Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Mon June 18 2018 ,

কুমিল্লায় পোল্ট্রি খামারি সমাবেশ

Published:2016-03-07 17:53:50    
কুমিল্লা প্রতিনিধি: প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ‘সবার জন্য পুষ্টি নিশ্চিত করা’র অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করতে হলে ডিম ও মুরগির মাংসের উৎপাদন অন্তত: দ্বিগুণ করতে হবে, একই সাথে বাড়াতে হবে বিনিয়োগ। তবে কাঙ্খিত এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের স্বার্থে পোল্ট্রি শিল্পকে ২০২১ সাল পর্যন্ত কর অব্যহতি প্রাপ্ত খাত হিসেবে ঘোষণা করতে হবে। আজ কুমিল্লায় আয়োজিত পোল্ট্রি খামারি সমাবেশে কুমিল্লার ১৬ উপজেলা এবং ঢাকা থেকে আগত খামারি ও উদ্যোক্তাগণ এ দাবি জানান। কুমিল্লা জেলা প্রশাসন ও জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের সহযোগিতায় বাংলাদেশ পোল্ট্রি শিল্প সমন্বয় কমিটি (বিপিআইসিসি)এ সমাবেশের আয়োজন করে। 
 
কুমিল্লা জিলা স্কুলের ‘শহীদ আবু জাহিদ অডিটোরিয়ামে’ আয়োজিত আলোচনা সভার প্রধান অতিথি, কুমিল্লার জেলা প্রশাসক, হাসানুজ্জামান কল্লোল বলেন- খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সবার জন্য পুষ্টি নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। সরকার ঘোষিত কাঙ্খিত উন্নয়ন অর্জন করতে হলে বাংলার ঘরে ঘরে স্বাস্থ্যবান মা ও শিশু এবং মেধাবী জাতি গঠন করতে হবে। সেজন্য ডিম, দুধ, মাছ ও মাংস সবার জন্য সহজলভ্য করতে হবে। স্বল্পমূল্যে সাধারন মানুষ যাতে তা ক্রয় করতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে। স্বনির্ভর বাংলাদেশ গঠনের এ স্বপ্ন পূরণে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি শিল্পোক্তাদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান জনাব কল্লোল।      
 
বিপিআইসিসি’র আহ্বায়ক মসিউর রহমান বলেন, কর অব্যহতি সুবিধা তুলে নেয়ার কারণে চলতি অর্থবছর থেকে পোল্ট্রি খামারি ও উদ্যোক্তারা চাপের মুখে পড়েছেন। পোল্ট্রি শিল্পের আয়ের ওপর কর হার ‘শূণ্য’ থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ এবং পোল্ট্রি ফিডের আয়ের ওপর কর হার ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ১০শতাংশ করা হয়েছে। হাঁস-মুরগীর হ্যাচারির ক্ষেত্রেও ১০ শতাংশ হারে কর আরোপ করা হয়েছে। পোল্ট্রি ফিডের অত্যাবশ্যকীয় কাঁচামাল ভূট্টা, সয়ামিল এবং অয়েল কেক এর শুল্ক হার শূণ্য থেকে বাড়িয়ে ৫শতাংশ করা হয়েছে। শুধু তাই নয় আরোপ করা হয়েছে অগ্রিম কর (এআইটি) ও ভ্যাট। এসব কিছুর ফলশ্রুতিতে বাচ্চা, ফিড, ডিম ও মুরগির উৎপাদন খরচ আগের চেয়ে অনেক বেড়ে গেছে। এ চাপ সরাসরি গিয়ে পড়ছে খামারিদের উপর। তিনি বলেন, মুরগির বাচ্চার দাম সহনীয় রাখতে বিপিআইসিসি আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। আশাকরা যায়, শীঘ্রই দাম কমে আসবে।
 
