Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Sat July 21 2018 ,

সময় ও জীবন: কবির হোসেন

Published:2015-02-23 20:06:15    

কবির হোসেন: নরেন্দ্র মোদী, ভারতের  প্রধানমন্ত্রী  হওয়ার পর বেশ কিছু কাজ করেছেন যা সমস্ত পৃথিবীর জন্য অনুকরনীয়। সময়ানুবর্তিতার বিষয়টি তার মধ্যে অন্যতম। এ বিষয়টি মিডিয়ার জগতে বহুবিদ আলোচিত বিষয়ে পরিনত হয়েছিল। তিনি নিজ দলের এমপিদের বৈঠকে নির্দিষ্ট সময়ের পর দরজা বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এ জন্য বেশ কয়েকজন এমপিকে বাইরেই সময় কাটাতে হয়।

বস্তুবাদীরা বলে টাইম ইজ মানি। তাই তারা সময়কে টাকা উপার্জনের সুযোগ হিসেবে দেখে। ইসলাম বলে সময় হলো কাল মানে হায়াত। ইসলাম এ ব্যাপারে বহুল আলোচিত ব্যক্তিত্বের মডেল। মহানবী (সা) কে তাঁর সময়ের পরিকল্পিত ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে আল্লাহ বলেছেন, ফাইযা ফারাগতা ফানসাব; ৯৪ : সূরা আল ইনশিরাহ : ৭)  অর্থাৎ একটি কাজ শেষ করেই আরেকটি কাজ শুরু করে দিন।

মহানবী (সা) বলেছেন, আল্লাহর দেয়া দু’টি নেয়ামত ব্যবহারে অধিকাংশ মানুষ ধোঁকা খেয়েছে। একটি হলো তার সুস্থতা, অপরটি অবসর সময়। এই দুটি জিনিসের প্রয়োগ সঠিকভাবে যারা করতে পেরেছেন তারা আজ দৃষ্টান্ত। অপর দিকে এর ব্যবহার না করার কারনেই সমাজের বোঝা হয়ে বেচে আছেন। হয়েছেন অপমান আর ঘৃনার পাত্র।

সময়ের কত মুল্য তার বর্ননা দিতে গিয়ে আল্লাহ তায়ালা কসম করে বলেছেন, ‘সময়ের কসম নিশ্চই মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত।’ (১০৩: সূরা আল আসর : ১-২) কেউ কেউ তো সময় নষ্টকারীকে তুলনা করেছেন বরফ বিক্রেতার সাথে। যার বরফ বিক্রয়ের আগেই গলে পানি হয়ে যাচ্ছে। মহানবী (সা) সেই ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিটির পরিচয় তুলে ধরে বলেছেন, যার দু’টি দিন একই রকম যায় নিঃসন্দেহে সে-ই ক্ষতিগ্রস্ত।

চিন্তাশীল বাউলমন তার মনের অজান্তেই গেয়েছেন, ‘মন আমার দেহ ঘড়ি সন্ধান করি কোন মিস্তিরী বানাইয়াছে।’ বাউল কবি অবশেষে মিস্ত্রির সন্ধান না পেলেও দেহ ঘড়ির ডিজিটাল প্রমাণ অনুযায়ী নির্ধারিত সময় এলেই সব শেষ। এই বোধটা তার নিজের মাঝে জাগ্রত করেছেন।

সাধকদের অনেকেই গেয়ে যান ‘সময় গেলে সাধন হবেনা’। বাস্তবতাও তাই যখন সময় চলে যাবে তখন মানুষের আপসোস করে কোন লাভ হবেনা। তাদের এ আপসোসের বর্ননা দিয়ে  আল্লাহ বলেন, “হায় আমি যদি হায়াত (সময়কে) কাজে লাগানোর ব্যাপারে যথার্থ পদক্ষেপ গ্রহন করতাম! (৮৯: সূরা আল বালাদ : ২৪)। কিন্তু সে সময়ের হাহুতাশ কোনই কাজে লাগবেনা কারন তাদের জন্য নির্ধারিত সময় শেষ হবার পর এক সেকেন্ড সময়ও দেয়া হবেনা।

একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার একটি বড় উপায় হচ্ছে সময়ের সঠিক ব্যবহার করে সে মোতাবেক কাজ করা। নিজের জীবনকে সাজাতে যথাযথ পরিকল্পনা মেনে চলা। এ ক্ষেত্রে ধারাবহিকতা  রক্ষা একন্ত প্রয়োজন।

আশ-শাউকানী বলেনঃ‘’ কিছু মনীষী আমাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন যে, আমি যেন কখনো লেখার অভ্যাস ত্যাগ না করি, এমনকি যদি তা প্রতিদিন দুই লাইনও লেখা হয়। আমি সেই উপদেশ অনুসরন করতে থাকি এবং এর যথাযথ ফলও পেতে শুরু করি।‘’ এটাই হলো সেই হাদীসটির ব্যাখা, ‘’সর্বোত্তম কাজ হল সেই কাজ যা একজন লোক কম পরিমাণে কিন্তু নিয়মিত করে থাকে।”

মানুষ এর ব্যবহরের ধারাবাহিকতা যাতে রক্ষা করতে পারে তার পন্থা হিসেবে কিছু কাজ করার আদেশ দিয়েছেন তার মধ্যে নামাজ অন্যতম। কোরআনে আল্লাহ ঘোষনা দিয়েছেন- ‘’ নিশ্চয় নামায মুসলমানদের উপর ফরয নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে।‘’ [সূরা আন-নিসা :১০৩]।

এই কাজগুলো করতে গিয়ে যাতে কোন প্রকার ভয় এবং দিধাবোধ কাজ না করে সেই বর্ননাও দিয়েছেন আল্লাহ তায়ালা। তিনি বলেন, ‘’হে ঈমানদারগণ তোমরা যদি আল্লাহকে ভয় করতে থাক, তবে তোমাদের মধ্যে ফয়সালা করে দেবেন এবং তোমাদের থেকে তোমাদের পাপকে সরিয়ে দেবেন এবং তোমাদের ক্ষমা করবেন। বস্তুতঃ আল্লাহর অনুগ্রহ অত্যন্ত মহান। ‘’ [সূরা আনফাল:২৯]

আদর্শ মানুষ ও সুন্দর জীবনের জন্যে একটি মুক্ত চিন্তাশক্তির প্রয়োজন। আর তা বাস্তবায়নের জন্য সময়ের সঠিক ব্যবহার ও কাজের ধারাবাহিকতা থাকতে হবে। আমরা আমাদের ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রিয় জীবনে সফলতা পেতে চাইলে এর কোনই বিকল্প নেই। বিশ্বের দরবারে মাথা উচু করে রাখার জন্য এ কাজগুলো আমাদেরকে করতেই হবে।


কবির হোসেন
 

আরও সংবাদ