Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Mon June 18 2018 ,

নিষিদ্ধ পলিথিনে ভরে গেছে দেশ: পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা

Published:2016-04-08 20:15:36    
মো: কামরুজ্জামান: আইনে ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষেধ হলেও দুর্দান্ত প্রতাপে ফিরে এসেছে পলিথিন। পলিথিনে পলিথিনে ভরে গেছে দেশ। পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের উপর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব সৃষ্টিকারী পলিথিনের অবৈধ ব্যবহার উদ্বেগজনকভাবে বাড়লেও তা নিয়ে কর্তৃপক্ষের যথাযথ কোনো উদ্যোগ নেই। এভাবে চলতে থাকলে দীর্ঘমেয়াদী পরিবেশ বিপর্যয়ের আশংকা করছেন পরিবেশ বিজ্ঞানীরা। এমনকী এটা সময় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রধান প্রধান নগরীগুলো মানুষ বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়তে পারে বলে আশংকা ব্যক্ত করছেন তারা।
সম্প্রতি বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (পবা) এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, নগরীতে একটি পরিবার প্রতিদিন গড়ে কমপক্ষে চারটি পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার করে। সে হিসাবে শুধু রাজধানীতে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখের বেশি পলিথিন ব্যাগ একবার ব্যবহার করে ফেলে দেওয়া হয়। 
ব্যবহারকারীরা বলছেন, দামে সস্তা ও সহজলভ্য হওয়ায় হাট বাজার থেকে শুরু করে কাঁচা বাজার, মাছ-মাংস, বিপণী বিতান, অভিজাত শপিংমল , রেস্টুরেন্ট, মুদির দোকান, এবং ফুটপাতের সব দোকানেই ব্যবহƒত হচ্ছে নিষিদ্ধ এ পণ্যটি। তবে এর ব্যবহারে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের উপর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব পড়লেও তা নিয়ে কর্তৃপক্ষের যথাযথ কোনো উদ্যোগ নেই।
অন্য এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে যে, ১৫ কোটি জনসংখ্যার বাংলাদেশে যদি গড়ে এককোটি লোকও দৈনিক বাজার করে আর জনপ্রতি যদি গড়ে ৩টি করেও পলিথিন ব্যবহার করে তা হলে এর সংখ্যা দাঁড়ায় তিন কোটি, মাসে ৯০ কোটি এবং বছরে ১ হাজার ৮ কোটি পলিথিন ব্যবহার করে থাকে। 
নিষিদ্ধ এ পলিথিন এখন পরিবেশ সন্ত্রাসির ভুমিকায় অবতীর্ণ হয়ে আমাদের প্রাত্যহিক জীবনকে করে তুলেছে বিপর্যস্ত। পলিলিথিনের যথেচ্ছা অপব্যবহার সঠিক পদ্ধতিতে রিসাইক্লিং না হয়ে কিছু কিছু ক্ষেত্রে সনাতন পদ্ধতিতে রিসাইক্লিং এর ফলে আমাদের জনস্বাস্থ্য মারাতœক হুমকীর মুখে পড়ছে। পুরাতন ঢাকার বিভিন্ন এলাকা এবং দেশের অন্যান্য বড় শহরগুলোতে পুরাতন পলিথিন পুড়িয়ে মন্ড তৈরী করে এর দ্বারা জর্দ্দার কৌটা ও অন্যান প্যাকেজ উপজাত তৈরী করছে। এর ফলে পলিথিন পোড়ানো বিষাক্ত ধোঁয়া আমাদের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যকে বিপন্ন করে তুলছে। এই বিষাক্ত ধোঁয়ায় নানা ধরনের চর্মরোগ, শ্বাস কষ্ট, যক্ষা ও হাঁফানীর মতো মারাত্মক রোগে প্রতিনিয়তই আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ।
পলিথিন ব্যাগ উৎপাদন, মজুত, সরবরাহ ও বিপণন নিষিদ্ধ করা হয়েছিল ২০০২ সালে। কিন্তু আইনের তোয়াক্কার না করেই রাজধানীতে অবাধে বিক্রি ও ব্যবহার হচ্ছে পলিথিন শপিং ব্যাগ।
রাজধানীর দোকানদাররা জানান, এক সময় পলিথিনের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালানো হলেও এখন তা কমে গেছে। তাই দোকানিরা পণ্য বহনে পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার করছেন।