পোল্ট্রি খামারিরা অভিযোগ করে বলেন, বাচ্চা ও ফিডের দাম বেড়ে যাওয়ায় লোকসান গুনছেন তাঁরা। লো-প্যাথজেনিক এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জার কার্যকর ভ্যাকসিন না থাকায় মুরগি মারা যাচ্ছে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে বার্ড-ফ্লু’র সংক্রমণের কারণে দেশীয় খামারিরা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। আগে ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের ক্ষতিপূরণের জন্য সরকারের একটি তহবিল ছিল। এখন তা নাই। কৃষকদের জন্য শষ্য বীমা চালু করা হলেও পোল্ট্রি বীমা চালুর কোন উদ্যোগ নেয়নি সরকার। তাছাড়া কৃষিখাতে তেল, সার, বিদ্যুৎ ইত্যাদি খাতে ভর্তুকী দেয়া হলেও, পোল্ট্রি খাতে এ ধরনের কোন সুবিধা নাই। ব্যাংক ঋণের সুদের হার এক অংকে নামিয়ে আনার দাবী জানান খামারিরা। এর পাশাপাশি থাইল্যান্ডের আদলে পোল্ট্রি জোন তৈরির প্রস্তাব দেন তাঁরা। বিদেশী কোম্পানীগুলোর কাছে দেশীয় খামারিরা জিম্মী হয়ে পড়ছে বলেও অভিযোগ করা হয়। সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পথে আসা ডিম ও বাচ্চার অনুপ্রবেশ ঠেকাতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর সহায়তা চান তাঁরা।  
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি কুমিল্লার পুলিশ সুপার, মোঃ শাহ্ আবিদ হোসেন বলেন, পোল্ট্রি খামারিরা অনেক ক্ষেত্রেই চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছেন। আবার অনেক ক্ষেত্রে অন্তঃকলহের শিকার হচ্ছে খামার। অসাধু ব্যবসায়ী ও চোরাচালানী চক্র রোধে পুলিশ প্রশাসন সজাগ রয়েছে বলে জানান জনাব আবিদ।  
 
সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ মুজিবুর রহমান বলেন, সারাবিশ্বেই এখন ‘রেড মিট’ -এর পরিবর্তে ‘সাদা মাংস’ অর্থাৎ মুরগির মাংসের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। তিনি বলেন ডিম নিয়ে চিকিৎসকেরাও অনেক সময় বিভ্রান্তিকর কথা বলে থাকেন। ডিমের কোলেস্টরেল ক্ষতিকর নয় বরং উপকারি। 
 
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ আব্দুল মান্নান বলেন, লোকবলের অপ্রতুলতার কারনে অনেক ক্ষেত্রেই প্রত্যাশিত সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছেনা। তাছাড়া সঠিক তথ্য-উপাত্তের অভাবে পরিকল্পনা গ্রহণেও জটিলতার সৃষ্টি হচ্ছে। অনিবন্ধিত খামার ও ফিড মিলগুলোকে স্বল্পতম সময়ে নিবন্ধনের জন্য তাগিদ দেন জনাব মান্নান।  
 
সমাবেশ উপলক্ষ্যে সকালে বর্ণাঢ্য পোল্ট্রি শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। এতে কুমিল্লার ১৬ উপজেলা এবং ঢাকা থেকে আগত প্রায় ৫ শ খামারি ও উদ্যোক্তা অংশ নেয়। কুমিল্লা জিলা স্কুল থেকে শুরু হয়ে শিল্পকলা, কান্দিরপাড় হয়ে পুনরায় জিলা স্কুলে গিয়ে শেষ হয়। এছাড়াও সকালে সুইড বাংলাদেশ পরিচালিত ‘বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়’ এর শিক্ষার্থীদের মাঝে পুষ্টিকর খাবার বিতরণ করা হয়। বিপিআইসিসি’র পক্ষ থেকে আগামী এক বছর প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের একটি করে ডিম খাওয়ানোর ঘোষণা দেন জনাব মসিউর রহমান।
 
 
বাংলাসংবাদ২৪/সংবাদ বিজ্ঞপ্তি/এনএন

আরও সংবাদ