয়াতুল(মাধ্যমিক স্তর): এতে রয়েছে দু'বছর (৯ম-১০ম)

২য় স্তর:-  আল - মারহালাতুস সানাবিয়াহ্ আল উলইয়া (উচ্চ মাধ্যমিক স্তর):এতে রয়েছে দু'বছর (১১শ শ্রেনী থেকে দ্বাদশ শ্রেনী)।

৩য় স্তর: মারহালাতুল ফযীলাত (স্নাতক ডিগ্রি)। এতে রয়েছে দু'বছর (১৩শ শ্রেনী থেকে ১৪শ শ্রেনী)।

৪র্থ স্তর:- মারহালাতুল তাকমিল (মাস্টার্স ডিগ্রি)। এতে রয়েছে দু'বছর। এ স্তরকে দাওরায়ে হাদীস বলা হয়।

তৃতীয় পর্যায়:- এ পর্যায়ে রয়েছে বিষয়ভিত্তিক ডিপ্লোমা ও গভেষনামূলক শিক্ষা কোর্স।
যথা:- হাদীস, তাফসির, ফিকহ, ফতওয়া, তাজবীদ,  আরবী সাহিত্য, বাংলা সাহিত্য, ইংরেজী, উর্দূ ও ফারসি ভাষা, ইসলামের ইতিহাস, ও সীরাত, ইলমুল কালাম, ইসলামী দর্শন, অর্থনীতি, রাষ্ট বিজ্ঞান, পৌর বিজ্ঞান ও সমাজ বিজ্ঞান, ইত্যাদি বিষয়ের গভেষনামূলক
শিক্ষা।

বেফাকের আয়ের উৎসঃ-
অত্র বেফাকের আয়ের উৎস হচ্ছে মাদরাসা সমূহের প্রদত্ত রেজিষ্টেশন ফি, বার্ষিক ফি, মাসিক এয়ানত, ছাত্র ও শিক্ষদের এয়ানত, নিবন্ধন ফি, পরীক্ষার ফি এবং পাঠ পুস্তকের লভ্যাংশ।

কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড বেফাক

ইংরেজ সাশন কালের আগ থকে এদেশে কওমি মাদরাসা শিক্ষা ব্যবসস্থা প্রচলিত বাংলাদেশে জাতিয় ভাবে শুধুমাত্র কওমি শিক্ষা ব্যবস্থা প্রচলিত ছিল। তখন কোন প্রতিষ্ঠান ছিলনা মসজিদের মধ‌্যে দেয়া হত শিক্ষা।

ওয়াক্বফা কৃত জায়গার মাধ্যমে যে আয় হত তা দ্বারাই চলত এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো। ইংরেজ সরকার আসার পর কওমি মাদরাসাকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে এই জমি গুলোকে বাজেয়াপ্ত ঘোষনা করেন। ১৯৯৫ সালে লর্ড মের্কন নামে এক ইংরেজ এই শিক্ষা ব্যবস্থাকে পরিবর্তন করার উদ্দেশে জোর দাবী জানান। এবং সেখান থেকেই আজকের জেনারেল শিক্ষা ব্যবস্থা চলছে।

১৮৬৬ সালে কওমি মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থা দরে রাখার উদ্দেশ্যে ভারতের দেওবন্দে একটি কওমি মাদরাসা প্রতিষ্ঠিত করাহয়।

একসময় কওমি মাদরাসার সংখ্যা ছিল প্রায় ৮০ হাজার। ইংরেজরা সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার কারনে তার সংখ্যা দারিয়েছে ১৫ হাজার। আর ভার্সিটি সমমানের মাদরাসাছিল ৩৩ টি তবে বর্তমানে বৃদ্ধি পেয়ে দাড়িয়েছে প্রায় ১৫০টি। বর্তমানে কওমি মাদরাসার অধিনে ১০-১৫ লক্ষ ছাত্র রয়েছে।

