Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Tue December 18 2018 ,

  • Advertisement

জানতাম দেখা হবে আবার

Published:2015-03-11 08:28:56    
গ্রাম আমদির পাড়া। চারদিক সবুজে ঘেরা, আমাদের পাড়া। মাঠে মাঠে রাখালের বাঁশি বাজানো সুর, চলে যায় গ্রাম পেড়িয়ে বহুদুর। গাছে, গাছে, হরেক রকম ফুল, ফল,পাখ পাখালির ডাক। রাতে জোনাকী পোকার মিটমিট আলো,আহা খুব সুন্দর লাগে দেখতে ভালো। এই গ্রামকে কেন্দ্র করে আছে একটা বটগাছ। বটগাছটার বয়স প্রায় একশত বছর হবে। এই বটগাছটার চারদিক দিয়ে গড়ে উঠেছে জনপদ। বটগাছের দক্ষিনে যমুনা নদী এবং পশ্চিমে বাঙ্গালী নদী। বটগাছের আশে পাশে বেশ কয়টা দোকান আছে।বটগাছের নিচে বসে অনেক শ্রমজীবি লোকজন বিশ্রাম নেয়। বটগাছটা থাকার কারনে ভ্যান চালক ভাইয়েরা ও গ্রামের লোকেরা এর নাম দিয়েছে বটতলী। বটতলী থেকে দক্ষিনে এককিলো দুরে জুমার বাড়ী বাজার। এবং উত্তরে সাঘাটা থানা তারপর গাইবান্ধা। বটতলী নামেই এই জায়গাটা বর্তমান পরিচিত।এই বটগাছের ইতিহাস বলা বাহুল্য। 
গ্রামে ছিলোনা একটা ডাক্তার। তেমন কোন শিক্ষিতো লোকজনও। তবে গ্রামে ছিলো বেশ কয়টা কবিরাজ । তাদের চিকিৎসা নিয়ে আসচ্ছে গ্রামের সহস সরল মানুষ গুলো। ভালো হয়না তা বললে ভুল হবে। ভালো হয় তবে শর্তকরা ৪০%লোক। আর ৬০%লোক পরে যায় আরো বিভিন্ন অসুখে। 
সেদিন আমাদের গ্রামের কুসুম নামে এক মেয়ের বাবা অসুস্থ হয়। তাকে ধরা ধরি করে নিয়ে যায় কবিরাজের বাড়ি। কতুবআলী নামে, এক কবিরাজের বাড়ি । কতুব আলী গ্রামের নাম করা কবিরাজ। তার এখানে বেশি রোগী দেখা যায়। কতুব আলী কুসুমের বাবাকে বিভিন্ন ধরনের ঔষধ দেয় গাচগাছরার, তা খেয়ে বেশ ভালোই ছিলো কুসুমের বাবা। কিন্তু রাত বারটার দিকে এই সুন্দর পৃথিবী থেকে চলে যায় কুসুমের বাবা। কুসুম সহজে মেনে নেয় না, তার বাবার মৃত্যু। সে গ্রামের মড়লকে বিচার দেয়। 
গ্রামের মড়ল সহ, সবাই বসলে কতুব আলী বলে, আমি তো এভাবেই মানুষের চিকিৎসা দিয়ে আসচ্ছি। আমার ভুল হয়নী চিকিৎসা করার। বিচারে কোন ভালো ফল পায় না কুসুম। মনে দুঃখ নিয়ে আছে কুসুম, ও আল্লাহ্ তালার দরবারে দু হাত তুলে দোয়া করে গ্রামে যেন একটা ডাক্তার আসে। 
এক বছর পর , সে দিন কুসুম হৈ,চৈ শুনতে পেয়ে ঘুম থেকে সকালেই উঠলো। ঘর থেকে বাহিরে এসে কুসুম দেখতে পেলো মড়লের বাড়িতে। মড়লের বাড়ি কুসুমদের বাড়ির পেছনে। ঐ পথ দিয়ে যাচ্ছিলো এক বুড়ি, তখন কুসুম বুড়িকে বললো দাদি আসলে কি হয়েছে এতো হৈ,চৈ কেন মড়লের বাড়িতে। বুড়ি বললো আর বলিস না মা মড়লের ভাতিজা টা আজ রাতে মারা গেছে। ডায়রিয়া হইয়া। কবিরাজের ঔষধ খেয়েছিলো। তখন কুসুমের চোখ পড়লো হঠাৎ বাবার কবরের দিকে। বাবার কথা মনে পরে তার, ডুকরে কেদে উঠলো এবং ঘরে চলে গেলো। গ্রামের মড়ল চিন্তায় পরে গেলো কি ভাবে এই ডাক্তারের সমস্যা টা সমাধান করা যায়। একের পর এক কী মানুষ মারা যাবে এইভাবে। মড়লকে তার এক সহযোগী বললো, আমাদের গ্রামের রাজা চৌধুরীর ছেলে বিলেতে ডাক্তারি করছে। যদি আমরা রাজা সাহেব কে বলি তাহলে হয় তো কাজ হবে। মড়ল বললো ঠিক আছে আমি আজ ফোন দিবো রাজা চৌধুরীর কাছে। এ বেপারে মড়ল রাজা চৌধুরীর সাথে কথা বলে। কিন্তু রাজা চৌধুরী মড়লকে না বলে দেয়। বলে আমার ছেলে সুমনকে আমি কী গ্রামে ডাক্তারী করার জন্য বিলেতে লেখা পড়া করাচ্ছি। আমার ছেলে সুমন ঢাকায় কোন বড় হাসপাতালে চাকুরী করবে। নইলে আমি একটা হাসপাতাল দিবো। মড়ল তখন বলে আপনী তো এই গ্রামেরই ছেলে, তো গ্রামের জন্য কিছু করেন। এই কথা বলতেই ফোনের লাইনটা কেটে দেয় চৌধরী। মড়ল মন খারাপ করে, ভাবছে আমিও তো আমার ছেলেদের লেখা পড়া শিখায়নী। তিনি চিন্তা করছেন, কী করলে সমাধান টা হবে এই সমস্যার। কিন্তু কোন লাভ হলো না। চলে যায় চারটি মাস। রাজা চৌধুরীর ছেলে সুমন চৌধুরী বিলেত থেকে ডাক্তার  হয়ে আজ আসছে দেশ অথাৎ ঢাকায়।
সেদিন সুমন তার বাবা রাজা চৌধুরী কে বললো বাবা আমি গ্রামে ডাক্তারী করবো। বাবা এই কথা শুনে রেগে আগুন। তিনি বললেন না তা হতে পারে না। সুমন বললো বাবা আমি গ্রামের সহস সরল গরিব দুখি মানুষের পাশে দ্বারাতে চাই। আমি ছোট বেলায় যখন গ্রামে গিয়েছিলাম তখন দেখেছি তাদের কষ্ট। বাবা তুমি আমাকে মাফ করে দিও আমি কালকেই গ্রামে যাবো। বাবা কোন উত্তর না দিয়ে তার রুমে চলে যায়। এর মধ্যে আসে রুমে সুমনের ছোট ভাই শহিদ। শহিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। সুমন শহিদকে সব খুলে বললো। শহিদ বাবাকে সব বুঝিয়ে বললো। বাবা বললো গ্রামে থাকতে পারবে না সুমন, শহিদ বললো বাবা ভাইয়া তো অনেক দিন বিলেতে ছিলো জাকনা ঘুরে আসুক। মজাটা বুঝুক গ্রামে থাকার। বাবাকে রাজি করেই ছারলো।আরো বললো বাবা আমাদের গ্রামে যে বাড়ী টা আছে তাতেই থাকবে ভাইয়া।এই খবর সুমনকে শহিদ দিলো। সুমন শহিদকে ধন্যবাদ জানালো। সকাল বেলা সুমন আসবে গ্রামে তাই গ্রামের  
কাপড় পরেছে। যা গ্রামের লোকজন পরে। সুমন বাবার কাজ থেকে বিদাই আনতে গেলো বাবা বললো সুমন গ্রামে আসলে কিছু নাই তুমি দেখ আমার কাছে হেড়ে যাবে। সুমন বললো দেখা যাক বাবা কে হাড়ে কে জেতে। বাবার কাছ থেকে বিদায় নিলো,শহিদেরও কাছ থেকে, শহিদ সুমন কে গাড়িতে তুলে দিয়ে এলো। বিকালে এসে যায়  গ্রামে সুমন। বটতলী এসে বটগাছটার দিকে তাকিয়ে আছে সুমন। ভাবছে যেমন রেখে গিছিলাম তেমনী আছে। তবে আশে পাশের কিছু জায়গা পরিবর্তন হয়েছে। বটগাছ থেকে পশ্চিমে যেতে হবে। বাদ থেকে নেমে সুমন গান ধরলো, 
গ্রাম ছড়া ঐ রাঙ্গা মাটির পর। আমার মন ভুলায়রে।-------------------।
এসেছে প্রায় বাড়ির কাছে কিন্তুু কোন পথে যাবে তা মনে নেই। দক্ষিনে তাকিয়ে দেখলো একটা যুবতী মেয়ে গাছের পাতা কুরাচ্ছে সে হলো কুসুম। সুমন, কুসুম কে বললো আচ্ছা রাজা চৌধুরীর বাড়ি যাবো কোন দিক দিয়ে বলতে পারো। কুসুম সুমনের দিকে তাকিয়ে বললো, বাবু ওনারা তো বাড়িতে থাকেনা কেউ। সুমন বললো আমি রাজা চৌধুরীর বড় ছেলে। আমি একজন ডাক্তার আমি এখানে থাকবো। কুসুম বললো তাই নাকী বাবু সত্যি বলছেন তো? সুমন বললো হ্যা। কুসুম সুমনের হাত থেকে ব্যাগ নিয়ে বললো ডাক্তার বাবু আমি আপনাকে পৌনচ্ছে দিয়ে আসি। সুমন বললো আচ্ছা ঠিক, আছে তবে ব্যাগটা আমাকে দাও। কুসুম বললো না বাবু আমি নিয়ে যাই কোন অসুবিধা নাই। কুসুম আসার পথে তার বাবার মৃত্যুর কাহিনী। ডাক্তার সুমন শুনে খুব দুঃখ পেলো। কুসুম তার দু“চোখ মুছে বললো ডাঃ বাবু যদি কোন সমস্যা হয় তাহলে আমাকে জানাবেন কিন্তু। ডাক্তার মাথা নাড়িয়ে বললো ঠিক আছে। সেই মিন্টু দা এখনো আছে। বয়স প্রায় ৬০ বছর বয়স হবে তার। দাড়ি মোছ পেকে গেছে । সুমন বললো মিন্টু দা তুমি কেমন আছো। মিন্টু ফুল গাছে পানি দিচ্ছে পেছন দিকে না তাকিয়ে বললো, অন্য কেউ মনে করে আমি ভালো আছি ,ভাই এখন যা, ছোট সাহেব আসবে । সুমন বললো মিন্টু দা আমি সুমন। মিন্টু পেছনে ঘুরেই চমকে উঠলো কেন না সুমন অনেক বড় হয়েছে। মোছ ও রেখেছে। মিন্টু বললো তুমি এতো বড় হয়েছো ছোট সাহেব। সুমন বললো সত্যি তোমাকেও চেনা যাচ্ছেনা। মিন্টু বললো সাহেব ব্যাগ আমাকে দাও আমি নিয়ে যাই। সুমন বললো না লাগবেনা চলুন। ঘরে গিয়ে বিশ্রাম নিচ্ছে ডাক্তার সুমন।
পরেরদিন সকালেঃ ডাক্তার সুমন বেড় হয় আমাদের গ্রামের মড়লের খোজে। ডাঃ এর বাড়ি থেকে কুসুমের বাড়ি অল্প একটু দুরে। ডাক্তার দেখতে পেলো বাড়িটি এক কোনে ছোট একটা ঘর আবার খড়ের। ডাক্তার কিছু দুর যেতেই দেখতে পেলো সেই মেয়ে টি। কাল যে আমাকে বাড়ি দেখিয়ে দিয়েছে। কুসুমের বাড়িতে আসে ডাক্তার। কুসুম ডাক্তার কে দেখে খুব খুশি কিন্তু কোথায় তাকে বসতে দিবে ভাবছে কুসুম। এবং বললো বাবু আপনাকে যে কোথায় বসতে দেই। ডাক্তার বললো না আসলে আমি বসতে আসিনী। তোমার নামটা যেন কী। কুসুম বললো বাবু আমার নাম কুসুম, আমি এখানেই থাকি। ডাক্তার বললো, আমি গ্রামের মড়লের সাথে দেখা করবো কুসুম তুমি কী জানো তার বাড়ী কোন দিকে।
কুসুম বললো, হ্যা বাবু, ঐ যে দক্ষিনে বাড়িটা দেখা যাচ্ছে, সেইটাই মড়লের বাড়ি। ডাক্তার বললো, তবে কুসুম একটা সমস্যায় পরে গেছি। কুসুম বললো কী সমস্যাই পরেছেন বাবু। ডাক্তার বললো রান্না বান্না করার। কসুম বললো বাবু চিন্তা করে শরীর খারাপ করেন না, আমি আপনার রান্না করে দিবো তবে, আমি টাকা পয়সা কিছু চাইনা। চাই গ্রামের মানুষ গুলে ভালো থাক। ডাক্তার বললো তবে গ্রামের মানুষ কী ভাববে। কুসুম বললো আমি কাউকে ভয় পাইনা। আপনী কোন চিন্তা করবেন না, আমি সময় মতো রান্না করে দিয়ে আসবো। সুমন ডাক্তার বললো ঠিক আছে। এই বলে চলে গেলো মড়লের বাড়িতে সুমন। 
মড়ল সুমনের পরিচয় পেয়ে খুশি হয়। মড়ল বললো, রাজা চৌধুরীর কথা গুলো, ফোনে যা বলেছিলো। সুমন বললো আসলে বাবা একটু ঐরকমই। বাবা তো আমাকে আসতেই দিবেন না। আমি নিজে এসেছি। মড়ল বললো ডাক্তার বাবু আপনার যদি কোন সমস্যা হয় তাহলে অবশ্যই জানাবেন। তবে বাবু গ্রামের লোকজনদের যেন ফাকি দিয়ে না জান। সুমন কিছুক্ষন পর বললো মাথা নাড়িয়ে ঠিক আছে। এবং বললো মড়ল সাহেব আজ তাহলে আসি। আজ থেকে আমি কাজ শুরু করতে চাই। মড়ল বললো ঠিক আছে তবে তোমার সাথে আমার একটা লোক থাকবে। ও বোবা তবে কানে শোনে কথা বলতে পারেনা, বুদ্ধি আছে আবার। সুমন বললো ঠিক আছে। এই বলে চলে যায় ডাক্তার। 
গ্রামে হৈ পরে যায় গ্রামে ডাক্তার এসেছে শহর থেকে। আজ থেকে রোগী দেখবেন ডাক্তার সুমন। সব রোগী আসা শুরু করেছে সুমন ডাক্তারের কাছে। সময় মতো কুসুম রান্না বান্না করে দেয়। তার হাজারও কাজ রেখে। বোবা ডাক্তারের বডির্গাড হয়ে থাকে। বেশ কয়দিন কেটে গেলো। কবিরাজদের ব্যবসা কমতে থাকে তারা ডাক্তারের শত্রু হতে লাগলো।
কুসুম সেদিন বাগানে পাতা কুরাচ্ছে সেই পথ দিয়ে যাচ্ছে ডাক্তার সুমন । সাইকেলটা নিয়ে একদম কুসুমের সামানে। কুসুম একটু চমকেই উঠলো। দাড়িয়ে যায় কুসুম ডাক্তারের চোখে চোখ রেখে তাকিয়ে আছে ডাক্তারও। হঠাৎ বোবা এসে বলে, হাতের ইশারাই পেছন পাড়ার এক ছেলে অসুস্থ। ডাঃ সাইকেল ঘুড়িয়ে বোবা সহ চলে যায়। কুসুম তাকিয়ে আছেই আর মনে মনে বলচ্ছে  বাবু দেখতে সত্যি সুন্দর। 
পরে বললো আমি কেন এসব ভাবি, বাবু ডাক্তার আর আমি কী। এই বলে কুসুম আবার পাতা কুরাতে লাগলো। এদিকে ডাক্তার এলো রোগীর বাড়িতে। রোগীর অবস্থা খুব খারাপ ডাক্তার একটা কাগজে লেখে দেয় কিছু ঔষধের নাম। আর ডাক্তার কিছু ঔষধ দিলো খেতে মোটামুটি সুস্থ ছেলে টা। ছেলেটার বাবা নাই তার মা বললো বাবু কত টাকার ঔষধ লাগবে। ডাক্তার বললো পাঁচশত টাকার মত। মহিলা মন্টা ভার করে বললো, বাবু আপনাকে কত টাকা দিতে হবে অসহায় কন্ঠে। ডাক্তার বললো আমি টাকা নেইনা। আপনার ছেলে ভালো থাকবে এটাই চাই আমি। আমার জন্য শুধু দোয়া করবেন। মহিলা ডাক্তারের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। ডাক্তার যাওয়ার পথে বলে গেলো আপনী দেরি না করে, ঔষধ গুলো এনে বাচ্চাটাকে খাওয়াবেন। চলে আসে ডাক্তার আরেক বাড়ি। মহিলা টাকার খোজে বেড় হয় ঘরে আবার চাল নেই কী খাবে চিন্তা করছে মহিলাটা। কোথাও পেলো না টাকা। অবশেষে আসে গ্রামের এক বখাটের কাছে, তার বাবা সুধের উপড় টাকা দেয়। তার নাম রাঙ্গা। সারা দিন শুধু গাজা আর মত নিয়ে ব্যস্থ থাকে। বখাটের কাছে এসে বলে আমাকে কিছু টাকা সুদের উপর দাও। কিন্তু রাঙ্গা মহিলাটার র্দুবলতার সুযোগ নিয়ে বললো, আমি টাকা দিতে পারি তবে একটা র্শত আছে। এই কথাটাতেই আটকে যায় রাঙ্গা। মহিলা বলে কী র্শত? ঐ পথ দিয়ে যাচ্ছিলো ডাক্তার। মহিলাকে দেখে দাড়িয়ে যায় সুমন ডাক্তার। রাঙ্গা বললো, তোমাকে আমার সাথে এক রাত কাটাতে হবে। মহিলা এই কথা শুনে রাঙ্গার গালে একটা কষে চোর মারে। এবং দৌড়ে যায় বাড়ির দিকে, ডাক্তারকে দেখে মহিলা মুখে কাপড় দিয়ে কাদতে কাদতে চলে যায়। ডাক্তার চলে যায়। 
ঘরে এসে মহিলা দেখলো তার ছেলে ডাকছে তাকে। মা চোখ মুছে বললো, বাবা তোমার কী হয়েছে। ছেলে বলছে মা, তুমি কোথায় গিয়ে ছিলে? মা তুমি আমার জন্য ঔষধ আনো আমি ভালো হতে চাই। মাগো আমার জন্য তুমি অনেক করেছো। এবার আমি ভালো হয়ে কোনো কাজ করবো। মা বলে না? চুপ কর তোকে পড়াশুনা করতে হবে। আমি এখন আসি। মহিলা পাশের রুমে গিয়ে কাদতে লাগলো মহিলাটা। ভাবছে রাঙ্গার কথা, বুঝি সত্যি হয়। এবং মুনাজাতে আাল্লাহ্ তালার কাছে বলে আাল্লাহ্  এই গ্রামে কী এমন কেউ নাই আমার বিপদে সাহায্য করবে। এর মধেই বোবা এসে দাড়ায় মহিলার দরজায়। হাতের ইশারাই বোবা বলে ডাক্তার দিয়েছে এই পাঁচশত টাকা। এখনী যাও ঔষধ নিয়ে আসো তোমার ছেলের জন্য। মহিলা তাড়াহুড়া করে যায় ঔষধের দোকানে ঔষধ আনতে। ডাক্তার সুমনের টাকা দিয়েই তার ছেলেকে বাচায়।
 
