Widget by:Baiozid khan
  • Advertisement

বিদেশী নয়, দেশীয় গানের চর্চা করব: সাহস মোস্তাফিজ

Published:2015-05-16 13:16:44    

বাংলাসংবাদ২৪ .কম:

প্রায় একযুগ আগে ক্ষুদে ভাওয়াইয়া শিল্পী হিসেবে যার পরিচিতি ছড়িয়ে পড়েছিলো সারা দেশে। দীর্ঘ ১১ বছর বিরতির পর সঙ্গীত জগতে আবার ফিরে আসা। প্রকাশিত হয়েছে তার একক অ্যালবাম সাহস রিটার্ন।

তরুণ প্রজন্মের একজন শিল্পী হয়েও গানের ভুবনে গ্রাম বাংলার গান নিয়েই যার অনেক স্বপ্ন। স্বপ্ন বুননের নানা বিষয় নিয়ে তার সাথে কথা হয় সাক্ষাৎকারটি পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

 বাংলাসংবাদ :কেমন আছেন ?
 সাহস মোস্তাফিজ: শিল্পীরা সব সময় ভালো থাকে কারণ তার মাঝে থাকে সুর, আমিও এর ব্যতিক্রম নই। তাই বলতেই হয় ভালো আছি।

 দীর্ঘ ১১ বছর পর সঙ্গীত জগতে ফেরা কেন ?

 আমি ছোট বেলা থেকেই ভাওয়াইয়া গান করতাম। আমার জন্ম রংপুর জেলায়। ও কি ও কাজল ভোমরা গানটি আমার প্রথম মঞ্চে গাওয়া গান। তখন আমার বয়স ছিলো মাত্র তিন বছর। শিশু একাডেমী স্বর্ণপদক, শিশুশিল্পী হিসেবে জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগীতা, শাপলা শালুকসহ নানা প্রতিযোগীতায় শীর্ষস্থান অর্জন করি।

আব্বাস উদ্দীন জন্মশত বার্ষিকী অনুষ্ঠানে ২০০২ সালে ভারত সরকারের আমন্ত্রনে কলকাতাসহ সেখানে তিনটি মঞ্চে ভাওায়াইয়া গান গেয়েছিলাম। এছাড়া অসংখ্যবার মঞ্চে গান করেছি। ২০০৩ সালে শওকত ওসমান মিলনায়তনে সর্বশেষ অনুষ্ঠান করি। বয়:সন্ধিকালে পারিবারিক সিদ্ধান্তেই গান থেকে বিরতি নেই। এর পর পরিনত বয়সে আবার গানে ফেরা।

এই ১১ বছরে কি কোন স্টেজেই গান করা হয়নি ?

স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠান ছাড়া বাইরে কোন অনুষ্ঠানে গান করিনি। এই সময়টাতে আমি নিজেকে পরিনত করার চেষ্টা করেছি। পরিনত হয়েছি সেটা বলব না। তবে গানের সব শাখায় একটু একটু করে ঢোকার চেষ্টা করেছি।

 বিরতির পর শুরুটা কিভাবে ?

গত বছরের নভেম্বরে বাজারে আসে আমার একক অ্যালবাম ‘সাহস রিটার্ন’। এ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি চত্বরে এক বিশাল আয়োজনে আমার একক সঙগীতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ অনুষ্ঠানে আমি অনেক সাড়া পেয়েছি। অনুষ্ঠান বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকেও অনেক সহযোগীতা পেয়েছি।

সাহস রিটার্নস কি আপনার প্রথম অ্যালবাম ?

এর আগে ছোট সময়ে ‘বুড়্যা কানে শোনে কম’, ও ‘ফান্দে পড়িয়া বগা কান্দে রে’ দুটি ভাওয়াইয়া গানের অ্যালবাম প্রকাশিত হয়। তবে ১১ বছর পর পরিনত বয়সে এটাই আমার প্রথম অ্যালবাম।

 কেমন সাড়া পেয়েছেন ?

 হ্যাঁ অনেক সাড়া পেয়েছি। বিশেষ করে অনেক সিনিয়র সঙ্গীতশিল্পীরা এর প্রসংশা করেছেন। আসলে দীর্ঘ বিরতি নিয়ে ১১ বছর পর এই অ্যালবামের মাধ্যমে আমার সঙ্গীতে ফেরা। অ্যালবামের গান ১২টি। কয়েকটির কথা ও সুর আমার নিজের করা। বাকীগুলো বাবা এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমান, সুবীর নন্দী, মোহাম্মদ রফিকুজ্জামান, ফোয়াদ নাসের বাবু ও বাপ্পা দা’র। অ্যালবামের একমাত্র দ্বৈত গানে আমার সঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছেন ছোট বোন মন।

কার হাত ধরে গানে আসা ?

