Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Mon September 24 2018 ,

পুলিশের অনৈতিকতা এবং অযোগ্যতা, বিশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা হীনতা

Published:2015-08-14 00:17:34    
বাংলাদেশ পুলিশের আঁতুড় হল সরাসরি সেই ব্রিটিশ আমল ১৮৬১ সাল। ব্রিটিশ সরকার উপমহাদেশে বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজের সুবিধার্থে পুলিশ অ্যাক্টের মাধ্যমে এই বাহিনী সৃষ্টি করে। এক দিক হতে এই পুলিশ “ভয়েড এব ইনিশিও” অর্থাৎ জন্মতেই ভুল। কেননা এর সৃষ্টিই তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের জনগণের কথা মাথায় রেখে করা হয়নি, করা হয়েছে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন পাকাপোক্ত করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার জন্য। শুরু থেকেই এটা কমবেশি প্যারা-মিলিটারি বাহিনী যদিও কাগজেকলমে সিভিলিয়ান বাহিনী। 
 
ব্রিটিশরা নিজেদের ভূমিতে পুলিশকে সম্পূর্ণভাবে সিভিলিয়ান বাহিনী করে রেখেছে। আনুমানিক ১৮২৯ সালে ব্রিটিশ টেরিটোরিয়াল পুলিশ গঠিত হলেও এর কাঠামো যুগের সাথে তাল মিলিয়ে পরিবর্তন হয়েছে অনেক অনেকবার। সাম্প্রতিক সময়ে অর্থাৎ ৯৬ এবং ২০০০ সালে বড় ধরনের পরিবর্তন হয় এবং যুগোপযোগী হয়। কিন্তু বাংলাদেশের পুলিশের মৌলিক কাঠামো ওই ১৮৬১ সালেরটাই আছে। পরিবর্তন কিছু হয়েছে তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কম গুরুত্বপুর্ন ক্ষেত্রে, যেমন পোশাক।
 
যাইহোক এখন আর ব্রিটিশদের দোষ দিয়ে লাভ নেই এবং দোষ দেওটাও নিজেদের ছোট করা। তারা চলে গেছে প্রায় ৬৫ বছর। সত্য কথা বলতে তারা যা রেখে গেছে তাঁর সামান্যই পরিবর্তন হয়েছে। পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা বিশেষ ভাবে অফিসাররা এখনও নিজেদের “প্যারা-মিলিটারি” ভাবতে পছন্দ করেন। তারা ভুলে যান এখন ঔপনিবেশিবিক রাজকীয় শাসন নেই বাংলাদেশ একটি স্বাধীন সার্বভৌম সাধারন্তান্ত্রিক রাষ্ট্র।
 
পুলিশ এখন সরকারি রাজনৈতিক দলের হাতিয়ার যেমন তারা ব্রিটিশ আমলে ছিল উপনিবেশিক শাসকগোষ্ঠীর হাতিয়ার। সাম্প্রতিক সময়ে মনে হচ্ছে পুলিশ বাহিনী একেবারে ধ্বংসের কাতারে চলে গেছে। পুলিশ হল রাষ্ট্র ব্যবস্থার অন্যতম অঙ্গ। পুলিশের এমন অধঃপতন হওয়া মানে দেশের আভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা হতে থাকা ফলশ্রুতিতে সার্বিকভাবে রাষ্ট্রের ভিতর নৈরাজ্য সৃষ্টি । রাজনৈতিক দায়িত্ব পালন করতে যেয়ে পুলিশ তাদের কর্মদক্ষতা হারিয়ে ফেলছে।
 
ক্ষমতাসীন দলের নেতা এবং তাদের সন্তানাদি এমনকি চামচাদেরও তোষামোদ করে চলতে হয় পুলিশের নাহলে প্রফেশনাল জীবনে কোপ পরে। সুতরাং তোষামোদি যোগ্যতার চাবিকাঠি। সেই সুযোগে অযোগ্য কর্মকর্তারা পুলিশের নেতৃত্বে চলে আসছেন। যার ফলাফল সুদূরপ্রসারী এবং খুবই ভয়াবহ।
 
