Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Fri September 21 2018 ,

ঘটন.. অঘটন..! প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন, নারী নির্যাতন এবং ক’টি অঘটন!

Published:2015-05-08 17:18:09    
মীর আব্দুল আলীম
 
কোনটা রেখে কোনটা বলি। সব ক’টা ঘটনাই রিতিমতো পিলে চমকানো! অল্প ক’দিনেই ঘটেছে ঘটনাগুলো। সর্বশেষ ভুমিকম্প আতংকের মাঝে বিতর্কিত নির্বাচন জনমনে ভীতি তৈরি করেছে। নির্বাচনকে ইস্যু করে ২০ দলীয় জোট আবার জ্বালাও পোড়াও এর রাজনীতিতে মেতে ওঠবে কিনা, সেই ভয়ই আমজনতাকে পেয়ে বসেছে। আতংক চমক সবই দেশে বিরাজ করছে। প্রতিনিয়তই একর পর এক চমক পাচ্ছে দেশবাসী। ২৮ এপ্রিল বিতর্কিত নির্বাচন সর্বশেষ চমক তৈরি করেছে। 
 
সম্প্রতিকালের ১২ এপ্রিল সবাইকে চমকে দিয়ে হঠাৎ একটি ট্রেন উল্টোপথে যাত্রা শুরু করলো। কোন চালক ছাড়াই পিছন পথেই ২৬ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেয় ট্রেনটি। বোধ করি এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বিড়ল ঘটনা। এর দিন দু’য়েক পর ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আরেক চমকানো ঘটনা ঘটে। টিএসসিতে নারীদের উপর নির্বিচারে যৌন নিপীড়নের ঘটনাটি যা কিনা এখন দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছে। বাংলাদেশ সৃষ্টির পর দেশের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপিঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তথা টিএসসিতে দীর্ঘ সময় ধরে প্রকাশ্যে একাধিক নারী লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম। ২১ এপ্রিল সাভারে ব্যাংক ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। দেশে ব্যাংক ডাকাতির ঘটনা নতুন নয় তবে সাভারে দিনেদুপুরে ফিল্মি স্টাইলে গ্রেনেড, অস্ত্র বোমার হামলা করে ৮ জনকে হত্যা এবং ডাকাতির ঘটনা বাংলাদেশের ৪৪ বছরের ইতিহাসে প্রথম বলা যায়। ২২ এপ্রিল দিনের বেলায়  বিএনপি চেয়ার পার্সন বেগম খালেদা জিয়ার গাড়ি বহরে হামলা হয়েছে। প্রকাশ্যে ছাত্রলীগ নেতা কর্মীরা তার নিরাপত্তাকর্মীদের আহত করে বেগম জিয়ার গাড়িটিও ভাংচুর করে। চারটি ঘটনাই আড়ালে আবডালে নয় প্রকাশ্য দিবালোকে  জনসমক্ষে সংঘটিত হয়েছে। আর ২৮ এপ্রিলের ৩ সিটি নির্বাচনের হাল-হাকিকত তো সবারই জানা। 
 
সর্বশেষ ২৮ এপ্রিল ঘটে যাওয়া ঘটনা দিয়েই শুরু করলাম। টানা অবরোধ ও হরতালে জ্বালাও ও মানুষ পোড়ানোর পর নির্বাচন নিয়ে ৩ সিটি কর্পোরেশন মানুষতে বটেই সারাদেশের মানুষ উৎসব মুখর হয়ে উঠে। শান্তি স্বস্তির আশায় মানুষ এ নির্বাচনকে লুফে নিলো। আশা করছিলো নিরপেক্ষ নির্বাচনের। কিন্তু সবই গুঁড়ে বালি। প্রশ্নবিদ্ধ হলো ২৮ এপ্রিলের নির্বাচন। শস্কা তৈরি হলো জনমনে। সবারই প্রশ্ন  আবারও জ্বালাও পোড়াওয়ের রাজনীতি শুরু হবে নাতো? আমজনতা এ নির্বাচনকে ভালো দৃষ্টিতে না দেখলেও তারা কিন্তু ২০ দলীয় জোটকে পূর্বেও জ্বলাও পোড়াওযের রাজনীতিতে দেখতে চায় না।
 