সোনাঁরগায়ে মাদরাসাতুল শরফ নামে উপমহাদেশের মধ্যে সর্বপ্রথম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমমানের একটি মাদরাসা ছিল যার মধ্যে প্রথম দারসূল হাদিস বিষয়টি তাদের পাঠ্যবস্তুর সাথে যোগ করা হয়।

বর্তমানে বাংলাদেশে এই একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে যা সম্পূর্ন সরকাররে নিয়ন্ত্রনের বাহিরে।

৯ নবেম্বর ২০১৩ সালে কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড বেফাকের কয়েকজন শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ ১১টি আঞ্চলিক বোর্ডের উচ্চপর্যায়ের দায়িত্বশীল ও শীর্ষ আলেমরা এক যুক্ত বিবৃতিতে অবিলম্বে সংশোধিত কওমি মাদরাসা কর্তৃপক্ষ আইন পাসের দাবি জানিয়েছিলেন।  

তারা বলেছিলেন, “কওমি মাদরাসার সনদের স্বীকৃতি এদেশের লাখ লাখ উলামা-মাশায়েখ এবং প্রায় অর্ধকোটি ছাত্রের প্রাণের দাবি। শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক রহ. এ দাবিতে রাজপথে অনশন করেছেন। লাখ লাখ ছাত্র-শিক্ষক এর জন্য বহু সংগ্রাম করেছেন। যার ফলে গত সরকারের আমলে টাস্কফোর্স গঠিত হয় এবং বর্তমান সরকারের আমলে কওমি কমিশন গঠিত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় কওমি মাদরাসা শিক্ষা কর্তৃপক্ষ আইন পাসের মাধ্যমে কওমি সনদের স্বীকৃতির চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।”



ব্যানবেইসের গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়


দেশের সাধারণ ধারার মাদরাসা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডের অধীনে পরিচালিত হয়। কিন্তু কওমি মাদরাসা নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রকৃত কোনো তথ্য নেই।

ব্যানবেইসের গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, প্রায় পাঁচ হাজার ২০০ কওমি মাদরাসায় শিক্ষার্থী সংখ্যা আনুমানিক ১৪ লাখ। এসব মাদরাসার জন্য দেশে প্রায় ১৯টি কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড রয়েছে। ওই গবেষণায় কওমি শিক্ষা ব্যবস্থাকে দেশের প্রচলিত অন্যান্য শিক্ষা ব্যবস্থার মতো সরকারের আওতায় আনার সুপারিশ করা হয়েছিল।

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবির) সঙ্গে মিলে ব্যানবেইস কওমি মাদরাসার ওপর একটি নমুনা জরিপ পরিচালনা করে। ওই জরিপ অনুযায়ী কওমি মাদরাসাগুলোর মধ্যে ৭৫ ভাগ মাদরাসায় শুধু ছেলেরা পড়ে এবং ২১ দশমিক ৬৯ শতাংশে শুধু ছাত্রীরা পড়ে। মাত্র তিন দশমিক ৩১ শতাংশ মাদরাসায় ছেলে ও মেয়েদের একসঙ্গে পড়ার সুযোগ আছে। জরিপ বলছে, মাদরাসায় মোট শিক্ষকের মধ্যে মাত্র ১০ দশমিক ২১ শতাংশ নারী শিক্ষক।

ব্যানবেইসের কর্মকর্তারা বলছেন, এই নমুনা জরিপ দিয়ে মাদরাসা ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীর প্রকৃত সংখ্যা জানা সম্ভব নয়। কারণ হিসেবে একেক মাদরাসায় একেক ধরনের চিত্র দেখা যাচ্ছে। তবে এই জরিপের ভিত্তিতে একটি সাধারণ ধারণা পাওয়া সম্ভব।