সেদিন ডাক্তার কুসুমকে বললো আসলে কুসুম আমি এখনো গ্রামটা ভালো মতো দেখিনী। তুমি কী আমার সাথে যেতে পারবে। কুসুম কিছুক্ষন ভেবে বললো হ্যা বাবু যেতে পারবো, তবে একটা র্শত আছে। ডাক্তার বললো কী র্শত বললো ? কুসুম বললো সন্ধ্যার আগে আসতে হবে। ডাক্তার বললো ঠিক আছে তাই হবে। কুসুম বললো বাবু তাহলে শাড়ীটা পাল্টে আসি। ডাক্তার মাথা নাড়িয়ে বললো তাড়াতাড়ি আসবে কিন্তুু। শাড়ী পাল্টে কুসুম আসে আবার ডাক্তারের কাছে। লাল শাড়ী পড়েছে কুসুম। ডাঃ বললো কুসুম সত্যি তোমাকে খুব সুন্দর লাগছে। কুসুম মুছকি হেসে বললো, চলেন বাবু যাই।
আমদির পাড়া গ্রামটা দেখতে দেখতে এলো তারা, বাঙ্গালী নদীর পারে। দক্ষিনা বাতাস বইছে, আহা খুব সুন্দর দেখাচ্ছে কুসুমের শাড়ীর আচল টা বাতাসে উড়ছে। ডাক্তার কুসুমকে বলচ্ছে সত্যি সুন্দর আমাদের গ্রাম, তাইনা কুসুম। কুসুম বললো হ্যা। ডাক্তার বললো চলো না কুসুম নৌকায় ঘুড়ি কিছুক্ষন। কুসুম বললো, না বাবু মানুষ দেখলে কী বলবে। ডাক্তার বললো কুসুম তুমি তো বলেছিলে, আমি কাউকে ভয় পাইনা। কুসুম ডাঃ সুমনের দিকে একবার তাকিয়ে উঠে পড়লো নৌকাই। কিছু দুর যাওয়ার পর কুসুমকে ডাক্তার বললো তুমি তো গান পারো, তো একটা গান গাওনা প্লিজ। কুসুম বললো, ঠিক আছে বাবু তাহলে শোনেনঃ
একবারেই এসেছিলো সে নিরবে
সে যে এসেছিলো বাতাসে তো বলেনী
হায় সেদিন ভর জ্বলেনী তারা 
তারে আধারে চিনতে পারিনী,
একবারেই এসেছিলো সে নিরবে----------------------------------------------------
গানটি ডাক্তার মনোযোগ সহকারে শুনলো। এবং বললো, বা কুসুম, তুমি তো সত্যি সুন্দর গান গাইলে। কুসুম বললো বাবু চলেন যাই সন্ধ্যা লেগে যাচ্ছে। ডাক্তার বললো ঠিক আছে চলো। তারা দুজন আসচ্ছে। আসার পথে সামানে এসে দাড়ায় বখাটে রাঙ্গা। আর বলে কুসুম আর মাত্র কয়দিনের মধ্যে আমাদের বিয়ে আর তুমি পর পুরুষের সাথে ঘুরে বেড়াচ্ছো। এটা কিন্তু ঠিক না কুসুম। কুসুম মুখ ভেছিয়ে বললো, তোকে বিয়ে কে করবে? আমি তো তোকে বিয়ে করবো না। রাঙ্গা রাগি কন্ঠে বললো আমি তোকে একদিন বিয়ে করবোই। আর ডাক্তার তুমি এসেছো মানুষের সেবা করতে, এমন কিছু করিওনা, তোমার আর আমার মধ্যে বিবাদ বাজে। এই বলে চলে যায় রাঙ্গা ডাক্তার বললো কুসুম এই ছেলেটা কে? কুসুম বললো, বাবু এর নাম রাঙ্গা, এই গ্রামের সুতখোর খায়েরের ছেলে. সারা দিন, মদ, গাজা আর জুয়া নিয়ে ব্যস্থ থাকে। মাঝে মাঝে আমাদের বাড়িতে আসে আর বলে, আমাকে নাকী সে বিয়ে করবে। এই কথা বলতেই ডাক্তার বললো দেখো কুসুম ওতো ভালো হতে পারে। কুসুম বললো বাবু আপনীও বলছেন। ডাক্তার না না চলো যাই।
 
পরের দিন সকালে কুসুম রান্না বান্না করে ভাত খাওয়াচ্ছে ডাক্তারকে। খাওয়া দাওয়া শেষ। ডাক্তার বাহিরে বেড় হবে ডাক্তার বোবাও এসেছে। বোবা ব্যাগ নিয়ে চললো। কিন্তু কিছু দুর না যেতেই, কুসুম পিছে থেকে ডাকছে, বাবু, বাব,ু ওবাবু বলে। ডাক্তার পিছনে ঘুরে বললো কী হয়েছে কুসুম? কুসুম বললো, বাবু আপনার মোবাইল রেখে এসেছিলেন । ডাক্তার মোবাইল হাতে নিয়ে বললো (ভেরি গুড)। কুসুম বললো,বাবু ভেরি গুড আবার কী ? ডাক্তার বললো তার অর্থ খুব ভালো। কুসুম চলে যায় বাড়ি। কিছু দুর না যেতেই সেই মহিলা টা এসে সামানে হাজির। এবং ডাক্তার কে সালাম দিলো। ডাক্তার সালামের উত্তর দিয়ে বললো ভাবী আপনী ? কেমন আছেন ? মহিলা বললো, বাবু আপনী যদি টাকা না দিতেন তাহলে আমার ছেলেটা মারাই যেতো। ডাক্তার বললো, ভাবী অমন করে বলেন না।,ভাবী বখাটে রাঙ্গা আপনাকে যা যা বলেছে আমি সব সুনেছি।,মহিলা ডাক্তার এর দিকে তাকিয়ে আছে।,ডাক্তার বললো ভাবী সন্তানটাকে পড়াশুনা করাবেন কিন্তু। মহিলা বললো বাবু আমি আর আমার সন্তান চলে যাচ্ছি, আমার বাপের বাড়ি, দোয়া করিবেন আমি যেন তাই করতে পারি। ডাক্তার বললো ভাবী ঠিক আছে আমার জন্যও দোয়া করবেন।
ডাক্তার যাবে পূর্ব আমদির পাড়া বটতলী গিয়ে একটু দেরি করলো। এর মধ্যে আসে কবিরাজের ছেলে রাজু। এসে বলে এই ডাক্তার। তুই কিন্তু বেশি বাড়াইছিস। তুই আমার বাবার ব্যবসাটা খাইছিস। আমি তোকে সাবধান করে দিচ্ছি, চলে যা গ্রাম থেকে। ডাক্তার বললো আপনার বলা শেষ ভাই। আমি আপনাকে ঠিক চিনতে পারিনী। বোবা শুধু রেগে যাচ্ছে। রাজু বললো, শোন আমি এই গ্রামের নাম করা কুতুব আলী কবিরাজের ছেলে। ডাক্তার বললো, আমার পরিচয় তো জানেন না আমি বলতেও চাইনা। আসলে আমি কারো ব্যবসা খাইতে আসিনী। এসেছি মানুষের সেবা করতে মানুষ যেখানে ভালো চিকিৎসা পাবে সেখানেই তো যাবে। আর তুমি যদি পরো আমার কাছে রোগী আসা বন্ধ করে দাও। আমি তোমার ভয়ে যাবো না এই গ্রামে আমার নারী পোতা আছে। বোবা ইশারাই বললো দ্বারা, আমি আগে মড়লকে বলে দেই। ডাক্তার বললো আসাদুল ভাই, ওতো ভুল করেছে, আমি তো ভুল করতে পারিনা। কাউকে বলার দরকার নাই। চলে যায় ডাক্তার রোগী দেখতে। বাড়িতে এসে শোনে মড়ল তাকে ডেকেছে। 
সন্ধ্যার দিকে ডাক্তার মড়লের বাড়ি যায়। মড়ল এর বাড়িতে সব সময় মানুষের ভীর থাকে। আজ মড়ল সহ বেশ কয়জন ময়মুরুব্বিরা এক সাথে বসে তামাক খাচ্ছে। ডাক্তারকে দেখে তামাক খাওয়া বাদ দিলো মড়ল বাদে সবাই। ডাক্তার কে বসতে দিলো, মড়ল বললো ডাক্তার বাবু কেমন লাগচ্ছে তোমার? আমাদের গ্রামটা। ডাক্তার বললো খুব ভালো লাগচ্ছে। মড়ল বললো তোমার কী কোন অসুবিধা হচ্ছে। ডাক্তার বললো, না না কোন অসুবিধা হচ্ছেনা। সত্যি মড়ল সাহেব আমাদের গ্রামের লোক জন সৎ সরল। আসলে ডাক্তার বাবু আপনাকে এই জন্যই ডেকে ছিলাম। তাহলে আসুন বাবু। কোন সমস্যা হলে আমাকে জানাবেন কিন্তু। ডাক্তার মাথা নাড়িয়ে আবার বললো ঠিক।
 
