Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Wed September 26 2018 ,

পদ্মা সেতু প্রকল্পে তথ্য গোপন করে চীনা প্রতিষ্ঠানের দরপত্র

Published:2014-08-23 13:36:36    

বাংলাসংবাদ২৪: পদ্মা সেতু প্রকল্পের নদীশাসনের কার্যাদেশ দিতে আরও সময় নেবে সেতু বিভাগ। চারটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পাওয়া প্রস্তাবের মধ্যে সর্বনিম্ন দরদাতা চীনা কোম্পানি সিনোহাইড্রো করপোরেশনকে ঘিরে জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় সরকারের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত এ প্রকল্পের নদীশাসনের কার্যাদেশ দিতে বিলম্ব হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের কালো তালিকাভুক্ত হওয়ার তথ্য গোপন করে সিনোহাইড্রো করপোরেশন দরপত্র দেওয়ায় এই জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। যোগাযোগ মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা স্বচ্ছতার ভিত্তিতে পদ্মা সেতু প্রকল্পের কাজ করতে চায়। এ জন্য সব কিছু যাচাই-বাছাই করতে তাদের সময় লাগছে।

পদ্মা সেতু প্রকল্পের নদীশাসন কাজের চূড়ান্ত দরপত্র জমা নেওয়া হয় গত ১৯ জুন। ২৮ কর্মদিবসের মধ্যে মূল্যায়ন প্রক্রিয়া শেষ করে কার্যাদেশ দেওয়ার কথা ছিল। আগস্টেই নদীশাসনের কাজ শুরু করারও পরিকল্পনা ছিল।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নদীশাসন কাজে সর্বনিম্ন দরপ্রস্তাব দেয় সিনোহাইড্রো করপোরেশন। প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বব্যাংকের কালো তালিকাভুক্ত হলেও তা গোপন রাখে। পরে অন্য একটি প্রতিষ্ঠান সেতু বিভাগকে চিঠি দিয়ে কালো তালিকাভুক্তির বিষয়টি জানায়।

এ ছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেন প্রকল্পেও প্রতিষ্ঠানটির কাজের অগ্রগতি সন্তোষজনক নয়। ফলে সর্বনিম্ন দরদাতা হলেও নদীশাসন কাজে সিনোহাইড্রোর নিয়োগ নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।

এ ব্যাপারে যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সমকালকে বলেন, একটু বিলম্ব হলেও কার্যাদেশের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। এ ব্যাপারে বেশি কিছু মন্তব্য করতে চান না তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিশ্বব্যাংকের কালো তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দিতে আইনি কোনো সমস্যা আছে কি-না সে বিষয়ে মতামত চেয়ে আইন মন্ত্রণালয়কে দু’সপ্তাহ আগে চিঠি দিয়েছে সেতু বিভাগ। আইন মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি অর্থ মন্ত্রণালয়, বিনিয়োগ বোর্ড ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবি আর) চিঠি দিয়েও মতামত নেওয়া হবে। এ সংস্থাগুলোর মতামতের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সেতু বিভাগ।

দরপত্রে নদীশাসনে সিনোহাইড্রো করপোরেশন প্রাথমিকভাবে প্রস্তাব দেয় ৯ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। শেষ মুহূর্তে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ ডিসকাউন্ট দেয় চীনা প্রতিষ্ঠানটি। ফলে সিনোহাইড্রোর চূড়ান্ত প্রস্তাব দাঁড়ায় প্রায় ৮ হাজার ৭৭৮ কোটি টাকা। অন্য দুই প্রতিষ্ঠান দক্ষিণ কোরিয়ার হুন্দাই ও বেলজিয়ামের জানদিনাল প্রস্তাব দেয় যথাক্রমে ১২ হাজার ১১২ কোটি ও ১২ হাজার ২২৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রায় ৩ হাজার ৩০০ কোটি টাকা কম দর প্রস্তাব দেয় সিনোহাইড্রো। কারিগরি মূল্যায়নে পৃথক কোনো নম্বর না থাকায় নদীশাসনের কাজটি তাদেরই পাওয়ার কথা; কিন্তু প্রতিষ্ঠানটিকে ঘিরে জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় বিলম্বিত হচ্ছে কার্যাদেশ। আর দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হলেও ব্যয় বৃদ্ধিসহ নতুন করে নানা সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। পিছিয়েও যেতে পারে নদীশাসনের কাজ। এসব জটিলতায় পড়েছে সেতু বিভাগ।

পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থায়ন না করলেও স্বচ্ছতার স্বার্থে বিশ্বব্যাংকের সব গাইডলাইন অনুসরণ করতে চায় যোগাযোগ মন্ত্রণালয়।

এ প্রসঙ্গে পদ্মা সেতু প্রকল্পের পরিচালক শফিকুল ইসলাম সমকালকে বলেন, নির্ধারিত সময় গড়িয়ে গেছে এটা ঠিক; কিন্তু মূল্যায়ন কমিটি এখনও তাদের কাছে প্রতিবেদন দেয়নি। ফলে বিলম্বিত হচ্ছে কার্যাদেশ। তিনি বলেন, সময়ের চেয়ে স্বচ্ছতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। প্রকল্পটির শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগেরও মতামত নিয়ে এগোচ্ছেন তারা।

মূল্যায়ন কমিটির প্রধান অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী বলেন, বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার মধ্যেও দ্রুতগতিতে কাজ করছেন তারা। মূল্যায়ন কাজে যেন কোনো ত্রুটি না থাকে সে বিষয়টি বিবেচনা করে কাজ করছেন তারা।

জানা গেছে, গত মাসে সেতু বিভাগকে চিঠি দিয়ে সিনোহাইড্রোর তথ্য গোপনের বিষয়টি জানায় হুন্দাই। চিঠিতে বলা হয়, ফিলিপাইনে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নকৃত মানবসম্পদ উন্নয়নবিষয়ক একটি প্রকল্পে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে সিনোহাইড্রোকে। এ বিষয়ে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত চলমান রয়েছে। এ ছাড়া আফ্রিকায় একটি সড়ক প্রকল্পে সঠিকভাবে কাজ না করায় সিনোহাইড্রোকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে বিশ্বব্যাংক। কারিগরি প্রস্তাবে তা উল্লেখের শর্ত থাকলেও বিষয়টি গোপন করে সিনোহাইড্রো।

এদিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম চার লেন প্রকল্পের পরিচালক ইবনে আলম হাসান সিনোহাইড্রোর বিষয়ে সতর্ক করেছেন সেতু বিভাগকে। সম্প্রতি সেতু বিভাগে পাঠানো এক চিঠিতে বলা হয়, ১০টির মধ্যে ৭ প্যাকেজের ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছে সিনোহাইড্রো করপোরেশন। তবে প্রতিষ্ঠানটির কাজের অগ্রগতি ভালো নয়। ২০১৩ সালে প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা থাকলেও এখনও অর্ধেক সম্পন্ন হয়নি। দুই দফা সময় বাড়ানো হলেও কাজের অগ্রগতি মাত্র ৩৫ শতাংশ। অথচ দেশীয় দুই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তিন প্যাকেজের প্রায় ৮৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করেছে।

পদ্মা সেতুর নদীশাসনের কাজ পেতে ভিন্ন ধরনের কৌশল অবলম্বন করে চীনের এই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। পদ্মা সেতুর নদীশাসনের কাজ পেলে ঢাকা-চট্টগ্রাম চার লেন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছে তারা। এ নিয়ে ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ও সিনোহাইড্রোর কর্মকর্তারা যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকও করেন। এ ছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম চার লেন প্রকল্পে অতিরিক্ত দাবিকৃত ৩৪১ কোটি টাকাও প্রয়োজন হবে না বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

বাংলাসংবাদ/ইকরাম

আরও সংবাদ