Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Sat September 22 2018 ,

অসহায় জনতার পাশে একজন রেজাউল করিম

Published:2014-08-06 13:47:31    

বাংলাসংবাদ২৪: ইঞ্জিনিয়ার এ,কে,এম রেজাউল করিম। থাকেন প্রবাসে, যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন দীর্ঘদিন।। বিত্ত বৈভবের  অভাব নেই। সুখে শান্তিতে নির্বিঘ্নেই দিন কাটাতে পারতেন যুক্তরাজ্যে। নিজের ব্যক্তিগত সম্পদ হয়তো আরো বহুগুন বাড়তে পারতো। কিন্তু শেরেবাংলার জন্মস্থান ঝালকাঠির সাতুরিয়া গ্রামে জন্মগ্রহনকারী রেজাউল করিমের রক্তে যেন শেরেবাংলা এ,কে,ফজলুল হকেরই আদার্শ বইছে। তাই তিনি নিজের সম্পদ না বাড়িয়ে আত্বনিয়োগ করেন তার এলাকার গরীব দু:খী মানুষের কল্যানে। প্রতিষ্ঠিত করেন মোসলেম আলী খান ওয়েল ফেয়ার ফাউন্ডেশন।


২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে তিনি পিরোজপুর-২ এবং ঝালকাঠি-১ নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামে ব্যাপক সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। এসব এলাকায় গড়ে তুলেছেন বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। যার মধ্যে সাতুরিয়া ইঞ্জিনিয়ার এ,কে,এম রেজাউল করিম কারিগরি স্কুল এন্ড  কলেজ, আমড়াঝুড়ি জামিয়া ইসলামীয়া বহুমুখী দাখিল মাদ্রাসা অন্যতম। সেবামূলক কাজ পরিচালনার জন্য মোসলেম আলী  খান ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে তিনি আমড়াঝুড়ি কে,এম, আ: করিম জামিয়া ইসলামীয়া এতিমখানা, কাউখালি উন্নয়ন পরিষদ, মাওলানা আ: রহীম, (র:) স্মৃতি পাঠাগার, মোস্তফা হায়দার একাডেমী, কাউখালি সালেহা খাতুন হাসপাতাল, পূর্ব আমড়া ঝুড়ি বায়তুল মামুর জামে মসজিদ, সাতুরিয়া খানবাড়ী জামে মসজিদ, উত্তর তারাবুনিয়া মোল্লাবাড়ী জামে মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেছেন।

এছাড়াও তিনি কাউখালি ও ভান্ডারিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষুদ্র ঋন প্রদানের মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠির মানোন্নয়নে ভূমীকা রেখেছেন। সম্প্রতি কাউখালি শহরে দৃষ্টি নন্দন ফোয়ারা, বিশ্রামাগার ও নৈকাঠিতে কাউখালি গেট স্থাপিত হয়েছে মোসলেম আলী খান ফাউন্ডেশনের আর্থিক সহযোগিতায়। রেজাউল করিমের সহধর্মিনী সাদিয়া করিম এ তিনটি স্থাপনা উদ্বোধন করেন। প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা ছাড়াও তিনি বিভিন্ন সময়ে গরীব ছাত্র-ছাত্রী ও মসজিদের ইমামদের মধ্যে আর্থিক সহয়তা প্রদান করেছেন। রমজান মাসে তিনি কাউখালি ও রাজাপুরের ৫০টি মসজিদে ইফতারের আয়োজন করেন।

ঝালকাঠি ও পিরোজপুর জেলায় তিনি বাংলা অনুবাদ কোরআন শরীফ বিতরন করেন। গত রমজানেও তিনি ঝালকাঠি, রাজাপুর, কাউখালি ও ভান্ডারিয়ায় বাংলায় অনুবাদকৃত কোরআন শরীফ বিতরন করেছেন। গত রমজান এবং এই রমজানে তিনি রাজাপুরের ৪০ জন করে মোট ৮০ জন মসজিদের ইমামকে আর্থিক  সাহায্য প্রদান করেন।