পরের দিন সকালে কুসুম রান্না করছে ডাক্তার গোছল করছে। এমন সময় ডাক্তারের মোবাইলটা বেজে উঠে। কুসুম দৌড়ে যায় মোবাইলের কাছে। রিসিপ করে বললো, কে বলছেন বাবু? মহিলার কন্ঠ শুনে রাজা চৌধুরী ফোন দেয় শহিদ কে। শহিদ বললো, ভাইয়া কোথায়। কুসুম বললো বাবু গোছল করছে। কুসুম একটু জোরে জোরে কথা বলচ্ছে। একটু পরে ফোন দাও। এর মধ্যে আসে ডাক্তার এসে বলে দেখি কে ফোন দিয়েছে। নাম দেখতেই চেনে কার নাম্বার বললো হ্যা বলো। শহিদ বললো, ভাইয়া কেমন আছো? সুমন বললো ভালো আছি খুব ভালো আছি। তোমরা কেমন আছো? শহিদ বললো তুমি নেই আমরা কেমন থাকবো বলো। ভালো আছি ভাইয়া। তবে যে মেয়েটা ফোন ধরেছিলো উনি কে? ডাক্তার বললো ও কুসুম আমার রান্না করে দেয়। শহিদ বললো ভাইয়া কন্ঠটা খুব ভালো। বাবা তোমার সাথে কথা বলবে। নাও। সুমন ডাক্তার, বাবাকে সালাম দিলো। বাবা সালামের উত্তর দিয়ে বললো কেন লাগছে গ্রামে তোমার, সুমন উত্তর না দিতেই,চৌধুরী বললো জানতাম ভালো লাগবে না। ডাক্তার বললো বাবা আমার কোন অসুবিধা হচ্ছেনা। আমি ভালো আছি তুমি কেমন আছো? আমি সুখে আছি অনেক। বাবা বললো আমি তোমার সুখ দেখার জন্যই আসচ্ছি আগামীকাল। ঠিক আছে তাহলে কালকেই কথা হবে। আজ রাখি। ডাক্তার বললো , ঠিক আছে। মোবাইলের লাইন কেটে দিয়ে ডাক্তার তাকিয়ে আছে কুসুমের দিকে। কুসুম ও তাকিয়ে আছে ডাক্তারের দিকে। ডাক্তার বললো আচ্ছা কুসুম আমি যখন ছোট বেলায় এসে ছিলাম গ্রামে তখন তোমাদের ঘর তো এখানে দেখিনী? তোমাদের আসল বাড়ি বা গ্রাম কোনটা? কুসুম বললো বাবু এখনী বলবো কী। ডাক্তার বললো হ্যা বলো। কুসুম বললো বাবু আসলে আমাদের গ্রাম আমদির পাড়া গ্রাম না। আমাদের গ্রাম ছিলো যমুনা ওপারে । আমরা একদিন ছিলাম অনেক বড় লোক গ্রামের মধ্যে। প্রতি বছর এক হাজারেরও মণ বেশি ধান পেতাম আমরা। আমাদের জমি জমা ছিলো অনেক। বাবু এক রাতেই হয়ে যাই আমরা পথের ভিক্ষারী । সর্বনাশা যমুনা নদী আমাদের বাড়ি সহ জমি জমা যা ছিলো সব পানির স্রোতে ভেসে নিয়ে যায়। আমার একটা ভাইও ছিলো, রাতে হাজার হাজার মানুষের কান্না চার দিক কে কোথাই ভেসে যাচ্ছে তা ঠিক নাই। আমার বয়স তখন ৭-৮বছর হবে ক্লাস ওয়ানে পড়ি। এই কথাতেই থেমে যায় কুসুম। ডাক্তার বললো তারপর? কুসুমের দু চোখ পানিতে ছলছল করছে। ডাক্তার বললো, বলো? কুসুম বললো সেই রাতেই আমি আমার মা এবং আমার ছোট্ট ভাইকে হাড়াই। আমি আর আমার বাবা প্রানে বেচে যাই। পরের দিন সকালে মা এবং ভাইয়ের লাশ পাই নদীর পারে। আমরা একটা টাকাও রক্ষা করতে পারিনী আমরা। অনেক দিন এই বটতলী আমি আর আমার বাবা থাকি। বাবার এক বন্ধু আমাদের কিছু টাকা দিয়ে সাহায্য করে । তাদিয়ে আমরা এখানে দুই শতক জমি কিনি। এই ভাবে আসি আমরা এখানে। বাবার কথা তো আগেই বলেছি। ডাক্তার চোখ মুছে বললো, কুসুম তোমার বিয়ে সাধি নিয়ে তুমি ভাবোনা। কুসুম বললো বাবু ভেবে কী লাভ ? আমার মত গরিবকে কে বিয়ে করবে। রাঙ্গা মাতাল ওতো আমাকে ভালো বাসে না ভালো বাসে আমার শরীর কে। ডাক্তার বললো সত্যি কুসুম তোমার মনে অনেক দুঃখ, তা তুমি কাউকে বুঝতে দেওনা। এই কথা বলতেই বোবা এসে হাজির এবং হাতের ইশারাই বললো বাবু আজ বেড় হবেননা। ডাক্তার মাথা নারিয়ে বললো হ্যা বেড় হবো। দেরি না করে চলে যায় জরিনা নামের এক রোগীর বাড়ি।
পরের দিন সকালে ডাক্তার কুসুম কে বললো আজ আমার বাবা আর ছোট ভাই আসবে শহর থেকে। তুমি নতুন জামা কাপড় পড়বে। কথা বলবে সুদ্ধ বাংলা ভাষায়। কুসুম বললো ঠিক আছে বাবু। আজ আপনী রোগী দেখতে কী যাবেন না। ডাক্তার বললো তেমন জরুরী রোগী নেই। যদি আসে তাহলে যাবো। ডাক্তার শুয়ে আছে কুসুম খাটের পাসিতে বসা। কুসুম হঠাৎ বললো বাবু আপনী কী বিয়ে করবেন না? ডাক্তার কুসুমের এই প্রশ্ন শুনে চুপ করে রইলো। আবার বললো বাবু আপনী কী বিয়ে করেছেন? নে কী? অনেক সময় চলে যায় ডাক্তার কিছু বলেনা। চুপ করে থাকলো। কুসুম আবারো বললো বাবু আসলে আমি অবিবাহিত আমি গ্রামে বেড় হতে পারিনা। মহিলাদের কানা খশা আর ভালো লাগেনা। আমি ঠিক করেছি কাল থেকে আর আসবো না। বাবু আপনী আপনার স্ত্রী কে আনেন। ডাক্তার শুধু শুনচ্ছে । কিছুক্ষন পর বললো তা ঠিক কিন্তু আমি তো বিয়ে করিনী। তবে কুসুম তুমি তো বলেছিলে কাউকে ভয় পাওনা তুমি। ঠান্ডা গলায় কুসুম বললো তা ঠিক বাবু । কিন্তু। কিন্তুতেই আটকে দেয় ডাক্তার কুসুমকে। বলে লোকে যা বলে বলুক। যে বলবে তাকে আমার নাম বলবে। এখন যাও গোছল করে নতুন কাপড় পড়ে আসো। কুসুম মাথা নিচু করে চলে আসে বাড়ি। কুসুম গোছল সেরে লাল একটা শাড়ী পড়ে,সত্যি খুব সুন্দর দেখাচ্ছে। কুসুম ডাক্তারের বাড়ির দিকে যাচ্ছে যেতেই মাতাল রাঙ্গার সামানে পরে। রাঙ্গা সাথে ছিলো আরো দুইজন। তিনজন মিলে তাড়া করে কুসুমকে। কুসুম দৌড়ে যায় ডাক্তারের বাড়ির দিকে,কুসুম ডাকছে বাবু বাবু বলে। ডাক্তার চিৎকার শুনে আসে দরজায় ওমনী কুসুম ও আসে দরজায়। কুসুম ডাক্তার কে বললো বাবু আমাকে বাঁচান রাঙ্গা আসচ্ছে। কথা বলতেই রাঙ্গা হাজির। রাঙ্গা বললো এই ডাক্তার কুসুমকে ছেড়ে দি,আমি ওকে ভালোবাসি। ওকে আজকেই বিয়ে করবো। ডাক্তার বললো ভাই ভদ্র ভাবে কথা বলুন এটা ভদ্র লোকের বাড়ি। রাঙ্গা বললো এটা তো দেখতেই পাচ্ছি। একটা অবিবাহিত মেয়ে এই বাড়িতে থাকে। এই ডাক্তার তুই তো একটা চরিত্রহীন। কুসুম বললো এই রাঙ্গা বাবু কে আর একটা বাজে কথা বলবিনা। রাঙ্গা বললো চল কুসুম আমার সাথে। কুসুম বললো না আমি যাবো না। ডাক্তার বললো দ্বারান। কুসুম কে বললো আচ্ছা কুসুম তুমি কী রাঙ্গাকে ভালো বাসো। কুসুম বললো না বাবু আমি ওকে ভালো বাসিনা। বাবু আমাকে বাঁচান। পায়ে পরে যায় ডাক্তারের কুসুম। রাঙ্গা ঐ দুজনকে বললো যা কুসুমকে তুলে নিয়ে আয়। ওরা আসতেই ডাক্তার বললো দ্বারাও। রাঙ্গা বললো এই ডাক্তার কুসুম তোর কী লাগে ছেড়ে দি। ডাক্তার বললো আমি কুসুম কে ভালো বাসি। এই কথা সুনে সবার মাথার মধ্যে যেন বিদ্যুৎ চমকাতে লাগলো। ডাক্তারের দিকে তাকিয়ে আছে অবাক দৃষ্টিতে কুসুম। রাঙ্গা দু চোখ মুছে চলে যায়। কুসুম ডাক্তারকে বললো বাবু একি করলেন। আবার বললো ঠিক আছে না বললে যেতো না ঐ মাতাল। মিছা কথা বলে ঠিক করেছেন। ডাক্তার কুসুমের দিকে তাকিয়ে বললো, না কুসুম আমি মিছা বলিনী। আমি সত্যি তোমাকে ভালো বাসি। কুসুমের মাথার মধ্যে যেন আবারও বিদ্যুৎ চমকাতে লাগলো। কুসুম ভিজা গলায় বললো না না বাবু এ হয়না। আপনী, আপনার কথা ফিরে নেন। ডাক্তার বললো না কুসুম আমি সত্যি তোমাকে ভালো বাসি এবং এই মাসের মধ্যেই বিয়ে করবো। কুসুম দৌড়ের যায় ডাক্তার এর পাশের রুমে। সেখানে গিয়ে ডুকরে কাদছে কুসুম। ডাঃ কাছে গিয়ে বললো, কুসুম আর কেঁদনা বাবারা এখন বগুড়ায় এসেছে সব কিছু তৈরী করো। বোবাও এসেছে সে সব জেনে গেছে। বোবা মনে মনে বলছে, ঠিক কাজ করেছে ডাক্তার। কুসুম কিছুক্ষন পর আগের মতই হয়ে গেলো এবং কাজ করতে লাগলো। সব ঠিক করে নিচ্ছে। এরই মধ্যে গাড়ির হরেন বেজে উঠে। ডাক্তারের আগে কুসুম বেড়িয়ে আসে। ডাক্তার ও এসে যায় গাড়ির সামানে। ডাক্তার কথা না বলতেই কুসুম বললো আসেন বাবু দেখে নামুন। শহিদ শুধু তাকিয়ে আছে এবং বললো ঠিক আছে। আর রাজা চৌধুরী বড় বড় চোখ করে কুসুমের দিকে তাকিয়ে দেখছে । ডাক্তার কুসুম কে বললো ঘরে যাও। ডাক্তার বললো বাবা কেমন আছো? চৌধুরী বললো ভালো আছি। তবে তুমি কেমন আছো? ডাক্তার বললো আমি খুব ভালো আছি। চৌধুরী বললো হ্যা তা তো দেখতেই পাচ্ছি। শহিদ বললো বাবা সত্যি গ্রাটা খুব সুন্দর। চৌধুরী ঘার ঘুড়িয়ে বললো তুমি চুপ থাকো। শহিদ চুপ করেই রইলো। ডাক্তার বললো বাবা আসুন ঘরে। ঘরে যাওয়ার আগে বললো আমি এসেছি তোমাকে দেখতে আসলে তুমি কত কষ্টে আছো। বাবা আমরা আজই চলে যাবো। দুপুরের রান্না করেছে কুসুম। খাওয়া দাওয়া করছে তারা কুসুম হঠাৎ বললো বাবু রান্না কেমন হয়েছে। শহিদ বললো খুব ভালো তাই না বাবা ? চৌধুরী বললো হ্যা ভালোই হয়েছে। কুসুম খুশি হয়ে চলে যায় রান্না ঘরে। শহিদ বললো বাবা আজ আমি গ্রাম টা ভালো ভাবে দেখবো ঘুরে। চৌধুরী বললো হ্যা তোমাদের কে দেখানো উচিৎ আমার জমা জমি গুলো। চৌধুরী,ডাক্তার,শহিদ বেড় হলো গ্রাম দেখার জন্য। রাজা চৌধুরীর সাথে এক মুরুব্বি কথা বলতেই, শহিদ ও ডাক্তার সামানে এগিয়ে যায়। রাঙ্গা রাজা চৌধুরীর দেখা পেয়ে অনেক বাজে কথা বলে ডাক্তার ও কুসুমের সমন্ধে। রাজা চৌধুরী রাগে আগুন তবুও চেপে ধরে রাগলো মনে এই কথা গুলো। এদিকে ডাক্তার শহিদকে সব খুলে বললো কুসুম আর তার সমন্ধে। শহিদ বললো ভাইয়া খুব ভালো করেছো। চৌধুরী তার জমি জমা দেখালো তাদের। বিকাল পাঁচটা বেজে গেছে। চৌধুরী বললো শহিদ ঢাকায় যাবো আর দেরী করা যাবেনা। ফিরে এলো তারা বাড়ি। উঠবে গাড়িতে এমন সময় শহিদ বললো ভাইয়া চালিয়ে যাও গুড বাই। চৌধুরী বললো বাবা সুমন তুমি অনেক বড় হয়েছো তাই সব সময় উপর দিকে উঠার চেষ্ঠা করবে। নিচে নামতে নয় কথাটা মনে রাখিও। ভালো থেকো আসি। কুসুম বললো বাবু আবার আসবেন কিন্তু। চৌধুরী পেছন দিকে তাকিয়ে ডাইভার কে বললো যাও। চলে গেলো তারা ঢাকায়। রাজা চৌধুরীর গাড়ি দেখা যায় যত দুর পযন্ত তাকিয়ে থাকলো কুসুম। ডাক্তার বললো কুসুম বাবা একটু রাগী মানুষ তার কথায় কিছু মনে করিওনা। কুসুম বললো সেই রকমই দেখলাম। তবে আমি কিছু মনে করিনী। বাবু আপনার ছোট ভাই ঠিক আপনার মত।
বোবা সেদিন রাাস্তা দিয়ে যাচ্ছে ডাক্তারের বাড়িতে হঠাৎ চোখ পরলো কুতুব আলী কবিরাজের আঙ্গিায়। অনেক মানুষ জমা। বোবা আসে সেখানে । কুতুব আলী মারা যাও অবস্থা অথাৎ মৃত্যু সজ্জাই। তাকে বিভিন্ন গাছগাছরার ঔষধ খাওয়ানো হচ্ছে। বোবা রাজুকে বললো হাতের ইশারাই আমি কী ডাক্তার কে ডাকবো। রাজু বললো না আমার বাবা ডাক্তারের ঔষধ দিয়ে ভালো হবে না। বোবা আরেক বার বলতে গেলে তাকে বাড়ি থেকে বেড় করে দেয় রাজু। বোবা চোখের পানি মুছতে মুছতে চলে যায়। হঠাৎ বোবার মনে পরে যায় তার একবার ভীষণ জ্বর এসেছিলো  তখন কুতুব আলী কবিরাজের ঔষধে ভালো হয়েছে। বোবা মনে মনে বলে না আমি ডাক্তার কে নিয়ে যাবো। এই বলে দৌড়েই আসে বোবা ডাক্তারের কাছে এসে ডাক্তারকে নিয়ে যায় কবিরাজের বাড়ি। এর আগে কবিরাজকে অন্য অন্য কবিরাজ দেখে বলেছে তিনি আর বাচবেন না। লোকজন কবিরাজকে ঘিরে নিয়েছে শেষ বিদায় জানানোর জন্য। রাজু আঙ্গিনায় বসে কাদচ্ছে এমন সময় বোবা ডাক্তার কে নিয়ে হাজির। বোবা লোকজন কে সড়িয়ে দিয়ে ডাক্তার কে নিয়ে যায় কবিরাজের কাছে। ডাক্তার কবিরাজের চিকিৎসা শুরু করলো এবং কিছু ঔষধ খাওয়ালো। ভাবছে রাজু বাবাকে হয়তো বাচাতে পারলাম না। একটা কাগজে ঔষধের নাম লেখে দিলো ডাক্তার। বোবা কাগজটা এনে দিলো রাজুর হাতে। বললো হাতের ইশারাই এখনী যাও ঔষধ গুলো নিয়ে আসো। ডাক্তার সুমন বললো ভাই এখনী যান। রাজু ডাক্তারের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে অবাক দৃষ্টিতে। রাজু বললো ঠিক আছে আমি আনছি। আমি এখনী যাচ্ছি। ডাক্তার রাজুকে বুঝিয়ে দিলো কোন ঔষধ কখন খাওয়াতে হবে বোবা হাতের ইশারাই বললো, আল্লাাহ্ তাআলার রহমতে তোমার বাবা ভালো হয়ে যাবে। রাজু ভাবছে বোবা কে আমি কিছুক্ষন আগে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিলাম, আর সেই বোবা আমার উপকার করছে। বোবা বুঝে নিয়েছে ওর কথাই ভাবছে রাজ,ু বোবা বললো আমি কিছু মনে করিনী। ঔষধ আনো। রাজু যায় আর পেছনে তাকায়। ডাক্তার বাড়ি আসে এসে দেখে কুসুম কাদছে। ডাক্তার বললো কুসুম তুমি কাদছ কেন? কুসুম বললো বাবু আমার ভীষণ ভয় লাগছে, আপনী যদি চলে যান। ডাক্তার কুসুমের দিকে তাকিয়ে বললো, কুসুম তুমি কী আমাকে এই চিনেছো এতো দিনে। ডাক্তার বললো কুসুম আগামী মাসেই তো আমি তোমাকে বিয়ে করবো। এবার চোখের পানি মুছো। আর আমরা আগামীকাল কিন্তু যাবো যমুনা নদীতে ঘুরতে। কুসুম তুমি খুশি হওনী? কুসুম অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে ডাক্তারের দিকে। কিছুক্ষন পর কুসুম চলে আসে বাড়িতে। ডাক্তার ভাবছে বাবা তো কোনদিন মেনে নিবেনা আমাদের। বরং আমি এই গ্রামেই থাকবো। আমার বিশ্বাস কুসুমের মত একটা অসহায় মেয়েকে বিয়ে করলে হজের কাজ হবে। পরেদিন সকালে কুসুম রান্না করতে এলো প্রতিদিন এর মত ডাক্তারের বাড়িতে। কুসুমের চোখ কেদে কেদে যেন লাল হয়েছে। অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ডাক্তার কুসুমের দিকে। চেয়ার থেকে এসে কুসুমের দুচোখের পানি মুছে দিয়ে বাললো, কুসুম আসলে তোমার কি হয়েছে খুলে বলো তো। কুসুম বললো জারিনার কথা বাবু জরিনা আমাদের গ্রামেরই মেয়ে। ও এক ছেলে কে ভালো বাসতো। ছেলেটার বাড়ী রংপুর। ছেলেটা জরিনা কে ভুলিয়ে ভালিয়া তার র্সবনাশ করে। এবং ছেলেটার বাবা অসুস্থর কথা বলে চলে যায় তার বাড়িতে।
