Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Sun July 21 2019 ,

  • Techno Haat Free Domain Offer

উত্তরবঙ্গে সবচেয়ে বড় পেয়ারা বাগান গড়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বগুড়ার পিলু

Published:2014-04-02 20:59:21    

বগুড়া প্রতিনিধি: বাগানে ঢুকেই চোখ ছানাবড়া। মনোমুগ্ধকর ব্যাপার। প্রতিটি গাছের গোড়া হতে চুঁড়া পর্যন্ত পেয়ারা ঝুলছে। কোনটা ছোট, কোনটা বড়, আবার কোনটা পরিপূর্ণ হয়ে রসে ভরপুর। দেখেই প্রাণ জুড়ে যায়। হ্যাঁ বলছিলাম উত্তরবঙ্গের সবচেয়ে বড় পেয়ারা বাগানের কথা। যে বাগানটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার বগুড়া সদরের গোকুল এলাকায় (ঐতিহাসিক মহাস্থানগড়ের দক্ষিণে)। পেয়ারার উন্নত জাত থাই-৭ জাতের এই পেয়ারার বাগানটি গড়েছেন অত্যন্ত আত্মপ্রত্যয়ী মানুষ বগুড়ার ফেরদৌস আলম পিলু। এলাকার সবাই যাকে পিলু ভাই বলেই চেনে। প্রায় ৪ বছর পূর্বে ২০০টি থাই-৭ জাতের পেয়ারার চারা নিয়ে পরীক্ষামূলক চাষ শুরু করেন। প্রথম বছরেই তিনি আশানুরূপ ফলন পান। শুরু হয় পেয়ারা চাষের তার ব্যাপক পরিকল্পনা। ধীরে ধীরে ২ বিঘা, ৩ বিঘা জমি হতে বর্তমানে ১৩ বিঘা জমিতে তিনি এই পেয়ারা বাগান সম্প্রসারিত করেছেন। জানা যায়, গাছের বয়স যত বৃদ্ধি পাচ্ছে পেয়ারার উৎপাদনও ততই বাড়ছে। এই জাতের পেয়ারার সবচেয়ে বড় গুণ হলো প্রায় সারা বছরই গাছ হতে পেয়ারা পাওয়া যায়। তাছাড়া সারা বছর পেয়ারা পাওয়াতে সীজন সময়ের চেয়ে দামও অনেক বেশি থাকে। যে কারনে বাণিজ্যিকভাবে এ জাতের পেয়ারা চাষ করা খুবই লাভজনক। এ জাতের একটি পরিপূর্ণ পেয়ারার ওজন আসে প্রায় আধা কেজি থেকে এক কেজি। প্রতি কেজি পেয়ারা ১০০/- হতে ১২০/- বিক্রয় হয়ে থাকে। পেয়ারাটি খেতেও অনেক মিষ্টি ও সুস্বাদু হওয়ায় চাহিদা থাকে অনেক বেশি। তাছাড়া দেশীয়ভাবে ঊৎপাদিত সম্পূর্ণ বিষমুক্ত এ পেয়ারার পুষ্টিগুণ বাজারে প্রাপ্ত বিভিন্ন বিদেশী ফলের পুষ্টিগুণের চেয়ে অনেক বেশি। বর্তমানে ১৩ বিঘা জমির এই পেয়ারা বাগান হতে পিলু প্রতি বছর প্রায় ৭০০-৮০০ মন পেয়ারা পাচ্ছেন, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ২৫-৩০ লক্ষ টাকা। বাগান মালিক পিলু দাবি করেন, তার এই পেয়ারা বাগানটি উত্তরবঙ্গের সবচেয়ে বড় উন্নত জাতের পেয়ারা বাগান। এই উন্নত জাতের পেয়ারা চাষে তিনি যে সফলতা দেখিয়েছেন তা শুধুমাত্র নিজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে চান না। তিনি জানান এই জাতের পেয়ারা বাগান করে যে কেউ আর্থিকভাবে অনেক লাভবান হতে পারেন, কারন অন্যান্য ফসলের চেয়ে উন্নত জাতের এই পেয়ারা চাষ অনেক লাভজনক। এদিকে উত্তরবঙ্গের সবচেয়ে বড় পেয়ারা বাগানের পেয়ারা চাষের পাশাপাশি বাগান মালিক ফেরদৌস আলম পিলু থাই-৭ জাতের কলম চারা উৎপাদন ও বিক্রিতেও সাড়া জাগিয়েছেন। জানা যায়, বগুড়া সদরের গোকুল এলাকায় স্থাপিত পিন্স নার্সারী ও হর্টিকালচার সেন্টারে উন্নত জাতের এ পেয়ারা বাগানের সফলতার সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার ফলে তার উৎপাদিত চারার চাহিদা বাড়তে থাকে। তিনি বানিজ্যিক আকারে পেয়ারা উৎপাদনের পাশাপাশি চারা উৎপাদনের প্রতিও মনোনিবেশ করেন। নার্সারী মালিক পিলু জানান, এবছর বিভিন্ন এলাকা হতে চারা কেনার জন্য অগ্রীম অর্ডার পাচ্ছেন। চারা ক্রয়ের  এ চাহিদার কারনে এ বছর বাগানে প্রায় ৫০ হাজার চারা উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানা যায়। বাগানে ঘুরে দেখা যায়, পেয়ারার গাছে একই সাথে পেয়ারা ও গুটি কলমের চারা রয়েছে। বাগান শ্রমিকেরা বাগান মালিকের সঠিক নির্দেশনায় গাছের পেয়ারা ও চারাগুলোর সঠিক পরিচর্যা করা হচ্ছে। বাগান মালিক পিলু জানান, কয়েকদিন পর হতে উৎপাদিত চারাগুলো অর্ডার মাফিক ডেলিভারী দেয়ার জন্য প্রস্তুত হবে। জানা গেল বর্তমানে অনেকেই বাগান পরিদর্শনে এসে উৎপাদিত পেয়ারার ফলন দেখে মুগ্ধ হয়ে এ উন্নত জাতের পেয়ারার বাগান করতে আগ্রহী হচ্ছেন। এ কারনে অনেকেই বাগানে এসে অথবা মোবাইল ফোনে ( ০১৭১৫০৫৭৫৯২) চারা ক্রয়ের জন্য অর্ডার দিচ্ছেন। বলা যেতে পারে উন্নত জাতের এ পেয়ারা বাগানের সফলতায় অনেকেই পেয়ারা বাগান করতে উৎসাহিত হচ্ছেন। যে কারনে ফেরদৌস আলম পিলুর উৎপাদিত উন্নত জাতের পেয়ারার চারা বিক্রিও প্রতি বৎসর বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাগান মালিক পিলু দাবী করেন এ উন্নত জাতের পেয়ারা চাষে বিপ্লব সাধিত হলে দেশে পুষ্টির ঘাটতি যেমন কমে যাবে তেমনি চাষীরা অর্থনৈতিকভাবেও অনেক অনেক লাভবান হবে।

বাংলাসংবাদ২৪/আব্দুল ওয়াদুদ/ইএফ

আরও সংবাদ