Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Mon September 27 2021 ,

  • Techno Haat Free Domain Offer

শৃঙ্খলবদ্ধ নয়, শান্তিপূর্ণ বৈশাখী উৎসব উদযাপনের জন্য নিরাপত্তা- পুলিশ

Published:2016-04-12 20:03:28    
“অন্তর মম বিকশিত করো অন্তর তরো হে” এই প্রতিবাদ্য নিয়ে ১৪২৩ বঙ্গাব্দের মঙ্গল শোভাযাত্রা শুরু হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা অনুষদ থেকে আর এই শোভাযাত্রা ও নববর্ষের উৎসবকে সফল করার জন্য  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবার নববর্ষকে অধিকতর গুরুত্ব দিচ্ছে। তাই ১৯৮৯ সালের পর এবারই প্রথম কেন্দ্রীয়ভাবে বাংলা নববর্ষ উদ্যাপন করার জন্য কয়েকটি উপ-কমিটিসহ একটি নববর্ষ উদযাপন কমিটি গঠন করা হয়েছে । আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে ডিএমপি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এমনটি জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. সহিদ আক্তার হোসেন। তিনি বলেন-বাঙালির এই সার্বজনীন উৎসবকে সকলেই যেন স্বাধীনভাবে, নির্বিঘেœ ও আনন্দঘন পরিবেশে উদ্যাপন করতে পারে সেজন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছে কেন্দ্রীয় নববর্ষ উদ্যাপন কমিটি ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। গৃহীত সিন্ধান্তসমৃহ যেমন- মঙ্গল শোভাযাত্রা নির্বিঘেœ প্রদক্ষিণের লক্ষ্যে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তার জন্য বিপুল সংখ্যক আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও বিএনসিসি এবং চারুকলার নিজস্ব (আইডি কার্ডসহ) স্বেচ্ছাসেবক দলের উপস্থিতি, বিকট শব্দে কর্ণবিদারি ভূভূযেলা বাশিঁ নিষিদ্ধ করণ, অনুষ্ঠানস্থল ঘিরে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তার স্বার্থে ডিএমপির সহযোগিতায় পর্যাপ্ত সংখ্যক সি সি ক্যামেরা বসানো, এবং ক্যাম্পাসের আবাসিক এলাকার স্টীকারযুক্ত গাড়ি ছাড়া কোন গাড়ি রাত ৮ টা পর্যন্ত যেন চলাচল করতে পারবে না ইত্যাদি।
এদিকে একই অনুষ্ঠানে ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া, বিপিএম,পিপিএম  বলেন- বাংলা নববর্ষ সুন্দর ও নির্বিঘেœ উদযাপন করার লক্ষ্যে ঢাবি কর্তৃপক্ষের সাথে বৈঠক করে সমন্বয় করা হয়েছে যাতে করে বাংলা নববর্ষ আনন্দঘন পরিবেশে নগরবাসি উদ্যাপন করতে পারে। তিনি আরো বলেন নগরবাসীর নিরাপত্তার স্বার্থে আমাদের গৃহীত নিরাপত্তা বলয় নগরবাসীকে শৃঙ্খলবদ্ধ করার জন্য নয় বরং শান্তিপূর্ণভাবে বৈশাখী উৎসব উদযাপনের জন্য।
তিনি বলেন- অনুষ্ঠানস্থলকে কেন্দ্র করে ডিএমপি পর্যাপ্ত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ অন্যান্য অনুষ্ঠানস্থলে বিপুল সংখ্যক সি সি ক্যামেরা ও ১৯ টি ওয়াচ টাওয়ার বসানো হবে। ওয়াচ টাওয়ার এর মাধ্যমে সার্বক্ষনিক সমগ্র অনুষ্ঠান নজরদারির মধ্যে রাখা হবে বলে জানান ডিএমপি কমিশনার। তিনি আরো বলেন রমনা পার্ক ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্থাপিত পুলিশের কন্ট্রোল রুম হতে সার্বক্ষনিক সকল সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যবেক্ষন করা হবে।