ওই জরিপে বলা হয় বেশকিছু বোর্ড সমন্বয়হীনভাবে চলছে এবং কিছু প্রতিষ্ঠান একেবারেই স্বাধীনভাবে চলছে। এরমধ্যে ৭০ দশমিক ৫৯ শতাংশ মাদরাসাবোর্ডের অধীন এবং ২৯ দশমিক ৪১ শতাংশ মাদরাসা কোনো বোর্ডের অধীনে নেই। এটাকে একটা বড় দুর্বলতা হিসেবে দেখা হয়েছে জরিপের ফলাফলে। জরিপে তদারক ব্যবস্থা উন্নত করা এবং জবাবদিহিতা বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়।

সম্প্রতি সরকারের কাছে জমা দেয়া কওমি মাদরাসা শিক্ষা কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয় ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রায় ১৫ হাজার কওমি মাদরাসা গড়ে উঠেছে। অর্থাৎ এসব তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে কওমি মাদরাসার বিষয়ে সরকারও প্রকৃত তথ্য জানে না। এমনকি এ নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পদস্থ কর্মকর্তারাও প্রকাশ্যে কিছু বলতে চান না।

সরকার জাতীয় শিক্ষানীতি, ২০১০-এর আলোকে ক্বওমি মাদ্রাসার শিক্ষা ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষাদানের জন্য সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যে আল্লামা শাহ আহমদ শফীকে চেয়ারম্যান করে গত ৯ এপ্রিল যে কমিশন গঠন করেছিল। সেটাকে প্রত্যাখ্যান করে এই গঠন প্রক্রিয়াকে বিভ্রান্তি ও ষড়যন্ত্রমূলক আখ্যায়িত করে এক বিবৃতি দিয়েছেন দেশের হাটহাজারী দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম এর মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশ ক্বওমী মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড (বেফাক) সভাপতি আল্লামা শাহ্ আহমদ শফী।
 
তিনি বলেছিলেন, প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সরকার কর্তৃক আমাকে চেয়ারম্যান করে ক্বওমি মাদ্রাসার শিক্ষা ব্যবস্থাপনা নিয়ে ১৫ সদস্যের যে কমিশন গঠনের সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, তা চরম বিভ্রান্তিকর ও ষড়যন্ত্রমূলক বলেই আমার কাছে প্রতিয়মান হচ্ছে। এদেশের উলামা-মাশায়েখ, ক্বওমী মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা এবং সর্বোপরি ইসলামপ্রিয় জনতার মধ্যে অনৈক্য ও বিভ্রান্তি সৃষ্টির জন্যই এমন তৎপরতা ও অপপ্রয়াস চালানো হচ্ছে বলে আমার বিশ্বাস। তিনি এসব অপপ্রচার ও কর্মতৎপরতায় বিভ্রান্ত ও সম্পৃক্ত না হতে ক্বওমী মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষক, উলামা-মাশায়েখ ও দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দীর্ঘ দিন থেকেই আমরা লক্ষ্য করছি যে, ইসলামের দুশমন দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রকারীরা এদেশের জনসাধারণের সরাসরি সম্পৃক্ততায় পরিচালিত ক্বওমী মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করার জন্য একের পর এক অপতৎপরতা চালিয়ে আসছে। ঘোষিত ক্বওমী মাদ্রাসা শিক্ষা কমিশন গঠন প্রক্রিয়াও এর বাইরে নয়। অন্যথায় আমাদের সাথে এক রকম আলোচনা করে ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়ার হেতু কী? তিনি বলেন, আমরা সরকারকে স্পষ্ট ভাষায় সুনির্দিষ্ট ৫টি শর্তের ভিত্তিতে কমিশন গঠন করার কথা জানিয়েছিলাম। অথচ ঘোষিত কমিশন গঠন প্রক্রিয়ায় সরকার এর প্রতি মোটেও ভ্রক্ষেপ করেনি।

বাংলাসংবাদ২৪/ইএফ

আরও সংবাদ