Widget by:Baiozid khan
  • Advertisement

খরচ কম তবু নৌ-রেলপথ ব্যবহারে আগ্রহ নেই চট্রহগ্রাম বন্দর

Published:2015-03-22 12:06:29    

বাংলাসংবাদ২৪/চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনারে পণ্য পরিবহনের ৩৮ বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ। প্রথম চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার পরিবহন শুরু হওয়ার ৩৮ বছর পর এসেও প্রধান ভরসা সড়কপথ। অথচ এ ক্ষেত্রে বিকল্প হিসেবে রয়েছে নৌ এবং রেলপথ, খরচও বেশ কম। তা সত্ত্বেও এ দুটি পথে পণ্য পরিবহনে আগ্রহ কম ব্যবহারকারীদের।

এ অবস্থায় আজ ২২ মার্চ চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে কনটেইনার পরিবহনের ৩৮ বছর পূর্ণ হচ্ছে। বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৭ সালের ২২ মার্চ ‘এস এস টেনাসিটি’ নামক জাহাজে ছয়টি কনটেইনার পরিবহনের মাধ্যমে এ বন্দরে কনটেইনার পরিবহন শুরু হয়। এরপর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও অভ্যন্তরীণ কনটেইনার পরিবহনে সড়কপথের বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থাগুলো আমদানিকারকদের কাছে জনপ্রিয় হয়নি।

স্বাভাবিক সময়ে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ঢাকা পর্যন্ত সড়কপথে এক কনটেইনার পণ্য পরিবহনে খরচ পড়ে ২২ হাজার টাকা। নৌ ও রেলপথে এ খরচ যথাক্রমে ১৪ হাজার ৭০০ টাকা ও ১০ হাজার ৬০০ টাকা। অর্থাৎ পণ্য পরিবহনে সড়কপথের চেয়ে রেলপথে খরচ অর্ধেক ও নৌপথে এক-তৃতীয়াংশ কম। তবু কেন জনপ্রিয় হচ্ছে না রেল ও নৌপথ?

সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘কনটেইনারে পণ্য পরিবহনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সময়। তাই নৌপথে ও রেলপথে কম সময় পণ্যপরিবহনের বিষয়টি নিশ্চিত না হওয়ায় খরচ বেশি হলেও সড়কপথে আমরা পণ্য পরিবহনে বাধ্য হচ্ছি।’ তবে কম সময়ে পণ্য পরিবহন নিশ্চিত হলে নৌ ও রেলপথেও পণ্য পরিবহন বাড়বে বলে তিনি মনে করেন।

এদিকে বন্দরসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, সমুদ্রবন্দর দিয়ে কনটেইনারে পণ্য পরিবহন শুরু হওয়ার বছর দশেক পরে দেশের অভ্যন্তরে পণ্য পরিবহনে সড়কপথের ব্যবহার শুরু হয়। চট্টগ্রাম ও ঢাকায় কনটেইনার পরিবহনে ১৯৮৭ সালে চালু হয় রেলপথ। আর ২০১৩ সালের ৯ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে নদীপথে কনটেইনার পরিবহন শুরু হয়। যদিও চালু হওয়ার ১৫ মাসেও নদীপথে কনটেইনার পরিবহনে সাড়া মিলছে না।

বন্দরের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৪ সালে আমদানি পণ্যভর্তি কনটেইনার নামানো হয় ৮ লাখ ৩৪ হাজার ৮৮টি (প্রতিটি ২০ ফুট দীর্ঘ)। এসব কনটেইনারের ৭০ শতাংশ গেছে ঢাকা ও তার আশপাশের এলাকায়। এর মধ্যে ৩০ হাজার ১৪৬টি বা ৫ শতাংশ গেছে রেলপথে। নৌপথে গেছে মাত্র ৩২৯টি বা দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। আর সড়কপথে গেছে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ বা ৯৪ দশমিক ৭৮ শতাংশ। এ ক্ষেত্রে কনটেইনার খুলে বা সরাসরি কনটেইনারসহ পণ্য ঢাকা ও তার আশপাশের এলাকায় নেওয়া হয়েছে।

এ তো গেল আমদানি পণ্য পরিবহনের চিত্র। রপ্তানি পণ্য পরিবহনের চিত্রটিও প্রায় একই। ২০১৪ সালে রপ্তানি পণ্যভর্তি কনটেইনারের মাত্র ৪ শতাংশ আনা হয়েছে রেলপথে। বাকি ৯৬ শতাংশ বা ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৮৮০টি কনটেইনার পরিবহনে ব্যবহৃত হয়েছে সড়কপথ।

বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ গত শুক্রবার বাংলাসংবাদকে বলেন, নৌপথে কনটেইনার পরিবহন বাড়াতে পরিবহন মাশুল কমানো হচ্ছে। শিগগিরই চট্টগ্রাম ও ঢাকার কেরানীগঞ্জের পানগাঁও নৌপথে নতুন কয়েকটি জাহাজ যুক্ত হবে। এতে নদীপথে কনটেইনার পরিবহনে ব্যবসায়ীরা আগ্রহী হবেন বলে মনে করেন বন্দর চেয়ারম্যান।
বাংলাসংবাদ২৪/রহমান
 

আরও সংবাদ