Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Tue July 07 2020 ,

  • Techno Haat Free Domain Offer

১৯ মার্চের মধ্যেই মোড়কে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবানী স্থাপনের দাবিতে মানববন্ধন

Published:2016-03-16 14:59:41    
 
আগামী ১৯ মার্চের মধ্যেই সকল প্রকার তামাকজাত দ্রব্যের মোড়কে আইন অনুযায়ী সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবানী প্রদানের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট। আজ ১৬ মার্চ সকাল ১১ টায় মহাখালী রেলগেট, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর সামনে এক মানববন্ধনে বক্তারা এ দাবি জানান। টোব্যাকো কন্ট্রোল এন্ড রিসার্স সেল (টিসিআরসি), ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ (ডাব্লিউবিবি) ট্রাস্ট, প্রত্যাশা মাদক বিরোধী সংগঠন, মানবিক ও বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট যৌথভাবে  এ অবস্থান কর্মসূচীর আয়োজন করে।
 
টিসিআরসির গবেষনা সহকারী মো: মহিউদ্দিনের সঞ্চালনায় ও ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ছাত্র কল্যাণ উপদেষ্টা ও ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শাহ্ আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে এই অবস্থান কর্মসূচীতে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের নির্বাহী সদস্য ও প্রত্যাশার সাধারণ সম্পাদক হেলাল আহমেদ, টিসিআরসির সদস্য সচিব মো: বজলুর রহমান, মানবিকের তামাক নিয়ন্ত্রন বিষয়ক কর্মকর্তা সুমন শেখ ও টিসিআরসির গবেষণা সহকারী ফারহানা জামান লিজা।
 
মো: বজলুর রহমান বলেন,  ছবিসহ সতর্কবানী থাকলে অশিক্ষিত-নিরক্ষর মানুষও সহজে ধূমপান ও তামাক ব্যবহারের ভয়াবহতা সম্পর্কে বুঝতে পারবেন । যারা গুল, জর্দা ও পানের সাথে সাদা তামাক পাতা ব্যবহার করেন, তারাও এই সতর্কবানী আসায় তামাকের ভয়াবহতা সম্পর্কে জানতে পারবেন ও তামাক সেবন থেকে নিজেদের বিরত রাখবেন বলে তিনি মনে করেন। ছবিযুক্ত সতর্কবানী ধূমপায়ীদেরও নিরুৎসাহিত করবে।  
 
হেলাল আহমেদ বলেন, তামাকজাত দ্রব্যের মোড়কে ছবিযুক্ত সতর্কীকরণ বার্তা প্রচার করা হলে তা দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে সচেতন করে তুলবে । তাই আগামী ১৯ মার্চ ২০১৬ এর মধ্যে সকল প্রকার তামাকজাত দ্রব্যের মোড়কে আইন অনুযায়ী শতকরা ৫০ ভাগ স্থান জুড়ে তামাকজাত দ্রব্যের মোড়কে স্বাস্থ্য ছবিযুক্ত সতর্কবাণী প্রদানে তামাক কোম্পানীদেরকে বাধ্য করতে আইন মন্ত্রনালয়, বানিজ্য মন্ত্রনালয় ও স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের সম্মিলিত প্রয়াস দরকার । তিনি এই তিন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মহোদয়দের অগ্রনী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান ।
 
ফারহানা জামান লিজা বলেন, বাংলাদেশের মোট জনগোষ্ঠীর ৩০ শতাংশের  অধিক তরুন প্রজন্ম । আর এই তরুণরাই জাতীয় আয়ে  সর্বাধিক অবদান রাখে । ধূমপান ও তামাকের মাধ্যমে তাদের নেশার দিকে ধাবিত করতে পারলে আগামী দিনে দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করা যাবে । তাই তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে বহুজাতিক তামাক কোম্পানিগুলোর ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সকলকে সজাগ থাকতে হবে । এছাড়া তামাকজাত দ্রব্যের মোড়কে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবানী প্রদানে দেশের তরুন সমাজ তামাক ব্যবহারে নিরুৎসাহিত হবে বলে ধূর্ত তামাক কোম্পানী এই সতর্কবানী প্রদানে ২ বছর বিলম্ব করেছে । আমরা আর সময় দিতে রাজি নই। স্বাস্থ্য সতর্কবানী কিশোর তরুণদের এবং নতুন ধূমপায়ীদের ধূমপান শুরু করতে নিরুৎসাহিত করবে । তাই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই আইন অনুযায়ী সকল তামাকজাত দ্রব্যের মোড়কে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবানী প্রদানের দাবি জানান  তিনি ।
 
