Widget by:Baiozid khan
  • Advertisement

মরিচে ‘ঝাল’ বেড়েছে

Published:2016-09-18 09:09:03    
কোরবানির ঈদের পর মাছ-শাক সবজির দামে খুব একটা হেরফের না হলেও ‘অস্বাভাবিক’ পর্যায়ে পৌঁছেছে কাঁচা মরিচের দাম।
 
 
আমদানির পর লবণের দাম নামবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনও উচ্চমূল্যে বিক্রি হচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যটি। এদিকে কোরবানির পর দাম নেমেছে ইলিশের।
 
এ পরিস্থিতিতে অন্যান্য জিনিসের দাম নিয়ে কিছু না বললেও ক্রেতাদের অসন্তোষ ঝরছে কাঁচা মরিচ নিয়ে।
 
ঈদের পর শনিবার মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে প্রথম বাজার করতে আসেন একটি গার্মেন্ট কারখানার নির্বাহী পরিচালক গোলাম মওলা।
 
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সবজির দাম বেশি, মাছের দাম রিজনেবল আর কাঁচা মরিচের দাম অস্বাভাবিক।”
 
রাজধানীর বাজারগুলোতে ঈদের আগের তুলনায় এখন প্রায় প্রতিটি সবজির দাম কেজিতে ৫ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে, তবে কাঁচা মরিচের দাম কেজিতে বেড়েছে প্রায় ১০০ টাকা।
 
গোলাম মওলা বলেন, “ঈদের আগে কেজি প্রতি কাঁচামরিচ ছিল ৮০ থেকে ৯০ টাকা। আজ আমি আধা কেজি কাঁচা মরিচ কিনেছি ৯০ টাকায়।”
 
এদিন কয়েকটি বাজার ঘুরে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ১৮০ থেকে ২৪০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। 
 
এই বাড়তি দামের কারণ জানতে চাইলে বিক্রেতারা সরবরাহের ঘাটতির কথা বলছেন।
 
মহাখালী কাঁচাবাজারের সবজি বিক্রেতা জাকির বলেন, “আগে (পাইকারি বাজারে) মরিচের দর আছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকা, সেখানে আমি গতকালকে কারওয়ান বাজার থেইকা মরিচ কিন্যা আনছি ১৭০ টাকা কেজি দরে। সাপ্লাই কম হওয়ায় এখন দাম বাড়তি।”
 
শুক্রবার এর চেয়েও বেশি দামে মরিচ বিক্রি হয় বলে জানান তিনি।
 
এ বিষয়ে কারওয়ান বাজারের কাঁচামরিচের আড়তদার আব্দুল কাইয়ুম বলেন, “বৃষ্টি আর ঈদের কারণে গত দুই-তিন দিন কাঁচামরিচের আমদানি কম ছিল, তাই দামও ছিল বেশি। তবে আজকে থেইকে দাম কমা শুরু হইসে।
 
“এছাড়া ইন্ডিয়া থেইকা কাঁচামরিচ আসা শুরু হইসে। আজকে রাতেই একটা চালান ঢাকায় আইসা পৌঁছানের কথা। তখন দাম আরো কমবে।”
 
সবজি কিনতেও বাড়তি টাকা গুণতে হচ্ছে ক্রেতাদের। শনিবার মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে প্রতি কেজি করলা বিক্রি হয় ৮০ টাকা, পটল ৫০ টাকা, আর বেগুন ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরে, যেখানে ঈদের আগে করলা ৬০ টাকা, পটল ৪০ টাকা এবং বেগুন ৪০ থেকে ৫০ টাকায় পাওয়া যেত।
সবজির দাম বাড়ার বিষয়ে আদাবর বাজারের সবজি বিক্রেতা মনির হোসেন বলেন, “কোরবানির ঈদে এমনিতেই শাক-সবজির দাম একটু চড়া থাকে। বেশিরভাগ গাড়িই গরু নিয়া আসে, শাক-সবজি আনার গাড়ি তো কম; তাছাড়া রাস্তাঘাটেও প্রচুর জ্যাম থাকে।”
 
পণ্য পরিবাহী যান চলাচল স্বাভাবিক হলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সবজির দাম কিছুটা কমবে বলে মনে করছেন মনির।
 
মাসখানেক আগে থেকে চড়া লবণের দাম এখনও অপরিবর্তিত রয়েছে।
 
শনিবার রাজধানীর বাজারগুলোতে প্রতি কেজি লবণ (চিকন দানা) ৩৮ থেকে ৪০ টাকা এবং মোটা দানার লবণ ২৬ থেকে ২৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা যায়।
 
অন্যদিকে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি চিকন দানার লবণের দাম ৩৬ টাকা এবং মোটা দানার লবণের দাম ২৬ টাকা।
 
মহাখালী বাজারের পাইকারি লবণের দোকান জাহাঙ্গীর সন্সের মালিক আলমগীর হোসেন স্বপন বলেন, “গত প্রায় এক মাস ধরেই লবণের বাজার চড়া। কী কারণে দাম বেড়েছে তা বলতে পারব না তবে, বাইরে থেকে লবণের চালান না এলে এই দাম কমবে না।”
 
ঈদের আগেই লবণের দাম গতবছরের এই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণ হয়। কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণের জরুরি এই উপাদানের উচ্চ দামে চামড়া নষ্ট হওয়ার শঙ্কার মধ্যে দেড় টন লবণ আমদানির অনুমতি দেয় সরকার। সে সময় সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, এই লবণ এলেই বাজারে দাম কমবে।
 
 
 নাগালে ইলিশ
ঈদের পর সবচেয়ে বেশি দাম কমেছে সুস্বাদু ইলিশ মাছের।
 
ঢাকার বাজারগুলোতে ৫০০ গ্রাম থেকে ৮০০ গ্রামের প্রতিটি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৩৭৫ টাকা থেকে ৫৫০ টাকার মধ্যে।
 
বেসরকারি ব্যাংকের চাকুরিজীবী আহসান হাবিব শনিবার মোহাম্মদপুর কৃষিমার্কেট থেকে ১১০০ টাকায় একজোড়া ইলিশ কেনেন, যার প্রতিটির ওজন ৮০০ গ্রাম করে।
 
“বাজার করতে এসে দেখছি, ইলিশই কিছুটা সস্তা।”
 
এদিন কারওয়ানবাজারে ৮০০ গ্রাম থেকে এক কেজি ওজনের ইলিশ ৫০০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি হয়।
 
এছাড়া দেশি কৈ মাছ প্রতি কেজি ৫০০ টাকা, শিং মাছ কেজি প্রতি ৫০০-৬০০ টাকা, রুই মাছ প্রতি কেজি ৩০০-৩৫০ টাকা, কাতল মাছ কেজি প্রতি ৩৫০-৪০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়।
 
অপরিবর্তি আছে পেঁয়াজ ( ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি), রসুন (১৬০-১৮০ টাকা কেজি), আদা (৩০-৩৫ টাকা কেজি) প্রভৃতি পণ্যের দাম।

আরও সংবাদ