আর আসেনা।
জরিনার পেটে সন্তান আসে এই খবর সারা  গ্রাম হয়ে যায় এবং মড়লেরা জরিনাকে গ্রাম থেকে বেড় করে দেয়। এই লজ্জাই জরিনা রেল ইষ্টিশনে গিয়ে মারা যায়।
ডাক্তারও দুঃখ পায়। ডাক্তার বললো কুসুম আমি সেই ছেলে টার মত নই। কুসুম আমি তোমার শরীর ইসর্পস করবো না বিয়ে না করা পযন্ত। কুসুম বললো বাবু আমাকে আপনী ভুলে যান এটাই ভালো হবে। কারন আমরা গরিব বাবা নাই মা নাই আমি তো ইতিম। বরং আপনি অন্য জায়গায় বিয়ে করুন। ডাক্তার অবাক হয়ে বললো কুসুম তুমি এসব কী বলো। হ্যা বুঝেছি তুমি আমাকে বিশ্বাস করতে পারছো না। ঠিক আছে আগামী শুত্রুবারে আমি তোমাকে বিয়ে করে বুঝিয়ে দিবো আমি সেই ছেলের মত না। কুসুম বললো বাবু তা না, আপনী ভেবে দেখুন। আমাকে বিয়ে করলে আপনাকে অনেক সমস্যায় পড়তে হবে। ডাক্তার বললো, কুসুম আমি তোমাকে ভেবেই ভালো বেসেছি এবং বিয়ে করতে যাচ্ছি। কুসুম আর কোন কথা নয়। আজ বিকালে আমরা যমুনা নদী দেখতে যাবো কেমন। এবার একটু হাসো। কুসুম চোখ মুছে বললো ঠিক আছে।
ডাক্তার এগারোটার দিকে আরেক বার দেখতে যায় কুতুবআলী কবিরাজকে, সে সুস্থ হয়েছে। কুতুবআলী, ডাক্তার সুমনের মাথা বুলিয়ে বললো বাবা তুমি অনেক বড় হও। তার ছেলে রাজু ডাক্তারকেই খুজতে বেড় হয়েছে । এখনো বাড়িতে ফিরিনী তার স্ত্রী বললো। ডাক্তার বললো ঔষধ গুলো নিয়ম অনুযাই খাওয়াবেন। আমি রাজুর সাথে সময় মত দেখা করবো আজ তাহলে আসি। এই বলে চলে আসে ডাক্তার।
বিকাল বেলা যাচ্ছে ডাক্তার আর কুসুম যমুনা নদী দেখতে। তখন রাস্তা দিয়ে যাচ্ছে হরেক রকম এক গাছ বিত্রেুতা। তখন ডাক্তার বললো কুসুম ওগুলো কি নিয়ে যায় লোকটা। কুসুম বললো বাবু এগুলো গাছের চারা বাজারে বেচার জন্য নিয়ে যাচ্ছে। ডাক্তার বললো চলো তো একটা গাছ নেই। কুসুম বললো চলেন। তারা একটা নিমের গাছ কিনলো। এবং বললো কুসুম ফিরে এসে লাগাইও গাছটা। কুসুম বললো বাবু আপনী কী বইতে পরেননী? আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বলেছিলেন (যে কাজ তুমি কাল করতে চাও,তা এখন থেকেই শুরু করো)।  কুসুম বললো বাবু গাছ টা লাগিয়েই যাবো যমুনা নদীতে। ডাক্তার বললো ঠিক আছে। বাবু বাগানে লাগাই এই গাছটা। গাছের পাতা বাতাস যেন এই গ্রামের মানুষদের কাজে লাগে। কুসুম গাছ লাগাছে আর বলছে বাবু আমি যদি কোনদিন হাড়িয়ে যাই তাহলে এই গাছের দিকে তাকালে বুঝবেন আমি আপনার কাছা কাছি আছি। ডাক্তার বললো ওমন করে বলতে নাই। ডাক্তার বললো চলো নদীর দিকে। বটতলী যেতেই দেখা হলো রাঙ্গার সাথে। রাঙ্গাকে দেখে কুসুম ডাক্তারের পিছনে এলো। রাঙ্গা ডাক্তারের সামানে সামানী। রাঙ্গা বললো কুসুম আর তোকে লুকানো লাগবে নারে। আমিই লুকীয়ে যাবো। ডাক্তারকে বললো বাবু আমি সত্যি আপনার সাথে বেদবী করেছি। আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি বাবু। আমাকে মাফ করে দিবেন। আমি পাপের সাজাও পেয়েছি গতকাল আমার বাবা মারা গেছে। বাবু আমি দুই এক দিনের মধ্যে চলে যাবো বিদেশে। রাঙ্গা চোখ মুচ্ছে আর বলচ্ছে বাবু সত্যি কুসুম খুব ভালো মেয়ে। ও সহস সরল একটা মেয়ে, কুসুম কে কোনদিন দুঃখ দিয়েন না। কুসুম অসহায় একটা মেয়ে। ডাক্তার বললো আমাদের জন্য দোয়া করবেন। রাঙ্গা বললো ঠিক আছে। রাঙ্গা কুসুমকে বললো, কুসুম আমাকে মাফ করে দাও। আমি সত্যি চলে যাচ্ছি। কুসুম বললো হ্যা আমি মাফ করেছি। রাঙ্গা চোখ মুছতে মুছতে চলে যায়। ডাক্তার বললো কুসুম রাঙ্গা ভুল বুঝতে পারলো তবে দেরিতে তাইনা। কুসুম মাথা নাড়িয়ে বললো হু। তারা এসে গেছে যমুনা নদীর তীরে। একটা নৌকা নিয়ে কুসুম আর ডাক্তার ঘুরছে। ডাক্তার বললো কুসুম তোমার কেমন লাগছে। কুসুম বললো বাবু যদি একটা গান গাইতেন তাহলে আরো ভালো লাগতো। ডাক্তার বললো জানো আমার খুব ভালো লাগছে। তবে গান আচ্ছা গাইছি শোনোঃ
ও ও নদী চলছি তোর বুকে রাগ করিস নারে
জানিনা আজ যাবো কোন তীরে
থাই যদি কোথাও না পাই রইবো তোর বুকে
থাই দিস আমাদের দু জনরে 
মিনতি করি তোর তরে-------------------------------------------------------------
গানটা দুজনেই গাইলো। কুসুম বললো বাবু সত্যি খুব সুন্দর হয়েছে গান। সুমন বললো তোমারটা আরো ভালো হয়েছে। তারা ঠিক নদীর মাঝখানে হঠাৎ আকাশ টা মেঘে ভরে যায়। কুসুম বললো বাবু তীরের দিকে যান বৃষ্টি হয়তো আসবে। আকাশের অবস্থা ভালো না। ঘাটের মাঝিরা ছুটা ছুটি করছে। ডাক্তার ঘাটের দিকে আসছে তীরের দিকে আসার আগেই ভিজে যায় তারা। তারা দৌড়ে যায় নদীর পারে, সেখানে একটা পুরাতন বাড়িতে উঠে তারা। বাড়িতে কেউ থাকে না। ডাক্তার অনেক কষ্টে তার ম্যাচ দিয়ে আগুন জ্বালায় খড়কুটই। বাহিরে খুব বৃষ্টি হচ্ছে আকাশে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। কুসুম শীতে কাপছে। ডাক্তার তার শরীর থেকে শান্ট“টা খুলে চিপছে। হঠাৎ এক দমকা বাতাস এসে নিভে যায় আগুন। বেলা থাকতেই চারদিক অন্ধকার। বিদ্যুৎ হঠাৎ খুব জোরে ঝিলিক মারে ওমনী কুসুম ভয়ে ডাক্তারের বুকে যায়। ডাক্তারকে চেপে ধরে। ডাক্তার কুসুমকে সরে দিতে চেষ্টা করলে কুসুম ডাক্তারকে আরো চেপে ধরে ভয়ে। এক সময় তাদের মিলনও হয়ে যায়। প্রায় এক ঘন্টার মত বৃষ্টি হয় সঙ্গে বাতাস। বৃষ্টি থামার পর বাড়িতে আসে তারা। যার বাড়ি সে চলে যায়। 
এখন রাত হয়ে আসচ্ছে। কুসুম ঘুমানোর সময় ভাবছে এ কী হয়ে গেলো। ভেবে লাভ কী ঘুমিয়ে পড়লো কুসুম।
পরের দিন ডাক্তার আর বোবা গেলো কবিরাজ কে দেখতে। এর মধ্যে পিওন এসে সাইকেলের বেল বাজাচ্ছে। কুসুম ঘর থেকে বেড় হয়ে বললো আরে পিওন ভাই তুমি? কেমন আছো। পিওন বললো ভালো আছি, তবে ডাক্তার কোথায়? কুসুম বললো বাবু তো রোগী দেখতে গ্রামে গেছে কোন খবর আছে নাকী পিওন ভাই। পিওন বললো তার নামে ঢাকা থেকে একটা চিঠি এসেছে। পিওন কুসুম কে দিয়ে গেলো চিঠিটা। কুসুম তা যতœ করে রাখলো।
এদিকে কবিরাজ সর্ম্পূন সুস্থ। রাজু বোবার কাছে মাফ চাইলো। হাসতে হাসতে বললো হাতের ইশারাই আমি তো রাগ করিনী। রাজু ডাক্তারকে বললো ভাই আমি আপনার কাছে মাফ চেয়ে আপনাকে ছোট করবো না। ভাই আমি বুঝতে পেরেছি আপনার কত দাম। ডাক্তার বাবু আপনাকে কত দিতে হবে। বোবা বললো বাবু কোন টাকা নেয় না হাতের ইশারাই। ডাক্তার বললো আমার জন্য শুধু দোয়া করবেন। আল্লাহ্ হাফেজ আজ আসি। চলে যায় ডাক্তার বাড়িতে। ডাক্তার ঘরে ডুকতেই চিঠি টা এনে দেয় কুসুম তার হাতে। ডাক্তার চিঠি টা হাতে নিয়েই বুঝতে পারলো তার বাবা পাঠাইছে। ডাক্তার চিঠি টা পড়ে তাকিয়ে আছে কুসুমের দিকে। কুসুম বললো বাবু কী লেখা আছে চিঠিতে। ডাক্তার বললো কুসুম বাবা খুব অসুস্থ। মারা যাওয়া অবস্থা। আমাকে শেষ দেখা দেখতে চায়। ডাক্তার কে কুসুম বললো বাবু আপনী কী করবেন যাবেন না। ডাক্তার বললো কুসুম আমি বাবার বড় ছেলে। মা মারা যাওয়ার পর বাবাই আমাকে কোলে পিঠে করে মানুষ করেছে। তার এই অবস্থাই যদি আমি পাশে না থাকি আমি পাপি হয়ে যাবো। কুসুম শোকাহত গলায় বললো বাবু কখন যাবেন। ডাক্তার বললো একটু পরে। বোবাও এলো কই থেকে যেন। কুসুম বাড়িতে গেছে গোছল করতে ডাক্তার সুমন এখন বেড় হবে তাই বোবা কে বলে কুসুম কে ডাকতে। কুসুম আসে এসে দেখলো বাবু বেড় হয়েছে। ডাক্তার কুসুমের মুখের দিকে তাকিয়ে বললো, কুসুম জানি, তোমার মন্টা ভালো না। কুসুম একটা কথাই আছে চলে নাহি যাবো হায় তবু চলে যেতে হয়। বোবা সব সুনেছে ডাক্তারের কাছ থেকে তারা এখন বাগানে। কুসুম ভিজা কন্ঠে বললো বাবু আমাকে ভুলেন না যেন। বাবু আপনী ছাড়া আমার কেউ নাই আমি বড় একা , আমি তো ইতিম তা জানেন বাবু গো আমাকে ভুলে যাইননা যেন। ডাক্তার কুসুমের চোখ মুছে দিয়ে বললো পাগলী, মাত্র তো দুই/তিন দিন থাকবো আমি তো আসছি তারপর। একটু কষ্ট করে থাকো। কুসুম যেন কান্না থামাতে পাড়ছে না। বোবা হাতের ইশারাই ডাক্তার কে বললো গাড়ির সময় হয়েছে। ডাক্তার বললো কুসুম তুমি থাকো আসি। ডাক্তার কিছু দুর এগেলে কুসুম দৌড়ে যায় ডাক্তারের কাছে বাবু বলে। ডাক্তারও কুসুমের দিকে তাকিয়ে আর মানাতে পারলো না চোখ কে অঝড়ে চোখের পানি পড়ছে। ডাক্তার বললো, কুসুম সত্যি তুমি আমাকে খুব ভালো বাসো। কুসুম বললো বাবু একটা জিনিস চাইবো দেবেন। ডাক্তার বললো কী জিনিস বলো, কী চাও তুমি ? কুসুম বললো বাবু আপনার উরমালটা । ডাক্তার দিচ্ছে আর বলচ্ছে কী হবে এটা দিয়ে। কুসুম বললো বাবু এই দুই দিন আমি এই উরমাল এর সাথে কথা বলবো। ডাক্তার কুসুম কে উরমালটা দিয়ে চলে গেলো। কুসুম তাকিয়ে আছে যত দুর পযন্ত ডাক্তারকে দেখা যায়। কুসুম ওখানেই বসে উরমাল টা বুকে জরিয়ে কাদতে শুরু করল।
এদিকে সন্ধ্যার দিকে ঢাকায় আসে ডাক্তার। 
বাসায় এসে ডাক্তারের মাথার মধ্যে যেন বিদ্যুৎ চমকাতে লাগলো। কারন বাড়িতে কেউ অসুস্থ তা বুঝা যাচ্ছেনা। শহিদ সুমন কে দেখে বললো ভাইয়া কেমন আছো। ডাক্তার হাপসানো গলাই বললো হ্যা আমি ভালো আছি তবে বাবা কেমন আছে? শহিদ বললো বাবা তো ভালো আছে। বাবা ঘরেরই আছে যাও কথা বলো। আমি আচ্ছি। ডাক্তার ঘরে গিয়ে বললো বাবা তুমি না অসুস্থ? বাবা বললো আমি জানতাম তুমি আসবে। তো বাবা ঘরে যাও কথা হবে পরে। ডাক্তার চলে যায় তার ঘরে এবং মনে মনে বলে বাবা কী আমাকে মিথ্যা চিঠি লেখেছে। ডাক্তারের শরীরটা ভালো নাই তাই না খেয়েই ঘুমিয়ে পড়লো। কিন্তু তার কিছুক্ষন পর বাবা এসে ডাকছে ডাক্তারকে। ডাক্তার বললো বাবা আমি খাবো না শরীরটা ভালো না যাও ঘুমাও। চৌধুরী বুঝলো আমার উপর রাগ করেছে সুমন। অনেকক্ষণ দাড়িয়ে থেকে চলে যায় তার রুমে বাবা।
এদিকে কুসুম যেন ঘুমতেই পাচ্ছেনা ডাক্তারের চিন্তায়। ভাবছে বিভিন্ন কথা বাবু এলে তাকে নিয়ে যাবে তাদের পুরাতন গ্রামে। কি ভাবে বিয়ে করবে। এই নিয়ে ভাবতে ভাবতে তার রাত টা কেটে গেলো।
পরের দিন সকালে ডাক্তার ঘুম থেকে না উঠতেই তার বাবা তাকে ঘুম থেকে ডেকে তুললো এবং একটা র্কাড দিয়ে বললো তোমার বিয়ের র্কাড দেখ পছন্দ হয়েছে নাকী। ডাক্তার অবাক অবস্থাই বললো কার বিয়ে কে বিয়ে করছে। চৌধুরী বললো তোমার বিয়ে। ডাক্তার বললো বাবা আমি বিয়ে করবো না। বাবা বললো কেন? ডাক্তার বাবাকে কেন জানি বলতে পারলো না কুসুমকে সে ভালো বাসে। ডাক্তার বাবা কে বলেদিলো বাবা আমি বিয়ে করবোনা। বাবা বললো আমি আমার বন্ধুকে কথা দিয়েছি। তোমার বিয়ে কালকেই হবে। বিদেশ থেকে তোমার চাচারা আসচ্ছে। ডাক্তার বললো বাবা আমাকে তুমি যা বলবে আমি তাই শুনবো আমি বিয়ে করতে পারবো না। বাবা বললো হ্যা বুঝেছি শোনো  সুমন তুমি যদি বিয়ে না করো তাহলে আমার মরা মুখ দেখবে। ডাক্তার যেন অবাক হয়ে গেলো। এবং মনে মনে বলছে  বাবা কী আমাকে খেলার  পুতুল পেলো আমাকে যে ভাবে খেলাবে সেই ভাবে খেলবো। বাবা ঘর থেকে বেড় হবার আগে ঘরে বিয়ের র্কাড গুলো রেখে গেছে । ডাক্তার রাগ করে সে গুলো ছিড়ে টুকরা কুরে ফেললো। চোখের পানি দিয়ে বুকটা ভিজে গেছে। ডাক্তারের মনে পরে গেলো কুসুমের কথা। যা যা করেছে। ডাক্তার চাইলো বাড়ি থেকে পালিয়ে যাবে। কিন্তু তার মন বাধা দেয়। আাল্লাহ্র পরে মা বাবার স্থান। সেই বাবা মাকে ফাঁকি দিয়ে কেউ সুখি হতে পারেনা। এই সুন্দর পৃথিবীতে এমন কোন নজির নাই। কিন্তু কুসুমের কী হবে ভাবছে ডাক্তার। সেই আবারো কান্না তার। কুসুমের কাছে আমি পাপি হয়ে যাবো। কোন দিন ক্ষমা পাবো না তার কাছে। আাল্লাহ্ তুমি বলে দাও আমি কী করবো। এই কথা টা মুখ থেকে বেড় হয়ে যায় ডাক্তারের। শহিদকেও বললে কোন লাভ হয় না। ডাক্তারের মনে বিয়েটা না থাকলেও ধুমধাম করে হয়ে গেলো বিয়ে। এদিকে কুসুম ডাক্তারের জন্য পিঠা পায়েস বিভিন্ন ধরনের রান্না করেছে আজ আসবে ডাক্তার। সকাল সকালেই পিঠা গুলো বানাইছে। সেই সকাল থেকে খাবার গুলো নিয়ে বসে আছে। বিকাল পাঁচ টা বেজে গেলো বাবুর কোন খোঁজ নেই, আসলে মজা দেখাবো মনে মনে বলছে কুসুম। কুসুম আর দেড়ি সহয্য হলো না আস্তে আস্তে, যাচ্ছে ষ্টেশনের দিকে ডাক্তারকে আনার জন্য। কিন্তু ডাক্তার তো বিয়ে করে বাড়িতে। সন্ধ্যা লেগে গেলো অনেক লোকদের কে জিজ্ঞাসা করলো বাবুকে দেখেছেন, অনেকে বলে বাবুু আবার কে না বাবুকে দেখিনী। কুসুম মনে করলো, বাবু যদি অন্য পথে  বাড়ি যাইয়া থাকে তো আমি যাই। হাটতে হাটতে কুসুম আবার ছয় কিলো রাাস্তা হেটে আসে। বাড়ি এসে দেখলো বাবু আসেনী। কুসুম আবার ভাবছে বাবুর কিছু হলোনা তো ? রাতে কুসুম যেন ঘুমাতেই পাড়লো না ডাক্তারের চিন্তায়।
এদিকে ডাক্তার তার স্ত্রী সোমাকে খুলে বলবে কুসুম এবং ডাক্তার বেপাটা। কিন্তু সোমা তাকে আবার অবিশ্বাস করতে পারে তাই ডাক্তার সোমাকে কিছু বললো না। অতি কষ্টে সোমাকে মেনে নেয় ডাক্তার। ডাক্তার আর এলো না গ্রামে ফিরে।
বেশ কয়দিন কেটে গেলো। কুসুম প্রতি দিন ষ্টেশনে যায় বাবু আসবে বলে কিন্তু বাবু তো আসে না। 
 
