Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Sun August 19 2018 ,

যৌবনের গান: কাজী নজরুল ইসলাম

Published:2015-04-16 16:03:48    

১৯৩২ সলে সিরাজগঞ্জে মুসলিম যুব সমাজ কাজীনজরু লইসলামকে অভিনন্দন করতেগেলে তাদের উত্তরে লেখক যে প্রাণোচ্ছল ভাষন দিয়েছিলেন ‘যৌবনেরগান’ রচনাটি তারই পরিমার্জিত একটি লিখিত রূপ।

নিম্নে এই প্রবন্ধের গুরুত্বপূর্ন কিছু অংশের আলোচনা তুলে ধরা হলো:-

প্রবন্ধটির শুরুর অংশেই লেখক বলেছেন আমার আজ বলতে কোন দ্বিধা নেই যে, আমি তাদেরই দলে যারা মানব জাতির কল্যান করে সেবার মাধ্যমে, কর্মের মাধ্যমে, আর তার মত যদিনা-ই হন তবে একেবারেই ক্ষুদ্র নন। আর তাহারা সবসময় থাকেন গোপনে শক্তির পেছনে।

আমি একজন কবি আর আমার স্বভাবই হচ্ছে পাখির মত গানকরা, এতে কারো ভাল লাগলেও গাই না লাগলেও গাই। একটি কাক যখন তার তীক্ষ্ণ চক্ষু দ্বারা কোন গান পাখির দিকে তাকায় তখন ঐ গান পাখিটি এক ডাল থেকে অন্য ডালে গিয়ে গান গায় এমনিভাবে যদি আমার দিকে কেউ তাকায় বা আমাকে কেউ তারিয়েও দেয় আমি আমার স্থান ত্যাগ করব ঠিকই কিন্তু আমার গান আমার কবিতা আমি বন্ধকরতে পারবনা।

প্রবন্ধে লেখক বলেছেন আমি এখানে এসেছি আপনাদের বন্ধু হয়ে আপনাদের কোন দলীয় নেতা হয়ে নয়, আমি যা করবো আপনাদের নিয়ে, আপনাদের দল ভুক্ত হয়ে, সহযাত্রি হয়ে। আমরা সকলে এক সাথে বিকাশিত হইতে চাই।

প্রবন্ধটিতে লেখক আরো বলেছেন - বক্তিয়ার খিলজি, লক্ষণ সেন, কালাপাহাড়, কামাল পাশা, করিম, মুসোলিনি, সানইয়াৎ সেন, লেনিন পদ্মা-ভাগীরথীর মত খরস্রোতা যাঁহাদের বাণী, আমি তাঁহাদের বহু পশ্চাতে। তারুণ্যের ভরা ভাদরে যদি আমার গান জোয়ার আনিয়া থাকে, তাহা আমার অগোচরে। যে চাঁদ সাগরে জোয়ার আনে সে হয়ত তাহার শক্তি সম্পর্কে আজও না ওয়াকিফ(অজ্ঞাত)। লেখক বলেন, বার্ধক্যকে সবসময় বয়সের ফ্রেমে বেঁধে রাখা যায় না। বহু ‍যুবককে দেখিয়াছি যাহাদের যৌবনের উর্দির নিচে বার্ধক্যের কঙ্কাল মূর্তি।

আবার বহু বৃদ্ধকে দেখিয়াছি- যাঁহাদের বার্ধক্যের জীর্ণাবরণের তলে মেঘলুপ্ত সূর্যর মতো প্রদীপ্ত যৌবন।

যাহা পুরাতনকে, মিথ্যাকে, মৃত্যুকে আঁকড়াইয়া পড়িয়া থাকে তাহাই বার্ধক্য। বনের পাখির মত স্বভাব আমার গান করার।

আজ আমরা মুসলিম তরুনেরা যেন অকুন্ঠিত চিত্তে মুক্ত কন্ঠে বলিতে পারি ধর্ম আমাদের ইসলাম, কিন্তু প্রনের ধর্ম আমাদের তারুণ্য, আমাদের যৌবন। আর আমরা যুবকেরাই হচ্ছি সকল ধর্মের, সকল দেশের, সকল জাতীর সকল কালের।

আর যৌবন হচ্ছে অফুরন্ত প্রাণশক্তি, যা আমাদের জীবনকে করে তুলে গতিশীল ও প্রত্যাশাময়।

যৌবন শক্তিকে কবি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন সমস্তজীর্ণ পুরোনো সংস্কারকে ধবংস করে মনের মত নতুন জগত রচনার সাধনায় অগ্রসরহতে।

খোদা হাত দিয়েছেন বেহেস্ত ও বেহেস্তি চিজ অর্জন করার জন্যে, ভিখারির মত হাত তুলিয়া ভিক্ষা করার জন্য নয়। আমরা আমাদের পৃথিবী মনের মত করিয়া গড়িয়া লইব, আর এটাই হউক তরুণের সাধনা।

ইসরাফিল ফরাজী
 

আরও সংবাদ