ভয়াবহ ঘুর্নঝড় সিডরের পরে মোসলেম আলী খান ফাউন্ডেশনের ত্রান তৎপরতা সর্বমহলে প্রশংসিত হয়। এ সময় রেজাউল করিম তার প্রতিষ্ঠিত ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে কাউখালি, ভান্ডারিয়া, ঝালকাঠি সদর, রাজাপুর, কাঠালিয়া, পিরোজপুর, পটুয়াখালির কলাপড়া, বরগুনার পাথরঘাটা এবং বাকেরগঞ্জ থানায় ৩ হাজার ৬শ ৭০ জন দূর্গত মানুষের মধ্যে শাড়ি-লুঙ্গি, শীতের কাপড়, শুকনো খাবার, হাড়ি-পাতিল,থালাবাসন, খাবার স্যালাইন, ঔষধ ও নগদ অর্থ বিতরন করেন। কুরবানীতে তিনি কাউখালি ও ভান্ডারিয়ার প্রতিটি ইউনিয়নে এবং রাজাপুর ও ঝালকাঠিতে পশু কোরবানী দিয়ে সিডর আক্রান্ত ২ হাজার দুস্থ মানুষের মধ্যে গোশত বিতরন করেছেন। সিডরে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তিনি আর্থিক সাহায্য করেছেন। যার মধ্যে কাউখালির কেউন্দা স্কুল ও সাতুরিয়া রহমনিয়া দাখিল মাদ্রাসা অন্যতম। এসব এলাকায় সিডরে ক্ষতিগ্রস্ত শতাধিক মসজিদের তিনি আর্থিক সহয়তা প্রদান করেন।



ইঞ্জিনিয়ার রেজাউল করিমের মোসলেম আলী ফাউন্ডেশন প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিশুদ্ধ পানি সরবারাহ করার জন্য কাউখালি ও ভান্ডরিয়ার ১২টি ইউনিয়নের বিভিন্ন স্তানে গভীর ও অগভীর নলকুপ স্তাপন করেন। চাষীদের সুবিদার্থে ১শ চাষী পরিবারের মধ্যে সমিতি করে বিনা মূল্যে ট্রাক্টর বিতরন করেন। এছাড়া দরিদ্রদের মাঝে রিকশা বিতরনের কর্মসূচীও রয়েছে মোসলেম আলী খান ফাউন্ডেশনের। এ অঞ্চলের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরো গতিশীল ও উন্নত করার জন্য তিনি ঝালকাঠি ও পিরোজপুর শহরে দুটি প্যারামেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠার কাজও শুরু করেছেন। রাজাপুর শহরে আর্সেনিক মুক্ত বিশুদ্ধ পানির জন্য তিনি সম্প্রতি ইসরাব নামক একটি এনজিওকে ৫ লাখ টাকা ঋন দিয়েছেন।


জনসেবার পাশাপাশি এক সময়ের মিডিয়া কর্মী রেজাউল করিম সাংবাদিকদের কল্যানে ভূমীকা রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সম্প্রতি বরিশাল প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারন সম্পাদক প্রয়াত সাংবাদিক জি এম বাবর আলীর পরিবারকে তিনি আর্থিকভাবে সহয়তা করেন। বাবর আলীর একটি সন্তানের লেখাপড়ার সম্পূর্ন দায়িত্ব নেন রেজাউল করিম। রেজাউল করিমের এই উদ্যোগ বরিশাল সহ দক্ষিানাঞ্চলের সাংবাদিক মহলে প্রশংসিত হয়।


এছাড়া বাবর আলী স্মরনে বরিশালে ও ঝালকাঠি প্রেসক্লাবে শোক সভা করে মোসলেম আলী খান ফাউন্ডেশন। রেজাউল করিম কাউখালি প্রেসক্লাবের আজীবন সদস্য। সম্প্রতি তার সহথর্মিনী সাদিয়া করিম কাউখালি প্রেসক্লাবে মতনিময় করে ১৮ মাসের বকেয়া ভাড়া প্রদান করেন এবং কাউখালি প্রেসক্লাবের একটি ভবন করে দেয়ার ঘোষনা দেন। সাথে সাথে তিনি ঝালকাঠি ও পিরোজপুর জেলার সাংবাদিকদের জন্য মোসলেশ আলী খান ওয়েল ফেয়ার ফাউন্ডেশন কতৃর্ক বছরে একবার সেরা রিপোর্টিং পুরস্কার চালুরও ঘোষনা দেন।


এদিকে রেজাউল করিমের সমাজবোমূলক এই তৎপরতায় দলমত নির্বিশেষে সকল পেশার মানুষইা অংশ নিচ্ছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও রেজাউল করিমের উদ্যোগকে স্মাগত জানাচ্ছেন। রাজনীতির উর্ধ্বে বিবেচনা করছেন রেজাউল করিমের কার্যক্রমকে। এ অঞ্চলের সাধারন মানুষ মনে করেন রেজাউল করিমের জনকল্যানমূলক এই তৎপরতা অব্যহত থাকলে পিরোজপুরের কাউখালি,ভান্ডারিয়া ও জিয়া নগর এবং ঝালকাঠির রাজাপুর ও কাঠালিয়ায় বেসরকারীভাবেই ব্যাপক উন্নয়ন রচিত হওয়া সম্ভব।


ইকরাম
 

আরও সংবাদ