ষ্টেশন থেকে আসার পথে কুসুম রাস্তায় একটা গাছের নিচে বসে কাদছে আর বলছে বাবু কী আমার সাথে বেইমানী করলো। আমার র্সবনাশ করে চলে গেলো। আমি বাবু কে মনে করতাম একজন ফেরেস্তা আর বাবু। না এ হতে পারে না। 
সেদিন সকালে কুসুম গোছল করতে যায় পুকুর পারে। গ্রামের অনেক লোক এই পুকুরে গোছল করে। কুসুমও গোছল করতে এসেছে এই পুকুরে। হঠাৎ একজন বুড়ি লক্ষ করলো কুসুম বমি করছে। বুড়ি কুসুমের কাছে আসে এসে বলে, কুসুম কী হয়েছে তোর মা। কুসুম বললো দাদি এরকম তো মাঝে মাঝে হয়। বুড়ি বললো কুসুম কী বলিস ? কুসুম বললো, হ্যা দাদি মাঝে মধ্যেই হয় এরকম। বুড়ি বললো, কুসুম তুইতো বেহেস্তের খোরাক খাইছিস। কুসুম বললো তার মানে ? বুড়ি বললো তোর পেটে সন্তান তুই সন্তানের মা হতে চলেছিস। কুসুমের মাথার মধ্যে যেন বিদ্যুৎ চমকাতে শুরু করলো। কুসুম বললো না এই কথা বলে দৌড়ে চলে যায় বাড়ি, গোছল করা আর হলো না কুসুমের। বালিসে মাথা রেখে কুসুম কাদছে আর বলছে আল্লাহ্ কোন পাপের জন্য তুমি আমাকে  তো বড় শাস্তি দিলে। কুসুমের মনে পরে যায় যমুনা নদীর কথা। সেখানে ডাক্তার আর কুসুমের মিলন হয়েছিলো। কুসুম যেন পাগল হয়ে যায়। তখন ঐ বুড়ি টি এসে বললো কুসুম তোর এই সর্বনাশ কে করেছে ? শুধু তার নাম আমাকে বল। আমি মড়লকে বল তার শাস্তির ব্যবস্থা করছি। কুসুম চুপ করে থাকিস না মা বল। কুসুম মনে মনে ভাবলো, যদি বাবুর কথা বলি তাহলে তার চরিত্রে দাগ লাগবে। বাবুর কথা বলা যাবেনা। কুসুম কারো নাম বললো না । বুড়ি রাগ করে চলেই গেলো। কুসুম ডাক্তারের উরমাল টা হাতে নিয়ে বুকে জরিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বললো, বাবু আপনী আসেন আমাকে সমাজের কাছ থেকে কলঙ্কের হাত থেকে বাচান। ডাক্তার কী আর শুনতে পারে কুসুমের সেই কথা গুলো। যদি ডাক্তার দেখতো তা হলে বুঝতে কুসুম তাকে কত ভালো বাসে।
 
