Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Mon September 24 2018 ,

বাংলার জয়

Published:2015-03-11 08:35:34    
রতনের মাথা মা জননীর বুকে। মায়ের দু-চোখে হিরার মতো দু-ফোঁটা জল চিকচিক করছে। পিতা হারা যুবক সন্তানকে কীভাবে শান্তনা দিবেন মা জননী ? কি র্নিমম র্নিদয়ের মতো শয়তান জানোয়ার পাকিস্তানীরা, রতনের বাবা রহমানকে কে কুকুরের মতো গুলি করে মেরে ফেলেছে। রহমানের অপরাধ, রহমান একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। রতন, সেদিন বাবার সাথেই ছিলো। রতনকে পাকিস্তানীরা কৌশলে আগেই বাঁধে, তারপর রতনের বাবা রহমানকে মেরে ফেলে। পৃথিবীর কোন সন্তান এমনটি ভাবতে পারে। কেউ ভাবতে পারেনা মন্টা বাঁধা দেয় না না না এমনটি হতে পারেই না। 
মা কাঁদেন, তার স্বামীর জন্য কাউকে বুঝতে দেন না। তবে গর্বের শেষ নেই তার স্বামী একজন মুক্তিযোদ্ধা। মা জননী যে তার জীবন দেশের জন্য দিতে কন্ঠাবোধ করবেন না তা রতন জানে। তবে মার মুখের দিকে তাকানো যায় না। বাবা শহিদ হওয়ার পর থেকে হাসি নেই মা জননীর মুখে। রতন বুঝতে পারে, মা জননীর মুখ দেখে, মা জননী পাকিস্তানিদের র্ঘৃণা করেন, মা জননী স্বাধীন একটি মাতৃভূমি চান। 
তবে মা জননীর প্রাণ রতনকে ছাড়া মা জননী একটা জিবন্ত লাশ। বাবা রহমান শহিদ হওয়ার পর, কেমন যেনো হয়েছেন মা। রতনকে চোখের আঁড়াল হতেই দেন না। প্রায় সময় মায়ের মমতা মাখা শাড়ির আঁচলে রাখতে চান। রতন বুঝতে পারে মা জননী আমাকে হারাতে চাননা। মা যে বড় অসহায় আমি ছাড়া মা জননীর এই পৃথিবীতে কেউ নেই। রতন ভাবছে আমাকে, আমার বাবার শেষ কাজ টুকু লাক্ষ বাবা,লাক্ষ বাবার সন্তানের সাথে সমাপ্ত করতেই হবে। আজ রতন মায়ের বুকে মাথা রেখে বললো,
জানো মা, আমি রাতে ঘুমাতে পারিনা ? মা বললো, কেন রে বাবা ? রতন বললো, মাগো আমি হয়তো হতভাগা সন্তান আমার সামানেই আমার বাবাকে পাকিস্তানীরা মেরে ফেললো। মাগো বাবার মৃত্যুর সময় বাবার মুখে শেষ কথাটা আমাকে জ¦ালাতন করে প্রতিটা মুহুতে। মা মুখ খানা অন্যদিকে করে চোখের দু ফোটা পানি মুছে বুকটিকে পাথর বানিয়ে বলে কী কথা বাবা ? আসলে বাবার মুখের শেষ কথাটা মা আগেই শুনেছে। বাবা রোজ রাতেই বলতো, আমি যদি আমাদের দেশের স্বাধীনতা আনতে গিয়ে মারা যাই, অসমাপ্ত কাজ গুলো আমার ছেলে রতন করবে। না জানার ভানে মা বললো, কী কথা বাবা ? মুহুতেই রতনের চোখ পানিতে ভরে গেলো। রতন বললো, মাগো বাবার মুখে শেষ কথা ছিলো জয় বাংলা, বালার জয়, নিশ্চয় । আরো বলেছিলো বাবা আমাকে উদ্দেশ্য করে, বাবা রতন আমার দেশ মাকে আমি তোর, তোর মতো দামাল যুবুক সবার হাতে দিয়ে গেলাম। দেশ মাকে রক্ষা করা দ¦ায়িত্ব তোদের। মা শুধু কাঁদছে, মাও তো দেশ মাকে কম ভালো বাসেন না। মা তো বুঝা বাকি নেই ছেলে মাকে কী বলতে চায় ? 