টানা অবরোধ আর হরতালে দেশের ১৬ কোটি মানুষ ছিলো বড় অসহায়। রাস্তয় বেরিয়েই তাঁদের আতঙ্কে থাকতে হয়েছে। এই বুঝি ককটেল, গান পাউডার, পেট্রলবোমায় প্রাণ যায়; এই বুঝি আগুনে ঝলসে যাচ্ছে শরীর! একের পর এক লাশ পড়েছে। জ্বলে-পুড়ে সম্পদ নষ্ট হয়েছে। রাজনৈতিক ক্ষুধার্ত বাঘ দিনদিন সহিংস হয়েছে। কোথাও সুখের দেখা মিলছিলো না। মৃত্যুহীন দিন, পঞ্জিকা থেকে যেন বিদায় নিয়েছিলো। সুসংবাদরাও যেন উধাও হয়ে গিয়েছিলো। অপ-রাজনীতির যাতাকলে দেশের মানুষ পুড়ে মরেছে, ডুবেছে অর্থনীতি। এ ধরনেরই ছিলো হরতাল-অবরোধ! মানুষ পুড়িয়ে মারা, শিক্ষা ব্যবস্থা বিপর্যস্ত করা, দেশের অর্থনীতি পঙ্গু করে দেয়ার রাজনীতি আর দেশের মানুষ চায় না। ভাঙচুর-খুনখারাবির করলেই কি ক্ষমতায় যাওয়া যাবে? দেশের মানুষকে কষ্ট দেওয়ার নাম হরতাল অবরোধ হতে পারে না। দেশ এক পা এগিয়ে দু’পা পিছিয়ে যাচ্ছে। ব্যবসায়ীদের ক্ষতি মানে দেশের অর্থনীতিতে দারিদ্র্যের বাণ ডাকা। শিক্ষার্থীদের ক্ষতি মানেই ধ্বংসের মুখে পড়ে দেশ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। এই জ্বালাও-পোড়াও রাজনীতি থেকে মুক্তি চায় মানুষ। 
 
এ কথাও ঠিক যে দেশের  মানুষ এখন চরম অসহায়ত্ব বোধ করছে। জেল জুলুম, ভোট ডাকাতির রাজনীতিও মোটেও জনগনের পছন্দ নয়। এ থেকে ক্ষমতাসীন দলকে বেরিয়ে আসতেই হবে। ভোট ডাকাতি, কারচুবি, জালিয়াতী সেই যাই বলি না কেন এ ক্ষেত্রে বিএনপির ভোট বর্জনের বিষয়টিও সামনে আসে। বিরোধী জোট ভোটে ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগ করলেও বর্জনের আগ পর্যন্ত বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের বিপুল পরিমাণ ভোট পাওয়ার দিকটি বেশ লক্ষনীয়। 
 
আমরা মনে করি বিএনপির প্রার্থীদের ওই সময়ে নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করাটা মোটেও ঠিক হয়নি। যতদুর আলোচনায় বুঝা যায়, নির্বাচন বর্জন না করলে হয়তো এতরফা ভোটে আওয়ামীলীগের সব প্রার্থী জয়ী না হওয়ারই কথা। ২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত তিন সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরুর তিন ঘণ্টার মধ্যে বর্জনের ঘোষণা দেন মনজুর আলমসহ বিএনপি সমর্থিত অন্য মেয়র প্রার্থীরা। এতে আওয়ামীলীগের প্রার্থীদের সমর্থকরা একটু বেশিই বেপরোয়া হয়ে ওঠে। খালি মাঠ পেলে যা হয় তাই হয়েছে কোথাও কোথাও। বাঙ্গালী স্বভাব বলে কথা। 
 
কি অবাক করা কথা! এদেশে নিয়ম কানুনের যেন বালাই নেই। উল্টো পথেই ট্রেন চলা শুরু করে। গত ১২ এপ্রিল রাজবাড়ী থেকে ফরিদপুরগামী ট্রেনটি কোন চালক ছাড়াই উল্টোপথে কুষ্টিয়ার দিকে ৪টি রেলস্টেশন অতিক্রম করে ২৬ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিলো। পর একজন টিটির সাহসী প্রচেষ্টায় থামানো সম্ভব হয় ট্রেনটি। বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির সমূহ আশঙ্কা থেকে সৌভাগ্যজনকভাবে বেঁচে গেছে ট্রেনের যাত্রীরা। 
 