কুসুমের এই কথা টা যেন সারা গ্রামে ছড়িয়ে পরে। এমন কী মড়লের কানেও যায় এই কথা। মড়ল বসে তার গ্রামের ময়মুরুব্বিদের নিয়ে। কী করা যায় এই বিষয় টা। এর আগে এই রকম ঘঠনা ঘঠেছিলো জরিনা তার বিচারের রায় হয়েছিলো, গ্রাম থেকে বেড় করে দেওয়া। কুসুমও সেই রকম কাজ করেছে। এই কথা গুলো বোবাও শুনেছে। বোবা শুনা মাত্রই চলে আসে কুসুমের কাছে। কুকুম বোবা কে দেখে দৌড়ে গিয়ে পায়ে পরে বললো, ভাইরে আমাকে বাঁচা। বোবা চোখে পানি ধরে রাখতে পারলো না। বললো হাতের ইশারাই তুই কোন চিন্তা করিস না। দেখি আজ বিচারে কী হয়। আর তুই কিন্তু সত্য কথা বলবি ডাক্তারের কথা। কুসুম মাথা নাড়িয়ে বললো ঠিক আছে। বোবা চোখ মুছতে মুছতে চলে যায়। কুসুম প্রতিদিনের মত আজও গেলো ষ্টেশনে। সন্ধ্যা লেগে গেছে ষ্টেশনের র্গাড কুসুম কে বললো, বোনরে আজও তো তোর বাবু আসেনি। কে এই বাবু যার জন্য তুই প্রতিদিন এখানে আসিস ? কুসুম কোন উত্তর না দিয়ে এলো একটু দুরে এসে, জোরে কন্ঠে কেঁদে উঠলো। অমনি মাটিতে পরে গেলো। আর দুর থেকে মাইকে একটা গানের কন্ঠ ভেসে আসলো। এই গানটাঃ
ও সাথীরে শূন্য মনে কী যে ব্যথা 
শুধু এই মনেই জানে
এজীবনে তুমি ছাড়া পাইনা খুজে 
বাচারও  মানে--------------------------------------------------------------------।
 
এই গানের তালে তালে গুটি গুটি পায়ে এগতে থাকে কুসুম তার বাড়ির দিকে। দুর থেকে দেখছে গ্রামের লোক জন একে অপরকে বলছে , কুসুম বুঝি সত্যি পাগল হয়ে গেছে। শাড়ীর আচল মাটিতে ছিসড়িয়ে যাচ্ছে। চুল গুলো এলো মেলো হয়ে গেছে। কতদিন ধরে যে খায়না তা বলা যাবেনা। গানও শেষ হয় কুসুমও আসে তার বাড়ী। কুসুম এসে দেখে তার বাড়িতে লোক জন ভরা। কুসুম অসুস্থ তবুও মনে মনে বলচ্ছে বিচার বসার কথা তো কাল, আজ এতো মানুষ কেন। একটু এগতেই দেখলো তার ঘর ভাঙ্গাছে মড়লের লোকজন। কুসুম দৌড়ে যায় সেখানে। গিয়ে বাধা দিলে অনেক বাজে কথা শুনতে হয় গ্রামের লোকজনের মুখে।
 রাঙ্গা তো জানে কুসুম ডাক্তার সুমন কে ভালো বাসে। সেও নাই বিদেশে চলে গেছে আজ থেকে প্রায় দশ দিন আগে। কুসুম শুধু দুর থেকে সব দেখছে। মড়ল জোরে কন্ঠ স্বরে বললো, কুসুম কোথায় ? কুসুম নিজে মড়ল এর সামানে  এসে বললো, মড়ল সাহেব আমি এখানে। বোবা বাজার থেকে এসে শুনে কুসুমের বাড়িতে মড়লরা। সঙ্গে সঙ্গে বোবা চলে আসে কুসুমের বাড়িতে। 
এই দিকে, কুসুম মাথা নিচু করে দাড়িয়ে থাকলো মড়লের সামানে। মড়ল বললো কুসুম আমি কোন দিন ভাবিনী তুমি এই সব করবে।  আজ রাতেই তোমাকে গ্রাম ছেড়ে যেতে হবে। কুসুমের মাথার মধ্যে যেন বিদ্যুৎ চমকাতে লাগলো । বললো না মড়ল সাহেব তা হয়না আমি তো কোন পাপ করিনী। মড়ল বললো তাহলে বলো তোমার র্সবনাশ কে করছে ? তার মাথা আমি কেটে ফেলবো। কুসুম চমকে উঠলো। বোবা বলতে চাইলে কুসুম হাতের ইশারাই নিষেধ করে । অবশেষে জরিনার মত ঠেনে হেসরে কুসুম কে বেড় করে দেয় গ্রাম থেকে। এই রাতে কুসুম কোথায় যাবে ? শাড়ীর আচল টা মাটিতে ছেসড়িয়ে যাচ্ছে। কুসুম হাটছে আর কাদছে। একটা গ্রাম এই ভাবে পার হয় কুসুম। তার নারী পোতা যে গ্রামে সেই গ্রামে যাবে। কিন্তু বাগানটা পার না হতেই এখানেই অজ্ঞান অবস্থায় পরে যায় কুসুম। চারদিক অন্ধকার আর শিয়ালের ডাক। পোকা মাকর ছাড়া মানুষ বলতে রাতে কেউই থাকেনা।
এই বাগানের কাঠ কেটে কয়েক শত লোক জীবন বাচায়। রাতটা কেটে গেলো কুসুমের  অজ্ঞান অবস্থাই বাগানে।
 
