Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Sat July 21 2018 ,

সময়ের সাথে আপনি কোথায়?

Published:2015-03-02 21:28:59    

কবির হোসেন: মানুষের  সৃষ্টি থেকে নিয়ে শেষ গন্তব্যস্থলে পৌঁছা পর্যন্ত মোট ছয়টি স্থর রয়েছে। একটি স্তর থেকে আরেকটি স্থরে স্থানান্তরিত হয় একটি নিদিষ্ট সময়ের ব্যবধানকে উপেক্ষা করে। যাকে বলা হয়-আলমে আরওয়া-রূহের জগৎ। আরহামে উম্মেহাত-মাতৃগর্ভ। হায়াতুদ দুনিয়া-পৃথিবীর জীবন (জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত)। আলমে বরযখ-অন্তরাল জগৎ। ইয়াওমুল কিয়ামত-আখেরাত।  জান্নাত/জাহান্নাম -চিরস্থায়ী আসন। এই যে আমাদের চলার পথ,  এ পথে আমরা কী সঠিক সময়ে সঠিক কাজটি করছি ? 

 
রুহের জগতে আমরা একই জাতীর আওতায় ছিলাম। তখন আমাদের পরিচয় একটাই ছিল। কোন প্রকার ভেদাভেদ সেখানো ছিলনা । সমস্যার সুত্রপাত মুলত যখন মাতৃগর্ভে এলাম তখন থেকে। বাবা-মায়ের একান্ত সময়ের আবেগের কারণে বাবার মগজ থেকে যাত্রা শুরু হল। চলে এলাম মায়ের গর্ভে। এখান থেকেই শুরু হল ভাল আর মন্দকে ঘীরে পথ চলা। করো প্রতি সহানুভুতি দেখানো ভুলে গেলাম এখানেই। কেননা, এ সময় মায়ের গর্ভে থেকেও মাকে কষ্ট দিতে কোন প্রকার কার্পন্ন করলাম না।
 
মা-তার কাধে কষ্টের পাহাড় তুলে নিয়ে আমাকে এই পৃথিবীর আলোর মুখ দেখালেন। আমার জন্য বেচে থাকার সুন্দর পরিবেশ তৈরি করে দিলেন। এখানে পেলাম ভিন্ন এবং উপভোগ করার মত এক মাহারাজ্য। যে রাজ্যে নিজেকে রাজা ভাবতে শুরু করলাম। অন্তর আত্তাই একে কাজে লাগালো। এমনটাতো হবে, কেননা কষ্টের ভার অপরের কাধে দিয়ে নিজে  মজা ভোগ করাতো আগেই শিখেছি। কষ্টের ভারতো মায়ের কাধে তুলে দিয়েছি অনেক পুর্বেই। 
 
এতো বেয়াদবী আর নোংরামী করেছি তাও আবার আমার অবস্থা যখন পরগাছার মত। অর্থাৎ এ সময়টিতে আমি নিজে কিছুই করতে পারিনি। বাবা-মায়ের করে দেয়া ব্যবস্থাকে শুধু উপোভোগ করেছি। এতটুকু করেই আমি হয়েছি মহা রাজা। যা আমার জন্য সোভনীয় ছিল কিনা সে বিষয়টি অনেক বড় প্রশ্নের দাবি রাখে।
 
এর পর তো আমার জন্য এই জগৎ হাতের মুঠোয় রাখার মত অবস্থা। আমার অবস্থান হল আকাশ ছোয়ার মত। সেই সাথে ক্ষমতার একটু আদটু সুযোগ পেয়েছি, যা আমাকে আরো বেপরোয়া করে দিয়েছে। 
 
একে ব্যবহার করে আমি ভুলে গিয়েছি ফেলে আসা দিনের কথা। সেই সাথে ভুলে গিয়েছি সামনে আমার জন্য অপেক্ষমান সকল বিষয়। কালো আবরণে ঢেকে দিয়েছি নিজের ভিতরের স্বক্রিয় বিবেককে। ভুলে গিয়েছি আমাদের জীবনের শেষ পরিনতি সম্পর্কে। তাহলে আমরা আমাদের জীবনকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছি? আমরা কী আমাদের নিয়ে পুর্বের ও পরের সকল বিষয়কে সাময়িক মনে করছি?
 
এই সব বিষয় নিয়ে আমরা যারা চিন্তা করার সময় পাইনা, বরং একে একটি নিছক খেলা মনে করি তাদের প্রতি অনুরোধের হাতটা একটু প্রসারিত করে বলতে চাই, আপনার ফেলে আসা দিনের অসহায়ত্তের কথা কিছু সময় ভাবুন? আপনার কী করার ছিল সে অনুযায়ী কতটুকু করেছেন তা নিয়ে একটু চিন্তা করুন। আপনার ব্যর্থতার দায়ভার সামনে যে হিসেবের সময় আসছে সেখানে কার কাছে হস্তান্তর করবেন একটু ভেবে দেখুন?
 
চলমান সময়ে বাতাসের সাথে তাল মিলিয়ে আপনি যে ভাবে আপনা জীবন পরিচালনা করছেন তার শেষ পরিনতি নিয়ে আপনার ভিতরের বিবেককে প্রশ্ন করুন? যেনে নিতে চেষ্টা করুন আপনি কি সঠিক কাজ করছেন?  না-কি আপনার কাজগুলোই আপনাকে গভীর সমস্যার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এখন যে সময়ে আপনি আছেন তা থেকে বের হয়ে আসার কোন পথ আচে কি-না একটু মেলাতে চেষ্টা করুন আপনার স্ব-চিত্রিত সমীকণে।
 
আপনার সকল সমীকরণকে মিলিয়ে একটি সুন্দর প্লাটফর্মে নিজেকে দাড়করিয়ে রাখুন। দেখতে পাবেন এই দুনিয়ার জীবন পরিচালনা করার মাঝেই রয়েছে- এক. মৃত্যু পরবর্তী জীবনের শান্তি ।  যা এই দুনিয়ার সকল শান্তির চাইতেও উত্তম। দুই. বিচারকের নিকট সঠিক ভাবে নিজেকে উপস্থাপন করতে পারার সমর্থ। তিন. সর্বপরি চাওয়া পওয়ার সর্বচ্চ স্থানে নিজের স্থান করে নেয়া। যা আপনার আমার সকলের প্রাপ্য। 
 
লেখক: কবরি হোসনে।

আরও সংবাদ