Widget by:Baiozid khan

নজরুলসংগীত বিকৃত হলেই ‘আইনি ব্যবস্থা’

Published:2016-08-27 08:17:28    
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মহাপ্রয়াণের পর তারই শিষ্যরা বিভিন্ন পর্যায়ে নজরুল সংগীত ‘বিকৃত’ করছেন এমন অভিযোগ এনেছেন নজরুল ইনস্টিটিউট ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ইমেরিটাস অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম।
 
 
শুক্রবার বিকালে ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে কবির ৪০তম প্রয়াণ দিবসের অনুষ্ঠানে সভাপতির ভাষণে তিনি বলেন, “কোনোভাবে নজরুল সংগীত বিকৃত হলে আমরা তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেব, প্রয়োজনে আদালতে যাব আমরা।”
 
নজরুল গবেষক অধ্যাপক রফিক জানান, নজরুল সংগীতের বিকৃতি রোধে নজরুল ইনস্টিটিউট আদি গ্রামোফোন রেকর্ড থেকে এক হাজার ৫০০টি গান উদ্ধার করে সেগুলোর স্বরলিপি প্রকাশ করবে।
 
“আমরা যদি এই কাজটি না করতে পারি, তবে এই নজরুল ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার কোনো যৌক্তিকতা নেই।”
 
অনুষ্ঠানে ৫০০টি নজরুলসংগীত নিয়ে ১০টি গানের সিডি প্রকাশ করা হয়। এ গানগুলো গ্রামোফোন রেকর্ড ও আদি স্বরলিপি অনুযায়ী রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানান নজরুল ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ইকরাম আহমেদ।
 
ইকরাম আহমেদ বলেন, “নজরুল সংগীতের বিকৃতি রোধে আমরা এই সিডি প্রকাশ করলাম।”
 
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিদ্রোহী কবি বাকশক্তি রহিত হলে পরে পশ্চিমবঙ্গের শিল্পীরা নজরুল সংগীত ‘বিকৃত’ করার পাশাপাশি স্বরলিপি ‘বিলুপ্ত’ করেছেন বলে অভিযোগ করেন অধ্যাপক রফিকুল।
 
নজরুল ইনস্টিটিউট উদ্যোগী হয়ে স্বরলিপি প্রকাশের উদ্যোগ নিলে তাতেও নানা বাধা বিপত্তির মুখোমুখি হতে হয়েছে বলে জানান তিনি।
 
“আমাদের দেশের নজরুল সংগীত শিল্পীরা কখনো স্বরলিপি উদ্ধার করার চেষ্টা করেননি। বিভিন্ন টিভি অনুষ্ঠানে তারা নজরুল সংগীত বিকৃত করেছেন। আমরা যখন স্বরলিপি প্রকাশের উদ্যোগ নিচ্ছি, তখন তারা নানাভাবে গোলমাল করছেন।”
 
অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, “আগামী নজরুল জন্মজয়ন্তীর আগে আরও ৫০০ গানের সিডি প্রকাশ আমাদের জাতীয় দায়িত্ব ও কর্তব্য।”
 
ধানমন্ডির নজরুল ইনস্টিটিউটের জমিটি কবিকে দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। স্বাধীন বাংলাদেশে নজরুল নিবাস ভবনটি এখন ‘জরাজীর্ণ’ অবস্থায় রয়েছে বলে উল্লেখ করেন অধ্যাপক রফিকুল।
 
“এই ভবনটি আমরা আট তলায় উন্নীত করতে চাই, একটি নকশাও প্রণয়ন করেছি আমরা। এখন সেটি প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পেলেই হলো। এছাড়া ইনস্টিটিউট সংলগ্ন লেকের অংশটুকুকে নজরুল সরোবর নামকরণ করা হোক, সেখানে নজরুল মুক্তমঞ্চ করা হোক। এ স্থানটি তো শুধু জাতীয় কবির নয়, বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজড়িত।”
 
অনুষ্ঠানের অতিথির সংসদ সদস্য ফজলে নূর তাপস বলেন, “জাতীয় কবি আমাদের আত্মপরিচয়, চেতনা ও অস্তিত্বের প্রতীক। নজরুল আদর্শকে জাতীয় জীবনে ধারণ করলে অনেক চ্যালেঞ্জ আমরা সহজেই উতরে যেতে পারি।”
 
কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিকর্মকে ‘সঠিকভাবে ধারণ করতে না পারায়’ আফসোস প্রকাশ করে তিনি বলেন, “শুধু সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় নয়, সামাজিক-সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদেরও এগিয়ে আসতে হবে। আমিও ব্যক্তিগতভাবে এসব উদ্যোগে থাকতে চাই।”
 
প্রয়াণদিবসের আলোচনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কবির নাতনী খিলখিল কাজী। মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নজরুলসংগীত শিল্পী শাহ্ সাদিয়া আফরিন মল্লিক।
 
আলোচনা অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করে নজরুল ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা।

আরও সংবাদ