Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Fri July 19 2019 ,

  • Techno Haat Free Domain Offer

‘দোস্ত পাত্রী খোজ, মাইনে ছাড়াও প্রতিদিন ভাগা পাই এক হাজার টাকা’

Published:2015-08-12 00:23:46    
থানায় যেতে যেতে এক পুলিশ কনষ্টেবলের সাথে বন্ধুত্ত্বপূর্ণ সম্পর্ক হয়ে গেছে বাংলাসংবাদ এর ক্রাইম রিপোর্টারের। থানায় গেলেই দোস্ত চা খা। একটু সময় দে, আড্ডা মারি। ভাবীর খবর কি, চাচ্চু কেমন আছে। দোস্ত আমার পাত্রি দেখেছিস। বিয়ে করবো। বাড়ী থেকেও চাপ বাড়ছে। এভাবেই একজন পুলিশ কনষ্টেবল একের পর এক বলেই যায়। শুনতে শুনতে সাংবাদিকের কিছু প্রশ্ন। দোস্ত আজ কি কোন খবর আছে? বিরক্তি সূরে উত্তর ‘ধাত্ তোর তো শুধু খবর’। আগে বল আমার পাত্রি কবে দিবি। 
একটু পর সাংবাদিকের প্রশ্ন, দোস্ত তোর বেতন কত। পাত্রি পক্ষের লোক জিজ্ঞাসা করবে- ছেলের বেতন কত। উত্তরে পুলিশ কনষ্টেবল- বেতন ২২ হাজার টাকা। প্রতিদিন নিয়মিত ভাগা পাই ১ হাজার টাকা। বিশেষ উপলক্ষ্য তৈরি হলেতো কথাই নাই। সেখানে ৫ ই কি ১০ ই কি। যা চাই পেয়ে যাই। এভাবে ধর আমি কনষ্টেবল হিসেবেও প্রতি মাসে কামাই ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা? ফলে টেনশন নাই। পাত্রি খোজ বিয়ে করবো। সংসার ভালই চলবে। এসব ফ্লাট-ট্লাট কোন ব্যাপার না। ৫ বছর চাকুরি করি, তাতেই যা। দিনতো সামনে আছেই। 
সাংবাদিক জিজ্ঞাসা করেন, দোস্ত তুইতো কনষ্টেবল, তাহলে এসআই, এএসআই বা ওসি সাহেবের কত টাকা ইনকাম? বাপরে বাপ, ওসব বলাই যাবেনা। ওরকম পোষ্টে যেতে পারলে তো দোস্ত টাকাই টাকা। ব্যাপক টাকা ইনকাম করা যাবে। স্যার-রা যত টাকা ইনকাম করে মাথাই নষ্ট। আমরা তো পাই চুনে পুটি সমান্য পরিমান। ওনারা তো কামায় হিউজ টাকা। ওসব তোর শোনা দরকার নাই। তুই আবার পত্রিকায় ছাপাবি। দোস্ত প্লিজ পত্রিকায় যেন এসব লিখিস না। আমার নামে লিখলেতো মাগার চাকুরিই থাকবেনা। 
কথা বলতে বলতে হোটেলে বিল দেবার পালা, বিল দিতে গিয়ে দেখা গেল একজন ৫০০ টাকা দিয়ে গেছেন। বলে গেছেন পুলিশ স্যার যা খায় সবটার বিল এখান থেকে নিবা। ওনার কাছ থেকে কোন টাকা নিবা না। মুচকি হেসে এ সাংবাদিককে বলছেন, দেখছোছ? খাওয়ার বিলও দিতে হয়না। এখন বুঝলি? কেমনে চলি? যাক ওসব কথা। ভাবি সহ আমার বাসায় আসবি কবে। সাংবাদিক বলছেন, তুই থাকিস ব্যাচেলর বাসায়। তোর বাসায় ভাবি সহ? কনষ্টেবল: আরে  বলিস কি একা থাকি বাসা ভাড়া দেই ১৬ হাজার টাকা। আলিশান ফ্লাট, ২টা রুম একাই থাকি। সমস্যা নাই ভাবি সহ বাসায় আসবি। 
এই যদি হয় একজন পুলিশ কনষ্টেবলের কথা। তাহলে এই ডিপার্টমেন্টের কি অবস্থা? বিরোধী রাজনৈতিক পক্ষ থেকে বেশ আগেই দাবী তোলা হয়েছে- দেশ এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রনে। পুলিশ যা করছে তাতেই সই করছে সরকার। এভাবে বেপরোয়া পুলিশ কি জনগণের বন্ধু হতে পারে? পারেকি জনগণের অধিকার যথাযতভাবে বুঝে দিতে? নিরাপদ হতে পারেকি জনগণ?
দ্বিতীয় পর্বের জন্য চোখ রাখুন- বাংলাসংবাদের উপর।
বাংলাসংবাদ/সম্পাদকীয় বিভাগ
 

আরও সংবাদ