এ কথা সত্য যে, নিরাপত্তাহীনতা, উন্মুক্ত রেলক্রসিংয়ে দুর্ঘটনায় প্রায়শ প্রাণহানি, ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় ইত্যাদি বিষয়গুলো বাংলাদেশ রেলওয়ের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে। এবার অতীতের সব ঘটনা-দুর্ঘটনার রেকর্ড ছাপিয়ে উল্টোপথে ২৬ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করার বিরল ও বিস্ময়কর দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। চারটি রেলস্টেশন ছাড়াও এ পথে কয়েকটি রেলক্রসিংও চালকবিহীন ট্রেনটি অতিক্রম করে। কি ভাবে ঘটল এ ঘটনা? যতদু জানি, ট্রেন ছাড়ার ৪৫ মিনিট আগে চালক এবং গার্ডের ট্রেনে অবস্থানের নির্দেশনা রয়েছে। ট্রেনের পরিচালককেও ট্রেন ছাড়ার ৩০ মিনিট আগে ট্রেনে অবস্থান করতে হয়। আলোচিত ট্রেনের উল্টোযাত্রার সময় চালক, গার্ড বা পরিচালকের কেউই ট্রেনে ছিলেন না বলে জানা যায়। ট্রেনটির ইঞ্জিন চালু করেছিল কে? ব্যাক গিয়ারেই বা চাপ দিয়েছিল কে? ট্রেনের ইঞ্জিন চালু করে চালক বা পরিচালকের বাইরে চলে যাওয়া একটি গুরুতর দায়িত্বহীনতা। দেশে স্পিড ট্রেন, ম্যাগলেভ ট্রেন, বুলেট ট্রেন ইত্যাদি মেগা-প্রকল্প নিয়ে স্লোগানবাজি ও স্বপ্ন দেখানোর রাজনীতি হলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। বাংলাদেশ রেলওয়ে কেবল পিছিয়েই যাচ্ছে; সামনে এগুতে পারছে না। ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলে রেলওয়ে তার নিয়ম-শৃঙ্খলা, সময়ানুবর্তিতা, পরিচ্ছন্নতা ও যাত্রীসেবার মান রক্ষায় সফল ছিল। সারাবিশ্বে যখন রেলব্যবস্থা উন্নত প্রযুক্তি ও সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে নিচ্ছে, আমাদের রেলব্যবস্থা তখন যেন মুখ থুবড়ে পড়তে শুরু করেছে। অথচ স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশের গত সাড়ে চার দশকে দেশের সড়ক পরিবহন ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন ঘটে গেছে। অতি মূল্যবান কৃষিজমি গ্রাস করে নতুন নতুন সড়ক-মহাসড়ক নির্মাণে জনগণের ট্যাক্সের হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। পক্ষান্তরে ঐতিহ্যবাহী রেলপথ ও রেল জংশনগুলোর স্থাপনা, জনবল এবং সম্পদ কাজে লাগিয়ে সময়োপযোগী উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের কোন উদ্যোগই নেয়া হয়নি। দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব করতে হলে সরকারকে রেলব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে। রেলের দুর্নীতি, অনিয়ম, দায়িত্বহীনতা ও দখলবাজি বন্ধে সরকারের আন্তরিক উদ্যোগ দেখতে চায় জনগণ। 
 
দেশটা যেন এক মগের মুল্লুুক? একের পর এক অঘটন ঘটেই চলেছে। নববর্ষের সন্ধ্যাবেলায় লজ্জায় মাথা কাটা যাবার মত ঘটনা ঘটেছে দেশের সর্ব্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে। এনিয়ে রিতিমত ছি: ছি পড়ে গেছে দেশে। ১৪ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বর্ষবরণের উৎসবে যৌন হয়রানি ও নারী লাঞ্ছনার ঘটনায় জাতি বিস্মিত, মর্মাহত ও লজ্জিত। সেদিন সাহরাওয়ার্দী উদ্যান, টিএসসি ও শাহবাগ জুড়ে বর্ষবরণ উৎসব। হাজার হাজার তরুণ-তরুণী যোগ দেন এতে। এরই মধ্যে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসংলগ্ন টিএসসিতে প্রকাশ্যে একদল বখাটের অশ্লীল আক্রমণের শিকার হন নারীরা। কিশোরী থেকে মধ্যবয়সী কেউই রেহাই পাননি এদের হাত থেকে। দেড় ঘণ্টাব্যাপী চলে বখাটেদের নগ্ন উল্লাস। এ সময় আক্রমনের শিকার তরুণীরা বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করলেও কেউ এগিয়ে আসেনি তাদের সাহায্যে। অথচ পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ছিলেন নিস্কিৃয়। তারা কেউ এগিয়ে যাননি। এমনকি পাঁচ বখাটেকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়ার পরও ছেড়ে দেয়া হয়। নববর্ষেও অনুষ্ঠানের ওই ঘটনার পর পুলিশের ‘লোক দেখানো’ ভূমিকা নিয়ে হতাশা আমরা। এ ঘটনা আবার স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে কী হিংস্রতা ও নগ্নতা আমাদের মনের গহীনে বাসা বেঁধেছে।সারাদেশে এ ঘটনার প্রতিবাদে চলছে নানা রকম কর্মসূচি। এসব কর্মসূচিতেসবাই যেমন সোচ্চার হচ্ছেন নিপীড়কদের বিরুদ্ধে এবং একই সঙ্গে দায়িত্বপ্রাপ্তদের ব্যর্থতাকেও দায়ি করছেন। ঘটনার ধারাবাহিকতায় পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের  বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা এবং ঘটনা পরবর্তী ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই ধরনের মর্মান্তিক, বিভৎস ঘটনায় লজ্জিত গোটা পুরুষ সমাজ। এ ঘটনার পরপরই যার যা করার কথা ছিল তা করা হয়নি কেন? তাদের ভূমিকা, ঘটনা সম্পর্কে তাদের সংবেদনশীলতা ইত্যাদি নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের যথাযথ ভুমিকা পালনে ব্যর্থতায় মানুষের মাঝে প্রশ্ন জাগাটাই স্বাভাবিক। কাদের রক্ষার জন্য এহেন ভূমিকা তারা পালন করছে? যাই বলি না কেন তাদের ব্যর্থতা, নিরবতার দায়ভার গিয়ে পড়ছে সরকারের কাঁধে। অবশ্য যথারীতি তা পড়ারই কথা। কারণ এই ব্যর্থতার জন্য সরকারও নরপশুদের বিরুদ্ধে চোখে পড়ার মতো কোনো ব্যবস্থা এখন পর্যন্ত গ্রহণ করেনি। ফলে ঘটনাটি নিয়ে সবার মাঝেই রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। জননিরাপত্তা ও জনআস্থা রক্ষার স্বার্থে এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি। এ জাতীয়  ঘটনা আর পুনরাবৃত্তি চায়না জনগন।
 
