Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Tue May 21 2019 ,

  • Techno Haat Free Domain Offer

মেয়েকে ছাড়া হাসপাতাল ছাড়বেন না নাসিমা

Published:2016-09-24 09:42:46    
একদিন আগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে চুরি হওয়া তিন মাসের শিশুটিকে এখনও উদ্ধার করতে পারেনি প্রশাসন।
 
 
১৬ দিন আগেই মস্তিষ্কে টিউমার নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি শিশুটির বাবা বাহাদুর ঢালীর সফল অস্ত্রোপচার হয়।
 
কিন্তু সুস্থ হয়ে রোগ বিপর্যয় থেকে রেহাই পাওয়া পরিবার নিয়ে যখন বাড়ি ফেরার সময় হয়েছে, তখন হাসপাতালে হারালেন আদরের সন্তানকে।
 
মাদারীপুরের শিবচরের কাঁঠালবাড়ি গ্রামের দিনমজুর বাহাদুরকে শনিবার ছেড়ে দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে হাসপাতাল থেকে।
 
কিন্তু, শিশু কন্যাকে হারিয়ে শয্যা নিয়েছেন বাহাদুর; থেকে থেকে জোরে জোরে বিলাপ করছেন। কন্যা হারানোর পর থেকে নাসিমা বেগমও খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে হা-হুতাশ করছেন।
 
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রশাসন বলছে, চুরি হওয়া মেয়েটিকে উদ্ধারে সব ধরনের চেষ্টা তারা চালিয়ে যাচ্ছেন।
 
খাদিজা নামে তিন মাস বয়সী ওই শিশুকে বৃহস্পতিবার বিকালে হাসপাতাল থেকে চুরি করে নিয়ে যায় বোরকা পড়া এক নারী।
 
বাহাদুর (৩৫) আড়াই মাস আগে হাসপাতালে ভর্তির পর থেকে ২০০ নম্বর ওয়ার্ডের বারান্দায় থাকছেন; তার সঙ্গে ছিলেন শিশু খাদিজা ও দশ বছর বয়সী স্বর্ণাকে নিয়ে স্ত্রী নাসিমাও।
 
নাসিমা জানান, তিন দিন আগে পঁচিশ বছর বয়সী এক নারী নাসিমা ও তার মেয়ের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলেন। বৃহস্পতিবার বিকালে ওই নারী স্বর্ণাকে জামা কিনে দেওয়ার কথা বলে হাসপাতালের বাইরে নিয়ে যায়। তখন স্বর্ণার কোলে ছিল খাদিজা।
 
একপর্যায়ে ওই নারী খাদিজাকে নিজের কোলে নিয়ে জামা পছন্দ করতে নাসিমাকে ডাকার জন্য স্বর্ণাকে ভেতরে পাঠান। স্বর্ণা মাকে নিয়ে ফিরে আসার মধ্যেই ওই নারী শিশুটিকে নিয়ে পালিয়ে যান।
 
শিশু খাদিজা চুরির ঘটনায় তার মা নাসিমা বেগম বাদী হয়ে মানবপাচার আইনে মামলা করেছেন বলে শাহবাগ থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক জানান।
 
শুক্রবার বিকালে তিনি বলেন, “ওই শিশুকে উদ্ধারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।
 
“তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে পুলিশ অগ্রসর হচ্ছে। আশা করছি, খুব শিগগিরই শিশুটিকে উদ্ধার করতে পারব।”
 
এদিকে শিশুটিকে হারিয়ে শিশুটির মা খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন নাসিমা।
 
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমার মেয়ে কোথায় আছে এবং কীভাবে আছে, সে কী খাবে? তাকে রেখে আমি কীভাবে খাই?
 
“আমার স্বামী অনেকটা সুস্থ। তাই শুক্রবার সকাল এসে নার্সরা বললেন, শনিবার ছুটি হবে। আমি আমার মেয়েকে ছাড়া যাব কীভাবে? মেয়েকে ছাড়া হাসপাতাল থেকে যাব না আমি।”
 
হাসপাতালের সহকারী পরিচালক আব্দুল গফুর বলেন, “বাচ্চাটি উদ্ধারে সব ধরনের চেষ্টা চালাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।”
 
তিনি জানান, হাসপাতালে নিরাপত্তা রক্ষায় ১৭০ জন আনসার সদস্য পর্যায়ক্রমে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও বার্ন ইউনিটের জন্য আরও ১৭ জন আনসার সদস্য রয়েছেন।
 
সার্বিক পর্যবেক্ষণের জন্য হাসপাতালের পুরাতন ভবনে ৫২টি, নতুন ভবনে ৩২টি ও বার্ন ইউনিটে ১২টি ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা রয়েছে।
 
গফুর বলেন, “ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এখন অনেক রোগী ভর্তি হচ্ছে, আর দর্শণার্থীর সংখ্যাও অনেক বেড়েছে। আরও সিসি ক্যামেরা ও আনসার সংখ্যা বাড়ানো চিন্তা-ভাবনা আমাদের রয়েছে।”
 
দুই বছর আগে ঢাকা মেডিকেল থেকে সদ্যোজাত একটি শিশু চুরি হয়েছিল। চার দিনের মধ্যে তাকে উদ্ধার করে র‌্যাব।

আরও সংবাদ