Widget by:Baiozid khan
  • Advertisement

সাত বছরে ব্যাংকে ৩০ হাজার কোটি টাকা চুরি: সুজন

Published:2016-04-21 15:36:19    
বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে গত ৭ বছরে মোট ৬টি বড় ধরনের আর্থিক কেলেঙ্কারি হয়েছে। যার মাধ্যমে জনগণের ৩০ হাজার কোটি টাকারও বেশি চুরি বা আত্মসাৎ করা হয়েছে। নাগরিক অধিকার বিষয়ক সংগঠন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এ প্রতিবেদন তুলে ধরে সুজন। প্রতিবেদনটিতে দেশের ব্যাংকিং খাতের নানা অনিয়মের চিত্র তুলে ধরা হয়। বৈঠকে প্রতিবেদনটি তুলে ধরেন অগ্রণী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ।
তিনি বলেন, ব্যাংকি খাতে হলমার্ক, বিসমিল্লাহ গ্রুপ, বেসিক ব্যাংক ও ডেসটিনি কেলেঙ্কারির ঘটনায় জনমনে আস্থাহীনতা ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। আর উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে পুঁজিবাজারে ধস ও বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনা। তাই ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে এবং ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় এ খাতের বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করার পরামর্শ দেন সাবেক এই ব্যাংকার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ ব্যাংকিং খাতের অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধে দ্রুত ও দৃশ্যমান বিচারের দাবি জানান।
তিনি বলেন, দেশের ব্যাংকগুলোকে বেশি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। বেশি নিয়ন্ত্রণ করাটা খারাপ। তবে কোনও অনিয়ম হলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিতে হবে। কারণ আর্থিক খাতের অনিয়ম দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্থ করে।
সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, শুধু আইটি মেশিন হলেই হবে না। ব্যাংকের আইটি সেক্টরে দক্ষ ও সৎ মানুষ নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, ব্যাংকিং খাতে রাজনীতি নিয়ে আসলে এ খাত ভালো থাকতে পারে না।
সুজনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যংকগুলো ঋণ দিয়ে তা আদায় করতে না পারায় মূল সংকট তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে বিপুল পরিমান খেলাপি ও মন্দ ঋণ রয়েছে।
এছাড়া ব্যাংকগুলোর প্রযুক্তি খাতের সুরক্ষা, আমানত সংগ্রহে অসম প্রতিযোগিতা, সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে পরিচালকদের অযাচিত হস্তক্ষেপ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকসহ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে সিবিএ নেতাদের দৌরাত্মের কারণে ব্যাংকিং খাতে অনিয়ম বাড়াছে বলে জানানো হয় সুজনের ওই প্রতিবেদনে।
আরও পড়তে পারেন: দুই মাসের মধ্যে বাংলাদেশকে রিজার্ভের একাংশ ফিরিয়ে দিতে চায় ফিলিপাইন
 
বৈঠকে ব্যাংকিং খাতের অনিয়ম-দুর্নীতি রোধে ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় করণীয় সম্পর্কে সুজনের পক্ষ থেকে কয়েকটি প্রস্তাব করা হয়। প্রস্তাবগুলোর মধ্যে- কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংস্কার ও স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করা, বেসরকারি ব্যাংকে সুশাসন
তিষ্ঠা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ ও অপরাধীদের শাস্তি দেওয়া, আর্থিক স্বচ্ছতার জন্য অভ্যন্তরীণ অডিট, ব্যাংকিং খাতকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা, পরিচালক নিয়োগে সার্চ কমিটি গঠন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনগুলো বাস্তবায়ন, খেলাপী ঋণ রোধে ট্রাইব্যুনাল গঠন, ট্রেড ইউনিয়নের দৌরাত্ম বন্ধ এবং সৎ- নিষ্ঠাবান কর্মকর্তাদের উৎসাহিত করা।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে গোলটেবিল বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন- তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মির্জা আজিজুল ইসলাম, পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার প্রমুখ।
 

আরও সংবাদ