Widget by:Baiozid khan
  • Advertisement

‘মৃত’ ঘোষিত নবজাতক অন্য হাসপাতালে সুস্থতার পথে

Published:2016-10-05 08:38:48    
চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে জন্মের দুই ঘণ্টা পর ‘মৃত’ ঘোষিত শিশু সুস্থ হয়ে উঠছে অন্য হাসপাতালের চিকিৎসায়।
 
 
সোমবার রাতে নগরীর প্রবর্তক মোড়ে অবস্থিত বেসরকারি হাসপাতাল সিএসসিআর-এ ওই শিশুর জন্ম হয়, যার বাবা-মা দুজনই সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক।
 
জীবিত সন্তানকে মৃত ঘোষণার জন্য সিএসসিআর-এর  নিওনেটাল ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (এনআইসিইউ) কর্তব্যরত চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন তারা।
 
শিশুটি বর্তমানে নগরীর মেহেদীবাগে অবস্থিত অপর একটি বেসরকারি হাসপাতাল ম্যাক্সের এনআইসিইউতে ভর্তি আছে।  
 
নবজাতকের মা রিদওয়ানা কাউসার বান্দরবানের আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডেন্টাল সার্জন। তার স্বামী নুরুল আজম কক্সবাজার জেলা হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার।
 
ডা. রিদওয়ানা মঙ্গলবার বলেন, “সোমবার রাত ১টায় আমাকে সিএসসিআর এর লেবার রুমে নেওয়া হয়। ঠিক দু্ই ঘণ্টা পর আমার বাচ্চাকে মৃত ঘোষণা করে এনআইসিইউয়ে দায়িত্বরত চিকিৎসক।
 
“একটা প্যাকেটে আমার বাচ্চাকে আমার কেবিনে দিয়ে যায় তারা। আমি প্যাকেট খুলে দেখি আমার বাচ্চার চেস্ট মুভমেন্ট ও গ্যাসপিং রেস্পিরেশন (লম্বা শ্বাস) হচ্ছে।
 
“দ্রুত আমার বাচ্চাকে নিওনেটালে পাঠালে ওরা বারবার বাচ্চাকে মৃত বলতে থাকে। বাচ্চার মুভমেন্টকে তারা পাত্তাও দিল না। একটু ধরেও দেখল না।
 
“তখন আমরা দ্রুত সিএসসিআর থেকে আমার বাচ্চাকে ট্রিটমেন্ট হাসপাতালে পাঠাই। ওখানে ওকে অক্সিজেন ও ওয়ার্মার (তাপ সঞ্চার করা) দেওয়ার পর সিট না থাকায় অন্য আরেকটি হাসপাতালে নিয়ে যায়।”
শিশুটি এখন মোটামুটি সুস্থ আছে বলে জানান রিদওয়ানা।
 
প্রি-ম্যাচিউরড হওয়ায় সন্তানের পুরোপুরি সুস্থতার আশা ছিল না জানিয়ে তিনি বলেন, “কিন্তু নিজে চিকিৎসক হয়ে এমনভাবে অবহেলার শিকার হব কল্পনাও করিনি।
 
“তারা যদি বাচ্চাটাকে অক্সিজেন সাপোর্ট দিত, রিসাসিটেইট (জীবন ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা) করত তাহলে ওর কন্ডিশন ইমপ্রুভ করত। তাদের অবহেলার কারণে আমার বাচ্চাটার জীবন এখন ঝুঁকির মুখে।”
 
নবজাতককে ওয়ার্মার ও অক্সিজেন দিয়ে খানিকটা সুস্থ করে তোলেন ট্রিটমেন্ট হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মোসলেহ উদ্দিন।
 
তিনি বলেন, “যখন ওই নবজাতককে নিয়ে আসা হয় তখন ওর গ্যাসপিং রেস্পিরেশন (লম্বা শ্বাস) হচ্ছিল। ওর পুরো শরীর একেবারে শীতল ছিল।
 
“আমরা প্রাথমিকভাবে অক্সিজেন দিই ওকে। পরে ওয়ার্মার দিয়ে ওর অবস্থার কিছুটা উন্নতি করি। আমাদের হাসপাতালে সিট না থাকায় আমরা তাকে অন্য হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলি।”
 
ম্যাক্স হাসপাতালের এনআইসিইউয়ে দায়িত্বরত চিকিৎসক মৌ মঙ্গলবার রাতে বলেন, “শিশুটির অবস্থা এখন স্থিতিশীল। তবে যে কোনো সময় খারাপের দিকে যেতে পারে।
 
বাচ্চাটির ওজন খুবই কম জানিয়ে তিনি বলেন, “সাধারণত নবজাতকের ওজন ২ দশমিক ৩ থেকে ২ দশমিক ৫ কিলোগ্রাম হয়, সেখানে এই শিশুর ওজন মাত্র ৫০০ গ্রাম।”
 
শিশুটির চিকিৎসার জন্য বুধবার চার সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হবে বলে জানান তিনি।
 
নবজাতকটিকে ‘মৃত’ ঘোষণার বিষয়টি তদন্তে এক সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানিয়েছে সিএসসিআর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।  
 
জানতে চাইল হাসপাতালটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. জামাল আহমেদ বলেন, “অবহেলার অভিযোগ আমরা খুব গুরুত্বের সাথেই নিয়েছি। এটাতে কেউ রেহাই পাবে না। যেহেতু ভুক্তভোগী দুইজনই আমাদের পেশার লোক। আমরা ব্যাপারটাকে সিরিয়াসলি নিয়েছি। আপনারা নিশ্চিত থাকেন আমরা ব্যবস্থা নিব।
 
“তদন্ত কমিটিকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলেছি। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ও ভুক্তভোগীর বক্তব্য নিয়ে ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। দোষী প্রমাণিত হলে আমরা ব্যবস্থা নিব।”
 
ডা. রিদওয়ানা নিওনেটাল ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে সে সময় কর্তব্যরত চিকিৎসকের নাম বলতে পারেননি।
 
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন আজিজুর রহমান সিদ্দিকী বলেন, “বিষয়টি আমরা শুনেছি। তদন্ত কমিটি করে ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হবে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলা বা অন্য কারও দোষ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আরও সংবাদ