Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Sat July 21 2018 ,

গাইবান্ধায় বিলুপ্তির পথে লাঙ্গলের হাল

Published:2015-04-03 15:43:18    

 গাইবান্ধা প্রতিনিধি :হট হট অা ডান ডান বায় বায় বায়ে এই শব্দগুলো হারিয়ে যাচ্ছে দিনেদিনে। হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী চাষাবাদে বহুল ব্যবহৃত কাঠের হাতল ও লোহার ফাল বিশিষ্ট কাঠের লাঙ্গল আর হালের বলদ আজ বিলুপ্তির পথে। আমাদের কৃষিপ্রধান দেশে এক সময় ক্ষেতে-খামারে কৃষকের লাঙ্গল ও মই দিয়ে চাষাবাদের দৃশ্য সবার নজর কাড়ত। গাইবান্ধার পল্লী অঞ্চলে এখন তেমন চোখে পড়েনা লাঙ্গলের হাল।
        
চাষাবাদের অন্যতম উপকরণ হিসেবে কাঠের লাঙ্গল ছিল অপরিহার্য। এক সময় কাঠের লাঙ্গল ছাড়া গ্রাম বাংলায় চাষাবাদের কথা চিন্তাই করা যেত না। কিন্ত আধুনিক যুগে পদার্পণ করে চাষাবাদে ব্যবহার হচ্ছে যান্ত্রিক সব উপকরণ।এ আবিষ্কারের প্রভাবে ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে কৃষি কাজে ব্যবহৃত ওইসব লাঙ্গল, জোয়াল, মই ও হালের বলদ।
      এসবের ব্যবহার স্বল্প আয়ের কিছু সংখ্যক কৃষক পরিবারে কোনো রকমে টিকে থাকলেও বিজ্ঞানের ক্রমশ উত্কর্ষের যুগে কৃষি কাজে ঠাঁই করে নিয়েছে পাওয়ার টিলার, ট্রাক্টর। এর ফলে মানুষ আগের তুলনায় সময়, শ্রম এবং অর্থ উভয়ই সাশ্রয় ঘটাতে সক্ষম হয়েছে বৈকি। তবে যন্ত্রটির মূল্য সবার সাধ্যের মধ্যে না থাকায় এককভাবে অনেকেরই কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এসব যন্ত্র দিনে দিনে কৃষকের কাছে বেশ জনপ্রিয়তাও পেয়েছে। যন্ত্রটির ব্যাপক চাহিদা থাকায় বর্তমানে চাষাবাদের সব ধরনের কাজেই এটি ব্যবহার করছে কৃষক।
       অপরদিকে ব্যাপক চাহিদা থাকায় কেউ কেউ আবার বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পাওয়ার টিলার কিংবা ট্রাক্টর ভাড়াও দিচ্ছে। এখনও গ্রাম-গঞ্জের অনেকেই কৃষি মৌসুমে গ্রাম্য হাটবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে চাষাবাদের পুরনো দিনের কালের সাক্ষী লাঙ্গল, জোয়াল, মই ইত্যাদি সরঞ্জামের পসরা সাজিয়ে বসে। যারা এগুলোকে পেশা হিসেবে নিয়ে তৈরি করছেন, তাদের অনেককেই এজন্য বেশির ভাগ সময় বেকার বসে থাকতে হচ্ছে। তখনকার সময় এটিও ছিল কারও কারও পেশা। যার মাধ্যমে তারা জীবিকা নির্বাহ করত। বেশ কিছুকাল আগেও গ্রামাঞ্চলের কৃষকরা জমিতে চাষাবাদ করতে হালের বলদ, লাঙ্গল ও মইয়ের ব্যবহার ছাড়া জমিতে চাষাবাদের কথা কল্পনাও করতে পারত না। তখন লাঙ্গল-মইসহ কৃষি সরঞ্জাম তৈরিতে ব্যস্ত থাকত গ্রামাঞ্চলের অজস্র শ্রমিক। সেই কাঠের লাঙ্গল যেন আজ ঐতিহ্য বহন করা আর স্মৃতি জাগানিয়া শুধুই কালের সাক্ষী।

বাংলাসংবাদ২৪/জাকির/সাঈদ

আরও সংবাদ