পরের দিন সকালে কাঠুরীয়া জহির কাঠ কাটার জন্য আসে বাগানে। এসে থেকে একটা মেয়ে রাস্তায় অজ্ঞান অবস্থায় পরে আছে। সে তার আরো সহযোগীরা মিলে কুসুকে ধরাধরী করে বাড়িতে আনে জহিরের। জহিরে সেবা যতœ পেয়ে একটু সুস্থ হয় কুসুম । জহিরকে বললো বাবা আমি যাবো। জহির বললো মা কোথায় যাবে তোমার বাড়ি কোথায়? কুসুম চোখ লাল করে বললো বাবা জানিনা কোথাই যাবো, আমার ঘর নাই বাড়ি নাই, আমি যা যা বর। কলঙ্ক মাথাই নিয়ে ঘুরছি। জহির বললো মা আমাকে তুই বাবা বলে ডেকেছিস আজ থেকে তুই আমার মেয়ে। আমি তোর বাবা তুই আমাকে সব খুলে বল দেখিবো, কোন ব্যবস্থা করা যায় কী না। কুসুম কিছুক্ষন অপেক্ষা করে বললো, অন্য ভাবে যাতে ডাক্তারের কোন ক্ষতি না হয়। কুসুম বললো বাবা একজন আমার সরলতার সুযোগ নিয়ে আমার র্সবনাশ করেছে। আমি ওর আসল ঠিকানা জানিনা। ও অন্য নামে আমার সাথে প্রেম করেছিলো। আমাকে বিয়ে করবে বলে ঠিক করে, কিন্তু তার বাবা অসুস্থ বলে চলে গেলো আর এলো না ফিরে। আমাকে রাতে কী যেন খাবারের সাথে খাওয়া ছিলো আমি ঘুমিয়ে যাই আর আমার সর্বনাশ করে। এইজন্য আমাকে আমদির পাড়া গ্রাম থেকে মড়লের লোকজন এসে বেড় করে দেয় । জহির তবুও চোখের পানি রাখতে পারলো না। অবশেষে একটা কথা বললো মারে একটা কথা বলবো মনে কিছু করবিনা তো ? কুসুম বললো যাকে বাবা বলেছি তার কথা শুনবো না কেন বলো বাবা। কী কথা বলবে ? জহির বললো এখনো সময় আছে তোর পেটের বাচ্চা টা নষ্ট কর। কুসুমের মাথার মধ্যে যেন বিদ্যুৎ চমকাতে লাগলো। বললো বাবা তুমি এই কথা বলতে পারলে। বাবা জহির কাঁদছে আর বলছে পারবো না কেন ? আমি আমার মেয়ের মুখে হাসি দেখতে চাই গুমরা মুখ দেখতে চাইনা। আমি তোকে বিয়ে দিবো। কুসুম, বাবা জহিরের পায়ে পরে বললো বাবা আমি পাপ করেছি আমার সন্তান না। এই পাপের কথা আর বলেননা। বাবা আমি আজ থেকে হাসি মাখা মুখে থাকবো আর কাদবো না। কাদছে আর বলছে বলছে কুসুম। বাবা আমি আমার সন্তান কে বুকে নিয়ে বাচতে চাই। বাবা জহির চোখ মুছে বললো মা তুই যা ভালো বুঝিস তাই করিস। মা তবে বুঝে সব কিছু করা উচিৎ। মা আমি আসলে এসব তোকে বলতে আসিনী। তোর হাসি দেখতে এসেছি মা তুই শুধু একবার হাস মা। কুসুম বললো আজ যদি আমার বাবা কদ্দুছ আলী বেচে থাকতো তাহলে এমন করেই বলতো। জহির বললো মা কোন কদ্দুছ আলী তোর বাবা ? কুসুম বললো নদীর উপারে যার সব চাইতে বেশি ধন সম্পদ ছিলো সেই কদ্দুছ আলী। জহির গাল ভরে হেসে বলে আরে মা আমি তোর চাচা কিছমত আলী। কুসুম হেসেই বললো চাচা এই বলে তার বুকে যায় কুসুম। জহির বললো মা আমি জহির হলাম কেন তা তোকে পরে সব খুলে বলবো। কুসুম বললো চাচী কোথায়। জহির বললো সব পরে বলবো তোকে। কুসুম সুখেই আছে। কিন্তু কুসুমের মন থেকে কখনো মুছে যাবার নয় ডাক্তার সুমন। কুসুম আজও খোজ পাইনী ডাক্তার সুমনের।
ডাক্তার সুমন এই বাংলাদেশ থেকে চলে গেছে তার স্ত্রী সোমা সহ বিলেতে। দশ বছরের জন্য। রাজা চৌধুরী আসে গ্রামে তবে সেই দিনই চলে যায়। কুসুমও আর আসেনা আমদির পাড়া গ্রামে। বোবারও খোজ নেই। বোবা কাউকে বলিনী ডাক্তার আর কুসুমের বেপার টা।
এক বছর পর কুসুমের একটা ছেলে সন্তান হয়। দেখতে সত্যি গোলাপের মত। ফুটফুটে যে লোক তাকে দেখে তাই কোলে না নিয়ে যাবে না। এখানে কুসুম যেন তার সত্যি পরিবার ফিরে পেয়েছে। চাচা কাঠ কেটে যা টাকা পান তা দিয়ে সুন্দর ভাবে দিন কেটে যায় তাদের । আস্তে আস্তে বড় হতে লাগলো তার ছেলে। ছেলের নাম রেখেছে সুজন তার বাবার নামের সাথে মিল রেখে। সুজনের পরিচয়ে বাবার নাম দেয়, সুমন তবে ডাক্তার সুমন না। চৌধুরী না। দেখতে দেখতে চলে যায় দশটি বছর।
দশ বছর পরঃ 
ডাক্তার সুমন ফিরে আসে বিলেত থেকে বাংলাদেশে। তার স্ত্রী সহ। তারা আজও সন্তানের বাবা মা হতে পারেনী। তারা ঠিক করে আগামী মাসের এক তারিখে গ্রামে যাবে। এই বুদ্ধি ডাক্তার সুমনেরই। তারা বিলেত থাকতেই তার বাবা রাজা চৌধুরী দুনিয়া থেকে চলে যায়। শহিদও বিয়ে করেছে। শহিদ ও তার স্ত্রী বাদে সবাই যাবে। সবাই বলতে ডাক্তারদের সাথে শুধু যোগ হবে শহিদের মেয়ে সপনা।
এদিকে কুসুম আজও ভুলিনী ডাক্তার সুমনকে। কুসুম অসুস্থ হয়ে দুনিয়ায় আছে আর কয়দিন। চাচা জহির গত বছর মারা যাওয়াতে তাদের যেন আরো কষ্ট বাড়ে সংসারে। শিশু সন্তান সুজন স্কুলে যায় আবার একটা বাড়িতে কাজ করে। কাজ সুজন কাজ করতে সকালে যায়, আসে বিকাল পাঁচটায়। নয় বছরের ছেলে সুজন যা বেতন পায় তা দিয়ে ভালোই চলে। মার ঔষধ থেকে শুরু করে  চাল ডাল বাজার সব আনে সুজন ওর বেতন দিয়েই। সুজন যে বাড়িতে কাজ করে সে বাড়ীটা ডাক্তারদের। রাজা চৌধুরী মারা যাওয়ার কয়েক মাস আগেই। হলদিয়া গ্রামে নদীর কাছ থেকে এককিলো দুরে নতুন বাড়ী বানায়। রাজা চৌধুরী বাড়ি বসে থেকে নদীর সৌর্ন্দয উপভোগ করবে বলে। কিন্তু তিনি তা আর উপভোক করতে পারেন না। 
 
আজ মাসের এক তারিখ ঢাকা থেকে বাবুরা আসছে, তাই দিন রাত কাজ করছে সুজন ও তার গ্রামের এক নানা রহমান। এসে গেলো ডাক্তার আর সোমা এবং ভাতিজি সপনা। 
রহমান গেয়ে ডাক্তারকে সালাম দিলো এবং বললো বাবু আপনী কেমন আছেন ? ডাক্তার ভাবছে,বাবু বলে একমাত্র ডেকে ছিলো কুসুম বেশি, বাবু ডাক শুনে চমকে উঠলো ডাক্তার। কাউকে বুঝতে দিলো না। সালামের উত্তর দিয়ে বললো, আমি ভালো আছি ।  চাচা আপনী কেমন আছেন এবং এই সুন্দর ছেলেটা কে। রহমান বললো আমি খুব ভালো আছি বাবু। আর এই হলো আমাদের গ্রামের কুলক্ষি নাতি। জন্মের আগে বাবাকে খেয়েছে। সোমা বললো চাচা এই ছেলে কেমন করে ওর বাবাকে খেয়েছে, আল্লাহ্ যদি ওর বাবা কে তুলে নেয় তাহলে কী এই ছেলের দোষ। রহমান মাথা নিচু করে বললো, সুজন বাবু কে সালাম কর। সুজন ডাক্তার এবং সোমাকে সালাম করলো। ডাক্তার এবং সোমা খুশি হলো। সুজন বললো ব্যাগটা আমাকে দেন আমি নিয়ে যাই বাবু। সোমা বললো না বাবা আমরাই নিয়ে যাচ্ছি। এবং বললেন রহমান চাচা ঐ ব্যাগটা নেন। ঘরে আসে তারা রেষ্ট নেয়। ডাক্তার ব্যাগ রেখেই বেড় হয় কুসুমের খোজে। এটা তো হলদিয়া গ্রাম যেতে হবে আরো কয়েক কিলো আমদির পাড়া গ্রামে। ডাক্তার মনে করলো কাল সকালে বেড় হবো। আজ আর নয়। বাড়ির দিকে যেতেই দেখতে পেলো কুসুমের মত একটা মেয়ে খাঁচায় ফুল বিত্রিু করছে। ডাক্তার এগতেই বুঝতে পারলো এইটা কুসুম না। এই ? মেয়ে টা ডাক্তারের কাছে এলো এসে বললো বাবু ফুল নিবেন ? ডাক্তার কাপা গলাই বললো, ফুল হ্যা দাও সব গুলো দাও। দাম ৫০টাকা কিন্তু ডাক্তার তাকে একশত টাকা দেয়। এবং বললো আচ্ছা তুমি কী কুসুম কে চেনো ? মেয়েটা বললো হ্যা চিনবো না মানে কুসুমের বাড়ি আমার বাড়ি একখানে। আসেন বাবু! ডাক্তার বললো তোমাদের বাড়ি কোথায় ? মেয়ে টি তার হাতের আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলো ঐ পাড়াতে। মানে ডাক্তারের বাড়ির পরেই। মেয়েটা বললো বাবু চলেন এখনী যাই। ডাক্তার বললো এখন না পরে যাবো। আজ আসি। মেয়েটা নাচতে নাচতে বাড়ি চলে গেলো।
এদিকে : সুজন বাড়ী গিয়ে দেখে মা কুসুম শুয়ে আছে। সুজন মাকে বললো, মা জানো আজ না ঢাকা থেকে এক বাবু এসেছে আমাকে খুব ভালো বাসে। তার স্ত্রী সোমা আমাকে খুব ভালো বাসে। কুসুম বললো ঢাকা থেকে এসেছে। তবে বাবা সাবধানে থাকিস ভুলিয়ে যেন তোকে না নিয়ে যায়। সুজন বললো বাবু দেখতে সেই রকম না। মা এই কয়দিন একটু কষ্ট করো, আমি এ মাসের টাকা পেলে তোমার জন্য ঔষধ নিয়ে আসবো। কুসুম সুজনের দিকে তাকিয়ে বললো, বাবা শুধু আমাকে শান্তনা দিতে শিখেছিস। তোর স্কুলের রেজাল্ট কবে দিবে ? সুজন বললো স্কুলে গেলে তো খবর পাবো স্কুলেই যাই না। মা বললো বাবা রে আমাকে মাফ করে দেস, আমি তোকে কিছুই দেইনী। ছোট্ট সুজন বললো কী বলো, মা তুমি আমাকে হয় তো টাকা দিতে পাড়নী পারো না মা গো। তার চেয়ে অনেক গুন বেশি পেয়েছি, পেয়েছি তোমার দোয়া মায়া মমতা মাগো তার তুললো না হয়না। তাইতো কোন বার স্কুলে এক থেকে দুইয়ে যাইনী মা তোমার দোয়াই। আমি মনে করি ইনশাআল্লাহ্ এবার স্কুলের সেরা ছাত্রের পুরস্কারটা পাবো। মা কুসুম বললো সেইটা আবার কী বাবা ? সুজন বললো, মা, যে এই পুরস্কার পায় তাকে স্কুল থেকে দশ হাজার টাকা দেয়। কুসুম বললো তাই বল। সুজন বললো মা এসো অনেক রাত হয়েছে। ঘুমাবে ঘুম তো ধরেনা কুসুমের শুধু ভাবে ডাক্তারের কথা। আজ কুসুম রাতে স্বপ্ন দেখে বাবু এসেছে। কুসুম স্বপ্ন ভাঙ্গলে তখনী চিৎকার দিয়ে উঠে ! আর বলে বাবুর কাছে যাবো। কিন্তু এই শরীর নিয়ে যাওয়া যাবেনা। উঠতেই পারছে না কুসুম। সুজন জাগিয়ে উঠলো বললো মা তোমার কী হয়েছে। কুসুম কাপা গলাই বললো বাবরে স্বপ্ন দেখেছি তাই। ঘুমা বাবা ঘুমা। সুজন তার রুমে চলে গেলো। কুসুম বালিসে মুখ দিয়ে কাঁদতে লাগলো। এই ভাবে কুসুম সবার অজানতে প্রতিদিন রাতে কাঁদে। সুজন জানে তার বাবা মারা গেছে। 
 
