Widget by:Baiozid khan
  • Advertisement

মিল থেকে বাড়ছে চালের দাম

Published:2016-08-02 09:33:05    
মিল পর্যায়ে দাম বাড়ায় পাইকারি বিক্রেতারা মোটা চালের দাম বস্তা প্রতি ৫০ থেকে ১০০ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছেন, যার প্রভাব পড়েছে ঢাকার খুচরা বাজারেও।
 
 
বৃহস্পতিবার ঢাকার উত্তর বাড্ডা, কারওয়ান বাজার ও মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট এলাকার পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা যায়, স্বর্ণা চালের দাম কেজিতে দুই টাকা পর্যন্ত বেড়েছে; অন্যান্য চালের দামও কেজিতে এক টাকা বেড়েছে।
 
মিল মালিকরা বলছেন, মৌসুমের শেষ দিকে এসে ধান সরবরাহ কমে যাওয়ায় এবং সরকারিভাবে ধান-চাল সংগ্রহের কারণে মোটা চালের দাম কেজিতে ১ থেকে ২ টাকা বেড়েছে।
 
চলতি মৌসুমে ধান সংগ্রহ অভিযান শেষ হওয়ার পর গত ২৫ এপ্রিল সারাদেশের মিল মালিকদের কাছ থেকে চাল সংগ্রহের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে খাদ্য অধিদপ্তর।
 
আগামী এক মাসের মধ্যে বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে পাঁচ লাখ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ করা হবে বলে ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানান হয়। প্রতি কেজি ৩২ টাকা দরে মোটা সিদ্ধ চাল সংগ্রহ করবে সরকারি এই দপ্তর।
 
ঢাকার উত্তর বাড্ডার চালের আড়ত কামরুল রাইস এজেন্সির ব্যবস্থাপক খোকন বলেন,“সিজন শেষ হয়ে যাওয়ায় দেশের উত্তরাঞ্চলের মিলগুলোতে মোটা চালের দাম বস্তায় গড়ে একশ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে ঢাকার বাজারে।”
 
মিনিকেট চালের ৫০ কেজির বস্তা ২০০০ টাকা থেকে বেড়ে ২২০০ টাকা, নাজির ১৮০০ থেকে বেড়ে ২৫০০ টাকা, স্বর্ণা ১৪৫০ থেকে বেড়ে ১৫২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
 
মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের অপু এন্টারপ্রাজের বিক্রয়কর্মী মো. হাবিব জানান, মোটা চালের দাম বস্তায় একশ টাকা বেড়ে ১৫ শ’ টাকা ছড়িয়েছে। পাইজামের বস্তা ১৬ শ’ টাকায় উঠেছে; কেজিতে বেড়েছে দুই টাকা। মিনিকেটের দাম বস্তায় ৫০ টাকা বেড়ে ২১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
 
হাবিব বলেন, “মৌসুমের শেষ দিকে ধানের সরবরাহ না থাকায় মিল মালিকরা মোটা চালের দাম বাড়িয়েছে।”
আজিমপুরের একটি মুদি দোকানের বিক্রয় কর্মী সুমন জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে তারা চালের দাম কেজিতে ২ টাকা করে বাড়িয়েছেন। প্রতি কেজি ৪০ টাকা, ৪২ টাকা ও ৫০ টাকা দরে বিভিন্ন মিলের নাজিরশাইল চাল বিক্রি করছেন। 
 
তবে এরফান রাইস মিলের মিনিকেট চাল খুচরায় কেজিতে দুই টাকা করে বেড়েছে বলে জানান সুমন।
 
একই এলাকায় সমবায় অধিদপ্তর পরিচালিত দোকানে (বিডিআর শপ নামে পরিচিত) গিয়ে দেখা যায়, নাজিরশাইল চাল ৫৪ টাকা কেজি এবং বিআর ২৮ এর মিনিকেট ৪৪ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
 
দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রায় চার হাজার চালকল রয়েছে যার অর্ধেকই অটো রাইস মিল। মৌসুমে কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করার পর সারা বছর দেশে চালের জোগান দেয় এসব মিল।
 
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, তার জেলায় মোটা চালের দাম কিছুটা বাড়লেও আন্যান্য চালের দাম অপরিবর্তিত আছে।
 
এ জেলার নবাব অটো রাইস মিলের পরিচালক নজরুল ইসলাম রনক বলেন, ঈদের পরে চিকন চালের দাম বাড়েনি, তবে মোটা চালের দাম বেড়েছে।
 
জেলা অটো রাইস মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও সাগর অটো রাইস মিলের মালিক মনসুর হোসেন বলেন, “মোটা ধানের নায্য মূল্য না পাওয়ায় কৃষকরা ওই ধানের চাষ কমিয়ে দিয়েছেন। সে কারণে বাজারে মোটা ধানের সঙ্কট রয়েছে।”
 
স্বর্ণা-৫ ও গুটি স্বর্ণা চালের দাম ৫০ কেজির বস্তায় ২৫ টাকা বাড়িয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
 
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফজলুর রহমান জানান, ২৫ জুলাই জেলায় সরকারিভাবে ধান সংগ্রহ শেষ হয়েছে। সরকারিভাবে এবছর ২৩ টাকা কেজি দরে ধান সংগ্রহ করা হয়।
 
শেরপুর প্রতিনিধি জানান, পর্যাপ্ত মজুদ থাকলেও গত কয়েক দিনে জেলায় চালের দাম কিছুটা বেড়েছে। বাজারে বিআর-২৮ ধানের দাম বেড়ে যাওয়ায় এবং পাইজাম, তুলসিমালা ও চিনিগুড়া ধানের সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম কিছুটা বেড়েছে বলে মিল মালিকরা জানিয়েছেন।
 
শহরের দুর্গা রাইসমিলের পরিচালক রঞ্জিত পোদ্দার জানান, বিআর-২৮ চালের ৫০ কেজির বস্তা দাম ঈদের আগেও ১২৬০ টাকায় বিক্রি হত। এখন বিক্রি হচ্ছে ১৫৫০ টাকায়। নাজিরশাইল চালের ৫০ কেজির বস্তা ২১৫০ টাকার পরিবর্তে ২১৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ইদ্রিস গ্রুপের চেয়ারম্যান ইদ্রিস মিয়া জানান, জিহান অটো রাইছ মিলের উৎপাদিত ২৮ মিনিকেট চালে দাম কেজিতে ৫০ পয়সা বেড়েছে। পাইজামে বেড়েছে তিন টাকা, চিনিগুড়ায় ১০ টাকা।
 
পাইজাম ও চিনিগুড়া বা তুলসিমালা ধানের মৌসুম না হওয়ায় এখন বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানান এই ব্যবসায়ী।
 
রোজবার্গ অটোরাইস মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হযরত আলী দাবি করেন, তার মিলের মিনিকেট ও নাজিরশাইল চালের দাম বাড়েনি। ৫০ কেজির ২৮ মিনিকেট চালের বস্তা ১৫৫০ টাকা এবং নাজিরশাইল ২১৭৫ টাকায় বিক্রি করছেন তিনি।
 
“মিলে এখন যে দাম আগেও সেই দামই ছিল। তবে বাইরে বস্তাপ্রতি ১০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বলে শুনেছি। যারা স্টক করেছে তারাই এখন বেশি দামে চাল বিক্রি করছে,” বলেন হযরত আলী।
 
জামালপুরে গত সপ্তাহে চালের দাম স্থিতিশীল থাকলেও সম্প্রতি সেখানে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জনজীবন অচল হয়ে পড়েছে।
 
প্রতিবেদন তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ, জামালপুর ও শেরপুর প্রতিনিধি।
 

আরও সংবাদ