 হকার উচ্ছেদ করার জন্য বিশেষ টহল এর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে উল্লেখ করে ডিএমপি কমিশনার বলেন- শাহবাগ থেকে দোয়েল চত্বর পর্যন্ত কোন হকার বা ভ্রাম্যমান কোন দোকান বসতে দেওয়া হবে না। অনুষ্ঠানস্থলকে কেন্দ্র করে জরুরী ঘোষণার জন্য মাইকিং এর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মঙ্গল শোভাযাত্রায় পুলিশের বিশেষ প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত সোয়াট টিম , বিপুল সংখ্যক সাদা পোষাকে ও ইউনিফর্মে পুলিশ সদস্য মোতায়েক করা হবে। মঙ্গল শোভাযাত্রায় কোন প্রকার মুখোশ পরিধান করা যাবে না তবে যারা শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করবেন তাদের হাতে মুখোশ সম্বলিত ব্যনার ব্যবহার করতে পারবেন। কোন কোম্পানি তাদের প্রচারণা চালানোর জন্য মঙ্গল শোভাযাত্রার অংশগ্রহণ করতে পারবে না। কোন প্রকার ভূ-ভূ জেলা বাশিঁ বাজানো যাবে না।
ডিএমপি কমিশনার আরো বলেন, ডিএমপির পক্ষ থেকে রমনা পার্কের ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রবেশ গেইটে ফুল,মিষ্ঠি-মিঠাই ও বিশুদ্ধ খাবার পানি বিনামূল্যে সরবারহ করা হবে। বিকাল ৫টার পর কোন উন্মুক্ত স্থানে কোন প্রকার অনুষ্ঠান করা যাবে না। বিকাল ৫টার পর পার্কের সকল প্রবেশ গেইট বাহির গেইট হিসেবে বিবেচ্য হবে। উক্ত গেইট দিয়ে বিকাল ৫টার পর কেউ পার্কে প্রবেশ করতে পারবেন না। এছাড়াও ধানমন্ডি রবীন্দ্র সরোবর,বিআইসিসি সুরের ধারা ও হাতিরঝিল এলাকায় আয়োজিত অনুষ্ঠানকে ঘিরে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। ঢাকা শহরে ইতিমধ্যে চেকপোষ্ট ব্যবস্থা জোড়ালো করা হয়েছে। আমাদের গোয়েন্দা টিম সার্বক্ষনিক সচেষ্ট ও কর্মতৎপর রয়েছে।আমি আরোও উল্লেখ করতে চাই আপনারা জানেন একটি কুচক্র মহল আমাদের বাঙালি জাতির ঐতিহ্যের নববর্ষকে ঘিরে নানান রকম ষড়যন্ত্র করছে। ঐ সমস্ত ষড়যন্ত্রকে নস্যাৎ করার জন্য আমরা সর্তক আছি।
প্রেস ব্রিফিং এর এক পর্যায়ে ডিএমপি কমিশনার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন-আপনাদের সার্বিক সহযোগিতা ও পরামর্শকে সমন্বয় করে আমরা এই নবনর্ষ উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপন করতে চাই। আসুন আমরা সকলে কাঁধে কাঁধ রেখে এই নববর্ষকে সুন্দরভাবে উদ্যাপন করি। আমরা আশা করি সবাই আমাদের এই নিরাপত্তামূলক পরামর্শকে শ্রদ্ধার সাথে নিবেন এবং কার্যকর করার জন্য এগিয়ে আসবেন। আমি আবারও বলতে চাই বিধি নিষেধ কোন আনন্দকে ব্যাঘাত করার জন্য নয় এটা সম্পূর্ণ জন নিরাপত্তারস্বার্থে।
এছাড়াও উক্ত অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাবি প্রক্টর মোঃ আমজাদ হোসেন, চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যপক নিছার হোসেন, সংবাদ সম্মলেনে আরো উপস্থতি ছলিনে ঢাকা মহানগর পুলশিরে অতরিক্তি কমশিনার (ডাবি অ্যান্ড প্রসকিউিশন) দদিার আহমদে, ক্রাইম অ্যান্ড অপস শখে মুহাম্মদ মারুফ হাসান, কাউন্টার টরেোরজিম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমস ইউনটিরে মো. মনরিুল ইসলাম, অপসরে যুগ্ম কমশিনার মীর রজোউল আলম ও অপরাধ বভিাগরে যুগ্ম কমশিনার কৃষ্ণপদ রায়।
 
প্রেসবিজ্ঞপ্তি/এনএন

আরও সংবাদ