পরের দিন সকালে সুজনের যেতে একটু দেরী হলো। তাই রহমান সুজনকে মারে সুজন চিৎকার করছে বাচাও বাচাও মাগো ওমা মেরে ফেললো। ঘর থেকে বেড় হয়ে এলো সোমা সপনা ও ডাক্তার। এসে রহমানের হাত থেকে লাঠি টা নিয়ে বললো, চাচা তুমি সুজন কে মারছো কেন ? রহমান বললো ও প্রতিদিন দেরী করে আসে কিছু বলিনা। আপনারা এসেছেন তাই একটু সকালে আসতে বলেছি, আসলো ও দেরী করে এলো। ডাক্তার সুজনকে বললো, বাবা সুজন তাই কী ঠিক। সুজন বললো বাবু আমার মা খুব অসুস্থ তাই আসতে একটু দেরী হলো। বিশ্বাস করুন বাবু আমার প্রতিদিন দেরী হয়না। নানুর মার খাওয়ার ভয়ে স্কুলেও যাইনা। বাবু আমি আজ ছুটি নিতে এসেছি। আমার মার অবস্থা ভালো না। বাবু আগামীকাল আমার পরিক্ষার রেজাল্ট দিবে তাই আসতে একটু দেরী হবে। বাবু আমাকে কী ছুটি দিবেন। সোমার চোখ যেন লাল হয়ে গেছে। ডাক্তার বললো ঠিক আছে, তুমি যখন খুশি তখন আসিও। তবে বাবা সুজন তুমি কোন স্কুলে পড় কোন ক্লাসে। সুজন বললো বাবু আমি ক্লাস ফাইবে পড়ি। সপনা বললো আমিও তো ক্লাস ফাইবে পড়ি। সুজন হেসে বললো তাই। আজ আসি ! মা হয়তো আমাকে খুজছে। রহমান শুধু তাকিয়ে আছে সুজনের দিকে। সুজন চলে গেলো সোমা রাগি গলাই বললো, চাচা আপনী কী ভাবে ঐ অবুঝ শিশু টার গায়ে হাত দেন। চাচা ও আপনাকে সম্মান করে তাই হাত তুললো না, ওর জায়গাই যদি আমি হতাম আপনাকে ছাড়তাম না। চাচা মন খারাপ করবেন না ও শিশু ওকে বুঝিয়ে বলুন আদর করেন দেখবেন ও আপনার কথা সব শুনবে। চাচা আপনী আপনার কাজে যান। ডাক্তার সোমা আর সপনা বেড় হলো গ্রামটা দেখার জন্য। সোমা জানেনা সুমনদের আরেক টা বাড়ি আছে আমদির পাড়া গ্রামে। ডাক্তার সোমাকে হলদিয়া গ্রাম এবং যুমুনা নদীটা দেখবে বলে ঠিক করে। বিকালে তারা বেড় হয় গ্রাম দেখতে। ডাক্তার শুধু কুসুমের কথা ভাবছে। আর স্মৃতি মনে পরছে তার এই যমুনাতে কুসুম আর ডাক্তার এসেছিলো। ডাক্তার যমুনা নদীর দিকে তাকিয়ে আছে এবং চোখের পানি যেন ধরে রাখতে পারলো না। সোমা লক্ষ করেছে, ডাক্তারের দিকে তাকিয়ে। সোমা ডাক্তার কে বললো আচ্ছা তোমার কী হয়েছে। এখানে আসার পর থেকে দেখি তোমার মন্টা কেমন যেন হয়ে গেছে। সব সময় ভার দেখি তুমি কী কাউকে খুজছো বা কারো কথা মনে পরেছে তোমার। ডাক্তারের মাথার মধ্যে যেন বিদ্যুৎ চমকাতে লাগলো। চোখ মুছে বললো না কই আমি তো কাউকে খুজছি না। চলো যাই সন্ধ্যা লেগে গেছে। সোমা বললো ঠিক আছে চলো যাই। তারা বাড়ি চলে আসে। রাতে সোমা ডাক্তারকে বললো, আচ্ছা, সুমন তুমি কী কখনো কাউকে ভালো বেসে ছিলে। ডাক্তার চমকে উঠে বললো, সোমা তুমি হঠাৎ এই প্রশ্ন করলে যে। সোমা বললো আমার প্রেমিকের কথা মনে পরে গেছে তাই। বললো না তুমি কাউকে ভালো বেসেছিলে নাকী। ডাক্তার কাপা গলাই বললো না তো। সোমা বললো জানো, আমি আমার খালাতো ভাইকে না খুব ভালো বাসতাম। তার সাথে আমার বিয়েও ঠিক হয়। সে ঢাকাই বড় ব্যবসা করেতো। আমাদের কাল বিয়ে আর আজ রাতেই আমার হবু স্বামী র্মাকেটে গিয়ে বিয়ের বাজার করে আনতেই অ্যাকসিডেন্ট করে। আমাদের আর বিয়ে হয় না। তারপর আমি তো বিয়েই করবো না বাবা আমাকে অনেক বুঝায়। বাবা মুখে হাসি ফুটানোর জন্যই বিয়ে করা। সোমা ঘুমিয়ে যায় ডাক্তার শুধু জাগিয়ে ভাবছে কুসুমের কথা। হঠাৎ তার মনে পরে যায় কুসুমের মুখে শোনা সেই জরিনার কথা। ডাক্তার ভাবছে কুসুমকেও কী জরিনার মতো বাড়ি থেকে বেড় করে দিয়েছে। ডাক্তার বলছে না এ হতে পারে না আমি কাল কেই যাবো আমদির পাড়া।
পরেরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে ডাক্তার তার বাড়ির বাগান গুলো দেখছে অমনী স্কুলের হেড মাষ্টার এসে বললো বাবু ভুল হয়ে গেছে আমাকে মাফ করবেন। আমি জানিনা আপনী এসেছেন। বাবু আজ আমাদের স্কুলে অনুষ্ঠান আপনী আসবেন, আপনার পরিবার সহ। ডাক্তার বললো ঠিক যাবো।
সুজন সকালে ঘুম থেকে উঠে মাকে বলেছে মা আমার সাথে স্কুলে যেতে হবে। আমি তো পুরস্কার পাবোই মা। মা বললো বাবা সুজন আমার দোয়া সঙ্গে আছে  তুই যা আমি যাবো না বাবা। আমার শরীরটা ভালো না। সুজন বললো তাই বলো। আচ্ছা মা তাহলে যাই দোয়া করো কিন্তু। সুজন চলে যায়।
গ্রামের হাজার হাজার মানুষের মুখে কে এই পুরস্কার পাবে। ডাক্তার তার পুরো পরিবার নিয়ে এসেছে স্কুলের অনুষ্ঠান দেখার জন্য। পুরস্কার বিতারনের পর সাংস্কৃতি অনুষ্ঠান আছে বার বার বলে দিচ্ছে মাইক দিয়ে। প্রথম পুরস্কার বাদে সব পুরস্কার দেওয়া শেষ। সুজন যেন আর মাথা ঠিক রাখতে পারছেনা। ঐখানেই দু হাত তুলে আল্লাহ্র কাছে প্রাথনা করলো, বললো আল্লাহ্ তুমি আমাকে না আমার মার মুখের দিকে তাকিয়ে আমাকে প্রথম পুরস্কার টা দাও। এই টাকা দিয়ে মার জন্য ঔষধ আনবো। আল্লাহ্ তালা যেন সুজনের কান্না সুনতে পায়। মাইকে বলছে প্রিয় অবিভাক আজ আমরা এমন একজনের হাতে সেরা পুরস্কার টা দিবো তা আপনারা দেখলেই বুঝবেন। এবারের সেরা ছাত্র হয়েছে আমাদের হলদিয়া গ্রামের কৃতি সন্তান মো ঃ সুজন মিয়া। মাইকে বলছে সুজন তুমি কোথাই। মঞ্চে আসো এবং তোমার পুরস্কার নিয়ে যাও। সুজন মাটিতে বসে আছে ছেড়া একটা শান্ট গায়ে দিয়ে। আস্তে আস্তে আসছে মঞ্চে সুজন। র্দশক করো তালি দিয়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছে সুজন কে। ডাক্তার আর সোমা দেখে অবাক হয়ে গেলো। মাইকে তার এক শিক্ষক বললো ভাই বোন বন্ধুরা দেখেন এই সেই সুজন। পরনে নাই একটা পেন্ট গায়ে ছেড়া একটা শান্ট। কী বলবো এরা এতো গরিব তা বলা বাহুল্য।
যাই হক সুজন আমি তোমাকে বলছি তোমার কেমন লাগছে ? সুজন বললো স্যার আজ আমি খুব খুশি যে তা বলা বাহুল্য আমার চাইতে আমার মা আরো খুশি হবে শুনলে। আমি পুরস্কার পেয়েছি। স্যার বললো সুজন তুমি এই টাকা অথাৎ দশ হাজার টাকা দিয়ে কী কী করবে। সুজন বললো স্যার এই দশ হাজার টাকা ধরেই আমি আমার মার জন্য ঔষধ আনবো। মা আমার অসুস্থ । সুজন বললো আমার জন্য আমার মায়ের জন্য আপনারা সবাই দোয়া করবেন। স্যার বললো সুজন তোমার মা কী এসেছেন এখানে। সুজন বললো না স্যার। স্যার মাইকে জোরে কন্ঠস্বরে বললো সুজনের মা আজ আপনী ধন্য, সুজনের মতো একটা ছেলে কে পেটে ধরে। মা বাড়ি থেকে শুনতে পাচ্ছে এই কথা গুলো মা বালিসে মুখ দিয়ে কাদতে লাগলো। আর বলছে বাবু আপনী যদি আজ থাকতেন তাহলে আরো খুশি হতেন। আল্লাহ্ তালা হয়তো আমাকে একবার দেখা করার সময় দিবেন। জানি বাবু আপনী আসবেন একদিন। এই দিকে স্যার বললো সুজন দেখো তোমার চোখে পানি দেখে হাজারও অবিভাক এর চোখে পানি। তুমি একটা গান বলো, সুজন বললো, আমি গান বলবো তাহলে বলি শোনেন। গান শুরু হওয়ার আগেই একটা করতালি দিলো র্দশক। সুজনের মুখে একটু হাসি ফুটলো। সুজন বললো আমি আমার মাকে সব চাইতে বেশি ভালো বাসি, তাই  মাকে নিয়ে গান গাইবো। শোনেন ঃ
মা---------তুমি আমার আগে যেওনা গো মরে
আমি কেমন করে দিবো মাটি তোমার কবরে
মা------------------------------------মরে--------------------------------------।
এই গান সুজন শুরু করার আগে কুসুম অসুস্থ হয়ে যায় অবশেষে অজ্ঞানও হয়ে যায়। বাড়িরর লোক জন তাকে ধরা ধরি করে আনে তার বিছানায়। মা কুসুমের  মাথায় তারা পানি। কিছুক্ষন পর কুসুম সুস্থ মোটা মুটি। সুজনের মুখে এই সুন্দর গান সুনে ডাক্তার সুমন ও সোমা নগদ আরো পাঁচ হাজার টাকা দেয়। সুজন খুশি হয়ে বাড়ি চলে আসে। এসে দেখে ওদের আঙ্গিনায় মানুষের ভির। সুজন মা কুসুমের এই অবস্থা দেখে দৌড়ে যায় সাজ্জাদ ডাক্তারের কাছে। ডাক্তার এসে বললো কুসুম না খেয়ে খেয়ে শরীর টা আরো খারাপ করেছে। শরীর দূর্বলের কারনে এই অবস্থা। ডাক্তার কুসুম কে, ঔষধ দিলো আর বললো বোন ভালো ভালো খেতে হবে। সময় মত ঔষধ গুলো খেয়েও কিন্তু। কুসুম মাথা নাড়িয়ে বললো ঠিক আছে। ডাক্তার চলে যায়।
পরের দিন সকালে সুজন আসে ডাক্তারের বাড়িতে । ডাক্তারের বউ সোমা বললো বাবা সুজন তুমি তো এলে না দুপুরে আসার কথা ছিলো। রহমান বললো, ভাবী আসলে ওর মা খুব অসুস্থ মৃত্যু সজ্জাই । তাই আসতে পারিনী। সোমা সুজনের দিকে তাকিয়ে বললো সুজন তুমি একটু আমার রুমে এসে তো কথা আছে। সুজন ভয়ে ভয়ে এলো ঘরে। এসে বললো খালা মুনি কী বলবেন। সুজনের মুখের দিকে তাকিয়ে বললো, বাবারে আমি আল্লাহ্র কাছে অনেক কেঁদেছি একটা সন্তানের জন্য কিন্তু আল্লাহ্ আমার কান্না শুনেননী। বাবা আমি জানি তুমি কিছু খাওনী, আমি তোমার জন্য নিজে ভাত রান্না করেছি। তুমি ভাত খাও। টেবিল খাবার যেন সব বিছানো। সুজন একবার খাবারের দিকে তাকিয়ে বললো, খালা আমি ভাত খাবোনা মাফ করবেন। সোমা বললো কেন ? সুজন বললো খালা আমার মা না খেয়ে আছে ,কাল থেকে না খেয়ে আছে আমি কী ভাবে খাই বলুন। সোমা চোখ দুটো মুছে বললো বাবারে আমি তো জানি তোমার মা খাইনী। তার জন্যও ভাত বাটিতে বেড়ে রেখেছি। তুমি খেয়ে মার জন্য নিয়ে যাবে। এবার খাও সুজন সোমার পায়ে সালাম করে বললো, আপনী কী সত্যি আমার খালা। সোমা বললো বাবা আজ থেকে আমি তোমার মা। তুমি আমাকে মা বলে ডাকবে কেমন। সুজন বললো ঠিক আছে মা, আমাকে ভাত দাও খাবো। সোমার বুকটা যেন ভরে গেলো মা ডাক শুনে কাঁদছে আর বলছে খাও বাবা খাও। সুজন খাওয়া শেষ করে সোমার চোখটা মুছে দিয়ে বললো, মা আজ থেকে তুমি আর কাঁদবে না। সোমা বললো আজ থেকে তুমি আর কাজ করবে না। সকালে আসবে আমার সাথে দেখা করবে আমার সাথে সাথে থাকবে। সুজন বললো মা, রহমান চাচা তো রাগ করবে না। সোমা বললো আমি দেখে নিবো। 
সুজন বাড়ি এসে মা কুসুমকে সব খুলে বললো। কুসুম বললো বাবা সুজন সোমা আপাকে একদিন আনবি আমার কাছে ? সুজন বললো ঠিক আছে তুমি যখন বলছো আমি আনবো। রাতে ডাক্তার কে সব খুলে বললো সোমা, আরো বললো সুজন আজ থেকে আমাদের সন্তান। ডাক্তার ও খুশি তবে মন্টা ভার কেননা আজও কুসুমকে খুজে পাইনী। সোমা বললো আমরা কাল আমদির পাড়া গ্রামে যাবো। তোমাদের নাকী বাড়ি আছে সেখানে। ডাক্তার বললো হ্যা তবে কে বললো তোমাকে। সোমা বললো কেন রহমান চাচা বলেছে। ডাক্তার বললো ঠিক আছে কাল দেখা যাক।
সকালে খাওয়া দাওয়া করে তারা বেড় হলো আমদির পাড়া যাবে বলে। আসছে তখনী আসে সুজন এসে সোমাকে পেছন থেকে ডাক দিলো মা ! সোমার বুক কেপে উঠলো বললো বাবা তুমি? তোমার মার কী অবস্থা। সুজন বললো, মা ! আমার মা কিছুটা সুস্থ হয়েছে কিন্তু আপনাকে দেখতে চেয়েছে একবার। রহমানো সেখানে দাড়িয়ে। সোমা বললো বাবা আমরা আমদির পাড়া যাচ্ছি, যদি আগেই ফিরি তাহলে যাবো বিকালে। বাবা কোন অসুবিধা আছে। সুজন মাথা নাড়িয়ে বললো না। ঠিক আছে মা, আপনারা আসেন। এসে গেছে তারা আমদির পাড়া গ্রামে। বাগান তলি এসে প্রথমে চোখ পরে ডাক্তারের সেই নিমের গাছটার দিকে। বুকটা যেন ফেটে যাচ্ছে। কারন কুসুম বলেছিলো এই গাছটি লাগানোর সময় বাবু আমি যদি কোন দিন না থাকি তাহলে গাছটার দিকে তাকালে বুঝবেন আমি আপনার পাশে আছি। আপনার মনে পড়বে আমার কথা। ডাক্তার চোখের চশমাটা খুলে চোখ মুছে কেউ বুঝার আগে চলে গেলো তাদের সাথে বাসায়। সোম কে ডাক্তার তার বাসায় রেখে চলে আসে বাগান তলী। এক পা এগই আর যেন বুকে আঘাতের কাটা ফুটে একটা। ডাক্তার নিম গাছ তলী এসে গাছটাতে হাত দিয়ে কাদতে লাগলো। লাগলো এমন সময় ঐ পথ দিয়ে যাচ্ছে বোবা আসাদুল। ডাক্তারকে দেখে যেন কারেন্টের মতো আসে বোবা। এসে রাগী মাথা যেন ঠান্ডা হয়ে গেলো ডাক্তারের চোখে পানি দেখে। বোবা ডাক্তার এর চোখে পানি দেখে সেও চোখে পানি রাখতে পারলো না। হঠাৎ ডাক্তার মাথা গুড়িয়ে দেখলো বোবা। বোবা তাকিয়ে আছে ডাক্তারের দিকে বোবাও। ডাক্তার কুসুমের কথা বলতেই বোবা হাতের ইশারাই বললো বাবু আপনী একী করলেন। কুসুমের জীবনটা নষ্ট করতে পারলেন ? কুসুম আপনাকে খুব বিশ্বাস করতো। আল্লাহ্ ক্ষমা করবে না আপনাকে। বোবাকে জরিয়ে ধরে বললো ডাক্তার তার না আসার কারন গুলো। বোবাও সব বললো কুসুম কে কী ভাবে তাড়িয়ে দিয়েছে মড়ল। ও ইচ্ছা করলে আপনার কথা বলতে পারতো। কিন্তু কুসুম তো বলেনী আমাকেও বলতে দেইনী বললো বোবা হাতের ইশারাই। আবারো বললো ও বললে আপনার জমি জমা টাকা পয়সা দিয়ে কিছুই হতোনা কুসুম কে বিয়ে করতে হতো। আপনাকে ঐ উপর আল্লা ক্ষমা করবে না। ডাক্তার বললো আমাকে আর লজ্জা দিওনা। তুমি কী জানো কুসুম কোথায় ? বোবা হাতের ইশারাই বললো না। ডাক্তার কে বললো বাবু থাকেন আসি, আবার দেখা হবে। ডাক্তার বোবা কে বললো এই কথা যেন আর কেউ না জানে। বোবা বললো বাবু যদি বলতাম আরো আগে বলতাম। চোখ মুছতে মুছতে চলে যায় বোবা। ডাক্তার নিম গাছ তলে এসে চোখের পানি ঝড়াচ্ছে আর তাকিয়ে দেখছে গাছটার দিকে। গাছের গায়ে হাত দিয়ে বলছে কুসুম তুমি আমাকে মাপ করে দাও। আমি পাপি আমি তোমার জীবনটা নষ্ট করেছি। এই কথা ভাবতেই সোমার ফোন সুমন তুমি কোথায় ? এসো বেড়াতে যাবো বাঙ্গালী নদীতে। ডাক্তার বললো আসলে সেখানে যাওয়া টা কী ঠিক হবে বলো। সোমা বললো তুমি এসো তো। ডাক্তারের মন বার বার প্রশ্ন করে সোমা কী সব জানে নাকী। কিন্তু বলবে কে। এক মাত্র শহিদ জানে আমার আর কুসুমের কথা। সোমা আর ডাক্তার যাচ্ছে রাস্তা দিয়ে বাংঙ্গালী নদীর দিকে, এমন সময় ঐ মেয়ে টা সামানে পরে যায়। যে মেয়েটি কে ডাক্তার কুসুমকে চেনে নেকী বলেছিলো। ডাক্তারা একটু সামানে এগিয়ে আসে মেয়েটি পেছন থেকে ডাকছে বাবু বাবু ওবাবু। ডাক্তার মূহুতের মধ্যে মাথা ঘুরায় দেখে সেই মেয়েটি। ডাক্তার একবার সোমার দিকে তাকায় আরেক বার মেয়েটার দিকে। মেয়েটির হাতে বেশ কয়টি ফুল। মেয়ে টি হেসেই কথা বলছে। বলছে বাবু কুসুমের খোঁজ পাওয়া গেছে, কুসুম ঐ বাড়িতেই থাকে। মাত্র কয়েক গজ দুরে। ডাক্তারের মাথার মধ্যে যেন বিদ্যুৎ চমকাতে লাগলো। সোমার জন্য কারন , সোমা যদি জানে তাহলে আমাকে কী ভাববে। মনে মনে ভাবছে ডাক্তার। সোমা বললো, কী ভাবো তুমি। চলো না কুসুম কে দেখে আসি। ডাক্তার বললো না না এখন যাবো না, পরে চলো না যাই। মেয়েটি ডাক্তারের হাত টেনে ধরলো বললো বাবু চলেন ও তো সব সময় থাকে না। সোমা বললো চলো ডাক্তার যেন সামানে এগতে পারছে না। বুকের ভিতর দরদর করছে। বাড়ির কাছে এসে মেয়েটি কুসুম কুসুম বলে ডাকছে। ডাক্তারের মুখ শুখে গেছে যেন আত্তায় পানি নাই। পাঁচ ছয় বার ডাকার পর বেড় হলো কুসুম। এক তোরা ফুলের চারা নিয়ে। ডাক্তার চোখ বন্ধ করে আছে লজ্জায় যেন চোখ খুলতে পারছে না। হঠাৎ চোখ খুলে দেখে এ সেই কুসুম না সাত বছরের কুসুম। মিষ্টি কুসুম ডাক্তার ভিজা কন্ঠে বললো এ সেই কুসুম না আমার কুসুম অনেক বড়। মিষ্টি কুসুমকে আদর করে দুই গালে দুটো চুেমা দিলো। এবং তার হাতের সব ফুল ডাক্তার নিলো। পাঁচ শত টাকাও দিলো ফুলের দাম পাঁচ শত টাকা না হলেও। কুসুম মিষ্টি একটা হাসি দিয়ে চলে গেলো। ডাক্তার মনে মনে বলছে আল্লাহ্ তুমি সত্যি মহান। তারা বাঙ্গালী নদী দেখে আসতে আসতে সন্ধ্যা হয়। রহমান ও এসেছে আমদির পাড়া। ডাক্তার রহমানের সাথে সোমা কে পাঠায় হলদিয়া বাড়িতে। ডাক্তার আমরা কালকেই যাবো শহরে। সোমা বললো কেন ভালোই লাগছে তো এখানে। আর কয়দিন থাকি না। ডাক্তার বললো সোমা আমি যা বলেছি তাই হবে। আসলে ডাক্তারের ভালো লাগছে না। যার জন্যগ্রামে এসেছিলো তাই তো নাই। ডাক্তার মনে মনে বলছে। আমি কুসুমের কাছে মাফ নিতে পারলাম না হয় তো। ডাক্তার সোমা কে বলেছে আমি মড়লের সাথে দেখা করে কিছুক্ষনের মধ্যে চলে যাচ্ছি। ডাক্তার চাদর টা ভালো ভাবে শরীরে পেছিয়ে নিলো এলো মড়লের কাছে। মড়ল বললো কে? ডাক্তার বললো আমি ডাক্তার সুমন। ডাক্তার চারদিক তাকিয়ে দেখছে সব যেন পরির্বতন হয়েছে। অনেকে যেন নাই নতুন নতুন কয়েক জন আর মড়ল। আসলে তারা এই পৃথিবীতে নাই। মড়ল বললো ডাক্তার চলে গেলে আমাদের ছেড়ে কেন ? গ্রামের মানুষ গুলো সত্যি তোমাকে আপন করে নিয়েছিলো। বিশ্বাস করে ছিলো, তুমি তাদের সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করতে পাড়লে। ডাক্তারের মুখে কোন কথা নাই, উত্তর দিতে পারলো না। চলে এলো সেখান থেকে। বাড়িতে এসে দেখলো সোমা আর সপনা কাপড় গুছাচ্ছে। ডাক্তার তাকিয়ে আছে। কিছুক্ষন পর চলে যায় তার রুমে। হঠাৎ ডাক্তারের মোবাইল টা বেজে উঠলো। ঢাকা থেকে শহিদ ফোন দিয়েছে। শহিদ ডাক্তার কে বললো ভাইয়া ভাবী কী কুসুমের কথা জানে বা জেনে গেছে। ডাক্তার আস্তে বললো না, এখনো জানিনী। শহিদ বললো ভাইয়া কুসুমের দেখা পেয়েছো কী ? ডাক্তার বললো না, তবে আমি তকে সব খুলে বলবো ঢাকায় গিয়ে। এখন রাখ আমরা ভালো আছি কালকে আসছি ঢাকায়। শহিদ কেটে দিলো মোবাইলের লাইন। ডাক্তার মোবাইল রেখে পেছনে তাকাতেই দেখলো সোমা দাড়িয়ে আছে। সব শুনেছে সোমা। ডাক্তারের মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পরলো। ডাক্তার তাকিয়ে আছে সোমার দিকে। সোমা ও তাকিয়ে আছে ডাক্তারের দিকে। সোমা কিছুক্ষন পর বললো। আসলে কুসুম কে ? আমি জানতে চাই কুসুম কে ? ডাক্তার বললো আসলে কুসুম মানে আমি তোমাকে পরে খুলে বলবো। প্লিজ এখন যাও। সোমা বললো, সুমন তুমি আসলে আমার ভয় করছো আমি তোমার স্ত্রী তুমি আমাকে বলো কে এই কুসুম। ডাক্তার সোমা কে বললো ভয় নয় মানে আমাকে ভুল মনে করো না। সব খুলে বললো------- --------------------------------------------------সোমাকে ডাক্তার। সোমা সুনে দুঃখ পেলো কিন্তু ডাক্তারকে বললো, সুমন তুমি পাপ করেছো। এই পাপের ক্ষমা নাই। সোমা বললো সুমন, কুসুম এখন কোথায়? তুমি কী জানো? ডাক্তার বললো না। সোমা বললো কুসুমের মুখে যে জরিনার কথা সুনে ছিলে যদি তেমন হয়। ডাক্তার বললো না না তা হতে পারেনা। ডাক্তার বললো সোমা তুমি আমাকে ভুল বুঝনা। তুমি তো বেপার টা বুঝেছ। কী ভাবে কী হয়ে গেলো। সোমা বললো জানো আমারও মনে হচ্ছে কুসুম বেচে  আছে। আমি তোমার হয়ে ক্ষমা চাবো। ডাক্তার বললো, কুসুমের পেটে বাচ্চা ছিলো আমার। আমি জানতাম না। বোবা আমাকে বলেছে। কিন্তু এটা ঠিক আমি তার জন্য দায়ী। সোমা বললো, সুমন আমি তোমাকে পাপের হাত থেকে বাচানোর জন্য অনুমতি দিলাম। কুসুমকে দেখা পেলে বিয়ে করবে। এই কথা বলে সোমা তার রুমে চলে যায়। গিয়ে বালিসে মুখ দিয়ে কাঁদতে লাগলো। আর বলছে আল্লা তুমি আমাকে কোন পাপের সাজা দিলে। সোমার মন সোমাকে ডেকে যেন বললো, সোমা তুই তো ডাক্তারকে একটা সন্তান দিতে পারিসনী। ডাক্তারের মুখে হাসি ফুটানোর জন্য হলেও তোকে একদিন এই অনুমতি দিতে হতো। সোমা যেন চমকেই উঠলো বললো, আমি কী স্বপ্ন দেখেছি নাকী। সোমা তার রুমে থেকে আবার এলো, এসে বললো সুমন এসো খাবে আর কাল একবার সুজনের বাড়িতে যাবে সুজন নাকী আজও আসিনী। ওর মার যে কী অবস্থা ? ডাক্তার সোমার মুখে হাসি ফুটানোর জন্য বললো, ঠিক আছে আমি সকালে যাবো। ডাক্তার খেয়ে ঘুমানোর সময় ভাবছে কাল তো আমরা চলে যাবো। কুসুম কে তো দেখা পেলাম না। সোমা বুঝতে পারলো ডাক্তার কুসুমের কথা ভাবছে। সোমা ডাক্তারকে বললো, ঘুমাও শরীর খারাপ করবে। ডাক্তার বললো আচ্ছা সোমা কুসুমের অবস্থা তো জরিনার মতো হলো না। সোমা বললো না এসব কথা বলো না। তবে কুসুম যদি তোমাকে সত্যি ভালোবাসে তাহলে সে এমন কাজ করতেই পারবে না। তুমি কাল কুসুমের খোজে বেড় হবে।
পরেরদিন শীতের সকাল ফোজরে ঘুম ভেঙ্গে যায়  ডাক্তারের, নামাজ পড়ে চাদরটা শরীর পেঁচিয়ে চলে সুজনদের বাড়ির দিকে। ডাক্তার তো জানেনা কোথায় তার বাড়ি। শুধু শুনেছে এই হলদিয়া গ্রামেই সুজনদের বাড়ি। কিছু দুর গিয়ে দেখে একটা লোক মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে আসছে। তাকে ডাক্তার সালাম দিয়ে বলে ভাই সুজনদের বাড়ি কোন দিকে বলতে পারেন ? লোকটা বলে আরো এককিলো যেতে হবে দক্ষিনে। ডাক্তার চললো, দক্ষিনে। নদীর ধার দিয়ে যাচ্ছে ডাক্তার সুমন। হঠাৎ দেখতে পেলো সুজন দৌড়ে দৌড়ে আসছে। ডাক্তারকে সুজন প্রথমে চিনতে পারলো না। ডাক্তার সুজনকে, সুজন বলে ডাকদিলে সুজন দৌড়ে আসে তার কাছে। এসে বলে বাবু আমার মা খুব অসুস্থ বাবু, আমি আপনার কাছেই যাচ্ছিলাম। ডাক্তার বললো চলো দেখি। ডাক্তার আর সুজন আসে সুজনদের বাড়ি। ঘরের মধ্যে থেকে মা ডাকছে সুজন সুজন বলে। সুজন দৌড়ে যায় ঘরে গিয়ে মা কুসুমকে বললো মা তুমি কোন চিন্তা করো না, বাবু এসেছে। কুসুম বললো তাকে নিয়ে আয় বাবা। ডাক্তার বাহিড়ে দাড়িয়ে আছে সুজন এসে বললো আসেন বাবু মা ডাকছে আপনাকে। ডাক্তার বললো সুজন তুমি এক গ্লাস পানি নিয়ে আসো। ডাক্তার ঘরের দরজায় এমন সময় তার চোখ কুসুমের চোখে পরে। কুসুমের মাথার মধ্যে যেন বিদ্যুৎ চমকাতে লাগলো। ডাক্তার তাকিয়ে আছে দু“চোখের পানি দিয়ে মূহুতে যেন বুকটা ভিজে গেলো। কুসুম ভিজা কন্ঠে বললো, বাবু আমি জানতাম দেখা হবে আবার আপনার সাথে আমার। সুজনের মা কুসুম অসুস্থ রহমানও জানে, তাই সোমাকে তিনি নিয়ে এলেন সুজনের মাকে দেখানোর জন্য সুজনদের  বাড়িতে। ডাক্তার বললো কুসুম আমি কিভাবে বলি তোমায় কী ভাবে কী হয়ে গেলো। কুসুম বললো বাবু আপনী সুখি হন আমি সেটাই চাই চেয়েছি। এতো বছর এই উরমালটা বুকে নিয়ে বেচে আছি। শুধু আপনাকে একবার দেখার জন্য।আল্লাহ্ সেই আশা আমার আজ পূরন করেছে। বাবু আমি আপনাকে ভালোবাসি। আর সেই ভালোবাসার প্রমান হলো সুজন। বাবু সুজন আপনার ছেলে। আপনার হাতে তুলে দিতে চাই। ডাক্তার যেন পাগল হয়ে গেলো কাঁদতে কাঁদতে কারণ কুসুমের এই অবস্থা আমার জন্য। সব কথা শুনছে সোমা সপনা রহমান। এসে যায় সুজন পানি নিয়ে এসে দেখে সোমা দাড়িয়ে। সুজন বললো আসেন মা ঘরে। সোমা কুসুমের কাছে বসে। কুসুম বললো বোন তুমি সত্যি ধন্য বাবুর মতো একটা স্বামী পেয়েছো। বোন আমি আপনার কাছে আমার সন্তান কে রেখে গেলাম। তাকে আপনার আর ডাক্তার বাবুর মত বানাবেন। বোন আমি বাবুকে পেতে আর চাইনা আমার তো বিদায় এর সময় এখন। বোন আমি এইদিনটার অপেক্ষায় ছিলাম। আল্লাহ্ হয় তো এই দিনটির জন্যই এতো দিন বেচে রেখেছে আমায়। বোন এই সুজনের জন্ম দাতা পিতা বাবু। সোমার মাথার মধ্যে যেন বিদ্যুৎ চমকাতে লাগলো। সুজন বললো এটা কি বলো মা। কুসুম বললো হ্যা বাবা ডাক্তার সুমন তোর বাবা। কুসুম বললো বোন আমি বাবুর জন্য আপনার জন্য দোয়া করি আল্লাহ্ আপনাদের ভালো করুক। কুসুম মাথা তুলে ডাকছে বাবু। নিশ্বাস টা আটকে যাচ্ছে। ডাক্তার দৌড়ে এসে বলে কুসুম তোমার কিছু হবে না, আমি তোমাকে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছি। কুসুম বললো না বাবু না আমার সময় শেষ। বাবা সুজন তুই কই ? সুজন কাদছে আর বলছে মা তোমার কী হয়েছে, তুমি এমন করছো কেন? কুসুম বললো বাবা আজ থেকে সোমা তোর মা তুই আমাকে মাফ করে দেস বাবা। আমার জন্য তুই অনেক কষ্ট করেছিস বাবা। সুজন কাদছে আর বলছে মা তুমি কোথাও যেতে পারনা মা, আমাকে ছেড়ে। মা তুমি ছাড়া আমি বাঁচতে চাইনা গো। কুসুম সুজনের মাথায় হাত বুলিয়ে দোয়া করে ওকে ডাক্তার আর সোমার হাতে তুলে দেয়। অমনী এই সুন্দর দুনিয়া থেকে চলে যায় কুসুম। ডুকরে কেদে উঠে সুজন। সোমা ডাক্তার সপনা সবাই কাঁদছে-------------------------------------------------------------------------------------------------। প্রায় ছয় ঘন্টা পর কুসুম এর কবর দেয় গ্রামের লোকজন সহ ডাক্তার সুজন। সবাই চলে গেলে সুজন মায়ের কবরে মাথা দিয়ে কাঁদতে থাকে। সোমা আর ডাক্তার এসে সুজনকে বুকে জড়িয়ে নেয় এবং বিকালে নিয়ে যায় সুজনকে তাদের সাথে ঢাকায়। ডাক্তার এবং সোমা আপনের চাইতে বেশি আপন মনে করে মানুষ করবে সুজনকে। তাদের মনে বড় আশা সুজন একদিন এদেশের নাম করা ডাক্তার হবে। সোমা পরর্বতিতে আর কোন সন্তান এর মা হয় না।
 
মোঃ শামীম
 
 
সমাপ্ত
 

আরও সংবাদ