Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Wed September 26 2018 ,

যমুনায় ব্যাপক ভাঙন, এলাকা ছাড়ছে স্থানীয়রা

Published:2015-06-20 10:38:59    
নিউজ ডেস্ক : বর্ষার শুরুতেই ভাঙনের কবলে পড়েছে যমুনা নদী। তীরের বাসিন্দাদের ছাড়তে হচ্ছে তাদের বসতভিটা। বসতভিটা ছেড়ে অচেনা পথের সন্ধানে নদী পথে রওনা হচ্ছে এ অঞ্চলের শত শত পরিবার। গত কয়েকদিনে ভারী বর্ষণের ফলে ভুয়াপুর উপজেলার অর্জুনা, গাবসারা, নিকরাইল ও গোবিন্দাসী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ব্যাপক ভাঙনের ফলে শতাধিক পরিবার নতুন করে গৃহহীন হয়ে পড়েছে।
এছাড়া টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মাহমুদনগর ইউনিয়নের সরাতৈল, কুকুরীয়া, নয়াপাড়া, কালা বাঙ্গরা, কেশ্বমাইঞ্জাইল, বার বাড়িয়া, তিতুলীয়া, বাইলা পাড়া, হরিপুর ও চালপাকলা, নাগরপুর উপজেলার খকেন ঘাট, মারমা, আটাপাড়া, সিরাজগঞ্জের চৌহালী এলাকার শত শত বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
 
প্রমত্তা যমুনা নদীর ভাঙনে ইতোমধ্যে মানুষের ঘর-বাড়ি ছাড়াও তাদের ফসলি জমি, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনা, কয়েকটি মৎস্য খামার নদী ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণের ফলে এসব এলাকার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
 
এছাড়া যমুনা নদী ভাঙন, ফলে ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়ক, একাধিক স্কুল, কলেজ, নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি, মসজিদ, মন্দির, মৎস্য ও পোল্ট্রি খামারসহ সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনা হুমকির মুখে রয়েছে। অথচ ভাঙন রোধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি স্থানীয় প্রশাসন ও পাউবো কর্তৃপক্ষ। দ্রুতগতিতে নদী ভাঙনের ফলে ঘরবাড়ি ও গৃহস্থলি জিনিসপত্র সড়ানো নিয়ে বিপাকে পড়েছে যমুনা তীরবর্তী মানুষ।
 
 
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মাহমুদ নগর ইউনিয়নের যমুনায় নদীভাঙন এলাকার আব্দুস সালাম বলেন, ‘বেহানে জাল পাতচিলাম এহান থিকা ৪শ আত দূরে। তহন ওনেই নদীর পাড় আছিল। রাত পোহাইলে দেহি ঘরের ঢুয়া ভাংতাছে। জান বাঁছানের নিগা নৌড় দিলাম।’ শুধু সালাম নয়, এ অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষই বিপাকে পড়েছে।
 
স্থানীয় বাসিন্দা হাফেজ আবু রায়হান বলেন, ‘এই এলাকায় গত দু-বছর আগে নদীর প্রশস্ত ছিল ৩ মাইলের মতো।’
 
যমুনা পাড়ের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত দু-বছর আগে নদীর প্রশস্ত ছিল ৩ মাইলের মতো। এ বছরে প্রায় ৪শ বসতবাড়িসহ গত ৩ বছরে প্রায় সাড়ে ৬শ বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে নদীর প্রশস্ততা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৫ থেকে ৬ মাইলে। ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে নদী ভাঙন। পূর্বদিকে সরে পরিবর্তন হচ্ছে নদীর রূপরেখা।
 
এ ব্যাপারে অভিযোগ উঠেছে, গত দুই বছর ধরে যমুনা নদীতে ভাঙন শুরু হলেও তা নিরসনে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি প্রশাসন। বরং গত বছর ভাঙনরোধে ৫শ বস্তা জিও ব্যাগ বরাদ্দ হলেও সেগুলো ব্যবহার করা হয়নি। টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী শাহজাহান সিরাজ জানান, নদী ভাঙনের বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। শিগগিরই কাজ শুরু হবে।
 

আরও সংবাদ