Widget by:Baiozid khan
  • Advertisement

ত্বকী হত্যার বিচারে সরকারের সদিচ্ছার অভাব: রাব্বি

Published:2016-03-06 09:04:51    
তিন বছর আগে নারায়ণগঞ্জের আলোচিত তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যার বিচারে বিলম্বের পেছনে সরকারের ‘সদিচ্ছার অভাব’ রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের বাবা রফিউর রাব্বি।
তিনি বলেন, “সরকার চায়নি বলে তিন বছরেও ত্বকী হত্যার বিচার হয়নি। সরকার চেয়েছে বলেই সাড়ে তিন মাসের মাথায় রাজন ও রাকিব হত্যার বিচার হয়েছে। বিদেশ থেকে আসামি এনে বিচার হয়েছে।
 
“ত্বকীর ঘাতক হিসেবে আজমেরী ওসমানের নাম তদন্তে বেরিয়ে এলেও তাকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। এতে ঘাতকরা উত্সাহিত হচ্ছে।”
 
২০১৩ সালের ৬ মার্চ নগরের শায়েস্তা খান সড়কের বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় ত্বকী। দুদিন পর শীতলক্ষ্যা নদীর শাখা কুমুদিনী খাল থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। পরদিন রাব্বি নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
 
১৮ মার্চ নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগ নেতা শামীম ওসমান, তার ছেলে অয়ন ওসমানসহ সাতজনকে অভিযুক্ত করে জেলা পুলিশ সুপারের কাছে অবগতিপত্র দেন রাব্বি।
 
ত্বকী হত্যা মামলাটি প্রথমে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করে। পরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
 
এরপর রফিউর রাব্বির আবেদনের প্রেক্ষিতে উচ্চ আদালতের নির্দেশে মামলাটির তদন্তভার পায় র‌্যাব।
 
এই মামলায় বিভিন্ন সময় রিফাত বিন ওসমান, সালেহ রহমান সীমান্ত, তায়েব উদ্দিন ওরফে জ্যাকি, সুলতান শওকত ভ্রমর ও ইউসুফ হোসেন লিটনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
 
এদের মধ্যে সালেহ কারাগারে এবং রিফাত, তায়েব, সুলতান ও ইউসুফ জামিনে রয়েছেন।
 
আজমেরীর সহযোগী হিসেবে পরিচিত সুলতান আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেন। এছাড়া সিদ্ধিরগঞ্জের মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে ইউসুফও ত্বকী হত্যার বিষয়ে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেন।
 
ত্বকী হত্যাকাণ্ডে ওসমান পরিবার জড়িত থাকার কথা রাব্বি দাবি করলেও তা অস্বীকার করে ওসমান পরিবারের সদস্যরা পাল্টা দাবি করে আসছে, ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাদের বিরুদ্ধে হত্যার এই অভিযোগ আনা হয়েছে।’
 
এদিকে, ২০১৪ সালের মার্চে র‌্যাবের অতিরিক্ত মহা-পরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসান সাংবাদিকদের বলেন, “ত্বকী হত্যাকাণ্ডে আজমেরী ওসমানসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। যে কোনো দিন এই হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।”
 
জিয়াউল আহসানের এই বক্তব্য উল্লেখ করে নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বলেছিলেন, “দুই বছর হলেও তারা অভিযোগপত্র এখনও দেওয়ানি। আমরা মনে করি অতি দ্রুত অভিযোগপত্র দেওয়া দরকার।”
 
কর্নেল জিয়াউলের ২০১৪ সালের বক্তব্যর প্রসঙ্গ ধরে অভিযোগপত্র দিতে দেরির কারণ জানতে চাইলে র‌্যাব-১১ ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান শনিবার সাংবাদিকদের বলেন, “তদন্ত এখনও চলছে। আমরা যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে স্পর্শকাতর এই মামলার খুঁটিনাটি দিকগুলো তদন্ত করছি।
 
“সব দিক বিবেচনা করে একটি সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য অভিযোগপত্র উপস্থাপন করা হবে।”
 
শনিবার বিকেলে শহরের শায়েস্তা খান সড়কের বাড়িতে ত্বকীর মা রওনক রেহানা ত্বকীর বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে বলেন, “ত্বকী লেখালেখি করতে পছন্দ করত। ও সবাইকে নিয়ে ভালো কিছু করতে চেয়েছিল। নানা বিষয় নিয়ে ওহ ভাবত। কখনও কারো কোনো সমালোচনা করতে না। নিয়মিত বই ও পত্রিকা পড়ত।”
 
“আমাদের নিজস্ব জায়গায় কেন আমরা নিরাপদ না”- প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, “তিন বছরেও ত্বকী হত্যার বিচার না হওয়া দুঃখজনক। রাষ্ট্র আমাদের নিরাপত্তা দেবে- এটাই তো রাষ্ট্রের দায়িত্ব। জনগণের জন্যই তো রাষ্ট্র।”
 

আরও সংবাদ