সাম্প্রতিক সময়ে আরেকটি ভয়াবহ কাজ হয়েছে। পুলিশের সাথে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের সাথে মিশিয়ে পুলিশের আরেকটি স্বাধীন বিভাগ করা “র‍্যাব”। এই কাজে দীর্ঘমেয়াদি কতটা ক্ষতিকর তা আসলে সময়ই বলবে। এটা যতটানা পুলিশের জন্য ক্ষতিকর তাঁর চেয়ে বেশি সামরিক বাহিনীর জন্য ক্ষতিকর। আশা করা যায় র‍্যাবে সামরিক সদস্য ক্রমান্বয়ে শূন্যর কোঠায় নিয়ে আসা হবে।
 
কয়েকটি বিষয় খেয়াল করা অতি জরুরীঃ
 
১। পুলিশের মধ্য এই স্পিরিট আনতে হবে যে তারা “সিভিলিয়ান” আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সার্ভিস। পুলিশে “স্যালুট” বিশেষভাবে “অর্ডার আর্মস-প্রেজেন্ট আর্মস” সহ অন্যান্য সামরিক কায়দা কানুন সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করে দেওয়া উচিত। শুধুমাত্র আভ্যন্তরীণ ভাবে সাধারণ স্যালুট এবং অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সময় "থৃ ভলি" রাখা যেতে পারে। সিভিলিয়ান বাহিনী হিসেবে রাজনৈতিক নেতা কিংবা বিচারপতিদের স্যালুট দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
 
২। যোগ্যতার ভিত্তিতে পদোন্নতি এবং তা একাডেমিক যোগ্যতার তার সাথে তাদের প্রফেশনাল প্রবলেম সল্ভিং যোগ্যতা সবচাইতে বড় মাপকাঠি হতে হবে।
 
৩। নেতাদের তদবির বন্ধ করা বিশেষভাবে ফৌজদারী অপরাধের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার বন্ধ করা। আর নেতাদের বাচ্চা-কাচ্চা কিংবা চামচা হতে পুলিশকে দূরে রাখা অতীব জরুরী। 
 
৪। নেতাদের মাথায় রাখা উচিত বেশিরভাগ সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যিনি পুলিশবাহিনীর বিগবস ক্ষমতা হারাবার পর পুলিশি মাইর খেয়েছেন। মানুষ সাধারণত তাদের কর্মজীবনের সাবেক বসদের সম্মান করে এমনকি সিনিয়র হয়ে গেলেও “স্যার” সম্বোধন করে। কিন্তু পুলিশ তাদের সাবেক রাজনৈতিক বসদের কিভাবে গায়ে হাত তুলে এটা সবাই যানে। এর জন্য পুলিশের দায় আসলেই অনেক কম, মূল দায়ী ওই রাজনৈতিক নেতারা।
 
৫। পুলিশকে পুলিশের দায়িত্ব পালন করতে দিতে হবে। নাহলে যা চলছে তা আরও খারাপের দিকে হবে।
 
৬। দ্বিতীয় এবং তৃতীয় শ্রেণীর পুলিশ সদস্যদের সুযোগসুবিধার কথা ভাবতে হবে। প্রথমশ্রেণীর পুলিশ সদস্যদের সুযোগসুবিধা সরকারের অন্যান্য বিভাগের প্রথমশ্রেণীর কর্মকর্তা থেকে ক্ষেত্র বিশেষে অনেক বেশি তবে অন্যান্য পদবীর সদস্যদের সুবিধা ঠিক ততটাই কম।
 
৭।অবশ্যই পুলিশের উপযুক্ত আধুনিক নিরাপত্তা সরঞ্জাম এর ব্যাবস্থা করতে হবে। 

আরও সংবাদ