Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Sat October 23 2021 ,

  • Techno Haat Free Domain Offer

দুর্যোগে সার্কের সহযোগিতা বাড়াতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

Published:2016-04-07 15:15:31    
 
দুর্যোগ-দুর্বিপাকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে ‘খাদ্য ব্যাংক’ ও ‘বীজ ব্যাংক’ প্রতিষ্ঠার উপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
 
 
বৃহস্পতিবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে সার্ক কৃষিমন্ত্রীদের তৃতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “আমরা সার্ক ফুড ব্যাংক ও সার্ক সিড ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করতে চাই।
 
“আমরা এক দেশ অপর দেশকে যেকোনো দুযোগ-দুর্বিপাকে যেন সহযোগিতার হাত বাড়াতে পারি, তার জন্য যৌথ উদ্যোগ নেওয়াটা প্রয়োজন।”
 
কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ভারতের কৃষিমন্ত্রী রাধা মোহন সিং ও সার্কের মহাসচিব অর্জুন বাহাদুর থাপা বক্তব্য দেন।
 
দারিদ্র্য বিমোচনেও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার উপর জোর দেন শেখ হাসিনা।
 
তিনি বলেন, “আমরা চাই সারা বিশ্বের একটি মানুষও যেন ক্ষুধার্ত না থাকে, অনাহারে না থাকে, অপুষ্টিতে না ভোগে।
 
“প্রতিটি মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা- এটাই আমাদের লক্ষ্য। কিন্তু এটা কোনো একক দেশের পক্ষে সম্ভব না। এজন্য সকলের যৌথ উদ্যোগ একান্তভাবে অপরিহার্য।” 
 
বাংলাদেশ সব সময়ই আঞ্চলিক সহযোগিতার উপর ‘বিশেষ গুরুত্ব’ দিয়ে থাকে মন্তব্য করেন তিনি বলেন, “আমি মনে করি যে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলি; আমরা সবাই মিলে যদি কাজ করি… কারণ আমাদের সমস্যাগুলিতো একই রকম। আর দারিদ্র হচ্ছে সবচেয়ে বড় শত্রু।
 
“কাজেই সেই দারিদ্র্যকে মোকাবিলা করতে হলে আমাদের সকলকে একযোগে কাজ করা একান্তভাবে প্রয়োজন।”
 
দক্ষিণ এশিয়ার জনগণের জীবন-জীবিকার উন্নয়নে আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়টি ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু প্রথম কলকাতায় তুলে ধরেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। তখন থেকেই বাংলাদেশ তার বৈদেশিক নীতিতে আঞ্চলিক সহযোগিতাকে অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
 
“সার্কভুক্ত বেশিরভাগ দেশেরই অর্থনীতি এখনও প্রধানত কৃষিনির্ভর। যদিও কোনো কোনো দেশের জিডিপিতে কৃষির অবদান ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে, তবুও কর্মসংস্থান সৃষ্টি, খাদ্য ও পুষ্টির যোগান এবং শিল্পের কাঁচামাল সরবরাহের ক্ষেত্রে কৃষি এখনও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।”
 
বাংলাদেশের জিডিপিতে কৃষির ১৬ শতাংশ অবদানের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বিগত কয়েক বছরে বাংলাদেশের কৃষির ব্যাপক অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। এক দশকে খাদ্যশস্যের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৩ গুণ এবং শাকসবজির উৎপাদন বেড়েছে ৫ গুণ।
 
“বছরে ৩৪ মিলিয়ন টন চাল উৎপাদন করে আমরা চাল উৎপাদনে স্বয়ম্ভরতা অর্জন করেছি।”
 
বর্তমানে নিজস্ব চাহিদা মিটিয়ে বাংলাদেশ থেকে চাল রপ্তানির কথাও তুলে ধরেন তিনি।
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের বর্তমান কৃষি ব্যবস্থা নানা কারণে সুদৃঢ় ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত নয়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো উচ্চমাত্রার দুর্যোগ ঝুঁকিতে রয়েছে।”
 