১৪ এপ্রিলের লজ্জা না ঘুচতেই ২১ এপ্রিল ঢাকার উপকণ্ঠে আশুলিয়ার কাঠগড়া বাজারে বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকে কি ভয়ানক ডাকাতির ঘটনা ঘটে গেলো। এ ডাকাতি যেমন দুর্ধর্ষ তেমনি নৃশংস। ডাকাতদের সঙ্গে শুধু আগ্নেয়াস্ত্র নয়, ছিল গ্রেনেডও। প্রকাশ্য দিবালোকে ফিল্মি স্টাইলে সশস্ত্র ডাকাত দল ব্যাংকে গ্র্যানেড ফাটিয়ে ও গুলি ছুড়ে তান্ডব সৃষ্টি করে। এতে ব্যাংকের ব্যবস্থাপকসহ নিহত হয়েছেন ৮জন। বোধ করি এটিই বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যাংক ডাকাতির ঘটনা। দিনে দুপুওে ফিল্মি স্টাইলে ব্যাংকে ডাকাতদের গ্রানেড, গুলি-বোমার তান্ডবে পুলিশও বিস্মিত। এ ঘটনায় পুলিশি নিরাপত্তাব্যবস্থায় নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। পুলিশ বা দেশের অপরাপর নিরাপত্তাব্যবস্থা কার ও কিসের জন্য? এ কথাও সত্য যে দেশে ব্যাংক 'ডাকাতি' বাংলাদেশে নতুন নয়। বেপরোয়া ধরণের লোভী অর্বাচীনরা, যারা সাধারণত: শিক্ষা-দীক্ষায় পিছিয়ে পড়া সমাজের অংশ, অস্ত্র ও বোমা নিয়ে প্রকাশ্যে ডাকাতি করে। কখনও ধরা পড়ে, কখনও পড়ে না। ধরা পড়লে বিচারের নামে মাত্র শাস্তি হয়। আবার হয়ও না। তাই বাবর বারই ব্যাংক দস্যুতার ঘটনা ঘটে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সভারের ঘটে যাওয়া ঘটনায় রিতিমত নড়েচড়ে বসেছে। ভবিষ্যতে যাতে ডাকাতদল ব্যাংকে প্রবেশ করে অস্ত্রের মুখে কর্মকর্তাদের জিম্মি করে কাউকে হত্যা ও লুটপাট চালাতে না পারে বা ডাকাতি রোধ করতে নিরাপত্তা কিভাবে জোরদার করা যায়, এ নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনর। আমাদের এই এক দোস। আমরা কোন একটা অঘটন ঘটে গেলে সজাগ হই। তৎপরতা বাড়াই। তবে এ তৎপরতা ক্ষণিকের। এ ক্ষেত্রে যেন তা না হয় এটাই কায়মনে চাই আমরা। সাভারের ব্যাংক ডাকাতির এমন নিন্দনীয়-ন্যক্কারজনক ঘটনা ইতিপূর্বে দেশে ঘটেছে কি না আমি জানি না, তবে এটা বুঝি আর বেশি দুর এগাতে দেয়া যায় না। এ জাতিয় ঘটনা রোধে সরকারকে এখনই সব্বোর্চ ব্যবস্থা নিতে হবে। যারা এ ঘটনার সাথে জড়িত তাতের শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
 
