Widget by:Baiozid khan
  • Advertisement

অনন্য এক গ্রন্থ আত্মসমর্পণের দ্বন্দ্ব

Published:2015-08-24 20:18:39    

ইসলাম গ্রহণকারী পাশ্চাত্য চিন্তাবিদের লেখা আমি মনোযোগ দিয়ে পড়ে থাকি। তাদের মধ্যে রয়েছেন- মুহাম্মদ আসাদ, মরিয়ম জামিলা প্রমুখ। এর মধ্যে সাবেক ক্যাথলিক খ্রিষ্টান রায়ে নাস্তিক, জেফরি ল্যাং-য়ের বই Struggling to Surrender-এর বাংলা অনুবাদ ‘আত্মসমর্পণের দ্বন্দ্ব’ পড়লাম। সার্বিক বিবেচনায় এটি এক অনন্য বই। বইটি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক থট (ইওওঞ)। বাড়ি নম্বর-৪, রোড নম্বর-২, সেক্টর-৯, উত্তরা, ঢাকা (টেলিফোন নম্বর : ৮৯১৭৫০৯)।
জেফরি ল্যাং পুস্তকের প্রথম অধ্যায়ে তার ইসলাম গ্রহণের কথা তুলে ধরেছেন। তিনি স্কুলজীবনের শেষ দিকে নাস্তিক হয়ে গিয়েছিলেন। তবে তার জীবনে অল্প বয়সেই স্বপ্ন দেখতেন যে, তিনি নামাজ পড়ছেন। তিনি পিএইচডি শেষ করার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। সেখানে একজন অত্যন্ত ব্যক্তিত্বশালী আরব মুসলিম মাহমুদ কানদিলের সাথে পরিচয় হয়। তার মাধ্যমেই তিনি ইসলাম সম্পর্কে অবহিত হন এবং শেষ পর্যন্ত ইসলাম গ্রহণ করেন।
দ্বিতীয় অধ্যায়ে তিনি আল কুরআন পড়ার ফলে যে অনুভূতি হয়, তার আলোচনা করেছেন। তিনি মনে করেন, ইসলাম যুক্তির ওপর জোর দিয়েছে। কুরআনে ৫০ জায়গায় ‘আকালা’র (যুক্তির) কথা এসেছে। তবে মুসলমানদের অবশ্যই শেষ পর্যন্ত ওহিলব্ধ জ্ঞান, অর্থাৎ কুরআনের নিকটই যেতে হবে।
তিনি বিভিন্ন বিষয়ে বাইবেল ও কুরআনের তুলনামূলক আলোচনাও করেছেন। তিনি কুরআন ও বিজ্ঞান নিয়ে আলোচনা করে বলেছেন, কুরআনে বিজ্ঞানবিরোধী কোনো কিছু পাওয়া যায়নি। তবে কুরআন বিজ্ঞানের বই নয়, হেদায়েতের বই। এ অধ্যায়ে তিনি কুরআনে ব্যবহৃত রূপক, কুরআনের অনুপম বৈশিষ্ট্য এবং মানবজীবনের মূল লক্ষ্য সম্পর্কেও আলোচনা করেছেন।
তৃতীয় অধ্যায়ে তিনি রাসূল সা: এবং হাদিস শাস্ত্র নিয়ে আলোচনা করেছেন। হাদিসের সব ধরনের সমালোচনার তিনি উত্তর দিয়েছেন। জাল হাদিস ও দুর্বল হাদিস চিহ্নিত করার জন্য মুসলিম পণ্ডিতদের অসাধারণ প্রচেষ্টার কথা তিনি উল্লেখ করেছেন। এ কাজ এখনো জারি আছে। এ প্রসঙ্গে আমরা ড. ইউসুফ আল কারজাবির ‘সুন্নাহর সান্নিধ্যে’ বইয়ের উল্লেখ করতে পারি; যেখানে তিনি সুন্নাহ যাচাই ও গ্রহণের ৯টি নীতিমালা উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে প্রধান হচ্ছে- কুরআনের আলোকে হাদিস বুঝতে হবে; কুরআন-বিরোধী কোনো হাদিস গ্রহণযোগ্য নয়।
এ অধ্যায়ে লেখক উল্লেখ করেন, রাসূল সা:কে কুরআনের আলোকে চিনতে হবে এবং তার সম্পর্কে অপ্রামাণ্য কোনো কাহিনী গ্রহণ করা যাবে না। (পৃ. ১০৬-৮)।
চতুর্থ অধ্যায়ে জেফরি ল্যাং মুসলিম উম্মাহ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, ইসলাম ভৌগোলিক পরিচয় এবং গোত্রবাদকে প্রশ্রয় দেয়নি। এখানে কালো-সাদা পার্থক্য নেই। পরিবারকে ইসলাম সার্বিকভাবে শক্তিশালী করতে চেয়েছে।
চতুর্থ অধ্যায়ে তিনি নারীদের প্রসঙ্গে ব্যাপক আলোচনা করেছেন। তিনি ব্যাখ্যা করেছেন, আল্লাহর খলিফা হিসেবে, মানুষ হিসেবে এবং মুসলিম হিসেবে নারী-পুরুষ সমান। মানুষের মর্যাদা নির্ধারিত হয় তাকওয়ার ভিত্তিতে, নারী-পুরুষ হিসেবে নয়। তিনি মনে করেন, মুসলিম সমাজে নারীর অবস্থা তত ভালো নয়; তাদের ওপর বিধিনিষেধ অনেক বেশি। কুরআনের আলোকে তাদের অবস্থা আরো উন্নত করতে হবে।
এ অধ্যায়ে তিনি মুসলিম নারীর পোশাক, নারী নেতৃত্ব, নারীর সাক্ষ্য, নারীদের বিভিন্ন অভিযোগ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। তিনি এসব ব্যাপারে ড. জামাল বাদাবির মত সমর্থন করেছেন।
তিনি এ অধ্যায়ে জিহাদ ও রিদ্দা (ধর্মত্যাগ) নিয়েও আলোচনা করেছেন। রিদ্দা বা ইসলাম ত্যাগের ব্যাপারে তিনি ওইসব মুসলিম পণ্ডিতের মত সমর্থন করেছেন, যারা বলেছেন যে, ইসলাম ত্যাগ করে যারা ইসলামের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরে না, তাদের কোনো শাস্তি হবে না।
বিভিন্ন বিষয়ে চিন্তাবিদদের ভিন্নমত থাকা অস্বাভাবিক নয়। যা হোক, এ বইটি সবার পড়া উচিত বলেই মনে করি।

আরও সংবাদ