পবার নির্বাহী সাধারণ সম্পাদক আবদুস সোবহান বলেন, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (২০০২ সালের ৯নং আইন দ্বারা সংশোধিত) এর ৬ (ক) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার সকল পলিথিন ব্যাগ বা এরূপ সামগ্রীর ব্যবহার সম্পূর্ণরুপে নিষিদ্ধ করেছে। অথচ রাজধানীসহ সারা দেশে গত কয়েক বছরে পলিথিনের ব্যবহার বেড়েছে আশংকাজনকভাবে। 
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, পলিথিন ব্যাগ এমনই একটি বস্তু যার সৃষ্টি আছে কিন্তু ধ্বংস নেই। পলিথিন পরিবেশকে ধ্বংস করে কিন্তু নিজে ধ্বংস হয় না। এটি একটি জটিল রাসয়নিক যৌগ।
আমাদের ব্যবহৃত পলিথিন খুব সামান্যই নিদ্দিষ্ট স্থানে ফেলা হয়। বাকিগুলো ড্রেন নর্দমা, সুয়ারেজ লাইন পড়ছে। যে কারণে শহরের পয় নিষ্কাশন ব্যবস্থা মারাত্মক হুমকীর মধ্যে পড়ছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই যত্রতত্র ফেলা এই পলিথিন বন্ধ করে দিচ্ছে সুয়ারেজ ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা। এতে ওয়াটার লগিং সৃষ্টি হয়ে জনজীবনে পির্যয় সৃষ্টি করছে। অন্যদিকে আবাদী ফসলের জমিতে পড়ে তা করছে অনুর্বর। 
পলিথিন শুধু পরিবেশ ও জনজীবনে ক্ষতি ও ব্যাহতই করছে না সাথে সাথে অর্থনীতিতে পড়ছে এর নেতিবাচক প্রভাব। এর কাঁচামাল বিদেশ থেকে আমদাননীতে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়। অন্যদিকে পলিথিনের আগ্রাসী দখলদারিত্বে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আমাদের দেশের পাট ও কাগজজাত শিল্পের বাজার। পলিথেনের অপব্যবহারের কারণে বাংলাদেশের পরিবেশ বিপর্যয়ের আশংকায় ২০০২ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ক্ষতিকর পলিথিনের উৎপাদন বিপণন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করে। ১৯৯৫ সালের পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে ৬ক ধারা সংযোজনের মাধ্যমে এ সংক্রান্ত ঘোষণা বাস্তবায়ন করে।
পলিথিন নিষিদ্ধ ঘোষিত হওয়ার প্রাথমিক পর্যায়ে এর পক্ষে ইতিবাচক সাড়া মিললেও ব্যবহার বন্ধে স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় পলিথিনের ব্যবহার আবার পূর্বের অবস্থায় ফিরে এসেছে। শুধু ফিরে আসা নয় একবারে প্রতাপের সঙ্গেই ফিরে এসেছে।
এভাবে পলিথিনে বাজার সয়লাব হলেও এর বিরুদ্ধে তেমন কোনো অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে না। মাঝে মধ্যে দ’ুএকটি দায়সারা অভিযান পরিচালনা করে নিজেদের দায় সারছে কর্তৃপক্ষ। যে অভিযানগুলো পরিচালনা করা হচ্ছে তাও হচ্ছে আবার একেবারে খুচরা পর্যায়ে।  উৎপাদন বন্ধে কোন তৎপরতা না থাকায় নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ছে পলিথিনের উৎপাদন বিপণন ও বাজারজাতকরণ অবস্থা। অভিযোগ রয়েছে সংশ্লিষ্ট তদারকী প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসন ম্যানেজ করেই চলছে এর রমরমা অবাধ বাণিজ্য।
পরিবেশ আন্দোলনকারীরা বলছেন, পলিথিনের ব্যবহার বন্ধ করতে হলে সরকারের কার্যকরী উদ্যোগের পাশাপাশি জনসচেতনতাও বাড়াতে হবে। একই সাথে পলিথিন উৎপাদন নিয়ন্ত্রণে বাড়াতে হবে আইন-শৃংখলা বাহিনীর তৎপরতা। তা হলেই আমাদের পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর পলিথিন ব্যবহার বন্ধে সবাই সচেতন হয়ে উঠবে।

আরও সংবাদ