রতন মাকে বলে মা গো তুমি ভেবে দেখো একবার, তাদের কথা, যারা শহিদ মুক্তিযোদ্ধা,এবং মুক্তিযোদ্ধাদের কথা তারা কত মহান। তারা কত ত্যাগী, কোন ধন-দৌলত নয়,নয় নিজ স্বার্থ, দেশ মা এবং দেশের মানুষের জন্য আরো হাজারো লক্ষ কাজের জন্য এই মহান ব্যক্তিবর্গের আতœবলিদান। গৃহের টান, ছেলে-মেয়ে, তাজা প্রাণ এগুলো যেন কিছুই নয় তাদের নিকট। সত্যি মাগো তারা কত মহান মহৎ। নিজ স্বার্থ ত্যাগ করে দেশ তথা মানুষের স্বার্থটাকেই বড় করে দেখেন। মাগো তাইতো তারা অমর। তারা চিরজীবন্ত মা গো বাবা মরেনী বাবা তো অমর । মাগো তাই বাবা এবং শহিদ মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের গর্ব আর হিদয় জুরে স্ফীত অহংকার। মাগো এই দেশ স্বাধীন দেশ করতে হলে আরো কিছু তাজা প্রাণের দরকার। 
হঠাৎ মায়ের চোখ দিয়ে সমুদ্ররের ঢেউ আসে। মুহুতেই বুকটা ভিজে যায় মার। মা তো বুঝেছে ছেলে মাকে কী বলবে ? ছেলে যুদ্ধে যেতে চায়। মাও তো দেশ কে তার মায়ের মতোই ভালোবাসে। মা ভাবছে আমি এক মা আরেক মাকে বাঁচানোর জন্য ছেলে কে কুরবানী দিবো এইটা আমার র্গব, আমার অহংকার। মা বুকটিকে পাথর করে, মুখে মমতা মাখা রঙ্গে বললো, বাবা রতন পারবীনা বাবা তোর দেশ মাকে বাঁচাতে ? পারবীনা বাবা রতন ঐ শয়তান জানোয়ার পাকিস্তানিদের এই দেশ থেকে চিরদিনের জন্য তাড়াতে ? রতন মাকে জড়িয়ে বললো, পারবো মাগো, পারবো। শুধু একবার অনুমতি দাও মা। মা বললো, যা বাবা, যা, আজই যা, যুদ্ধে যা। বাংলার জয় না নিয়ে আমার সামানে আসবি না। বাবা মনে রাখবী তুই তোমার মায়ের সম্মান বাঁচাতে যাসচ্ছিস। 
ঠিক হলো আজকেই রতন যাবে যুদ্ধে । রতন আজ তার বন্ধুদের খবর দিলো । রতনের কথায় জীবন, জয়, বিজয়, শফিক,রফিক সবাই এলো রতনের বাড়িতে। আজ মাঝ রাতে তারা যাবে যুদ্ধে। তবে তাদের কে প্রথমে যেতে হবে আমদির পাড়া তারপর জুমারবাড়ী । সেখানে কমান্ডার কদ্দুছের বাড়ি। কুদ্দুছের স্ত্রীর কাছ থেকে তারা রতন সহ সবাই ঠিকানা নেয় আসলে তারা যাবে কোন পথে ? সাঘাটা থানা দিয়ে গাইবান্ধায়। সেখানেই কদ্দুছ কমান্ডার এবং মুক্তিযোদ্ধাদের  রাস্তানা।
রতনরা বাড়িতে ফিরার আগেই মা রান্না বান্না করা শেষ দেন। রতন সহ সবাই খাওয়ার র্পব শেষ দেয়। তারপর বিদায়ের পালা। রফিক, শফিক, জয়, বিজয়, জীবন, মায়ের পায়ে সালাম করে বিদায় নেয়। এবার রতনের পালা। মার বুকে ফিতরে যেন ফেটে যাচ্ছে। মা জননী অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে রতনের দিকে। সেই ছোট্ট রতন