 বাবার হাতধরে। আমার বাবা একেএম মোস্তাফিজুর রহমান একজন ভাওয়াইয়া গবেষক ও ভাওয়াইয়া শিল্পী। তিনি বাংলাদেশ বেতারের সঙ্গীত প্রযোজক। তিনি ভাওয়াইয়া ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। মা সালমা মোস্তাফিজও রেডি টেলিভিশনের একজন ভাওয়াইয়া শিল্পী। জন্ম থেকেই ওরকম একটা পরিবেশ পেয়েছিলাম। বলা যায় মায়ের পেটে থাকতেই গানের প্রতি আকর্ষণ। আমি মাত্র আড়াই বছর বয়সে রংপুর বেতারে গান করি।

 এ সময়ের তরুণ হয়েও ভাওয়াইয়া গানের প্রতি কেন এতো আগ্রহ ?

 পারিবারিক ভাবে আমার রক্তের সাথে মিশে গেছে ভাওয়াইয়া সুর। বাবা- মা দুজনেই ভাওয়াইয়া শিল্পী। সে হিসেবে খুব ছোট থেকেই ভাওয়াইয়া গানের কথা ও সুরের সাথে আমার পরিচয়। সাড়ে ৫ বছর বয়সে রংপুরে একক ভাওয়াইয়া সন্ধ্যায় ১০টির মতো গান করেছিলাম।

দেশের ইতিহাসে এটাই ছিলো প্রথম একক ভাওয়াইয়া সন্ধ্যা। সেই থেকেই ক্ষুদে ভাওয়াইয়া শিল্পী হিসেবে আমার পরিচয় ছড়িয়ে পড়ে। আর এইসব গানগুলো সকল পেশার, সকল শ্রেনীর লোকের গান। ভাওয়াইয়া কিংবা লোকগানের পাশাপাশি আধুনিক গানও আমার ভালো লাগে। আমার এ অ্যালবামে আধুনিক গানও রয়েছে।

 ভাওয়াইয়া গানের কদর কোন অবস্থায় আছে বলে আপনার মনে হয় ?

 প্রায় সব অনুষ্ঠানেই লোক গানের প্রতি দর্শক-শ্রোতাদের আগ্রহ দেখা যায়। দেশের বাইরেও ‘ওকি গাড়িয়াল ভাই এর মতো জনপ্রিয় গানগুলো শুনলে শ্রোতারা উল্লাসে মেতে ওঠেন। দিন দিন গ্রাম বাংলার ভাওয়াইয়া গানের কদর বেড়েই চলছে। কিন্তু আমি সংকিত ভাওয়াইয়াসহ লোকধারার প্রায় সব গানগুলো বিকৃত হচ্ছে। কথা ও সুর ঠিক রেখে হয়তো আমরা নতুন কিছু সৃষ্টি করতে পারি তবে, মূল জায়গা থেকে সরে গিয়ে নয়। কারণ এইসব গানগুলো মাটির গান, শেকড়ের কথা বলে।

কিন্তু বাজারে এসব লোকধারার গানগুলো কম আসছে কেন ?

কম আসছে এটা ঠিক। তরুণ প্রজন্মের একটা অংশ বাংলা সংস্কৃতি থেকে সরে যাচ্ছে বলে আমার মনে হয়। আবার একটা অংশ কিন্তু ঠিকই দেশীয় সংস্কৃতিকে ধরে রেখেছে, এসবের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে। না হলে পহেলা বৈশাখ, পহেলা ফাল্গুন দিন দিন এত বড় উৎসবে পরিণত হতো না।

 গান নিয়ে আপনার ভবিষ্যত কোন পরিকল্পনা আছে কি ?

 লোক গান নিয়ে আমার বিশদ একটা পরিকল্পনা আছে বিশেষ করে ভাওয়াইয়া। এগানগুলো উপভোগ্য স্টাইলে পরিবেশন করার জন্য একটি দল তৈরি করেছি। আমি লেখা পড়া শেষে নিজেকে অন্য পেশায় যুক্ত করব। গানকে বাণিজ্যিক হিসেবে ব্যবহার করব না। দেশাত্ববোধের জায়গা থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমি কখনও হিন্দি গান করব না। দেশীয় গানেরই চর্চা করব।

প্লে ব্যাক করার ইচ্ছে নেই ?

 প্লেব্যাকের স্বপ্নটা প্রায় সবারই থাকে। সিনেমায় গান করতে নিজেকে আরো ভালোভাবে তৈরী করতে চাই। আমি ছোট বেলাতেই আরমান ছবিতে প্লেব্যাক করেছি। জিঙ্গেলেও কন্ঠ দিয়েছি।

বর্তমানে গান নিয়ে কেমন ব্যস্ততা চলছে ?

 আমার প্রকাশ পাওয়া সাহস রিটার্নস এর স্বপ্নের বির্বতন গানের মিউজিক ভিডিও করতে চাচ্ছি। শুটংয়ের কাজ শুরু করব খুব শিগ্রই। আর বিভিন্ন স্টেজ শো এবং টিভি চ্যানেলেও গান করছি। পহেলা বৈশাখে উত্তরায় একটি শো করলাম।

  -হামিদুর রহমান
 

আরও সংবাদ