টেকসই কৃষি উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বেশ কয়েকটি বিষয়ের দিকে নজর দেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি। এর মধ্যে রয়েছে- স্বল্প দামে উন্নত বীজ সরবরাহ, কৃষি কাজে সুষ্ঠু পানি ব্যবস্থাপনা, ভূ-গর্ভস্থ পানির উপর নির্ভরতা হ্রাস, রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমিয়ে জৈব-পদ্ধতির কৃষির প্রবর্তন, কীটনাশকের ব্যবহার হ্রাস এবং সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনার সম্প্রসারণ, কৃষি উৎপাদন খরচ হ্রাস, কৃষক পর্যায়ে কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং কৃষি বিপণন ব্যবস্থা জোরদার।
 
বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৬ শতাংশের বৃত্ত ভেঙ্গে ৭ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশের পথে থাকার হওয়ার এবং মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৪৬৬ ডলার হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন তিনি।
 
দেশে মাতৃমৃত্যু ও শিশু মৃত্যুহার হ্রাস, স্বাস্থ্যসেবার অগ্রগতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার নেতৃত্বাধীন সরকার ঘোষিত লক্ষ্য অনুযায়ী বর্তমানের দারিদ্র্যের হার ২২ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে আরও ১০ শতাংশ কমাতে কাজ করে যাচ্ছে।
 
“আমরা মনে করি দারিদ্র্য বিমোচনের অন্যতম উপায় হচ্ছে শিক্ষার বিস্তার এবং মানবসম্পদের উন্নয়ন।”
 
এ লক্ষ্যে তার সরকারের নেওয়া বিভিন্ন কর্মসূচির কথাও তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “খাদ্য ও কৃষি উৎপাদন, জনগণের জন্য খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা বিধান সর্বোপরি দক্ষিণ এশিয়ার সকল দেশে খাদ্য নিরাপত্তা তৈরির ক্ষেত্রে যথোপযুক্ত আইনি কাঠামো প্রণয়ন ও প্রয়োগে আমার সরকার অঙ্গীকারাবদ্ধ।
 
“আসুন, আমরা সকলে মিলে দক্ষিণ এশিয়াকে দারিদ্র্য ও ক্ষুধামুক্ত সুখী-সমৃদ্ধ অঞ্চল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে একযোগে কাজ করি।”
 
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সম্মেলনে আসা সার্কভুক্ত দেশগুলোর কৃষিমন্ত্রী ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে শেখ হাসিনা।
 
কৃষিমন্ত্রী ছাড়াও এতে অংশ নেন ভারতের কৃষিমন্ত্রী রাধা মোহন সিং, ভুটানের কৃষিমন্ত্রী যেশি দরজি, নেপালের কৃষিমন্ত্রী হরিবল প্রসাদ গাজুরেল ও পাকিস্তানের জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তামন্ত্রী সিকান্দার হায়াৎ খান বোসান।
 
সোনারগাঁ হোটেলের ওই বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের জানান।
 
বৈঠকে সার্ক দেশগুলোর প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং মাথাপিছু আয় ১৪৬৬ ডলারে উন্নীত হওয়ায় ‘উচ্চ প্রশংসা’ করেন।
 
এছাড়া খাদ্য শষ্য উৎপাদনে বাংলাদেশের গবেষণার উপর জোর দেওয়া ও খাদ্যে উদ্বৃত্তেরও প্রশংসা করেন তারা।
 
প্রধানমন্ত্রীও বিভিন্ন ফসল উৎপাদনে গবেষণায় জোর দেওয়ার কথা জানান।
 
তিনি বলেন, সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির পরও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছে।
 
“দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর অভিন্ন লক্ষ্য হচ্ছে দারিদ্র্য দূরীকরণ- এ লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”

আরও সংবাদ