সুমন শেখ বলেন, বাংলাদেশের চাইতে ৩ বছর পরে এফসিটিসির স্বাক্ষর করে এবং ৬ বছর পর ২০১১ সালে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন করেও তামাকজাত দ্রব্যের মোড়কে ছবিসহ সতর্কবাণী প্রদানের ক্ষেত্রে অনেক এগিয়ে গেছে পাশ্ববর্তী দেশ নেপাল । বর্তমানে সব তামাকের মোড়কে ৯০ভাগ স্থান জুড়ে স্বাস্থ্য সতর্কবাণী প্রদান করছে নেপাল । অথচ বাংলাদেশ আইন প্রণয়নের ১১ বছর পর যখন আইন অনুযায়ী ১৯ মার্চ থেকে তামাকজাত দ্রব্যের মোড়কে ছবিসহ স্বাস্থ্য সতর্কবাণী প্রদান করতে যাচ্ছে, তখন ধূর্ত তামাক কোম্পানিগুলো প্রতারণার আশ্রয় নিচ্ছে । 
 
ড. শাহ্ আলম চৌধুরী বলেন, তরুণদের নেশার দিকে ধাবিত করার মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করাই তামাক কোম্পানির অপতৎপরতার অংশ। তরুণদের নেশার দিকে ধাবিত করার মাধ্যমে প্রাণঘাতি তামাক ব্যবসার সম্প্রসারণই ধূর্ত তামাক কোম্পানির উদ্দেশ্য। তামাক কোম্পানির প্রতারণা কার্যক্রমকে কঠোর ভাবে প্রতিহত করতে হবে। যেসব তামাক কোম্পানি বাংলাদেশে তামাকের মোড়কে ছবিসহ স্বাস্থ্য সতর্কবাণী প্রদান প্রতিহত করতে  ষড়যন্ত্র করছে, সেসব কোম্পানিই অষ্ট্রেলিয়া, কানাডা, নেপালসহ পৃথিবীর প্রায় ৮০টির অধিক দেশে তামাকজাত দ্রব্যের মোড়কে ছবিসহ সতর্কবাণী প্রদান করেছে। তামাক নিয়ন্ত্রণের কার্যকর পন্থা ছবিসহ স্বাস্থ্য সতর্কবাণী।  বড় সতর্কবাণী প্রদান করায় অষ্ট্রেলিয়া, কানাডা, নরওয়ে, উরুগুয়ে, নেপালসহ বিভিন্ন দেশে তামাকের ব্যবহার ক্রমশ কমছে। সেজন্য আমাদের দেশেও তামাক নিয়ন্ত্রনে ছবিযুক্ত সতর্কবানী কার্যকর করা আবশ্যক। এবং আইন ও বিধি অনুযায়ী ১৯ মার্চের মধ্যেই এ ব্যবস্থা কার্যকর করতে হবে।
 
উক্ত কর্মসূচীতে আরো উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এসিস্টেন্ট রেজিষ্টার ও ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের প্রোগ্রাম অফিসার জাহিদুল ইসলাম, তথ্য ও ভর্তি শাখার সিনিয়র অফিসার মোঃ মামুন পারভেজ পাটোয়ারীসহ উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় অর্ধ শতাধিক শিক্ষার্থী।
 
বার্তা প্রেরক,
ফারহানা জামান লিজা
গবেষনা সহকারী
টোব্যাকো কন্ট্রোল এন্ড রিসার্স সেল (টিসিআরসি)

আরও সংবাদ