Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Sat July 11 2020 ,

  • Techno Haat Free Domain Offer

দুই মন্ত্রী গোটা বিচার বিভাগকে পদদলিত করেছেন : প্রধান বিচারপতি

Published:2016-03-20 17:06:28    
আদালত অবমাননার অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ দুই মন্ত্রীকে কঠোর ভাষায় তিরস্কার করেছেন। খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের উপস্থিতিতে উপস্থিতিতে শুনানির এক পর্যায়ে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা তাদের উদ্দেশ্য করে বলেন, এই কোর্ট সংবিধানের অঙ্গ, সরকারের অঙ্গ নয়। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ থাকতে হবে। মন্ত্রী শুধু প্রধান বিচারপতিকে ছোট করেননি, গোটা বিচার বিভাগকে পদদলিত করেছেন। প্রধান বিচারপতিকে এক হাজার কোটি টাকা দিয়ে কিনলেও অন্য চার বিচারপতিকে কেনা সম্ভব নয়। প্রধান বিচারপতি একা কোনো রায় দেন না।
 
আজ সকালে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আপিল বিভাগের সাত সদস্যের বেঞ্চে দুই মন্ত্রীর আদালত অবমননার অভিযোগ বিষয়ে শুনানিতে এ মন্তব্য করেন। খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামের পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী আবদুল বাসেত মজুমদার ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের পক্ষে ব্যারিস্টার রফিক-উল হক আদালতে শুনানি করেন।
 
প্রধান বিচারপতি বলেন, আমরা জনকণ্ঠের রায়ে বলে দিয়েছি। মন্ত্রীকে প্রশ্ন করি। আপনি কাসেমের (মীর কাসেম) রায় পড়েছেন। কিন্তু ওনারা জনকণ্ঠের রায় পড়েছেন? কাসেমের রায়কে প্রভাবিত করতে মন্তব্য করেছেন কি না আমার সন্দেহ হয়। প্রধান বিচারপতি ও বিচার বিভাগকে স্ক্যান্ডালাইজ (কলঙ্কিত) করেছেন। প্রধান বিচারপতি যদি আদালত অবমাননার মামলা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। তাহলে লাখ লাখ মামলার কি হবে?
 
তারপর কামরুলের আইনজীবীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনার ব্যাখ্যা হয়নি। এটা আমরা রিজেক্ট করলাম। পড়ালেখা করে আসেন। আপনার জবাব (প্যারা ৫) সাংঘাতিক ঔদ্ধত্যপূর্ণ।
 
আর রফিক-উল হককে উদ্দেশ্য করে প্রধান বিচারপতি বলেন, আপনি জনকণ্ঠের রায় পড়েছেন? সর্বোচ্চ আদালতের রায় মানতে কোনো বাধ্যবাধকতা আছে কি-না?
 
প্রধান বিচারপতি এরপর তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, বিচার বিভাগে হস্তক্ষেপ ফৌজদারি আদালত অবমাননা। ডাকাতি মামলার আসামির যেমন ফৌজদারি অপরাধ, এটাও একই অপরাধ। জনকণ্ঠের মামলায় বলে দিয়েছি।
 
দুই মন্ত্রী শপথ ভঙ্গ করেছেন এমন মন্তব্য করে প্রধান বিচারপতি আরো বলেন, আপনি স্বীকার করেছেন অপরাধ করেছেন। আপনি শপথ ভঙ্গ করেছেন। এখন কি হবে? টকশোতে যাবেন বাড়াবাড়ি করবেন। এটা আর দেখতে চাই না। সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ পড়েন। আপনি সংবিধান রক্ষার শপথ নিয়েছেন। আপনি সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন। এর পরিণতি কি হবে?
 
দেশ চলতে হলে সংবিধান রক্ষা করতে হবে। সংবিধান অনুযায়ী দেশ চলবে। তারা কি ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন। একজন প্রসিকিউটর রায় নিয়ে আইন কমিশনের চেয়ারম্যানকে দেখিয়েছেন। জানতে চেয়েছেন ঠিক আছে কি-না? তিনি বলেছেন রায় ঠিক আছে। আপনারা সুপ্রিম কোর্টকে কোথায় নিয়ে গেছেন? কোন লেবেলে নিয়ে গেছেন?
 
প্রধান বিচারপতি আরো বলেন, আমরা তো সংবিধানের বাইরে রায় দিতে পারি না। আমরা সংবিধানের চুল পরিমাণ ব্যাত্যয় করতে পারি না। আপনি শপথ নিয়েছেন। আপনার স্বীকার করা আর জনকন্ঠের সাংবাদিকদের অপরাধ এক কি-না? দোষ স্বীকার করার পর কী হতে পারে। একজন অপরাধীকে যখন ডেকে আনা হয়, বলা হয়-তুমি দোষী না নির্দোষ? যখন সে বলে দোষ স্বীকার করছি ক্ষমা করেন। তখন কোর্ট কি করবে?
 
রফিক উল হক জবাবে বলেন, সিম্পল পানিশমেন্ট দিতে পারে। আমি তো অন্যায় করেছি মাফ চেয়েছি।
 
পরে বাসেত মজুমদার বলেন, মার্সি যখন চাই তখন কোন দোষ স্বীকার করে চাই। আমরা ক্ষমা চেয়েছি। পুরো বিষয়টি আদালতের হাতে।
 
বিচারপতি ওয়াহহাব মিয়া বলেন, আমাদের প্রথা হচ্ছে ক্ষমা দুই লাইনে চাইতে হয়। হোয়াট ইজ দিস? আপনারা বিশাল ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
 
মুক্তিযোদ্ধা প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতি বলেন, আমরা জানি বাংলাদেশে কারা মুক্তিযোদ্ধা। কার কি ভূমিকা। প্রধান বিচারপতি যদি ওই মামলা (মীর কাসেম) থেকে নিজেকে তুলে নিলে দেশে রায়ট (দাঙ্গা) লেগে যেতো। পুরো যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল হয়ে যেতো। এখানে আমরা অনেক সিদ্ধান্ত দিয়েছি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিষয়ে।
 
বাসেত মজুমদার বলেন, আমরা যথাযথভাবে আবেদন দেব। সময় চাই।
 
প্রধান বিচারপতি তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনার মক্কেলকে সুরক্ষা দিতে না পারলে আদালতে আসবেন না। আপনারা যতই ক্ষমতাধর হন না আইন সোজা চলে। আঁকাবাঁকা পথে চলে না। আমরা অনক সহ্য করেছি। সংবিধান রক্ষায় যে কোনো আদেশ দিতে কুণ্ঠাবোধ করবো না। আপনি যেই হোন।
 
এ কথা বলে আদালত সময় আবেদন মঞ্জুর করে আগামী ২৭ মার্চ সকাল ৯টায় এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন।

আরও সংবাদ