Widget by:Baiozid khan
  • Advertisement

ইয়াজিদ-পুত্র গোবরে পদ্মফুল, বাবা ও দাদার স্বরূপ-উন্মোচক

Published:2014-03-27 20:36:28    

বাংলাসংবাদ:  আজ হতে ১৩৭১ চন্দ্র-বছর আগে ৬৪ হিজরির এই দিনে কারবালা-হত্যাকাণ্ডের হোতা কুখ্যাত খোদাদ্রোহী, পাষণ্ড ও অভিশপ্ত ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়ার পুত্র দ্বিতীয় মুয়াবিয়া তার জালিম বাবার মৃত্যুর ৪০ দিন পর (২৫ জমাদিউল আউয়াল) স্বেচ্ছায় কথিত ‘খিলাফত’ বা রাজার পদ ত্যাগ করে।

দ্বিতীয় মুয়াবিয়া তার বাবা ও দাদার বিপরীতে ছিল একজন সৎ বা ভালো মানুষ। সে দামেস্কের বড় মসজিদের (উমাইয়া মসজিদ) মিম্বরে উঠে অশ্রুসিক্ত নয়নে নিজ বাবার খোদোদ্রোহী তৎপরতাগুলো তুলে ধরে। তার বাবার সেইসব তৎপরতার মধ্যে হযরত ইমাম হুসাইন (আ.)-কে শহীদ করা, নবী-পরিবারের সদস্যদের বন্দী করা, হাররা যুদ্ধের সময় মদীনায় মসজিদে নববীর অবমাননা ও কাবা-ঘরের অবমাননার কথাও সে উল্লেখ করে।

দ্বিতীয় মুয়াবিয়া তার দাদার অপকীর্তিগুলোর কথাও উল্লেখ করে। যেমন, তার দাদা উমাইয়া রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা মুয়াবিয়া ন্যায়পরায়ণ খলিফা আমিরুল মুমিনিন হযরত আলী (আ.)’র বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে বিদ্রোহ করে বহু মুসলমানকে শহীদ করে এবং হযরত ইমাম হাসান (আ.)-কেও বিষ-প্রয়োগের মাধ্যমে শহীদ করে অবৈধভাবে খিলাফত দখল করে।

দ্বিতীয় মুয়াবিয়ার আত্মীয় কুখ্যাত মারওয়ান ইবনে হাকাম তাকে এ প্রস্তাব দেয় যে ক্ষমতা গ্রহণ না করায় তার উচিত একটি পরিষদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা যাতে এই পরিষদ নতুন রাজা বা কথিত খলিফা নির্বাচন করতে পারে।

কিন্তু দ্বিতীয় মুয়াবিয়া এই প্রস্তাবের জবাবে বলে:  আমি নিজে খিলাফতের ফলের মিষ্টি স্বাদ গ্রহণ করিনি বলে আপনার এই প্রস্তাব মেনে নিয়ে আমি এর তিক্ততার স্বাদও নিতে চাই না।

এভাবে দ্বিতীয় মুয়াবিয়া উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া বাবার সিংহাসন ছেড়ে দেয়। এর পরই  কুখ্যাত মারোয়ান ইয়াজিদের স্ত্রীকে বিয়ে করে খিলাফত দখল করে।

আর সিংহাসন হাতে পেয়েও তা ত্যাগ করার কিছু দিন পরই রহস্যজনকভাবে মারা যায় ইয়াজিদের পুত্র দ্বিতীয় মুয়াবিয়া।

বাংলাসংবাদ২৪/ইএফ

আরও সংবাদ