Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Tue July 07 2020 ,

  • Techno Haat Free Domain Offer

যশোরে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারকৃত ৩ ছাত্রের সন্ধান দাবী পরিবারের

Published:2016-03-16 13:02:31    
গত ১০ মার্চ যশোর থেকে তিন ছাত্রকে আটকের ৫ দিন পেরিয়ে গেলেও তাদের আদালতে হাজির না করায় উদ্ধেগ প্রকাশ ও অনতিবিলম্বে তার সন্ধান দাবী করে সংবাদ সম্মেলন করেছে তাদের পরিবার।
 
আজ দুপুরে বাংলাদেশ ফটো জার্নালিষ্ট এসোসিয়েশন মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে গ্রেপ্তারকৃতদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন গ্রেপ্তারকৃত বিল্লাল হোসেনের পিতা আব্দুস ছাত্তার। তিনি বলেন, গত ১০.০৩.১৬ তারিখ সকাল সাড়ে ১০টায় যশোরে নির্মাণাধীন একটি ভবনের সেপটিক ট্যাংককে শিবিরের গোপন ঘর আখ্যা দিয়ে আমাদের সন্তান মো. নূরুজ্জামান, হাফেজ মো. বিল্লাল ও যশোর নিউ মার্কেট এলাকা থেকে আবুল কাসেমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অথচ গ্রেপ্তারের ৫ দিন পার হয়ে গেলেও এখনো তাদের আদালতে হাজির করেনি পুলিশ। এমনকি পুলিশ তাদের অবস্থানের ব্যাপারে কোন তথ্যও দিচ্ছেনা। অথচ গ্রেপ্তারের পর হাতকড়াসহ দায়িত্বরত পুলিশের সাথে তাদের ছবি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়। যশোর কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইলিয়াস হোসেন তাৎক্ষণিক ভাবে গণমাধ্যমকে জানান যে, ‘বিল্লাল ও নূরুজ্জামান নামে দুই শিবির কর্মীকে আটক করা হয়েছে’। সেদিন রাতে পুলিশের প্রেস ব্রিফিং এ ১২ জনকে গ্রেপ্তারের কথা স্বীকার করে পুলিশ যাদের মধ্যে এই দুই শিবির নেতার নাম রয়েছে। অন্য দিকে সুন্দরবন কুরিয়ার থেকে ফেরার পথে যশোর শহরের নিউ মার্কেট এলাকা থেকে আবুল কাসেমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার সন্ধান জানতে চাইলেও পুলিশ রহস্যজনক কারণে এড়িয়ে যাচ্ছে। আমরা বার বার আমরা তাদের সন্ধানের জন্য সংশ্লিষ্ট থানা ও পুলিশ কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করেছি। কিন্তু কেউ তাদের গ্রেপ্তারের কথা স্বীকার করছেনা। যা প্রচলিত আইনের সুষ্পষ্ট লঙ্ঘন। গ্রেপ্তারের পর তাদের সন্ধান দিতে অস্বীকার করায় আমরা গভীর ভাবে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি। দেশের পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা তাদের জীবন নিয়ে শঙ্কাবোধ করছি। বর্তমানে দেশে গুম হত্যা চলছে। যার শিকার হচ্ছেন মূলত ভিন্নমতের রাজনীতির নেতাকর্মীরাই। এর আগেও বহু ছাত্রকে আটকে পর আটকের নির্মম নির্যাতন করে আদালতে উঠানো হয়েছে। কাউকে আবার গভীর রাতে বন্দুক যুদ্ধের নাটক সাজিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমাদের জানা মতে, আমাদের এই তিন সন্তান কোন ধরণের অপরাধের সাথে জড়িত নয়। এর পরও আমাদের সন্তানেরা যদি কোন অপরাধ করেও থাকে, তাহলে এর জন্য দেশের আইন মেনেই বিচার হওয়ার কথা। কিন্তু পুলিশ তা করছে না। কিন্তু প্রকাশ্য গ্রেপ্তারের কথা প্রথমে স্বীকার করেও তাদের এই আদালতে না তোলা আমাদের মনে সন্তানদের জীবন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা মনে করি আইন শৃঙ্খলা বাহিনী তাদের পবিত্র দায়িত্ব পদপৃষ্ট করবেন না। তাদের  কাছে আমার সন্তানদের নিরাপত্তা দাবি করছি। আমাদের আকুল আবেদন, দেশের প্রচলিত আইন মোতাবেক আমাদের সন্তানদের যেন আদালতে উপস্থাপন করা হয়। তারা যেন নির্যাতন বা কোন ভাবে বিচার বহি:র্ভূত হত্যার শিকার না হয়। আমাদের সন্তান যদি সত্যিই কোনো অন্যায়ের সাথে জড়িত থাকে তাহলে তাকে আদালতে বিচারের সম্মুখীন করা হোক। আমরা জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সহ দেশি বিদেশি বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের কাছে আমাদের সন্তানদের আইনের আশ্রয় পাবার অধিকারের ব্যাপারে সোচ্চার হওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করছি।
তিনি অবিলম্বে গ্রেপ্তারকৃতদের সন্ধান ও আদালতে সোপর্দ করার দাবি জানিয়ে বলেন, দয়া করে আমাদের আদরের সন্তানদেরকে আমাদের বুকে ফিরিয়ে দিন। একজন বাবা- মায়ের আকুতি পদদলিত করবেন না। তিনি তার ছেলে সহ গ্রেফতারকৃত তিন জনের সন্ধানের জন্য সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে গ্রেপ্তারকৃত তিন ছাত্রের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রেসবিজ্ঞপ্তি/এনএস
 

আরও সংবাদ