খবরের কাগজ পড়তে গিয়ে আজকাল আমি কেন যেন বেশ উত্তেজিত হয়ে পরছি! মস্তিষ্কের সুস্থতার উপর সন্দেহ হচ্ছে আমার। ভাবছি সুস্থ আছি তো? সেদিন পত্রিকার প্রথম পাতার খবরটি উত্তেজনা বাড়লো। ২২ এপ্রিল দিনের বেলার ঘটনা। বিকেলে  রাজধানীর বাংলামোটরে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে সশস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। এটিই প্রথম নয় এর আগেও দু’দফা হামলা হয়েছে তবে সরাসরি তার গাড়িতে আঘাত করা হয়নি। এবারের হামলায় তার গাড়ির বামদিকের গ্লাস ও বাম্পার ভেঙে যায়; আহত হন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাসহ অনেকে। হামলাকারীদের চিহ্নিতও করা গেছে। জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে জানা যায়, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে গাড়িবহরে হামলা চালান। একই সঙ্গে খালেদা জিয়ার নিরাপত্তাকর্মীদের গাড়িতেও হামলা চালিয়ে এলোপাতাড়ি ভাংচুর করা হয়। 
 
দেশে এসব কী হচ্ছে? দীর্ঘ তিন মাস অবরোধ কর্মসূচির পেট্রলবোমা-আতংক কাটিয়ে জাতি ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে শুরু করেছিল; কিন্তু ছাত্রলীগের ক্যাডাররা এখন রাজধানীতে বিষবাষ্প ছড়িয়ে চলেছে। বিএনপি তো অগণতান্ত্রিক অবরোধ কর্মসূচি পরিত্যাগ করে নির্বাচনের গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে এসেছে। তাহলে কেন তাদের গণতান্ত্রিক অধিকারকে ক্ষুন্ন করা? এই হামলার ঘটনাকে আমরা অত্যন্ত উদ্বেগজনক হিসেবেই বিবেচনা করতে চাই। একই সঙ্গে নির্বাচনী প্রচারণাকে ঘিরে যখন উৎসব বিরাজ করছে তখন এ ধরনের হামলা উস্কানিমূলক বলেও প্রতীয়মান হয়। ফলে রাজনৈতিক পরিস্থিতি আবারো নতুন করে অস্থিতিশীলতার দিকে এগিয়ে যাক এমনটি কোনোভাবেই কাম্য নয়। খালেদা জিয়া বাংলাদেশের একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলের চেয়ারপারসন। যিনি বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেত্রী, সর্বোপরি তিনি একজন বিশিষ্ট নাগরিক। তার গাড়িবহরে শাসক দলের অঙ্গসংগঠন এভাবে হামলা করবে এটা প্রত্যাশিত হতে পারে না।
 
পরিশেষে বলবো, অল্প সময়ের ব্যবধানে দেশে এমনসব ঘটনা ঘটে গেলো যে, তা দেখে দেশবাসী রিতিমতো বিস্মিত। আমরা এ জাতিয় ঘটনা আর একটিও দেখতে চাই না। এসব ঘটনার সাথে যারাই জড়িত হোক, তাদের আইনের আওতায় আনা জরুরি। আর দশটি চাঞ্চল্যকর ঘটনার মতো যেন, এ চারটি ঘটনাও আড়ালে হারিয়ে না যায় এটা কায়মনে প্রত্যাশা দেশবাসীর। সঠিক তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উন্মোচন করার মাধ্যমে এর সমাধান করতে হবে। আমাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট মহল এ ব্যাপারে দ্রুত উদ্যোগ নেবেন, সে সঙ্গে সকল অপরাধীদের শাস্তিও নিশ্চিত করা দরকার মনে করি। রাজনৈতিক দলগুলো রাষ্ট্রীয় ক্ষতি হয় এমন কর্মসূচি না দিয়ে প্রতিবাদের জন্য অন্য কোন পন্থা বেছে নিতে পারে। সহিংসতা নয়, আলোচনার মাধ্যমে সকল সমস্যা সমাধানে আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান রইল।
                                                                                                                     
 
                                                                                                                                    (লেখক: সাংবাদিক, গবেষক ও কলামিস্ট)
                   
 
   বাংলাসংবাদ/অন্তুমুজািহদ