আজ যাচ্ছে দেশ মার জন্য যুদ্ধে। রতন এসে মার পায়ে সালাম করে বললো, মাগো আমি যুদ্ধে যাচ্ছি আমার জন্য দোয়া করো মা ? মন্টাকে পাথর বানিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে হাসি মাখা মুখে তার একমাত্র সন্তানকে যুদ্ধে পাঠালো। তার এক মাত্র সন্তান রতন অবশ্যই বুঝেছিলো তার মার মনের কষ্ট বা মা জননী কতই না ভালো বাসে দেশ মাকে।
তারা কয়জনে এসে তিন নং সিক্টরে যোগ দিলো। 
বেশ কয়দিন কেটে গেলো। যত দিন যায়, তত ভয়াবহ দিন হয়ে যাচ্ছে। মার আজ খুব চিন্তা হচ্ছে। তবে মা আর কাঁদেনা। তবে একা একা থাকেন। সেদিন এক পথিক কে মা জননী বললো, তার প্রাণ একমাত্র সন্তান কেমন আছে ? পথিকটি, জলে ভিজা চোখে মাকে বললো, মা গো তোমার সন্তান রতন কমান্ডার হয়েছে। মাগো যত তাড়াতাড়ি সম্ভাব এই দেশ স্বাধীন হবে দেখো ? এই বলে পথিকটি চলে যায়। মা ঘরে গিয়ে রতনের জন্য আল্লাহ্ তায়ালার কাছে দোয়া করলেন। দোয়া করলেন দেশ মার বুকে জন্ম নেওয়া সকল সন্তানদের জন্য। 
আরো একটি মাস কেটে গেলো মার প্রাণ রতন আজও মায়ের বুকে ফিরে আসিনী। যুদ্ধ চলছেই।
আজ মার বুকটা কেন জানি ধরপর করছে। এতোদিন এমন করিনী আজ কেন জানি এমন লাগছে মার। মার মনে হলো রতনের কিছু হলো না তো ? হঠাৎ মার কানে ভেসে আসে জয় বাংলা, বাংলার জয়।
মা ঘর থেকে দরজায় ছুটে আসে হয়তো তার সন্তান রতনরা বিজয়ের পতাকা নিয়ে মার কাছে আসছে। বাহিরে এসে মা দেখেন এতো জয়ের মিছিল। আমাদের দেশ স্বাধীন হলো। মা আলহামদু আল্লা বলে র্দীঘ শ্বাস ফেললেন। 
এবার মা তার সন্তান রতনকে খুজছে। কথায় রতন খোঁজে মা এবং মনে মনে বলে হয়তো রতন বিজয়ের মিছিলের মধ্যে আছে। মা মনে মনে বলে, এই মিছিল তো বিজয়ের মিছিল, শেষ নেই এর। তবে কোথায় খুজবো আমার সন্তানকে ? হঠাৎ মার চোখ যায় জীবনের দিকে জীবনের পাশে বিজয়ের পতাকা নিয়ে আছে রতন, রফিক, জয়, বিজয়, রফিক, শফিক মার দিকে আসচ্ছে সবুজের বুকে লাল বিজয়ের পতাকা নিয়ে। কত সুন্দর লাগছে তাদের, মনে মনে বলছে মা। চমকিই গেলেন মা মুহুতেই যেন মিশে গেলো তারা। মা অনেক খুজলেন তাদের মার মন থেকে একটা প্রশ্ন আসলো তাহলে ওরা কী শহিদ হলো। শহিদরা তো মরে না ছায়া হয়ে থাকে। মার মন্টা আর মানছে না। মিছিলের বেশ কয়জনকে মা তার ছেলে রতনের কথা জানতে চাইলো,উত্তরহীন পথিকের দিকে মা তাকিয়ে থাকে। এবং গুটি গুটি পায়ে বিজয়ের মিছিলের পিছে পিছে এগোতে থাকে । মা তো বুঝে গেছেন তার ছেলে শহিদ হয়েছে। 
 
মোঃ শামীম মিয়া।
 

আরও সংবাদ