Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Sun September 23 2018 ,

চরমোনাইগামী লঞ্চ দূর্ঘটনায় লাশের সন্ধান মেলেনি এখনো

Published:2015-02-25 19:24:26    

ভোলা প্রতিনিধি: ভোলার মনপুরা থেকে ২৩ ফেব্রুয়ারী চরমোনাইর বার্ষিক মাহফিলে যোগ দিতে যাওয়ার সময় দূর্ঘটনার কবলে পড়া যাত্রীবাহী এম,ভি নূরুল ইসলাম নামক লঞ্চের নিখোঁজ ৫ যুবকের মধ্যে ৪জন উদ্ধার হলেও আবুল  বাসার নামের এক যুবককে এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি। জীবিত কিংবা মৃত কোনভাবেই খোঁজ  না পাওয়ায় পরিবারে চলছে শোকের মাতম। চরমোনাইয়ের  কাছাকাছি  নদীতে দূর্ঘটনার স্থল এবং এর আশে পাশে কয়েকটি  ট্রলারযোগে বাসারের খোঁজ অব্যাহত থাকলেও তার সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে পরিবারের সদস্যদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ছেলে ঘরে ফিরে আসবে এমন আশায় বুক বেঁধে আছে বৃদ্ধ পিতা ও মাতা। তার অল্প বয়স্কা স্ত্রীর চোখে মুখে ফুটে উঠেছে স্বামী হারানোর বুক ফাটা আর্তনাদের চিহ্ন। মাত্র ৮ মাসের শিশু কন্যা জানেনা তার বাবা বেঁচে আছে নাকি মরে গেছে।
    
নিখোঁজ যুবক বাসারের বাড়ি মনপুরার দক্ষিন সাকুচিয়া ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের রহমানপুর গ্রামে। তার বয়স ২৯ বছর। অভাবী পরিবারের এই ছেলেটির বাড়িতে রয়েছে বৃদ্ধ পিতা এবং মাতা। সাথে রয়েছে তার সদ্য বিবাহিতা স্ত্রী আর একমাত্র কন্যা সন্তান। বাবার নাম হাফিজ উদ্দিন আর মা বিবি রহিমা। সে গত ৫ বছর ধরে মনপুরার জনতা বাজার টু চরফ্যাশনের বেতুয়া ঘাটের যাত্রীবাহী এম,ভি নূরুল ইসলাম নামক লঞ্চে কাজ করছে। উপার্জনের ৫ হাজার টাকা দিয়ে চলে তার পরিবার। চরমোনাই বার্ষিক মাহফিলে যোগ দিতে গত ২৩ ফেব্রুয়ারী মনপুরার স্থানীয়রা ওই লঞ্চটিকে রিজার্ভ হিসেবে নিয়ে চরমোনাইয়ের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। সকাল ৮ টায় দক্ষিন সাকুচিয়ার জনতা বাজার ঘাট থেকে রওয়ানা হয়ে মাষ্টার হাট, হাজীর হাট, নায়েবের হাট এবং রামনেওয়াজ ঘাট থেকে যাত্রীদেরকে নিয়ে চরমোনাইয়ের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়ে যায়। ওই লঞ্চেই চরমোনাইয়ের মাহফিলে যান মনপুরা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং উপজেলা আ’লীগের সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব নজির আহমেদ মিয়া। লঞ্চটি সন্ধ্যার পরপরই চরমোনাইয়ের কাছাকাছি পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে একটি কার্গো এসে প্রায় ৩ শতাধিক যাত্রী নিয়ে যাওয়া এই লঞ্চটিকে ধাক্কা দেয়। কার্গোর ধাক্কায় ওই লঞ্চের অর্ধশত যাত্রী নদীতে পড়ে যায়। আহত হয় ১৫যাত্রী। নিখোঁজ হয় ৫ যাত্রী। নদীতে পড়ে যাওয়া যাত্রী, আহত ও নিখোঁজ যাত্রীদের  মধ্যে সবাইকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও লঞ্চের ষ্টাফ বাসারকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। বাকি যাত্রীরা চরমোনাই পৌঁছে গেলেও নিখোঁজ বাসারের জন্য সবাই রয়েছেন উৎকন্ঠায়। খবর পেয়ে নিখোঁজ বাসারের বড় ভাই শফিউদ্দিন মাঝি ঘটনাস্থলে গিয়ে কয়েকটি ট্রলার নিয়ে তার নিখোঁজ ভাইয়ের সন্ধান অব্যাহত রেখেছেন।

নিখোঁজ যুবকের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বৃদ্ধ বয়সে ছেলেকে হারিয়ে বৃদ্ধ বাবা মাথা ঠুকছেন টেবিলের সাথে। যাকে দেখছেন তাকে ধরেই কান্নাকাটি করছেন। পুত্র শোকে  মা’ও  প্রায় বাকরুদ্ধ। স্ত্রী’র চোখের পানি শুকিয়ে গেছে, অল্প বয়সে স্বামী হারানোর বেদনায়। অবুঝ সন্তানটিতো বুঝছেইনা তার বাবা নেই। সেখানে গিয়ে দেখা হয় স্থানীয় চেয়ারম্যান অলিউল্লাহ কাজলের সাথে।

তিনি বলেন, ৩টি ট্রলার দিয়ে বাসারকে খোঁজা হচ্ছে। আশা করছি একটা খবর আমরা পাব।

এব্যাপারে মনপুরা থানার অফিসার ইনচার্জ’র(ওসি) দায়িত্বে থাকা এস. আই মোহাম্মদ আলী বলেন, এখনো পর্যন্ত নিখোঁজ যুবকের কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। নিখোঁজ যুবকের আত্মীয় ও লঞ্চের স্টাফরা খোঁজ খবর নিচ্ছেন বলে তিনি জানান।

বাংলাসংবাদ২৪/এন.আমিন/ইএফ

আরও সংবাদ