Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Sun August 19 2018 ,

খালেদার আপত্তি নাকচ, আত্মপক্ষ সমর্থন ২৫ এপ্রিল

Published:2016-04-17 16:45:19    
জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য ও জেরা নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আপত্তি নাকচ করে তার আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য ২৫ এপ্রিল নতুন তারিখ ঠিক করে দিয়েছে আদালত।
 
 
রোববার এ মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনের ধারর্য দিনে খালেদা জিয়া ঢাকার তিন নম্বর বিশেষ জজ আদালতে হাজির হন। শুরুতেই তার আইনজীবী মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হারুনুর রশিদের দেওয়া জবানবন্দি নিয়ে আপত্তি তুলে নতুন করে সাক্ষ্যগ্রহণের আবেদন করেন।
 
বিচারক আবু আহমেদ জমাদার ওই আবেদন নাকচ করে দিলে খালেদার অন্যতম আইনজীবী এজে মোহাম্মদ আলী তদন্ত কর্মকর্তাকে নতুন করে জেরা করার অনুমতি চান।
 
বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের তুমুল বাক বিতণ্ডার মধ্যে আত্মপক্ষ সমর্থনের বিষয়টি হারিয়ে যায়। দ্বিতীয় আবেদনও খারিজ  হয়ে গেলে খালেদার আইনজীবী মাহবুব উদ্দিন খোকন উত্তেজিত হয়ে আদালতের ওপর অনাস্থা জানিয়ে বক্তব্য দিতে থাকেন।
 
পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত  হওয়ার পর বিচারক আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য ২৫ এপ্রিল নতুন তারিখ রাখেন।
 
দুই পক্ষের বক্তব্য
 
তদন্ত কর্মকর্তার আগের জবানবন্দি নিয়ে খালেদার আইনজীবীদের আপত্তিতে বলা হয়, তদন্তের কাগজ দেখে সাক্ষ্য দেওয়ার নিয়ম না থাকলেও হারুনুর রশিদ সেটাই করেছেন। 
 
এই যুক্তিতে নতুন করে তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণের আবেদন করেন তারা।
 
জেরা নিয়ে আপত্তিতে খালেদার আইনজীবীরা বলেন, হারুনুর রশিদকে এর আগে বিলুপ্ত দুর্নীতি দমন ব্যুরো চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়েছিল। তিনি  দুর্নীতি দমন কমিশনে আত্মীকরণের জন্য হাই কোর্টে গেলে তার আবেদন খারিজ হয়ে যায়।
 
আইনজীবী এজে মোহাম্মদ আলী বলেন, হাই কোর্টের ওই আদেশের ফলে হারুনুর রশিদ তদন্ত কর্মকর্তা হওয়ার ‘যোগ্যতা হারিয়েছেন’। সুতরাং তার দেওয়া সাক্ষ্যও ‘বেআইনি’।
 
জবাবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা বলেন,  মামলার এ পর্যায়ে এসে তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য ও জেরা নিয়ে আপত্তি তোলার সুযোগ নেই।
 
দুদকের আইনজীবী মোশারফ হোসেন কাজল বলেন, “এতোদিন পরে এ কোন আবেদন? এ কীসেল আলামত? এ মামলার বিচার পিছিয়ে দেওয়ার জন্য আর কতো পদ্ধতি অবলম্বন করবেন?”
 
মামলা বৃত্তান্ত
 
জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০১০ সালের ৮ অগাস্ট পাঁচজনের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় এই মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
 
খালেদা জিয়া ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন- তার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছের তখনকার সহকারী একান্ত সচিব ও বিআইডব্লিউটিএ-এর নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।
 
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি খালেদা জিয়াসহ চারজনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। এরপর ২০১৩ সালের ১৯ মার্চ অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে আসামিদের বিচার শুরু করে আদালত।
 
আসামিপক্ষের আইনজীবীরা ৩১ মার্চ তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক হারুন অর রশীদকে জেরা শেষ করেন। ৭ এপ্রিল খালেদা জিয়ার আত্মপক্ষ সমর্থনের দিন  রাখা হলেও তিনি আদালতে না যাওয়ায় শুনানি পিছিয়ে যায়।
 
ওই দিন তার পক্ষে আইনজীবীর সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে আত্মপক্ষ সমর্থন ও যুক্তি উপস্থাপনের নতুন দিন ঠিক করে দেন বিচারক আবু আহমেদ জমাদার। খালেদাকে অবশ্যই আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন তিনি।
 
এ মামলার অপর দুই আসামি মনিরুল ইসলাম খান ও জিয়াউল ইসলাম মুন্না ওইদিন নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার চান।
 
দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল জানান,রাষ্ট্রপক্ষের কোন সাক্ষী আসামির খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কী সাক্ষ্য দিয়েছেন- তা  আগামী ধার্য দিনে পড়ে শুনিয়ে তার বক্তব্য জানতে চাইবে আদালত।  তিনি আত্মপক্ষ সমর্থন না করে দোষ স্বীকার করলে আইনে নির্ধারিত সাজা শুরু হয়ে যাবে।
 
আর তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে সাফাই সাক্ষ্য দিলে তারপর শুরু হবে মামলার যুক্তি বা সওয়াল জবাব। সেগুলো শেষ হলে রায়ের তারিখ দেওয়া হবে।

আরও সংবাদ